28/02/2023
গতকাল ২৭ ফেব্রুয়ারী ছিল জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস।
যুগান্তরের প্রতিবেদনটি বেশ উল্লেখযোগ্য......
গুরুত্ব বাড়ছে পরিসংখ্যানের
যুগান্তর প্রতিবেদন
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম |
জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস
দিন দিন বাড়ছে পরিসংখ্যানের গুরুত্ব। বিশেষ করে পরিকল্পিত অর্থনীতির জন্য সঠিক পরিসংখ্যান অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ক্ষেত্রে তথ্য-উপাত্তের ঘাটতি প্রবল থাকায় সঠিক তথ্য প্রাপ্তিতে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থায় আজ পালিত হচ্ছে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস। দেশে প্রথমবারের মতো এ দিবস পালন করা হচ্ছে।
১৯৭৪ সালের ২৬ আগস্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন চারটি পরিসংখ্যান সংস্থাকে এক করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রতিষ্ঠা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এরপর অনেক বন্ধুর পথ পেরিয়ে আজ শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়েছে দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থা। ২০২০ সালে ২৭ ফেব্রুয়ারিকে পরিসংখ্যান দিবস হিসাবে পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এখন থেকে প্রতিবছরই দিবসটি পালিত হবে।
এ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তিনি বলেছেন, সঠিক, নির্ভরযোগ্য এবং সময়োপযোগী পরিসংখ্যান টেকসই উন্নয়ন-পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভিত্তি হিসাবে কাজ করে। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, টেকসই উন্নয়ন-পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সঠিক, নির্ভরযোগ্য এবং সময়োপযোগী পরিসংখ্যান ভিত্তি হিসাবে কাজ করে এবং আমাদের পরিবর্তিত বিশ্বকে বুঝতে সাহায্য করে।
এ প্রসঙ্গে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইয়ানি চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, পরিসংখ্যানের গুরুত্ব সব সময়ই ছিল। কিন্তু এখন আরও অনেক বেড়েছে। কারণ দেশের অর্থনীতির পালস বুঝতে হলে পরিসংখ্যানের বিকল্প নেই। তাছাড়া জাতির উন্নয়ন আর অগ্রগতি যা-ই বলেন, সবকিছুর সঙ্গেই পরিসংখ্যান জড়িত। মানুষের সুষম উন্নয়নের জন্যও পরিকল্পনার প্রয়োজন। এখন বিশ্বব্যাপী পরিসংখ্যানের দিক বিবেচনা করেই উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়। আর এর গুরুত্ব বিবেচনা করেই ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু সঠিক পরিসংখ্যানের গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন।
সূত্র জানায়, সঠিক, সময়োপযোগী এবং মানসম্মত পরিসংখ্যান প্রস্তুত করে দেশের পরিকল্পনা প্রণয়ন, উন্নয়ন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জনশুমারি, কৃষিশুমারি, অর্থনৈতিক শুমারিসহ বিভিন্ন প্রকার সার্ভে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করে থাকে বিবিএস। এসডিজি পরিবীক্ষণে ডেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হালনাগাদ তথ্য প্রস্তুতে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কাজ করছে।
এসডিজির ২৩১টি সূচকের মধ্যে ১০৫টির উপাত্তই দেবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৪টি সূচকের উপাত্ত দেবে, অর্থাৎ পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ২৩১টি সূচকের মধ্যে মোট ১০৯টি সূচকের উপাত্ত দেবে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপায়ণের অন্যতম শক্তি ‘পরিসংখ্যান ও তথ্যপ্রযুক্তি’ বিবেচনায় ২০১২ সালে পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত ও গণমুখী করতে বিস্তৃত পরিসরে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয় ‘পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ’। একে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান তথা এর আইনগত ভিত্তি স্থাপনের লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ‘পরিসংখ্যান আইন, ২০১৩’ অনুমোদন দেওয়া হয়। পাশাপাশি দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে ২০১৩ সালে পরিসংখ্যান উন্নয়নে জাতীয় কৌশলপত্র এসএসডিএস অনুমোদন করে সরকার।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক তাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, পরিসংখ্যানের গুরুত্ব তুলে ধরতে এই দিবসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া সাধারণ মানুষ এখনো জানেন না সঠিক পরিসংখ্যানের মাধ্যমে সঠিক পরিকল্পনা তৈরি হয় এবং দেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে, এর পেছনে রয়েছে পরিসংখ্যানের ব্যাপক ভূমিকা। তিনি জানান, এখন দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থা অনেক শক্তিশালী।