14/04/2026
একটা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করি।
আচ্ছা বলেনতো ,জাপানে ল্যাংগুয়েজ প্রোগ্রাম কিংবা পড়তে গেলে সপ্তাহে কতঘণ্টা কাজ করা যায়?
উত্তর :২৮ ঘণ্টা।
এটা জানেনা এমন কোনো স্টুডেন্ট নাই।কিন্তু মানে এমন স্টুডেন্ট ও পাওয়া খুবই টাফ।বিরল প্রজাতির প্রাণীদের মত।
২৮ ঘন্টার বেশি সপ্তাহে কাজ করা যাবেনা এটা কিন্তু নতুন নিয়ম না। আগে থেকে জাপানের আইনে লেখা আছে।ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে ,জাপান সরকার জানতো ৯৫% পোলাপান ই এই সীমা মানছে না।পাচিংকো থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, স্নাক বার ,ফ্যামিলি মার্ট,Lawson কিংবা 7 eleven এ সবাই উপরি ইনকাম করতো।
ক্যাশে কাজ করলে কে ধরবে?
সরকার আগেও সব জানতো কে কোথায় হ্যান্ডক্যাশে বাইতো করতো।কিন্তু জনসংখ্যা ঘাটতি থাকা সহ নানা কারনে সরকার দেখেও না দেখার ভান করত।
এবার সেই দিন শেষ করতে চাচ্ছে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
কেন এতদিন চোখ বন্ধ ছিল?
জাপানের ২০২৫ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ৪ লাখ ৬৪হাজার ৭৬৪জন বিদেশি ছাত্র ভিসায় রয়েছে।জাপানের মোট বিদেশির ১১.৩% স্টুডেন্ট ভিসা,ল্যংগুয়েজ প্রোগ্রাম এ আছে।এদের একটা বড় অংশ ভাষা শেখার চেয়ে কাজ করাকেই মূল উদ্দেশ্য বানিয়ে ফেলেছে।
২০২৬ সালে জাপানের সংসদে একজন LDP সাংসদ সরাসরি প্রশ্ন তুলেছিলেন,
“স্টুডেন্ট ভিসায় আসছে, কিন্তু পড়াশোনা নয় ,কাজই মূল লক্ষ্য। এটা কি ঠিক?”
মন্ত্রী স্বীকার করলেন — হ্যাঁ, সমস্যা বাড়ছে।
আর তারপরই নামল তাকাইচির নতুন কৌশল।
নতুন নিয়মটা আসলে কী?
এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া নিয়মটা হচ্ছে,
জাপানের প্রতিটি ল্যাংগুয়েজ স্কুলকে এখন প্রতি ৩ মাসে প্রতিটি ছাত্রের সাথে বসতে হবে।
জানতে হবে ,
১.কোথায় কাজ করছে?
২.কী ধরনের কাজ?
৩.কতঘণ্টা করছে?
এটাই আসল চমক।
আগে সরকার নিজে গিয়ে ধরত না।
এখন স্কুলকেই পুলিশ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।চোর পুলিশের খেলা জমিয়ে দিতে তাকাইচির আসলেই জুড়ি নাই।
এখন প্রশ্ন আসবে,নিয়ম ভাঙলে কী হবে?
ধাপ ১ : স্কুল প্রথমে সংশোধনী গাইডেন্স দেবে।
মানে বুঝিয়ে বলবে — ঠিক করো।ভালো হয়ে যাও মাসুদ।এমন আল্টিমেটাম আরকি।
ধাপ ২ — মাসুদ যদি তারপরও ভালো না হয়ে হ্যান্ডক্যাশ নামক পরকীয়ায় লিপ্ত থাকে???
স্কুল বাধ্যতামূলকভাবে ইমিগ্রেশনে রিপোর্ট করবে।
ধাপ ৩ — ইমিগ্রেশন রিপোর্ট পেলে?
ভিসা রিনিউয়াল বন্ধ।
স্ট্যাটাস বাতিল।
ডিপোর্টেশন।
৫ বছরের জন্য জাপানে প্রবেশ নিষেধ।
শুধু কি স্টুডেন্টকেই পানিশমেন্ট দিবে তাকাইচি?
তাকাইচির কথা,বাদ যাবেনা একটি শিশুও।
স্কুলেরও জবাবদিহি এখন বাধ্যতামূলক। অনেক স্কুল যদি তথ্য গোপণ করে সেক্ষেত্রে
শুধু ছাত্র না -স্কুলও এখন দায়ী।
২০২৩ সালে জাপান সরকার একটি নতুন আইন করেছে ,
সব ল্যাংগুয়েজ স্কুলকে ২০২৯ সালের মধ্যে অ্যাক্রেডিটেশন নিতে হবে।এই অ্যাক্রেডিটেশনের শর্তের মধ্যে আছে ,
ছাত্রের কাজের তদারকি ঠিকমতো করছে কিনা।
না করলে?
সেই স্কুল আর স্টুডেন্ট ভিসা স্পনসর করতে পারবে না।
মানে স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে কার্যত।
তাকাইচি কি এখানেই ক্ষান্ত হয়েছে?
উত্তর : না।
কফিনের শেষ পেরেকটা এখনো মারেনি।সেটা ২০২৭ এ মারবে।
২০২৭-এ আরও বড় চমক আসছে।
বর্তমানে ক্যাশে কাজ করলে ধরা কঠিন।
কিন্তু ২০২৭ সালের মধ্যে জাপান My Number ডিজিটাল সিস্টেম চালু করবে।এই সিস্টেম ছাত্রের ট্যাক্স রেকর্ড ও ইনকাম অটোমেটিকভাবে মিলিয়ে দেখবে।
ক্যাশে কাজ করলেও নিয়োগকর্তাকে রেকর্ড রাখতে হয়।
সেই রেকর্ড ধরে টেনে বের করা হবে।
অর্থাৎ লুকানোর শেষ পথটাও বন্ধ হচ্ছে।
তাইলে ফাইনালি কি বুঝলাম?
জাপান সরকার আসলে একটাই বার্তা দিচ্ছে।
“পড়তে এসেছ — পড়ো।
কাজ করতে এসেছ ,সঠিক ভিসায় এসো।”
আগে নিয়ম ছিল কিন্তু প্রয়োগ ছিল না।
এখন নিয়মও আছে, প্রয়োগও আসছে।
স্কুল তোমাকে দেখছে।ইমিগ্রেশন স্কুলকে দেখছে।
আর ২০২৭ থেকে ডিজিটাল সিস্টেম সবাইকে দেখবে।
জাপান বদলে গেছে। মানিয়ে নিতে হবে।একটা কথা মাথায় রাখেন।জাপান আপনাকে স্কলারশিপ দিয়ে ল্যাংগুয়েজ প্রোগ্রাম ভিসাতে আনছেনা।মোটা অংকের টিউশন ফিস নিজ ইচ্ছেই পরিশোধ করে সপ্তাহে ২৮ঘন্টার বেশি কাজ করবেন না এই মর্মে আপনি চুক্তিবদ্ধ ও হয়েছেন।এখন আপনিই বলেন আপনার চুক্তি মানাও তো আপনার ঈমানের একটা দায়িত্ব। ফরজ কাজ।ওয়াদা দিয়ে যেহেতু আসছেন ২৮ঘন্টার বেশি কাজ করবেন না,সেহেতু ওয়াদা ভেঙে মুনাফিক হলে তো দুনিয়াও যাবে আখিরাত ও যাবে।কেবল শূকর,মদ খেলেই গুনাহ হয় এই ধারণা বাদ দিন।আইন মানাও ফরজ।
তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ,যদি পরিবারের সামর্থ্য না থাকে আপনাকে না চালানোর ,তাহলে জাপান আসিয়েন না।জাপানে এসে হ্যান্ডক্যাশ করে ধরা খাইলে ম্যাংগো ও যাবে ম্যাংগোর বস্তাও যাবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আমার লেখা পড়ে আমাকে প্রচুর গালি দিচ্ছেন বা দিতে মন চাচ্ছে সে আমি জানি।আপনাদের গালি খেতেও রাজী আছি।কিন্তু তারপরেও যদি কারো উপকারে আসে তাতেই আমি খুশি।
আমার কথায় কষ্ট পেলে ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখার অনুরোধ রইলো।
05/04/2026
24/03/2026