10/06/2024
প্রশ্ন: "কিন্তু আমার অমুক বন্ধু তো নামাযও পড়ে আবার জিএফ নিয়েও ঘুরতেছে!? তার কি পাপ হচ্ছে না?"
- যাদেরকে তুমি দেখছো একই সাথে হারাম রিলেশন আর ইবাদাত চালিয়ে যাচ্ছে, সত্যি বলতে তারা এখনো আল্লাহর ব্যাপারে উদাসীন। কেননা আল্লাহ বলেন,
"নিশ্চয়ই সালাত অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে।"
(আনকাবূত : ৪৫)
এমন কখনো হয়নি যে, কেউ হারাম প্রেমের সম্পর্ক বজায় রেখে আল্লাহর পথে আসতে পেরেছে।
ভাইয়া-আপু তুমি কি জানো, আমাদের আমলসমূহ হাশরের মাঠে গণনা করা হবে না বরং ওজন করা হবে?
"আর সেদিন (কিয়ামাতের দিন) ন্যায় ও সঠিকভাবে (প্রত্যেকের ‘আমল) ওজন করা হবে, সুতরাং যাদের (পুণ্যের) পাল্লা ভারী হবে তারাই হবে কৃতকার্য ও সফলকাম। "
[আল আরাফ : ৮]
কেননা এমন অনেক দ্বীনদার জিএফওয়ালা নামাজী ছেলে আছে, পর্দাশীল বিএফওয়ালা মেয়ে আছে, অনলাইনে ছবি আপলোড করা হিজাবী বোন আছে, মেয়েদের ছবিতে 'মাশা-আল্লাহ' লিখে কমেন্ট করা টুপি দাঁড়িওয়ালা আছে, দ্বীনি বোনদের সাথে গল্প করা দ্বীনি ভাই আছে। যাদের আমল হয়তো ফাঁপা, অন্তঃসারশূন্য। আল্লাহ ক্ষমা করুন। যেটা সহীহ হাদিস থেকেও জানা যায়।
"আমি আমার উম্মতের কিছু মানুষ সম্পর্কে জানি, যারা কিয়ামতের দিন তিহামার (বিখ্যাত পাহাড়) শুভ্র পর্বতমালা সমতুল্য নেক আমল নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু আল্লাহতায়ালা সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করবেন। তারা এমন লোক, যারা একান্ত গোপনে আল্লাহর হারামকৃত কর্মে (গোপন গোনাহ) লিপ্ত হবে।’
[সুনানে ইবনে মাজাহ: ২/১৪১৮]
“তারা মানুষের কাছ থেকে লুকাতে চায়, আর আল্লাহর কাছ থেকে লুকাতে চায় না। অথচ তিনি তাদের সাথেই থাকেন যখন তারা রাতে এমন কথার পরিকল্পনা করে যা তিনি পছন্দ করেন না। আর তারা যা করে তা আল্লাহ পরিবেষ্টন করে আছেন।”
(আন-নিসা : ১০৮)
তবুও যদি উপদেশ গ্রহণ না করো, তাহলে আল্লাহ বলেন,
"এটা এক উপদেশ, কাজেই যার ইচ্ছে সে (এ উপদেশ মান্য করে) তার প্রতিপালকের পথ অবলম্বন করুক"
[আল ইনসান : ২৯]
তাই বলছি, পাপ হয়ে গেছে বলে হতাশ হবে না, বরং তাওবা করে এখনি ফিরে আসো। আর দেরী করো না। এতে তুমি নিজেকেই ঠকাচ্ছো। আল্লাহ তোমায় ফিরে আসার তৌফিক দিন।
"বলুন, হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সব গোনাহ ক্ষমা করে দেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"
(জুমার : ৫৩)
“আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবেন?”
[আল-ইমরান : ১৩৫]