04/11/2025
“রিজিক” তিন অক্ষরের একটি ছোট্ট শব্দ, কিন্তু এর অর্থ ও তাৎপর্য অত্যন্ত বিস্তৃত ও গভীর।
পবিত্র কুরআন শরীফে ‘রিজিক’ শব্দটি ১২৩ বার উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা স্পষ্টভাবে বলেছেন —
“আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সীমাহীন রিজিক দান করেন।”
কিন্তু সমস্যা হলো,আমরা অধিকাংশ সময় “রিজিক”-এর প্রকৃত মানে বুঝি না। রিজিক কেবল টাকা-পয়সা বা ধনসম্পদের নাম নয়; এর পরিধি আরও অনেক বড় ও গভীর।চলুন এক নজরে জেনে নিই রিজিকের বিভিন্ন স্তরগুলো:-
★রিজিকের সর্বনিম্ন স্তর: টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদ ও বস্তুগত প্রাচুর্য।
★ রিজিকের উচ্চতর স্তর: শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা।
★ রিজিকের আরও উচ্চ স্তর: পরহেজগার জীবনসঙ্গী ও নেক সন্তান।
★ রিজিকের পরিপূর্ণ স্তর: আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও প্রাপ্তি।
রিজিক মানে এই নয় যে, একজনের লাভ মানেই অন্যজনের ক্ষতি। আপনি যদি ১০ হাজার টাকা বেশি আয় করেন, তাতে আমার রিজিক কমে যাবে না। কারণ, আল্লাহ তায়ালা আমার সামান্য আয়েও বরকত ও রহমত দিয়ে শান্তি এনে দিতে পারেন।আরবিতে এই বিষয়টিকে বলা হয় “হিকমাহ” যার অর্থ হলো, নিজেকে মানিয়ে নেওয়া ও তাতে সন্তুষ্ট থাকা।যে ব্যক্তি সব অবস্থায় সন্তুষ্ট থাকে,সে আসলে আল্লাহর দেওয়া “হিকমাহ” এর অধিকারী।
যাকে আল্লাহ তায়ালা হিকমাহ দান করেন, তার অন্তরে থাকে “সাকিনা” যার অর্থ শান্তি, প্রশান্তি, ধীরতা ও স্থিরতা।
ধরুন, আপনার সামনে অনেক রকম খাবার আছে, কিন্তু আপনি প্রতিটিতে দোষ খুঁজে বেড়াচ্ছেন।এটি প্রমাণ করে, আল্লাহ আপনাকে ধন-সম্পদ দিয়েছেন, কিন্তু “হিকমাহ” দেননি;ফলে আপনার ভেতরে “সাকিনা” নেই।
অন্যদিকে, যদি আপনার মধ্যে হিকমাহ থাকে,
তাহলে আপনি আলু ভর্তা আর ডাল খেয়েও পরম শান্তিতে বলবেন
“আলহামদুলিল্লাহ"
রিজিকের প্রকৃত অর্থ না বোঝার কারণেই আমাদের সমাজে হিংসা জন্মায়।এক ভাই এগিয়ে গেলে অন্য ভাইয়ের মন খারাপ হয়।কিন্তু আমাদের প্রিয় নবী (স) বলেছেন:-
“তোমরা একে অপরের সঙ্গে হিংসা করো না।”
(মুসলিম শরিফ, হাদিস নং ২৫৬৩)
ধরুন,কেউ একজন চাকরি খুঁজছেন বা ব্যবসা শুরু করতে চান,আপনার ছোট একটি পরামর্শ বা সহায়তা তার জীবনের দোয়ার দরজা খুলে দিতে পারে।কারণ, রাসুলুল্লাহ (স) আরও বলেছেন —
“যতক্ষণ একজন বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে,
আল্লাহ তায়ালাও ততক্ষণ তার সাহায্যে থাকেন।”
(মুসলিম শরিফ, হাদিস নং ২৫৬৫)
আপনি যাকে সাহায্য করেছেন, সে হয়তো ভুলে যেতে পারে।
কিন্তু আল্লাহ তায়ালা কখনও ভুলে যান না।
আপনি তার প্রতিদান আখিরাতে তো পাবেনই,
এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াতেও আল্লাহ তায়ালা কোনো না কোনোভাবে তার দশগুণ প্রতিদান আপনাকে ফিরিয়ে দেবেন। কারণ,
“আল্লাহর ভান্ডার তো সীমাহীন।”