08/10/2025
#কেন আমরা বিতর্ক করি ???
সক্রেটিস বলেছিলেন, “A life unexamined is not worth living’’ যে জীবনে জিজ্ঞাসা নেই, তা কোন জীবন নয়। বির্তকের জন্ম জিজ্ঞাসা থেকে। আমি যা জানি তা চূড়ান্ত নাও হতে পারে। আমার জানাকে বিপরীত চিন্তা থেকে যাচাই করে নেওয়ার নামই বিতর্ক। শুধুমাত্র তর্কের খাতিরে তর্ক করাকে বিতর্ক বলে না। বিতর্ক হচ্ছে বিশেষ তর্ক যেখানে থাকবে যুক্তি + তর্ক।
#এবার আসা যাক বিতর্ক করার বাস্তব উদ্দেশ্য কি হওয়া দরকার, কেন একজন শিক্ষার্থী বিতর্ক করে?
একজন বিতার্কিক প্রথমেই যা শিখেন তা হল, তাৎক্ষনিক ভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা। এই তাৎক্ষনিকভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা এমন একটি কগনিটিভ স্কিল যা হয়তোবা আপনাকে অন্য দশজনের থেকে একটু হলেও কোন বিষয় নিয়ে দ্রুত গতিতে চিন্তা করতে শেখাবে এবং আপনাকে দক্ষতার সহিত কোন কিছু ভাবতে সহযোগিতা করবে। আমরা অনেকেই কলেজে পড়ি। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে অথবা কোন জটিল বিষয় নিয়েও আমাদের স্যারদের সঙ্গে কথা বলতে হয়। স্যার ছাড়াও অনেক সময় হয়তোবা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের সাথে কথা বলতে হয়। সমস্যা হচ্ছে, আমরা অনেক সময় আমরা অনেকেই তাদের সাথে গুছিয়ে কথা বলতে পারি না। বিতর্ক আপনাকে গুছিয়ে কথা বলতে শেখায়। শব্দ, বাক্য, উচ্চারণ ও এর প্রয়োগ এবং বাচনভঙ্গি সুন্দর করে তোলে। বিতর্ক ভাষার যথোপযুক্ত ব্যাবহার, প্রয়োগএবং নান্দনিকতা শেখায়। যে কোন বিষয়কে দক্ষতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে শেখায়। ক্লাসে একজন শিক্ষক যখন আমাদের কোন একটি বিষয়ের উপর একটি এসাইনমেন্ট দেন ঠিক তখনি কিন্তু আমরা ঐ বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করতে থাকি এবং অনেক তথ্য বের করে ফেলি এমনকি কিছু অজানা তথ্যও জেনে ফেলি। মজার বিষয় হচ্ছে, বিতর্ক একজন বিতার্কিকের জন্য তার সারা জীবনের একটি এসাইনমেন্ট। এই প্লাটফর্মে থাকতে হলে আপনার কাছে সাধারন কিছু খবর ও তথ্য-উপাত্তের আপডেট রাথতেই হবে। আমাদের সমাজে অনেকেই আছেন যারা তর্ক বা বিতর্ক কিছুই করেন না তবে তারা কুতর্কে অনেক পটু। অর্থাৎ তাদের কাছে যুক্তির তারতম্যতা নেই। একজন বিতার্কিক হয়ে আপনি সেটা চাইলেও করতে পারবেন না কারন আপনি যখন বিতার্কিক তখন আপনি নিজেই জানবেন আপনার তর্কের যুক্তির সীমারেখা কতটুকু। আমরা অনেকেই বিশ্বাস করি , ছোট স্বপ্ন দেখতে নেই। সামর্থ্য না থাকলেও আমরা কল্পনাতে বড় সপ্নগুলোই দেখে থাকি। বিতর্ক এক্ষেত্রেও আপনাকে সহযোগিতা করবে। আপনার ছোট ছোট চিন্তা চেতনাকে অনেক বড় চিন্তা চেতনায় পদার্পণ করাবে। আমাদের একটা সার্বজনীন সমস্যা আছে। অনেক মানুষের সামনে কথা বলতে ভয় পাই। না, আপনি গ্লোসোফোবিয়ায় আক্রান্ত না, তবে গ্রুপে বা সবার সামনে কথা না বলতে বলতে এটা আপনার অভ্যাস হয়ে গেছে। বিতর্ক অনুশীলন একটু হলেও আপনাকে সবার সামনে কথা বলতে শেখাবে, কথা বলতে প্রথমে না পারলেও আপনাকে সবার সামনে দাঁড়াতে শেখাবে। আপনি শিখবেনও। যখন দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস চলে আসবে তখন আস্তে আস্তে আপনার কথা বলার আত্মবিশ্বাসও অর্জন হবে। আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে। আপনার মানসিকতা ও ব্যক্তিত্ব বিকশিত হবে। আপনার উপস্থাপন ভঙ্গিমা সুন্দর হবে। একজন বিতার্কিক নিজেকে এভাবেই বিকশিত করে তোলেন। আপনাকে অন্তর্মুখী থেকে বহির্মুখী করে তুলতে পারে বিতর্ক। আপনি ঠিক সেই মুহূর্তে নিজের চিন্তা চেতনা গুলোকে আরও নতুন দশ জনের কাছে তুলে ধরতে পারবেন। সবার সঙ্গে যৌথ ভাবে কথা বলতে পারবেন। আপনার ঠুনকো আত্মবিশ্বাস কে অনেক শক্ত করে তুলতে পারে বিতর্ক। বিতার্কিকদের ছোট একটি ক্ষমতা আছে। আপনার সাইকোলজিকে পরিবর্তন করার ক্ষমতা। বিতার্কিকদের মনোবিদ্যাতেও একটু জ্ঞান রাখতে হয়। কোনটা বাস্তব আর কোনটা অলীক সেটা বুঝার জন্য।
সবশেষে যা উল্লেখ করা উদ্দেশ্য তা হল, বিতর্ক গোঁড়ামি না অথবা যুক্তির সীমারেখা অতিক্রম করা না অথবা অযথা বকবক করাও না , কাউকে কথার দ্বারা আঘাত করা না । বিতর্ক সবাইকে এক কাতারে রেখে যুক্তি ও সাম্যের বন্ধনে আবদ্ধ করে । আর তাই আমরা বিতর্ক করি । জয়তু বিতর্ক।
Qadirabad Cantonment Sapper College Debating Club - QCSC DC