প্রতিষ্ঠানের বৈশিষ্ট কেমন হবে:-
১. প্রতিষ্ঠানটি হবে মুসলিম মিল্লাতের ঐক্যের প্রতিক।
২. অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন ক্লাস রুম, বেডরুম ও কুতুবখানা থাকবে।
৩. পাঁচ বেলা খাবার দাবারের মান হবে থ্রী স্টার মানের।
৪. লন্ড্রি থাকবে সকল ছাত্র শিক্ষকের জন্য।
৫. ড্রেস কোড থাকবে।
ক. ছাত্রদের জন্য ঘুন্ডি ওলা গোল গলা গোল সাদা ক্বামিস (জুব্বা), সাদা পায়জামা, সাদা পাগরি, সাদা গোল টুপি, সাদা রুমাল।
খ. শিক্ষকদের ছাত্রদের অনুরূপ শুধু পাগড়ি হবে কালো রঙের।
৬. পঞ্চম শ্রেণী থেকে অাবাসিক অাবশ্যক।
৭. পড়াশুনার মাধ্যম হবে অারবি, উর্দূ ও ইংরেজী।
৮. তাসওফ এর তালিম প্রত্যেক ছাত্র শিক্ষক কর্মচারীর জন্য অাবশ্যক।
৯. পরিপুর্ণ সুন্নাতের ইত্তেবার শিক্ষা দান।
১০. কম্পিউটার শিক্ষায় গুরুত্বারোপ।
১১. দাখিল ও অালিম শ্রেনীতে ইসলামি বিজ্ঞান, ইসলামি সমাজ ও রাষ্ট্র বিজ্ঞান ও ইসলামি অর্থনীতি পাঠ অাবশ্যক।
১২. অরবি, উর্দূ, ফারসি, ইংরেজি ভাষা শিক্ষা অাবশ্যক।
১৩. বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রাইভেট অনুমোদন।
১৪. সম্ভব হলে বাংলাদেশ দ্বিনিয়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন লাভ করা।
১৫. প্রতি ক্লাসে ২৫ জন ছাত্র থাকবে।
১৬. বিএনসিসি/ বা শরীর চর্চা ও অাত্মরক্ষার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা।
১৭. অালিমের পর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য নিজস্ব ব্যাবস্থাপনায় প্রস্তুতির ব্যাবস্থা। কামেলের পর বিসিএসের জন্য প্রস্তুতির ব্যাবস্থা।
১৮. প্রতিষ্ঠান হবে রাজনৈতিক যে কোন দল মতের উর্ধে। তবে প্রত্যেক ছাত্র অাহলে সুন্নাহের মতাদর্শে বিশ্বাসী এমন যে কোন দল করতে পারবে। কিন্তু বাতিল ফেরকার সাথে সংশ্রবের প্রমান পেলে বহিঃষ্কার করা হবে।
সঠিক দল হিসেবে যে দলগুলো গ্রহনযোগ্য হতে পারে:- বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহ, তালামিজ, ছাত্র সেনা ইত্যাতি হ্বক অাকিদা পন্থি যে কোন দল।
১৯. ছুটি শুধু দুই ঈদে দশ দশ বিশ দিন। বাদ বাকি কোন ছুটি নেই। শুক্রবারও ক্লাস হবে।
২০. এক সপ্তাহের বেশী কোন ছাত্র অনুপস্থিত থাকলে নাম কাটা যেতে পারে।
২১. দৈনিক সাপ্তাহিক মাসিক তালিমের পাশাপাশি প্রতি তিন মাস অন্তর ছারছীনা শরীফ থেকে প্রতিনিধি অানার মাধ্যমে তালিম প্রদান।
২২. বছরে একটি সর্ব দলীয় ওলামা সম্মেলন করা।
২৩. ছাত্র ও শিক্ষকদের জন্য সু বিশাল কুতুব খানা থাকবে।
২৪. সৌদি অারব, মিশর, কুয়েত, লেবানন, সিরিয়া, তুরস্ক, মরোক্কো, মালয়শিয়া, পাকিস্তান ও ভারত সহ বিশ্বের নাম করা অন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে চলা....... ইত্যাদি ইত্যাদি।
দুটো স্বপ্ন:
১.একটি প্রতিষ্ঠাব হবে, যেখানে পড়াশোনা-পাঠদান হবে শাস্ত্রভিত্তিক। ঠিক আগের যুগের মতো। যে পদ্ধতিতে লেখাপড়া করেই সারাবিশ্ব কাঁপিয়েছেন সে-যুগের বিদগ্ধ আলিমগণ। কই, এখন তো আর তাদের মতো কাউকে খুব একটা দেখা যায় না, তেমন অনেক তৈরি হচ্ছে না বা হতে পারছে না। একজন তালিবুল ইলম প্রথমে ভাষা, ব্যাকরণ ও সাহিত্য, এরপর ফিকহ, উসুলুল ফিকহ, তারপর কোরআন, উলুমুল কোরআন ও তাফসির এবং সর্বশেষে হাদিস, উলুমুল হাদিস বিষয়ে পড়াশোনা-জ্ঞানার্জন করবে। সহায়ক অন্যান্য বিষয়, যেমন ফেরাকে বাতেলা ও সমকালীন ফেতনা (প্রাচ্যবিদদের ফেতনা ও দেশী-বিদেশী সকল ফেতনা), সিরাত-ইতিহাস, মানতিক প্রভৃতি বিষয় উপরিউক্ত চার বিভাগের অধীনেই পরিপূরক শাস্ত্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর বিস্তারিত রূপরেখা, নেছাব, পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষক নির্বাচন সবকিছু নিয়ে ভাবনা-গবেষণা দীর্ঘ সময়ের দাবি রাখে। আপাতত তাই খসড়াটাই উল্লেখ করলাম।
২.একটি বিভাগ হবে- হিফজুল হাদিস বিভাগ। মধ্যপ্রাচ্যে অনেক আগে থেকেই তা আছে। আমাদের দেশে কোথাও এখনও চালু হয়নি। কোমলমতি শিশুরা হিফজুল কোরআন শেষ করে প্রিয়নবির বিশুদ্ধ হাদিসের ভাণ্ডার থেকে পুনরুক্তি বাদ দিয়ে প্রয়োজনীয় হাদিসগুলো নির্বাচিত পাঠ্য থেকে মুখস্থ করবে, ঠিক কোরআন যেমন মুখস্থ করেছে। হাফিজুল হাদিস তৈরির প্রাণকেন্দ্ররূপে গড়ে ওঠবে সে-প্রতিষ্ঠান। এর প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা যে কতো, তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিতে হলেও প্রয়োজন সুদীর্ঘ নিবন্ধ।
ইনশা অাল্লাহ এমন একটি প্রতিষ্ঠান ঢাকায় হবে।
স্বপ্নের কথা জানালাম। কাজ হোক- তাই কামনা। সূচনার ক্রেডিট আমাকেই অর্জন করতে হবে- এটা সঠিক, সুন্দর ভাবনা নয়। আল্লাহর কোনো বান্দা যদি এ মহৎ কাজের জন্য প্রস্তুত হয়ে যান, আর প্রকৃত অর্থেই তিনি তার যোগ্য হন, তবে সার্বিকভাবে তাকে সমর্থন-সহযোগিতার জন্য ইনশা'আল্লাহ আমি প্রস্তুত আছি। আমার এই পোস্ট যদি একজন মহান উদ্যোক্তারও দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তবে তাই হবে আমার সাফল্য। তবে হ্যা, এই স্বপ্নের প্রথম বাস্তবায়নকারী যিনি হবেন, তাকে হতে হবে যোগ্য, বিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ। নইলে সূচনার অব্যবহিত পরেই হয়তো তা ব্যর্থতার মুখ দেখতে বাধ্য হবে, অঙ্কুরেই বিনষ্ট হবে এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা। আল্লাহ, তুমি কবুল করো। তাওফিক দান করো। সঠিক পথনির্দেশ করো।