16/05/2025
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, এবং ইসলামিক ফিকহের আলোকে এর উত্তর বিশ্লেষণ দরকার। নিচে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করছি:
---
প্রশ্ন:
যাদের উপার্জন হারাম (যেমন: সুদ, জুয়া, চুরি, ঘুষ, হারাম ব্যবসা ইত্যাদি) – তাদের যদি কুরবানীর গরু বা উটে শরিক করা হয়, তাহলে কি পুরো কুরবানী নষ্ট হয়ে যাবে?
---
উত্তর: ফিকহের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
১. শরিক যদি পুরোপুরি হারাম উপার্জনের মালিক হয়:
যদি ৭ জনের মধ্যে একজনের সম্পূর্ণ অংশ হারাম উপার্জন থেকে হয়,
এবং সে নিয়ত করে কুরবানী—তাহলে বাকি ৬ জনের কুরবানীও সহিহ হবে না।
কারণ:
কুরবানী একটি ইবাদত। এখানে নিয়ত ও হালাল সম্পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হারাম সম্পদ দিয়ে ইবাদত গ্রহণযোগ্য হয় না।
দালিল:
নবী করিম (সঃ) বলেন,
"إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا."
“নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া কিছু কবুল করেন না।”
(সহীহ মুসলিম: ১০১৫)
---
২. শরিক যদি হালাল-হারাম মিশ্র আয় করে:
যদি কারও উপার্জনে হালাল ও হারাম মিশ্র থাকে, এবং গরু বা উটে শরিক হয়,
তবে যদি হারামই অধিক হয়, তাহলে সব শরিকের কুরবানী বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আর যদি হালাল উপার্জনই অধিক হয়, এবং সে খালেস নিয়তে কুরবানী দেয়,
তাহলে আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হওয়ার আশা করা যায়।
---
৩. কুরবানী পশুর মালিকানা ও নিয়তের শর্ত:
কুরবানীর জন্য পশুর মালিকানা হতে হবে হালাল সম্পদে অর্জিত।
যদি কারও সম্পদ হারাম, তবে তার ঐ পশুর মালিকানা ইসলামি দৃষ্টিতে বৈধ নয়,
তাই তার কুরবানী সহিহ হয় না।
---
উপসংহার:
---
পরামর্শ:
কুরবানীর জন্য এমন ব্যক্তিদের শরিক করুন, যাদের আয় হালাল ও পরিচ্ছন্ন।
সন্দেহযুক্ত আয় বা হারাম উৎস থেকে আসা ব্যক্তিদের এড়িয়ে চলা উচিত।
প্রয়োজনে একাই একটি ছাগল বা দুম্বা কুরবানী করুন, তবুও হারামের সংশ্রব যেন না থাকে।