16/07/2026
একটা দৃশ্য।
মার্টিনেজ গোল করলো। বিশাল গোল। ম্যাচ বদলে দেওয়া গোল। স্টেডিয়াম ফেটে পড়লো। লক্ষ মানুষ চিৎকার করছে। খেলোয়াড়রা একে অন্যের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। টিভির সামনে বসা কোটি মানুষ লাফাচ্ছে।
আর ডাগআউটে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা?
স্কালোনি। মুখে কোনো ভাব নেই। হাততালি নেই। লাফালাফি নেই। শুধু একটা ছোট মাথা নাড়া। তারপর আবার মাঠের দিকে তাকিয়ে থাকা। অনেকে বলবে ভাই লোকটার কি রক্ত ঠান্ডা? এত বড় গোল, একটু খুশি হবে না?
স্কালোনি খুশি হয়নি এমন না। কিন্তু সে জানে গোলটা ম্যাচের শেষ না। ম্যাচ এখনো চলছে। এখনো সব বদলে যেতে পারে। একটা গোল মানে এগিয়ে যাওয়া, জিতে যাওয়া না।
এইটাই চ্যাম্পিয়নের মানসিকতা।
সাধারণ মানুষ কী করে? একটা সাফল্য পেলেই মাথা ঘুরে যায়। ফোকাস হারিয়ে ফেলে। ভাবে হয়ে গেছে, এবার একটু আরাম করি। আর চ্যাম্পিয়নরা? তারা জানে একটা গোল শুধু একটা মাইলফলক। যাত্রা এখনো বাকি।
এখন এটা শুধু ফুটবলের কথা না।
তুমি একটা পরীক্ষায় ভালো করলে। আনন্দ করলে, ঠিক আছে। কিন্তু তারপর? থেমে যাবে? নাকি বলবে পরের পরীক্ষা আরো কঠিন, আরো ফোকাস লাগবে?
একটা প্রজেক্ট শেষ করলে? উদযাপন করো পাঁচ মিনিট। তারপর পরের প্রজেক্টে মন দাও।
একটা জব পেলে? দারুণ। কিন্তু জব পাওয়া শেষ না, শুরু। এখন প্রমাণ করতে হবে তুমি এই জবের যোগ্য।
সফল মানুষরা কখনো সাফল্যে মাতাল হয় না। কারণ তারা জানে সাফল্যের নেশা সবচেয়ে দ্রুত মানুষকে থামিয়ে দেয়।
কিন্তু এখানে একটা সতর্কতা আছে।
অনেকে এই ঠান্ডা মাথাকে ভুল বোঝে। ভাবে আনন্দ করা যাবে না। কখনো খুশি হওয়া যাবে না। জীবনটা রোবটের মতো কাটাতে হবে।
না। এটা ভুল।
স্কালোনিও খুশি হয়েছিল। মুখে সেই সন্তুষ্টিটা ছিল। কিন্তু সেটা ছিল সংক্ষিপ্ত। তারপরই আবার ফোকাস ফিরে গেছে লক্ষ্যে।
এটাই সঠিক ব্যালেন্স।আনন্দ করো, কিন্তু সীমা রেখে। উদযাপন করো, কিন্তু দ্রুত। তারপর আবার কাজে ফিরে আসো।
কারণ চ্যাম্পিয়নশিপ এখনো চলছে। আর গোলটা শুধু একটা ধাপ।
তাই পরের বার যখন কোনো সাফল্য পাবে, স্কালোনির সেই মুখটা মনে করো।
ঠান্ডা থাকো। ফোকাসড থাকো।
কারণ যে সাফল্যে মাতাল হয় না, সে পরের সাফল্যটাও পায়।