15/08/2022
২০২০ ব্যাচ ইসলামপুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় পূণর্মিলন।
....(`~`)....যেহেতো ভোল করে ঢোকে পরেছেন পেজে ?
15/08/2022
২০২০ ব্যাচ ইসলামপুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় পূণর্মিলন।
12/08/2022
2020 Batch Islampur High School
স্বপ্ন ছিলো পারিনি পুড়ন করতে! ভালো থাকিস
09/12/2016
Amadir islampur ar students dir bolsi prono milon ar junno.
sobai ke 20 tarik ar modde registration korar jonno onorod kora hoilo''.......thank you
21/02/2016
20/02/2016
বাঙালি জাতির ইতিহাসে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল একটি সফল গণআন্দোলন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে একাট্টা হয়ে সকল আন্দোলনে জগন্নাথের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বরাবরের মতই ছিল উল্লেখ করার মত।
১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সংশোধনী প্রস্তাব বাতিল হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রদের মিছিলের মাধ্যমে ঢাকায় প্রথম প্রতিক্রিয়া শুরু হয় ২৬শে ফেব্রুয়ারি। এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ঢাকা শহরের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে।
ভাষা আন্দোলনের সময় জগন্নাথের সাবেক শিক্ষার্থী, বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ আনিসুজ্জামানের লেখা থেকে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, জগন্নাথ ও মেডিক্যাল কলেজে, আলাদা করে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে উঠেছিল। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে আন্দোলনের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করে একটি পুস্তিকা বের করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুস্তিকার নাম ছিল ‘রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলন সাব-টাইটেল ছিল ‘কি ও কেন?’ রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন সম্পর্কে এটাই ছিল ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত প্রথম পুস্তিকা যার লেখক ছিলেন লেখক আনিসুজ্জামান।
আনিসুজ্জামান এর ভাষ্যমতে, ৪ তারিখে আমরা ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট করলাম। আমি গিয়েছিলাম পোগোজ ও সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুলে ধর্মঘট করাতে। প্রথমটা নির্বিঘ্নে ঘটলো, কিন্তু সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুলের সামনে দাঁড়াবার কিছুক্ষণ পরে পুলিশ এসে যাওয়ায় পিঠটান দিতে হলো। কলেজে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আগেই গঠন করা হয়েছিল, তার উদ্যোগে সভা করা হলো। ২০ফেব্রুয়ারি বিকেলের পরে কলেজ থেকে বাসায় ফিরছি, হঠাৎ মাইক্রোফোন যোগে পরদিন ১৪৪ ধারা জারি করার ঘোষণা শুনে একেবারে বিমুঢ় হয়ে গেলাম। আমার সঙ্গে আহমদ, নেয়ামাল ও আরো দু-একজন ছিল। সকলে ফিরে এলাম কলেজে, সেখানে কিছু কথাবার্তা বলে আমার বাসায় এলাম। যুবলীগ অফিসে খোঁজ নিয়ে জানলাম সন্ধ্যায় নবাব পুর রোডে আওয়ামী লীগ অফিসে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আমরা সংগ্রাম পরিষদের সদস্য নই, তবে অনেক বলে কয়ে জগন্নাথ কলেজ সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে আহমদ হোসেন ও আমাকে পর্যবেক্ষক হিসেবে সভায় উপস্থিত থাকতে দেওয়া হলো।
মাতৃ ভাষা বাংলার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এ আন্দোলনে সর্বপ্রথম শহীদ হন এ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র রফিক উদ্দিন আহমদ বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২-র ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সম্মুখের রাস্তায় ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে বিক্ষোভ প্রদর্শনরত ছাত্র-জনতার মিছিলে রফিক অংশগ্রহণ করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হোস্টেল প্রাঙ্গণে পুলিশ গুলি চালালে সেই গুলি রফিক উদ্দিনের মাথায় লাগে। গুলিতে মাথার খুলি উড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। মেডিকেল হোস্টেলের ১৭ নম্বর রুমের পূর্বদিকে তার লাশ পরে ছিল। ছয় সাত জন ধরাধরি করে তার লাশ এনাটমি হলের পেছনের বারান্দায় এনে রাখেন। তাদের মাঝে ডাঃ মশাররফুর রহমান খান গুলিতে ছিটকে পড়া রফিকের মগজ হাতে করে নিয়ে যান। ১৯৫২ সালে তিনি জগন্নাথের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন।
১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে প্রথম যে দশজন ১৪৪ ধারা ভেঙে ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র, প্রখ্যাত কথা শিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হান। ভাষা আন্দোলন নিয়ে ষাটের দশকেই চলচ্চিত্র নির্মাণ করে সাহসিকতার পরিচয় দেন তিনি। ভাষা আন্দোলন কে কেন্দ্র করে তাঁর অনবদ্য দুটি রচনা হচ্ছে "একুশে ফেব্রুয়ারি" ও "আরেক ফাল্গুন"। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি...’গানের রচয়িতা আব্দুল গাফফার চৌধুরীও ছিলেন এ প্রতিষ্ঠানেরই ছাত্র।
ভাষা সৈনিক মো. আবদুল জলিল এ প্রতিষ্ঠানে পড়া অবস্থায়ই ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তাঁর অসামান্য অবদান ছিল। ৫২ সালে জগন্নাথ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শফিউদ্দিন আহমদ। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করায় তাকে কারাবরণ করতে হয়।
ভাষা সৈনিক অজিত কুমার গুহ ১৯৪৮ সালের ১৬ আগস্ট জগন্নাথে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করে একটানা প্রায় ২০ বছর কর্মরত ছিলেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের একজন বলিষ্ঠ সংগঠক হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জাতীয় অধ্যাপক ড. সালাহউদ্দীন আহমেদ ১৯৪৮ সালের আগস্ট মাসে এ প্রতিষ্ঠানে ইতিহাস বিভাগের লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। এখানে প্রায় ছয় বছর একটানা কাজ করেন। এখানে পড়ানোর সময়েই ঘটে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন। তখন জগন্নাথে বাংলা সংস্কৃতি চর্চার জন্য একটি সংসদ গড়ে উঠে। অজিত কুমার গুহ ছিলেন এই সংগঠনটির প্রাণ। সালাহ্উদ্দীন আহমেদসহ অন্যান্য শিক্ষকরা এখান থেকেই ছাত্রদের ভাষা আন্দোলনে উৎসাহিত করতেন।
নুরু মোল্লা ১৯৫০ সালে এ প্রতিষ্ঠানে পড়ার সময় ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। তিনি তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। সে সময় বাংলা ভাষা রক্ষার দাবিতে ‘সর্বদলীয় সেন্ট্রাল কমিটি অব একশান’নামে একটি কমিটি হয়। নুর মোল্লা ছিলেন সে কমিটির একজন সদস্য।
১৯৫২ সালে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম.আমিরুল ইসলাম চলমান ভাষা আন্দোলন ও পাকিস্তান গণপরিষদে লিয়াকত আলী খানের প্রস্থাপিত ‘Basic Principle Repot’এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতেও ভাষা আন্দোলনে জগন্নাথের অবদানের প্রমাণ পাওয়ায় যায়। বঙ্গবন্ধুর ভাষায়, ১৯৪৮ সালের ১১ই মার্চকে ‘বাংলা ভাষা দাবি’ দিবস ঘোষণা করা হলো। সামান্য কিছুসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাড়া শতকরা ৯০ ভাগ ছাত্র এ আন্দোলনে যোগদান করলো। জগন্নাথ কলেজ, মেডিকেল কলেজ, মিডফোর্ড, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বিশেষ করে সক্রিয় অংশগ্রহণ করলো।
ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সাবেক এমপি মরহুম আবদুর রব, মৃণাল বারড়ি ও খলিলুর রহমানের মতো জগন্নাথের নাম না জানা এমন অসংখ্য শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী মায়ের ভাষা বাংলার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, দেশ স্বাধীনের পর এখনো ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ স্বরূপ কোন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়নি। পাঠ্য বইয়েও জগন্নাথের অবদান তেমন ভাবে তোলে ধরা হয়নি। যার ফলে উঠতি প্রজন্মের নিকট ভাষা আন্দোলনের সম্পূর্ণ ইতিহাস অনেকটা অজানাই থেকে যাচ্ছে। যা কখনোই কাম্য নয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে ভাষা আন্দোলনে এ প্রতিষ্ঠানের অবদান উল্লেখপূর্বক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে পাঠ্য বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি জবিতে ভাষা শহীদদের স্মরণে গুচ্ছ ভাস্কর্য প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছি।
লেখক, মোঃ আরিফুল ইসলাম, শিক্ষার্থী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।