31/10/2025
চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াস।
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from School of History & Politics, Education, Bonpara, Baraigram, Natore.
31/10/2025
চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াস।
31/10/2025
শেখ শাদী।
31/10/2025
গনতন্ত্রের পথিকৃৎ জন লক।
31/10/2025
জালালুদ্দিন রুমি।
31/10/2025
রাজনীতি নিয়ে ফরাসি বিপ্লবের দার্শনিক ভলতেয়ারের মন্তব্য।
16/09/2025
সর্বশ্রেষ্ঠ দার্শনিক - সক্রেটিস।
16/09/2025
ফরাসী বিপ্লবের দার্শনিক ভলতেয়ার।
03/08/2025
Plato about Politics.
04/05/2025
ইন্টেরিম যে করিডর দিছে এইটা নিয়া খুব একটা পড়াশোনা করার টাইম পাইনাই। আজকে করলাম।
আর এখন বুঝতেছি, Bangladesh just committed one of the most dangerous geopolitical moves in its recent history under the illusion of “humanitarian aid”।
দেশবাসীর অনুমতি ছাড়া, রাজনৈতিক দলগুলার সাথে আলোচনা না কইরা, ইন্টেরিম UN হিউম্যানিটারিয়ান করিডর খুইলা দিছে চট্টগ্রাম-আরাকান রুটে।
আসেন আগে বুঝি “Humanitarian Corridor” আসলে কী। UN এইটারে বলে সাহায্য পাঠানোর রাস্তাঘাট। কিন্তু বাস্তবে ওরা যেইটা বানায়:
➤ এনজিও টাইপ তাঁবু বসে
➤ ইনটেলিজেন্স অফিসার ঢুকে
➤ “মানবিক সহায়তা”র নামে মিলিটারি ম্যাপিং হয়
➤ বিদেশি অস্ত্র, ড্রোন, ডেটা আস্তে আস্তে ঢুকে
➤ কিছুদিন পর সেই অঞ্চল আর নিজের থাকে না
Corridor = Invasion
আসেন কিছু বাস্তব উদাহরণ দেখি — করিডর কেমনে দেশ ধ্বংস করে:
✓ সিরিয়া:
→ "মানবিক সাহায্য"র নামে তাবু বসানো হইছিল।
→ এরপর সেই রাস্তাতেই অস্ত্র ঢুকছে, বিদ্রোহী ট্রেনিং ক্যাম্প বসছে।
→ ISIS আর আল-নুসরা এই করিডরের মাধ্যমেই তৈরি হইছে।
✓ ইরাক:
→ "No-fly zone" ছিল কাগজে।
→ বাস্তবে সেই অঞ্চলে US মিলিটারি বেস দিছিল।
→ সাদ্দামের পতনের রাস্তাটা এই ভাবেই বানাইছিল।
✓ লিবিয়া:
→ "Protection corridor" দেয়া হইছিল Qaddafi’র বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের জন্য।
→ এক মাসের মধ্যে NATO ওই করিডর দিয়া ঢুইকা পুরা দেশ বোমায় উড়ায়া দিল।
✓ গাজা:
→ "মানবিক সাহায্য" পাঠানোর জন্য Rafah গেটে করিডর খুলছিল।
→ এখন জানেন কী? সেই রাস্তাই মোসাদ-এর লোকজন ঢুকতে ব্যবহার করে।
→ গোপন ইন্টেল, হামাস সদস্যদের লোকেশন, সব কিছু ওই গেট দিয়া বের হয়।
✓ আফগানিস্তান:
→ "সাহায্য দিতে CIA করিডর বানায়" — এই ছুতা দিয়া বেস তৈরি করে।
→ সেখান থেকেই চালানো হইছে ড্রোন হামলা, খুন, আর গোয়েন্দা অপারেশন।
এইগুলা ফ্যান্টাসি না। এইগুলা প্রমাণিত সত্য।
প্রশ্ন হইল —
বাংলাদেশ আজকে করিডর খুলে দিয়া বললো "এইটা মানবতা", তারপর ৬ মাস পরে যদি
→ সেখানে NGO দিয়া মিলিটারি ম্যাপিং হয়,
→ কোন এক রাতে surveillance drone নামে,
→ কোন এক সকালে UN interfaith cleric গিয়ে মুসলিম ক্যাম্পে বক্তৃতা দেয়,
→ আর ২ বছর পরে সেই এলাকাই “safe zone” ঘোষণার নামে দখল হয়,
তখন আপনি আমি কী করতে পারবো?
একই স্ক্রিপ্ট বারবার। শুধু রং আর ভাষা বদলায়।
এই করিডরের পেছনে খেলোয়াড় কারা? আসেন পরিচিত হই:
১। আমেরিকা:
→ চীনের ইন্ডিয়ান ওশান অ্যাক্সেস ব্লক করতে চায়
→ সাহায্যের নামে মিলিটারি লজিস্টিক ঢুকাবে
→ “মানবাধিকার” দিয়া স্পাই হাইওয়ে বানাবে
২। ইসরায়েল:
→ আরাকানকে ভাবে সাউথ ইস্ট এশিয়ার স্পিরিচুয়াল গেট
→ মুসলিম জাগরণ শুরু হওয়ার আগেই এখান দিয়ে থামাইতে চায়
→ থার্ড টেম্পলের প্রফেসাইজড জায়গাগুলার একটার ভিতরে চট্টগ্রাম–আরাকান করিডর পড়ে
৩। ভারত:
→ কালাদান মাল্টি-মোডাল প্রজেক্টের ফাইনাল সিল এইখানে
→ উত্তর-পূর্ব বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশের জমি ব্যবহার করতে চায়
→ গাজওয়াতুল হিন্দ আসার আগেই পূর্বদিক সীল করে দিতে চায়
প্রশ্ন হচ্ছে, চীন আর রাশিয়া কি চুপ থাকবে?
৪। চীন:
→ ওদের আরাকানে বিলিয়ন ডলারের করিডর আছে (Kyaukphyu Port)
→ UN করিডর মানে ওদের চোখে NATO presence
→ পাল্টা জবাব দিতে পারে স্পাই অপস বা বিরোধী গোষ্ঠী গুলারে ফান্ডিং দিয়া
রাশিয়া:
→ মিয়ানমারকে নিয়মিত অস্ত্র দেয়
→ পশ্চিমাদের ঢুকতে দেখলে স্বাভাবিকভাবে খুশি হবে না
→ ডিপ্লোম্যাটিক চাপে ফেলবে, সরাসরি সংঘর্ষে যাবে না, কিন্তু চুপও থাকবে না
একটা নতুন কোল্ড ওয়ারের রেখা এখন আঁকা হইতেছে আরাকানে।
আরাকান কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? কারণ এই জায়গাটা:
→ চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোডের গেইটওয়ে
→ বঙোপসাগরের প্রবেশপথ
→ বৌদ্ধ-হিন্দু-মুসলিম জোনের প্রাকৃতিক বাফার
→ সাউথ ইস্ট এশিয়ার মুসলিম পরিচয়ের স্পিরিচুয়াল ফ্ল্যাঙ্ক
→ ভবিষ্যতের গাজওয়াতুল হিন্দের মজবুত র্যালি-পয়েন্ট
আরাকান হারানো মানে উম্মাহর পূর্বদিকের ফটক বন্ধ কইরা ফেলা।
আসেন জানি UN এর “মানবিক সাহায্য”র লোগোর আন্ডারে আসলে কারা আছে? এই যে এরা:
→ WFP, WHO, UNHCR = পশ্চিমা গোয়েন্দাদের লেজার স্ক্যানার
→ MSF, Save the Children = ফিল্ড ম্যাপিং + লোকাল মনিটরিং
→ UN Troops = NATO ছায়া বাহিনী, ব্লু হেলমেট পরা দখলদার
তাইলে এই করিডর দিয়া বাংলাদেশ কী পাবে?
→ কিছু ডলার
→ নিজের মাটির ভেতরে surveillance বেস
→ Teknaf আর Naf নদীর পাশে ড্রোন রুট
→ যুদ্ধ হইলে পূর্ব ফ্রন্ট কাদের হাতে থাকবে, আপনিই বলেন
→ ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে একটা UN ম্যানেজড মুসলিম “থিম পার্ক”
একজন মেহমানের জন্য কেউ বাসা বিক্রি করে না। কিন্তু বাংলাদেশ এখন মিলিটারি এলাকা ভাড়া দিছে প্যাকেজ সুদ্ধা।
হাসিনার পতন কি বিজয় ছিল? হ্যাঁ। সে ছিল ভারতের চরম দালাল। কিন্তু ইউনুস? এই মাল খুশি মুখে পশ্চিমাদের লিস্টে সাইন কইরা দিতেছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, গেটস ফাউন্ডেশন, DAVOS এদের প্রিয় মুখ
হইলো ড. ইউনূস। এই করিডরের মাধ্যমে ওদের লিস্টের প্রধান কাজটা সে কমপ্লিট করলো।
তাইলে খেলা বুঝতেছেন?
পুতুল বদল হইছে। নাটের গুরু আগেরই আছে।
কিন্তু এখন কী করা দরকার?
→ এই মানবিক সাহায্যের ফালতু ন্যারেটিভ বাতিল করার জন্য লেখতে হবে
→ জাতীয় সম্মতি ছাড়া কোনো ফরেন এনট্রি মানি না, করিডর মানি না, এই দাবী করতে হবে
→ আলেম, অ্যাক্টিভিস্ট, স্টুডেন্ট সবাইকে ডিপ স্টাডি কইরা সত্য জানতে হবে
→ “ফরেন এইড” রোমান্টিসাইজ বন্ধ করতে হবে
→ মুসলিমদের গাজওয়াতুল হিন্দ সম্পর্কে পড়তে হবে
(নিচের পার্টটি সামগ্রিক বাংলাদেশের চিত্র)
লেখা শেষ করতে পারতেছি না এখনই।
করিডর দেয়ার আগেই এই ইন্টেরিম সরকার কী কী করছে বা চুপচাপ ঠেলতেছে?
১. সংবিধানে “Pluralism” সংযোজন করতে প্রস্তাব দিছে। এইটার মানে অনেক আলেমও বুঝেন না। একটু পড়াশুনা করতে হবে ভাই। Secularism এর বাপ হইলো Pluralism। এইটার মাধ্যমে ইসলামী শিকড় কেটে ফেলা হবে। LGBTQ পুশ দিবে। ধর্মীয় রীতিনীতি পুরাই প্রাচীন শো পিস বানায় ফেলবে।
২. ১১টা রিফর্ম কমিশন বসাইছে। বিচার বিভাগ, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন সব বিদেশী ফ্রেমওয়ার্কে যাচাই করতেছে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন পরিস্থিতি সামাল দেয়ার কোনো ইচ্ছা নাই। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ, দেশের সচিব পর্যায়ে পরিবর্তন, ফ্যাসিবাদ নির্মূল, এগুলা নিয়া কোনো প্ল্যান নাই। উল্টা বিএনপির পুরান মাস্তানদের জেল থেকে ছাইড়া দিতেছে।
৩. Starlink স্যাটেলাইট এর লাইসেন্স আনছে। Full-spectrum digital mesh under Elon Musk, a Zionist-sympathetic capitalist। দেশের মাথার উপরেই এখন থেকে থাকবে নজরদারির জাল। ডেটা আর কমিউনিকেশন হবে আমেরিকান কন্ট্রোলড।
৪. U.S. Trade Concessions Behind Closed Doors। যুক্তরাষ্ট্র ট্যারিফ ডিলে করবে বলছে। এর বদলে দেশে আমেরিকান খাদ্য, ওষুধ, ফার্মা, ডিজিটাল লেভারেজ ঢুকতে দিতেছে। (আমার আরেকটু পড়াশোনা করতে হবে এই বিষয়ে)।
৫. UNICEF এর “চিলড্রেনস কোর্ট” ঢুকাইছে। Your child can be taken, judged, or labeled extremist via UN standards। বুঝতেছেন?
৬. Gates Foundation দিয়া হেলথ সেক্টরে ওষুধ, জন্মনিয়ন্ত্রণ, নিউট্রিশনের নামে নীরব ইউজেনিক্স চালাইতেছে। কিন্তু বিষয়টা একটু ঘোলাটে। আরো পড়াশোনা করবো।
৭. Marital R**e Law, LGBTQ normalisation, রেইনবো ফ্ল্যাগ, ইনক্লুসিভ এডুকেশন, আইডেন্টিটি রাইটস, সংসদ ভবনের উপর এঞ্জেল সিম্বল,, Prostitution rebranding under “Sex workers' rights”..... and so on।
এখন বলেন.. ইউনূস যে আসলেই পাঁকা খেলোয়াড় সেটা তো সবাই বলতেছিলাম। কিন্তু সে আসলে কি নিয়া খেলতেছে বা কার হয়ে খেলতেছে সেইটা কি ভাবছেন?
© Za Rif এর ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া।
04/05/2025
হেফাজত আর এনসিপি দুজনে দুজনার
৩ মে ২০২৫ হেফাজতে ইসলাম নারী কমিশন এবং এর প্রস্তাবনা বাতিলের দাবীতে মহাসমাবেশ করেছে। এই মহাসমাবেশ থেকে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান বলেন,‘এসব দাবি আদায়ে আমরা আন্দোলন করব, সংগ্রাম করব, প্রয়োজনে জেহাদ করব।’(০৩ মে ২০২৫-প্রথম আলো)
সমাবেশ থেকে জৌনপুরের পীর মুফতি ড. সাইয়্যেদ এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী ব্ল্যাসফেমি আইন পাস করার দাবি জানিয়ে বলেন,‘নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন বিতর্কিত। এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে তাদের বিচার করতে হবে’ (০৩ মে ২০২৫-প্রথম আলো)।
১৯৯৭ সালের নারী উন্নয়ন নীতির আদলে নতুন নারী উন্নয়ন নীতির খসড়া যখন ২০১১ সালের ৭ মার্চ মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদন হয়।
তখন (০১ এপ্রিল ২০১১) চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা মোড়ে শাহী মসজিদের সামনে নারীর বিরুদ্ধে অপমানজনক মন্তব্য করে রাস্তায় সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম। গাড়ি ভাংচুর থেকে শুরু করে পুলিশের ওপরও আক্রমণ করে হেফাজতে ইসলাম।
হেফাজতে ইসলাম এবং একে সমর্থনকারী রাজনৈতিক শক্তিসমূহ মূলত গিরগিটির মতো। এরা প্রতিনিয়তো রং পরিবর্তন করতে থাকে।
এর নেতৃত্ব কিছু সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির লক্ষ্যে ইসলামকে পুঁজিকরে কওমী মাদ্রাসার কোমলমতি ছাত্রদেরকে ব্যবহার করে দাবি উত্থাপন করে।
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস তৎকালীন আওয়ামী সরকারের সাথে তাদের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ঢাকা পোস্টকে বলেছিলেন, ‘ইমানদার সবাই হেফাজতের সমর্থক। আমাদের সঙ্গে কারও বিরোধ নেই। সরকারের সঙ্গেও আমাদের সুসম্পর্ক আছে’ (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩-ঢাকা পোস্ট)।
যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজকে তারা মহাসমাবেশ করে নারী কমিশন বাতিল, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি তুলেছে; সেখানেই ৪ নভেম্বর ২০১৮ সালে তারা শেখ হাসিনাকে সম্বর্ধনা জানানোর জন্য অনুরুপ মহাসমাবেশ করেছিলো।
সেই সম্বর্ধনা মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন শেখ হাসিনা। সভাপতিত্ব করেছিলেন হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন আমির মাওলানা শাহ আহমদ শফী।
সেখানে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড গওহরডাঙ্গার চেয়ারম্যান মুফতি রুহুল আমীন বলেন,‘বঙ্গবন্ধু কন্যা আপনি স্বীকৃতি দিয়েছেন, সবকিছু উপেক্ষা করে।
অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন, তার জবাব দিয়েছেন। ১৪ লাখ শিক্ষার্থীর জননীর ভূমিকা আপনি (শেখ হাসিনা) পালন করেছেন। আজকে কওমি মহাসমুদ্রে আমি ঘোষণা করতে চাই, আপনি “কওমি জননী” ।
আজ থেকে আপনাকে এ উপাধি দিলাম। আপনার মাতৃত্বের ভূমিকা না থাকলে দেশবিরোধী, সাহাবাদের শত্রু, জামাত-মওদুদীবাদীরা এ দেশে (স্বীকৃতি) তা হতে দিতো না' (০৪ নভেম্বর ২০১৮ -বাংলা ট্রিবিউন)।
এভাবেই আওয়ামী লীগ ও হেফাজত পরস্পর পরস্পরকে আঁকড়ে থেকেছে আওয়ামী শাসন আমলের পুরো সময়টা জুড়ে। হেফাজত বরাবরই ব্যবহার হয়ে আসছে। এবং অন্যদলসমূহ ক্ষমতায় টিকে থাকা বা যাবার জন্য তাদেরকে ব্যবহার করেছে।
এর বিনিময়ে হেফাজতের নেতৃত্ব খুঁদকুড়ো খেয়েছে। সেদিন শাপলা চত্বরে কওমী মাদ্রাসার কোমলমতি ছাত্রদের ধর্মকে ব্যবহার করে তারা হাজির করেছিলো।
সেদিন তারা ‘আল্লাহ্, রাসুল (সা.) ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস’।
‘ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বালনসহ সব বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা।’
‘সরকারিভাবে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা এবং তাদের প্রচারণা ও ষড়যন্ত্রমূলক সব অপতৎপরতা বন্ধ করা।’
‘মসজিদের নগর ঢাকাকে মূর্তির নগরে রূপান্তর এবং দেশব্যাপী রাস্তার মোড়ে ও কলেজ-ভার্সিটিতে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করা।’
এধরনের পশ্চাৎপদ ১৩ দফা দাবী উত্থাপন করে। ওই দিন মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের সঙ্গে হেফাজতের নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।
তারা কয়েকশ দোকান, গাড়ি ও পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বিভিন্ন বইয়ের দোকানে লুটপাট করে। রাস্তার ধারে থাকা গাছ পর্যন্ত কেটে ফেলে তারা।
অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হেফাজতের নেতৃত্ব মাদ্রাসার ছাত্রদের মিসগাইড করে এই তান্ডব পরিচালনা করে। এবং ছাত্রদেরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।
এবং একটি ম্যাসাকার ঘটার মতো পরিবেশ তৈরি করে। তাদেরকে সেদিন বারংবার স্থান ত্যাগ করার জন্য বলা হয়েছিলো।
যখন ম্যাসাকার শুরু হয় তখন ছাত্রদেরকে ফেলে রেখে পুরো নেতৃত্বই সেখান থেকে আগেই সরে পড়ে। কেউ কেউ সরে যাবার জন্য হেলিকাপ্টার পর্যন্ত ব্যবহার করেছিলো।
শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকাসহ সাত জেলায় মোট ৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাগুলোতে তিন হাজার ৪১৬ জনের নামে এবং ৮৪ হাজার ৭৯৬ জনকে অজ্ঞাত নামা আসামি করা হয়েছিলো।
‘এর মধ্যে বাগেরহাটের একটি মামলার নিস্পত্তি ঘটেছে। ৩টি মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। অধিকাংশ মামলার তদন্ত ‘হিমাগারে’(০৫ মে ২০২৪-সমকাল) ।
'নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘মামলাগুলো নিয়ে সরকারের যথেষ্ট আগ্রহের অভাবে এসব মামলার তদন্ত থমকে আছে‘ (৫ মে ২০২০-ডেইলিস্টার)। আপোস-রফার চিত্র।
২৪ জুলাই ২০২৪ কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বন্ধ ও দেশের চলমান অচলাবস্থা নিরসনে হেফাজতে ইসলাম তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, জাতীয় দ্বীনি শিক্ষাবোর্ডের সহসভাপতি মাওলানা ইয়াহয়া মাহমুদ, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী প্রমুখ।
‘এ সময় আলেমরা সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন বলে মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন। মাঠ পর্যায়ে আলেমদের ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকরী।
তাই সরকারকে আলেমদের আস্থায় নিতে হবে। আলেমদের স্বকীয়তা বজায় রেখে কাজের সুযোগ দিলে তারা মাঠপর্যায়ে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারবেন বলে জানান’ (২৪ জুলাই ২০২৪-যুগান্তর) ।
২৪ জুলাই ২০২৪ তখন পর্যন্ত ইতিমধ্যেই ২০১ জন আন্দোলনকারীকে হত্যা করেছে আওয়ামী লীগ। সেই পর্যন্ত হেফাজতের এই হত্যাকান্ডকে গণহত্যা মনে হয় নাই।
হেফাজতে ইসলাম তখনও পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাথে গাটছাড়া বেঁধে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য খুনী স্বরারাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেছে। এদের লজ্জাও করেনা এখন এসব বয়ান দিতে; ছি! ছি!
অবশ্য তাদের চাইতেও তো আরো লজ্জাহীন এনসিপি আর তাদের নেতৃবৃন্দ। হেফাজতের এক কান কাটা হলে এদের দুই কানই কাটা। নিজেদের দাবি করে মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দল। আর ব্যবহারিক আচরণ চরম দক্ষিণপন্থী।
হেফাজতের সমাবেশে এনসিপি’র মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ নারী সংস্কার কমিশনকে উল্লেখ করে ড. ইউনূসের উদ্দেশ্যে বলেন,‘অপ্রয়োজনীয় সংস্কারগুলোকে পাশ কাটিয়ে প্রয়োজনীয় যেসব সংস্কার রয়েছে, সেগুলোর মাধ্যমে যদি নারীদের অধিকার নিশ্চিত হয়, নারীদের সম্মান নিশ্চিত হয় সেগুলো আপনি করুন’(৩ মে ২০২৫-যুগান্তর)।
এনসিপি এখন সমাবেশ করার জায়গা নির্ধারণ করেছে বায়তুল মোকাররম এর দক্ষিণ গেট। যেখানে অতিদক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দলগুলি জুম্মাবার করে সমাবেশের আয়োজন করে থাকে।
ধর্মের চেতনাকে ইতিমধ্যেই তারা ব্যবহার করা রপ্ত করেছে। গতকাল জুম্মাবার তারা সমাবেশের জন্য বেছে নিয়েছে সেই একই জায়গা।
আর সেই সমাবেশ থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিচ্ছে। হেফাজত আর এনসিপি ঠিক যেন দুজনে দুজনার!
অন্যদিকে সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের এনসিপি’র সাথে যুক্ত করে পূর্ণবাসন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
‘ফরিদপুরে এনসিপি’র কমিটি গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন ফরিদপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহমুদা বেগমের মেয়ে সৈয়দা নীলিমা দোলা।
মঙ্গলবার এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ ও সদস্য সচিব আক্তার হোসেনের যৌথ স্বাক্ষরিত এক চিঠি থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
দোলাকে কেন্দ্রীয় কমিটির ফরিদপুর জেলার সদস্য করা হয়েছে। মায়ের পরিচিতি ছাড়াও দোলা জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোহাম্মদ নাসিরের ভাগ্নি’(৩ মে ২০২৫-যুগান্তর)। এনসিপি’র সারা দেশের অবস্থা এটাই।
৫ আগষ্ট গণআকাঙ্খার ভিত্তিতে গণঅভূত্থ্যানের মধ্যে দিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শুধুমাত্র বিদায় ঘটেছে। কিন্তু তৎকালীন সময়ের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি সেটি প্রোথিত হয়েই আছে। সেটাই থাকবে।
আমি মনে করি না তার জন্য আমাদের হতাশ হয়ে যেতে হবে। কারণ সংগ্রামের একটি স্তর পার হয়েছে মাত্র। এই সংগ্রামকে অব্যহত রাখতে হবে।
আমাদের এটা বোঝা প্রয়োজন,বিদ্যমান রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন ব্যতিত অবস্থার পরিবর্তন ঘটবেনা। আর সেই পরিবর্তনটা অবশ্যই এনসিপি মার্কা অতিদক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে ঘটবে না।
এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলই পারে শুধুমাত্র এই পরিবর্তনের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে। জনগণের রাজনৈতিক শক্তির সংগঠিত রুপই আগামীর ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু বানাতে হবে।
©Abu Naser Anik ভাইয়ের ওয়াল থেকে।
27/10/2024
এটাই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।