16/09/2024
লিখেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি Saleh Hasan Naqib স্যার
“আরবিতে বছরটিকে বলা হয় আ’মুল ফিল, বাংলায় হাতির বছর, ইংরেজিতে The year of elephant। সূরা আল ফিলে ইয়েমেনের শাসক আবরাহার হাতি নিয়ে মক্কা আক্রমণের বিবরণ আছে। ঐতিহাসিক এই ঘটনা মক্কার মর্যাদা অনেক বাড়িয়ে দেয়।
একই বছর শিশুটি জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের আগেই পিতাকে হারিয়েছেন। জন্মের পর শৈশবের কিছুটা সময় কেটেছে আরব বেদুঈনদের সাথে। ছয় বছর বয়েসে হারান মা কে। এরপর কিছুটা সময় কেটেছে দাদার তত্ত্বাবধানে। দাদার মৃত্যুর পর চাচার তত্ত্বাবধানে।
তিনি ছিলেন আর সবার থেকে আলাদা। তারুন্যে পৌঁছানোর আগেই তিনি মক্কার সকলের কাছে ‘আস-সাদিক (সত্যবাদি)’ এবং ‘আল-আমিন (বিশ্বাসী)’। তাঁর বয়স যখন চল্লিশ তাঁর কাছে নবুয়াতের পয়গাম প্রথম পৌঁছায়। এর পর থেকে যে ইতিহাস তা অবর্ণনীয় ত্যাগ, তিতিক্ষা আর সংগ্রামের ইতিহাস। জুলুম, নির্যাতন আর অভাব, দারিদ্রের ভেতর শ্রেষ্ঠতম মানবিক গুণাবলী নিয়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি অবিচল থাকার অনন্য দৃষ্টান্ত।
তিনি হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)। তাঁর শৈশব, কৈশোর কেটেছে মেষ চরিয়ে। নিরক্ষর আরব বেদুঈনদের মাঝে। কেউ তাঁর শিক্ষক ছিলেন না। তিনি নিরক্ষর, উম্মি নবী। আজ বিশ্ব জুড়ে প্রায় ১৮০ কোটি মুসলিম। কারণ এবং অকারণে ইসলাম আজ সবচেয়ে আলোচিত এবং সমালোচিত ধর্ম। হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) একই সাথে সবচেয়ে প্রশংসিত, আলোচিত এবং সমালোচিত। আলোচিত এবং সমালোচিত এই কারণে যে তাঁকে এড়িয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই। দেড় হাজার বছর পরেও তিনি সমান contextual, সমান প্রাসঙ্গিক। শতকোটি মানুষের দিনের শুরু থেকে দিনের শেষ পর্যন্ত তাদের বিশ্বাস ও কাজে তিনি উপস্থিত। তাঁর প্রভাব ও শিক্ষা রুখে দিতে প্রচেষ্টার কোন কমতি নেই। সকল বাঁধা, বিপত্তি, সন্ত্রাস, উগ্রবাদ কোন কিছুই যেন এখানে কোন কাজে আসে না। তিনি আছেন, তাঁর শিক্ষা আছে, শত প্রতিকূলতার ভেতরও তা প্রতিদিন বিশ্বের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়ছে। কিছুতেই একে রোখা যায় না। রোখা যায় নি। এক অনিশ্চিত বিশ্ব, আলো আঁধারের টানাপোড়ন, ভালো আর মন্দের সংঘাত, প্রলোভন আর পরিত্রাণের দ্বন্দ্ব – এর ভেতর শতকোটি মানুষকে তিনি আলোর পথ দেখিয়ে চলেছেন।
শৈশবে মেষ পালক, নিরক্ষর, এতিম, দারিদ্র আর ত্যাগ তিতিক্ষা তাঁর জীবনের ইতিহাস। সমস্ত জীবন শুধু চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ইতিহাস। তিনি বলেছেন, তিনি করেছেন, শ্রেষ্ঠতম উপায়ে।
নবী (সাঃ) বিশ্বাসীদের কাছে এক তীব্র আবেগের জায়গা। এই আবেগের উৎস আমি বুঝি। কিন্তু এটাও দেখতে পাই, আবেগের সাথে সাথে তাঁর জীবনকে জানা ও বোঝার যে দাবী তা অনেকটাই উপেক্ষিত। আমরা যদি তা বুঝতাম, তাহলে আজ দেশে, সমাজে যে অস্থিরতা, অসহিষ্ণুতা এবং উগ্রতা, তা থাকত না। প্রতিটি দিন নবী (সাঃ)কে বোঝার দিন, প্রতিটি দিন তাঁর জীবন থেকে শেখার দিন।
প্রায় দেড় হাজার বছর আগে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি আজও মানব ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্ববহ। ইতিহাস বলে, তিনি সামনের দিনগুলিতেও তাই থাকবেন। কল্পনা করা যায়! আমরা মিরাকলের কথা বলি। নবী (সাঃ) হচ্ছেন সবচেয়ে বড় মিরাকল!!”
Copied from DU Professor Saiful Alam Sir❤️