সিদরাতুল মুনতাহা

সিদরাতুল মুনতাহা

Share

সিদরাতুল মুনতাহা একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক পেইজ।

16/11/2025

اللهمّ صلّي وسلم على نبينا محمد { ﷺ }

❛❛আল্লাহুম্মা সল্লি ওয়া'সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ❜❜(ﷺ)💌✨
কত উম্মত আপনাকে স্বপ্নে দেখেছে...
আমাকেও সেই সৌভাগ্য দান করুন!

স্বপ্নে দেখা দিন ইয়া রাসুলুল্লাহ (ﷺ) 🫀

25/09/2025

*🌙 আজ জুমার রাত! 🌙*

আসরের পর যখন সূর্যটা একটু একটু করে হেলে পড়ে...
তখন হয়তো আপনি ব্যস্ত ছিলেন—জীবিকার তাগিদে...
কিন্তু জানেন কি? আজ *জুমার রাত*—

এটি এমন একটি রাত, যেখানে *রহমতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়…*

🍃 কতদিন আল্লাহর দরজায় কাঁদিনি?
🍃 কতদিন অন্তর দিয়ে ক্ষমা চাইলাম না?
🍃 কতদিন আমাদের হৃদয় শুধুই পাথরের মতো পাষাণ?

🔸 অথচ এই রাত—আপনার অন্তরের জং ধুয়ে ফেলার সুযোগ।
🔸 এই রাত—একটু কেঁদে বলার সুযোগ:

*"আল্লাহ, আর দেরি করব না। এবার ফিরতে চাই..."*

✨ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন জুমার দিনের আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, এইদিন একটা সময় আছে তখন কোনো মুসলিম নামাযরত অবস্থায় আল্লাহর নিকট যা চাইবে আল্লাহ তাকে অবশ্যই তা দেবেন।
(আবু হুরায়রা রা. বলেন,) এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত দিয়ে ইশারা করেছেন, ঐ মুহূর্তটা অতি অল্প সময়।
📚 -সহীহ বুখারী, হাদীস ৯৩৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৫২

এই রাত হয়তো অনেকেই ভুলে যাবে...
তবে আপনি ভুলে যাবেন না!

🕋 শেষ রাতে একটু জেগে উঠুন ...
🕯 কিছুক্ষণ হাত তুলে নিন…

🤲 বলুন—"হে আল্লাহ! আমাকেও মাফ করে দিন... আমাকে ডুবিয়ে দিন আপনার রহমত দিয়ে …"

এই রাত হতে পারে *ফিরে আসার রাত*।
এই রাত হতে পারে আপনার জীবনের মোড় ঘোরানোর রাত।

04/05/2025

তাসাউফ, রাজনীতি ও পুঁজিবাদ: এক পুনর্জাগরণমূলক তাত্ত্বিক অন্বেষণ

আমি বা আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই প্রশ্নে তাসাউফকে এড়িয়ে যাওয়ার এর সুযোগ আছে কি-না? নাই। তবে চলেন একটা ভিন্নপাঠ শুরু করি।

ভূমিকা

তাসাউফ—যা বহুলাংশে আত্মিক অনুশীলন ও নৈতিক পরিশুদ্ধির পথ হিশেবে পরিচিত— তবে আমি মনে করি তাসাউফ হাল জামানায় এক নতুন পটভূমিতে পুনঃপাঠযোগ্য। একে কেবলই অভ্যন্তরীণ অনুশীলন হিশেবে দেখলে আমাদের জাতীয়, কথিতদের ভাষায় রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। বাস্তবে, তাসাউফ কেবলই ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়; সমষ্টিকে রূপান্তরের একটি ঐতিহাসিক শক্তি, একটি নৈতিক পন্থা ও ফাসাদের বিপরীতে এক ইসলাহী প্রকল্প। বর্তমান পৃথিবীতে যেখানে নৈতিকতার সংকট, আত্মার অবক্ষয়, সমাজের বিচ্ছিন্নতা এবং পুঁজিবাদের চরম স্বার্থপরতা আমাদের ঘিরে ধরেছে, সেখানে তাসাউফ আমাদের জন্য একমাত্র সম্ভাব্য মুক্তি, পরিত্রাণের পথ হতে পারে।

কেন? আমরা বিদ্যমান যত ব্যক্তিকেন্দ্রিক, পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয়, পদস্খলন দেখতে পাই, তার সূচনা হয়, ব্যক্তির ভিতর থেকে। অর্থাৎ অবক্ষয়ের সূচনা বা শুরুটা আভ্যন্তরীণ। অথচ আমরা সম্মানিত কোরআন হাদীস শরীফ থেকে পাই, যে তার নফসকে পরিশুদ্ধ করল, সেই সার্থক বা সফলকাম।

তাসাউফের ইসলামি দিকটা ব্যক্তির আভ্যন্তরীণ অবস্থার মধ্যে দিয়ে শুরু হয়। তা গিয়ে কোথায় ঠেকবে?

ইসলাহ শব্দখানা ফাসাদের বিপরীতে। অর্থাৎ অবশ্যই তার কাজকর্ম সকল ফাসাদ: এটা হোক সামাজিক বা আন্তর্জাতিক, যেকোনো পরিমন্ডলের অবক্ষয়, পদস্খলন ফাসাদ মোকাবেলায় একমাত্র পথ তাসাউফ। তাসাউফ চর্চার মধ্য দিয়ে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও উম্মাহ ইসলাহের পথ ধরে ঐক্যবন্ধ হওয়ার জারি রাখবে। এবং ঐক্যবদ্ধ জাতী হিশেবে নিজেদের হাজির করবে।

এখানে একটা কথা বলি, কেউ কেউ জিজ্ঞেস করেন, তাসাউফ কী তবে সম্মানিত ইসলাম উনার বাইরের কিছু? পশ্চিমা তাত্ত্বিকদের কাজটাই ছিল, তাসাউফকে সম্মানিত ইসলাম উনার বাইরের কিছু হিশেবে হাজির করা। এর জের ধরেই তারা সুফিজম সুফিবাদ, মিস্টিসিজম ইত্যাদি টার্ম বা পরিভাষার আবিস্কার করেছে।

এটা তারা জ্ঞানের জায়গা থেকে করেছে ব্যাপারটা তা নয়৷ বরং তাদের কাফেরী কুকৌশলের অংশ হিশেবেই তা করেছে।

তাসাউফের মূল দর্শন: আত্মশুদ্ধি, ন্যায়ের স্থাপনা ও সমষ্টিগত পুনর্জাগরণ ও ঐক্যবদ্ধ জাতী হিশেবে জমিনে খিলাফত আলা মিনহাজিন নবুয়াত শরীফ প্রতিষ্ঠা করা।

তাসাউফ হলো অন্তরযাত্রার এক চরম পরিশীলন, যা কেবল ব্যক্তির নিজের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয় বরং ইসলামি দুনিয়ার সামগ্রিক সভ্যতাবোধের প্রাণরস।

এই দিকে নির্দেশ করে সাইয়্যিদুনা ইমামুস সাদিস মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহ আলাইহিস সালাম ইরশাদ মুবারক করেন—

عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الصَّادِقِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ: «مَنْ عَاشَ فِي ظَاهِرِ الرَّسُولِ فَهُوَ سُنِّيٌّ، وَمَنْ عَاشَ فِي بَاطِنِ الرَّسُولِ فَهُوَ صُوفِيٌّ». وَأَرَادَ جَعْفَرٌ بِبَاطِنِ الرَّسُولِ ﷺ أَخْلَاقَهُ ⦗٢١⦘ الطَّاهِرَةِ، وَاخْتِيَارَهُ لِلْآخِرَةِ، فَمَنْ تَخَلَّقَ بِأَخْلَاقِ الرَّسُولِ ﷺ، وَتَخَيَّرَ مَا اخْتَارَهُ، وَرَغِبَ فِيمَا فِيهِ رَغِبَ، وَتَنَكَّبَ عَمَّا عَنْهُ نَكَبَ، وَأَخَذَ بِمَا إِلَيْهِ نَدَبَ، فَقَدْ صَفَا مِنَ الْكَدَرِ، وَنُحِّيَ مِنَ الْعَكَرِ، وَنُجِّيَ مِنَ الْغِيَرِ، وَمَنْ عَدَلَ عَنْ سَمْتِهِ وَنَهْجِهِ، وَعَوَّلَ عَلَى حُكْمِ نَفْسِهِ وَهَرَجِهِ، وَسَعَى لِبَطْنِهِ وَفَرْجِهِ، كَانَ مِنَ التَّصَوُّفِ خَالِيًا، وَفِي التَّجَاهُلِ سَاعِيًا، وَعَنْ خَطِيرِ الْأَحْوَالِ سَاهِيًا

حلية الأولياء وطبقات الأصفياء - ط السعادة ١/‏٢٠ — أبو نعيم الأصبهاني

অর্থ: যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার বাহ্যিক অনুসরণ করে, সে সুন্নি। আর যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার অন্তরঙ্গ বাস্তবতা বা গভীর সত্তার অর্থাৎ বাতেনি অনুসরণ করে, সে সুফি।

জাফর আলাইহিস সালাম এখানে রাসুলুল্লাহ উনার বাতেনির রসূল বলতে তাঁর পবিত্র চরিত্র ও আখলাক এবং আখিরাতকে অগ্রাধিকার দেওয়াকে বোঝাতে চেয়েছেন। সুতরাং, যে ব্যক্তি রাসুলুল্লাহর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার চরিত্র ধারণ করে, তাঁর পছন্দকে গ্রহণ করে, যা তিনি ভালোবেসেছেন তা ভালোবাসে, যা থেকে দূরে থেকেছেন তা থেকে দূরে থাকে এবং যেসব বিষয়ের প্রতি তিনি আহ্বান করেছেন তা অনুসরণ করে— সে ব্যক্তি কলুষতা থেকে মুক্ত হয়, মলিনতা থেকে পরিশুদ্ধ হয় এবং বিপদের হাত থেকে রক্ষা পায়।

আর যে ব্যক্তি তাঁর পথ ও কর্মপদ্ধতি থেকে সরে যায়, নিজের প্রবৃত্তির সিদ্ধান্ত ও বিশৃঙ্খলতার উপর নির্ভর করে, নিজের উদর ও কামনা-বাসনার পেছনে ছুটে— সে তাসাউফ থেকে বিচ্ছিন্ন, অজ্ঞতার দিকে ধাবিত এবং ভয়ংকর অবস্থা সম্পর্কে গাফিল হয়ে থাকে।

(সূত্র: ‘হিলইয়াতুল আওলিয়া ও তাবাকাতুল আসফিয়া’, আবু নুয়াইম আল-আসবাহানি, ১/২০, দারুস সা’আদাহ প্রকাশনা)

আখলাকে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশলে কী? আমরা হাদীস শরীফ থেকে জানতে পারি, সম্মানিত পুরো কোরআন শরীফই, আখলাকে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অতএব তাসাউফ কেবলই যে আভ্যন্তরীণ চর্চার বিষয় ময়, এর বৈশ্বিক ও সার্বজনীন বাস্তবতা আছে, তা এই জায়গা থেকে অনুমেয়। কারণ, কোরআন শরীফে কী নেই? সবই আছে।

আমি মূল আলোচনায় ফিরে যাই, তাসাউফের মূলভিত্তি হলো 'তাযকিয়াতুন নাফস' (تَزْكِيَةُ النَّفْسِ)—অর্থাৎ নফসের পরিশুদ্ধি। কোরআন শরীফ এবং হাদীস শরীফ উনাদের স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, যাঁরা নিজেদের পরিশুদ্ধ করেন, তাঁরাই সফল। এ সফলতা কেবল আমাদের চেনাজানা দুনিয়াবি বা আখিরাতভিত্তিক নয়; বরং এ এক সার্বিক সফলতা, যার ফলশ্রুতি সমাজে ন্যায়, করুণা ও ভ্রাতৃত্বের প্রতিস্থাপন। অর্থাৎ তাজকিয়াতুন নফসের মাধ্যমে পারিবারিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক আন্তর্জাতিক পরিশুদ্ধর ফলাফল হিশেবে চুড়ান্ত সার্থকতা সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নবুয়াত শরীফে এসে পৌঁছায়।

যার কারণে আমরা দেখতে পাই, পশ্চিমারা, বিশেষ করে প্রাচ্যবিদ্দের অনেকেই তাসাউফের উৎসবিন্দু নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে।

প্রাচ্যবিদদের ষড়যন্ত্র: তাসাউফকে ইসলাম থেকে বিচ্ছিন্ন করা

আমরা দেখতে পাই, ঔপনিবেশিক যুগে পশ্চিমা প্রাচ্যবিদেরা তাসাউফকে ইসলামি শরিয়তের মূল কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন করতে সচেষ্ট হয়। তারা একে হিন্দু যোগব্যায়ামের ধারাবাহিকতা, গ্রীক গনোস্টিসিজমের ছায়া কিংবা পারস্যের মাযদাকি মতবাদের উত্তরসূরী প্রমাণে উদ্যোগী হয়। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট: ইসলামকে খণ্ডিত করা এবং আত্মিকতা ও বিধানকে পৃথক করে একটি অসার, বুদ্ধিবিবর্জিত আধ্যাত্মিক রিচুয়ালভিত্তিক অবকাঠামো উপস্থাপন করা।

এই কৌশলগত বিভাজনের প্রভাব আজও বিদ্যমান। অনেক মুসলিমই মনে করেন তাসাউফ মানেই ফকিরি, নির্জনতা এবং সামাজিক কার্যক্রম থেকে মুক্তি। অথচ ইতিহাসে দেখা যায়, সত্যিকার তাসাউফচর্চাকারী ওলী পীর মুরশিদ আউলিয়ায়ে কেরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা jiহ|দ থেকে শুরু করে সামাজিক সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব দিয়েছেন। এমনকি খেলাফত কায়েম করেছেন, এমন নজীরও আমাদের সামনে আছে। যেমন, সাইয়্যিদুনা শহীদ আহমদ বেরলভী আলাইহিস সালাম। তিনি একাধারে একজন পীর মুরশিদ সুফী ওলী ও খলিফা ছিলেন।

তাসাউফের সূচনাবিন্দু বা উৎস নিয়ে মুখর এক বিতর্ক চলমান ইসলামি বিশেষজ্ঞ ও অমুসলিম প্রাচ্যবিদদের মাঝে। তবে প্রাচ্যবিদ অর্থাৎ ওরিয়েন্টালিস্টদের দেওয়া বক্তব্য বয়ান ইসলামি ঐতিহ্যে কখনো স্বীকৃতি পায় নি৷ কেউ দাবী করছে, তাসাউফ গ্রিক দর্শনের প্রভাবে জন্ম নেওয়া একটা মরমী দর্শন। কেউ বলছে, নিউপ্লেটোনিজম থেকে তাসাউফ এসেছে। আবার কেউ বলছে, ভারতীয় দর্শন থেকে তাসাউফের জন্ম।

কোনো কোনো প্রাচ্যবিদ ভয়ংকর কথা বলেছে যে, তাসাউফ ইরানীয় সভ্যতায় বিদ্যমান আধ্যাত্মিকতার সাথে ইসলামের যে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চলমান ছিল, সেই লড়াইয়ের ফলাফল।

তবে তাসাউফের উৎসবিন্দু নিয়ে বিতর্ক কেন? এটা কী প্রাচ্যবিদ্দের জ্ঞানের দাবী থেকে? না। অধিকাংশ প্রাচ্যবিদ তাদের জ্ঞানের জায়গায় সৎ ছিল না। তারা অত্যন্ত কুকৌশলে, পরিকল্পনা মাফিক ইসলাম থেকে তাসাউফকে খারিজ করার জন্যই, তার উৎস নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। তাসাউফের উৎস নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা, তাসাউফকে মিস্টিসিজম বা মরবীবাদ কিংবা রহস্যবাদী একটা আলাদা ইজম বা বাদ হিশেবে দেখানোর প্রবণতা মূলত তাসাউফকে ইসলাম থেকে খারিজ করার নিমিত্তেই খাড়া হয়েছে। অর্থাৎ তাসাউফের উৎস নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা ও তাকে রহস্যবাদ বৈরাগ্যবাদ, মরমীবাদ হিশেবে পেশ করা— এটা তাসাউফকে সেকুলারকরণের একটা প্রসেসও হতে পারে।

যার দরুন আমরা দেখতে পাই, প্রাচ্যবিদ্দের কাছে তাসাউফ সুফীজম সুফিবাদ রহস্যবাদ ইত্যাদি। অথচ তাসাউফ আর সুফীজম এক নয়। যেমন, নারী আর নারীবাদ এক নয়। তাসাউফ আলাদা কোনো বাদমতবাদ না। ইসলামে বাদমতবাদের কোনো জায়গা নেই।
তাসাউফ ইসলামের এক বিশেষ অনুষদ।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট: চেতনার বিপর্যয় ও জাতীয় মেরুদণ্ডহীনতা

আপনারা জানেন, বাংলাদেশ আজ এক সাংস্কৃতিক ও নৈতিক সংকটের যুগে উপনীত। তরুণ সমাজ ‘সেলফ-মেইড’, ‘লাইফ-স্টাইল’, ‘ব্যক্তি-সুখ’-এর মোহে বিভ্রান্ত। তাদের কাছে জাতীয় চিন্তা, ঐতিহ্য, ওলী-আউলিয়ার দিকনির্দেশনা, হক্কানী ওলামায়ে কেরামের সংলগ্নতা সহবত — সবকিছুই পুরোনো all seem outdated। আফশোস যে এই বিচ্ছিন্নতাই জাতীকে করে তুলেছে আত্মহীন, ইতিহাসবিমুখ এবং চিন্তাবিচ্ছিন্ন।

যে জাতি ওলী-আউলিয়াদের প্রতি সম্মান হারায়, তার হৃদয়ে আর কোনো মহান আদর্শ জন্ম নেয় না। তাই দেখা যায়, আমাদের দেশে ‘নেতা’ নেই—আছে শুধুই ক্ষমতাকামী, ব্যক্তি-মুনাফাভিত্তিক এক শ্রেণি। তারা তাসাউফকে ভয় পায়, কারণ তারা জানে—তাসাউফ মানেই ন্যায়ের প্রতি অবিচল, মজলুমের পাশে, বাতিলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাওয়া। তারা জানে, তাসাউফ তাদের আত্মমগ্নতার দুনিয়ায় আলো হিশেবে উপস্থিত হবে, তারা জানে, ভোগবাদী দুনিয়ার সবচেয়ে বড়ো প্রতিদ্বন্দ্বীই হলো তাসাউফ।

পুঁজিবাদ বনাম তাসাউফ: দুটি বিপরীত দর্শনের সংঘাত

আমরা জানি, পুঁজিবাদ এক আত্মকেন্দ্রিক আদর্শিক দর্শন বা মতবাদ । এটি বলে—“আমিই শেষ সত্য, আমিই সবার আগে। নিজের সুখ, নিজের আয়, নিজের নিরাপত্তা।” পুঁজিবাদ শুধু আমি আমি আমি। অন্য কেউ না, আমি আগে আমি সব ভোগ করব, সবকিছুই আমার। অন্যদিকে, তাসাউফ বলে—“তুমি নিজের জন্য যা পছন্দ করো, অন্যের জন্য তা-ই পছন্দ করো।

তাসাউফের একখানা মূলনীতি হলো 'ঈসার' অন্যকে নিজের ওপর তাকওয়ার ভিত্তিডে প্রাধান্য দেওয়া। পুঁজিবাদের মূল চালিকাশক্তি হলো 'ইগোইজম' (স্বার্থবাদ)। ফলে এই দুটি বিপরীত অবস্থানের সংঘাত অবশ্যম্ভাবী। পুঁজিবাদ বলে—“যার পুঁজির জোর, সেই আধিপত্যের হকদার।” বর্তমান দুনিয়ায় আমরা এর ব্যতিক্রম দেখছি না।
তাসাউফ বলেন—“তোমার মাল আছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হক দাও, গরীবের হক দাও।” পুঁজিবাদ বলে—“এই মাল আমি কামিয়েছি, এ আমার একচ্ছত্র অধিকার।”

তাসাউফ: জাতীয় পুনর্গঠনের তাত্ত্বিক কাঠামো

আমরা যদি সত্যিকার অর্থে জাতীয় পুনর্জাগরণ চাই, তবে তা কোনো রাজনৈতিক শ্লোগান, উন্নয়ন পরিকল্পনা কিংবা এনজিওর দাতব্যকর্মে সম্ভব নয়। আমাদের দরকার এক অন্তর্গত বিপ্লব—যার শুরু হবে আত্মশুদ্ধি দিয়ে, সমাজে ওলী-উলামা ও মুরশিদদের হক্ব স্থান নিশ্চিত করে, তরুণদের মানসগঠনে তাসাউফভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করে।

তাসাউফ মানে ফকিরি নয়, অনেকে ভাবে এটা বুঝি ঘরে বসে বসে বা পাহাড়ে ঘুরে ঘুরে আবেদী করা। কেউ তো ফকীহ বা ইমাম মুজতাহিদদের তাসাউফ চর্চাকারী হিশেবে কল্পনা করতে চায় না৷
যাইহোক তাসাউফ মানে মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা তিনি ও উনার রসূল হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাদের প্রতি সর্বোচ্চ মহব্বত, উনাদের সন্তুষ্টি, উনাদের নিসবত । এবং আত্মবিশ্বাস, আদর্শিক দৃঢ়তা। যে তাসাউফ আমরা আমাদের সাইয়্যিদ উনাদের থেকে জানেছি , পেয়েছি, পাচ্ছি—তা গভীর চর্চার মাধ্যমেই আমরা পৃথিবী গঠনের নেতৃত্ব দিতে পারব।

তাসাউফই একমাত্র মুক্তির পথ

আজকের বৈশ্বিক পটভূমিতে যেখানে মানুষ আত্মিকভাবে শূন্য, সমাজে শ্রদ্ধাবোধ লুপ্তপ্রায়, এবং নেতৃত্ব সংকট তীব্র—সেখানে তাসাউফ কেবল একটি বিকল্প নয়, বরং একমাত্র বিকল্প হিশেবে হাজির হয়েছে।

তাসাউফ মানেই নৈতিকতা, ন্যায়, করুণা ও আত্মত্যাগের সুশৃঙ্খল পন্থা। এটি কেবল রুহানিয়াত নয়; এটি উম্মাহ, নেতৃত্ব ও জনশক্তিকে রূপান্তরের তাত্ত্বিক কাঠামোও। যে জাতি তাসাউফকে ধারণ করে, তার পক্ষে পুঁজিবাদের দানবীয় থাবা রুখে দাঁড়ানো সম্ভব। যে জাতি তাদের মুরশিদ ওলী-উলামা উনাদের সম্মান করে, তাদের হৃদয় থেকে জাতি নির্মিত হয় এবং হবে।

তাই বলি: তাসাউফ মানে আত্মগঠন, পুঁজিবাদ মানে আত্মবিকৃতি।
এখন আমাদের সময় এসেছে—তাসাউফকে শুধু কেবলই ব্যক্তির আভ্যন্তরীণ চর্চার বিষয় না ভেবে বরং জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসার। যুবক তরুণ অর্থাৎ সর্বস্তরের মুসলমানদের হৃদয়ে ও চিন্তায় এর পুনঃস্থাপন ছাড়া কোনো সত্যিকার পরিবর্তন সম্ভব নয়।

#ইসলাম #পথ #তাসাউফ #ছল্লাল্লাহু_আলাইহি_ওয়াসাল্লাম #ওহাবী #ভাইরাল #ইমাম #মাওলানা #রাজনীতি #রাজনৈতিক #জ্ঞান #সালাফিজম #ব্রিটিশ
©সত্বাধীকারঃ বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, লেখক, গবেষক, বক্তাঃ জনাব আছেমী নামদার

01/05/2025

🔔 জুম্মা রিমাইন্ডার!

◆ সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করা-

◆ বেশি বেশি দরুদ শরীফ পাঠ করা-

◆ ইস্তেগফার করা-

◆ গোসল করে, পায়ে হেঁটে আগে আগে মসজিদে যাওয়া, ঈমামের কাছাকাছি বসা ও মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা-

◆নিজেদের জন‍্য পাশাপাশি মুসলিম কবরবাসী ও ফিলিস্তিনসহ সারাবিশ্বের নির্যাতিত সকল মুসলিম উম্মাহর জন‍্য দুআ করা।

20/04/2025

ইতিহাসে মহিলাদের সরাসরি ভায়োলেন্সে জড়িত হবার ঘটনা খুব বেশি পাওয়া যায় না। কিন্তু আড়ালে থেকে ষড়যন্ত্র উস্কে দিয়েছে এমন এভিডেন্স প্রায় প্রত্যেক ইতিহাসে পাবেন। বাংলার ইতিহাসে ঘষেটি বেগম, মুঘল সম্রাজ্য কিংবা অটোম্যান আমল হোক- প্রাসাদ যড়যন্ত্রে শাহজাদী-সম্ভ্রান্ত মহিলাদের ইনভল্ভমেন্ট পাবেনই পাবেন।

প্রত্যেক প্রজাতিকে একটা শক্তি দেয়া হয়েছে আবার দূর্বলতাও দেয়া হয়েছে। যেসব প্রাণি দূর্বল তারা অন্য প্রাণির উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। কিছু প্রাণি আছে, অন্য প্রাণীর উপর ডিম পেড়ে চলে যায়। কিছু পরজীবি আছে অন্য প্রাণীর পুষ্টির উপর বেঁচে থাকে।

একই ভাবে যে জিঘাংসা পুরণ বা ফাইট লড়ার ক্ষমতা নারীর নাই, সেই লড়াই সে কোন ভাবে পুরুষকে দিয়ে করায়। পুরুষের শক্তি পেশি, নারীর শক্তি হলো তার চোখের পানি।

এই জ্ঞান বর্তমানের পুরুষদের না থাকলেও অটোম্যান স্টেটসম্যানদের ছিল। শাহজাদারা বালেগ হয়ে গেলে তাঁদের সাথে ভালিদে সুলতানদেরও (শেহজাদার মা) সানজাকে পাঠানো হত। এর অন্যতম কারণ ছিল এই যে রাজধানী থেকে দূরে থাকলে মায়েরা ছেলেদের ক্ষমতায় বসানোর জন্য প্যালেস কন্সপিরেসী করতে পারবে না।

পারভেজ নবাব নামের এই ছেলেটা পড়ত প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটিতে। ক্যাম্পাসের সামনে পারভেজ তাঁর দুই বন্ধুকে নিয়ে সিঙ্গারা খাচ্ছিল। কাছাকাছি দুই নারী শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে ছিলো। তারা ধরে নেয় পারভেজ আর তার বন্ধুরা তাদেরকে নিয়ে হাসাহাসি করছে। তাই তারা কাউকে খবর দেয়। বহিরাগত তিনটা ছেলে এসে পারভেজদের কাছে হাসাহাসির কারণ জানতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তারা বিষয়টি মিটমাট করে দেন। কিন্তু ঐ তিন যুবক আরও কয়েকজনকে নিয়ে এসে পারভেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হতেই তাঁকে ছুড়িকাঘাত করে।

একটা ছুড়ির আঘাত ঠিক হৃদপিণ্ডের উপর পড়ে। এক ইঞ্চির একটা ক্ষত! মারা যায় পারভেজ।

তার বুকে যারা ছুরি চালিয়েছে তারা তো খুনি নিঃসন্দেহে। কিন্তু মুল দায়টা কার? কে উস্কে দিল? এই ছেলেগুলো হয়তো গ্রেপ্তার হবে। জেলে পচে মরবে। কিন্তু যাদের কারনে খুন হলো তাদের কিছুই হবে না।

তারা আজ সকালেও নাস্তা করে সেজগুজে হয়তো ক্যাম্পাসে যাবে। অন্যান্য দিনের মতো একগাদা এটেনশন ও ভ্যালিডেশন এবং দায়মুক্তি নিয়ে ফিরবে বাসায়।

এরকম ঘটনা অনেক দেখসি তাই, ভাইভ্রাদারদের প্রতি পরামর্শ হলো নারীত্বের এই বিষয়টি খেয়াল রাখবেন। নারীরা সরাসরি ভায়োলেন্সে যায় না। উস্কে দেয়, ম্যানিপুলেট করে।

এন্ড ইয়েস, অলওয়েজ দায়মুক্তি ভ্যালিডেশনের সুখ নিয়ে বাকি জীবন কাটিয়ে দেয়। আমরা অন্দরমহলের বিখ্যাত ষড়যন্ত্রগুলোর কথা বললাম। একের পর এক উদাহরন দেয়া যাবে চাইলে।

একটা ঘটনা হচ্ছে ২০২০ জেনিফার ফেইথ তার এক্স-বয়ফ্রেন্ড ড্যারিন লোপেজকে ম্যানিপুলেট করিয়ে বিশ্বাস করায় যে তার স্বামী জেমি তার উপর শারীরিক এবং যৌন নির্যাতন করেছে, এবং তাকে খুন করা দরকার। বিশ্বাস হয়তো করতে কষ্ট হবে, এরা ১০০,০০০ এর বেশি মেসেজ আদান-প্রদান করে। পরে লোপেজ জেমিকে খুন করে, তাকে আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০১১ সালে জোএন গ্রিফিথস তার বয়ফ্রেন্ড পিটার অ্যান্ড্রু হুডকে প্ররোচিত করে তার এক্স, জেসন বিসেলকে হত্যা করতে যাতে তার সন্তানকে দেখার অধিকার না পায়। পরে হুড হত্যা করে পুলিশের কাছে ধরা পরে এবং গ্রিফিথসের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়।

জেনিফার কিভাবে লোপেজকে ম্যানিপুলেট করেছিল শুনবেন?

লোপেজ মিলিটারিতে ছিল। জেনিফার একজন অসহায় নারী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরে আর লোপেজের পুরুষত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে। লাইক “কেমন পুরুষ হইলি যে আমার মত অবলা নারীরে বাঁচাইতে পারোস না? তুই কি আসলেই পুরুষ?”

লোল অনেক পুরুষ ইগোর চোটে এই ফাঁদে পা দিয়ে দেয় তারপর ফলাফল ভোগ করে। এরপর দেখা যায় মেয়েটা নতুন কোন পুরুষের জন্য চ্যাপা শুটকীর ভর্তা বানাচ্ছে। আর ছেলেটা রিয়েল ম্যান মেডেলটা গলায় পরে জেলের ভেতরে কারো পা টিপে দিচ্ছে।

মেয়েদের ছেলেদের উপর এবিউসের ঘটনা ঘাটলে এই তিন চারটা উপাদানের কোনটা পাওয়া যাবেই-

১। ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল
২। মিথ্যা অপবাদ (অমুক তমুক না করলে মামলা কইরা দিমু)
৩। পুরুষত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করা
৪। রোল সুইচিং

এই ফলস একিউজেশনের কারণে যে কত ছেলের জীবন নষ্ট হয়ে গেছে হিসাব নাই। মেয়েরা এর সুযোগ নিতে পারে কারণ তাদের মুখের কথা শুনলেই বিশ্বাস করে ফেলে সিম্পানন্দরা। “উঁহু না না, আমার বাবুটা মিথ্যা বলতে পারে না”

রোল সুইচের ব্যাপারটা নিয়ে উইকি পেইজে একটা চমৎকার উদাহরণ আছে। অনেক সময় মেয়েরা জোরে জোরে চিৎকার করতে থাকে এবং ভান করে যেন তাকে আক্রমণ করা হয়েছে। সেলফ হার্মের কারণে পাওয়া আঘাতের দোষ স্বামীকে দেয়া হয়। এই ধরনের ‘রোল সুইচ' পুরুষের বিরুদ্ধে মারাত্নক মানসিক নির্যাতন এম্বার হার্ড এই টেকনিক এপ্লাই করেছিল।

সমাজে যেহেতু এমন ধারণা আছে যে কেবল নারীরা অবলা এবং তারাই এবিউজড হতে পারে, তাই এই 'রোল সুইচ’ টেকনিক পুরুষের পক্ষে ব্যবহার করা কঠিন। পারজেভ নবাবকে নিয়ে যে মূল স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে সেখানে গেলেও দেখবেন নারীরা এসে নারীদের সাফাই গাওয়া শুরু করে দিয়েছে।

আপনি হয়তো খুব ভাব নিয়ে নারীর জন্য কিছু একটা করে জেলে পচে মরবেন। আর ওই নারী সুখে শান্তিতে সংসার করবে আর বলে বেড়াবে- জানিস, আমার জন্য ২ টা ছেলে মোষের মত মারামারি করেছে”, “জানিস আমার জন্য এক ছাওয়াল আরেকটার মাথা ফাটায় দিসে”- আপনার জন্ম যদি এসব বোকামানি করার জন্যই তৈরি হয় তাহলে বেস্ট অফ লাক, এসব করে বেড়ান ।

আমার অবস্থান হচ্ছে- সর্বাবস্থায় মাথা thanda kore চিন্তা করতে হবে।

14/04/2025

Meটা মনে করছে এই ভিডিওটির লিরিক্স গুলো কিছুসংখ্যক দেশের জন্য সঠিক নয় 🤣। 𝓕𝓪ইজbook কমিyouনিটি গাইড লাইনের বাহিরে যাওয়ায় ভিডিওটি কিছুসংখ্যক দেশগুলোর জন্য মিউট করে দিয়েছে। ভাবতে পারে ওদের মনে কত ভয়!!!!!! সামান্য একটা নাশীদের কথাই ওদের কলিজা কেঁপে গেছে 😂। আমি মনে করি ওদের সামনে কোন Wayপন দরকার নাই, শুধু একবার ঈমানী জজবায় "Naরাya তাকbir" দিলেই জায়গায় স্ট্রোক করে জাহান্নামে চলে যাবে ইনশা আল্লাহ্।
আপনারা সঠিক ধরেছেন শুধুমাত্র yesরায়েল ও 🥭এrika'র জন্যই এটা করা হয়েছে।
কতজনের মুখ বন্ধ রাখবা....….....হাহ্?
★মোদ্দা কথাঃ মূলত yesরায়েল ও 🥭এrika'র হাতে সময় অনেক কম বলতে গেলে একদমই নাই, তাই ভাদ্র মাসে কুকুর যেমন পাগল হয়ে যায় ওদের অবস্থা ঠিক এমনটাই হয়েছে 💯
👉 জানিনা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনার আগমন পর্যন্ত মহান আল্লাহ পাক আমার হায়াতে জিন্দেগী রেখেছেন কিনা, যদি রেখে থাকেন আলহামদুলিল্লাহ্ এবং খেলা হবে ইনশা আল্লাহ। আর যদি সে সময়ের আগেই যদি আমি কবরবাসী হয়ে যাই তাহলে মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত 𝓜𝓾সLim উম্মাহ্'র জন্য দোয়া করে যাবো ইনশা আল্লাহ। ✅

10/04/2025

মুহব্বতের দু’আ করলে কি হয়?

‘মুহব্বত’ শব্দটি আরবী। যার বাংলা অর্থ ভালোবাসা। আল্লাহ্‌র নামে পাশে মুহব্বত শব্দটিই মানানসই। তাই এই লিখায় মুহব্বত শব্দটিই ব্যবহার করলাম।

আল্লাহ্‌র মুহব্বত চাইতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) যে দু’আ গুলো শিক্ষা দিয়েছেন তা যদি আমাদের জীবনে সত্যি কবুল হয় তাহলে কেমন হতে পারে?

রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর দু’আসমূহের একটি হল এই যে, তিনি বলতেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ حُبَّكَ وَحُبَّ مَنْ يُحِبُّكَ
(আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা হুব্বাকা ওয়া হুব্বা মাঁই ইয়ু হিব্বুক)
অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আপনার মুহব্বত এবং যে আপনাকে মুহব্বত করে তার মুহব্বত চাই। [তিরমিজি: ৩৪৯০]

আর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তিনি দু’আয় বলতেন -
اللَّهُمَّ ارْزُقْنِي حُبَّكَ وَحُبَّ مَنْ يَنْفَعُنِي حُبُّهُ عِنْدَكَ
(আল্লাহুম্মার জুকনি হুব্বাকা ওয়া হুব্বা মাঁই ইয়ানফা’উনি হুব্বুহু ‘ইংদাক)
“হে আল্লাহ! আমাকে আপনার মুহব্বত দান করুন এবং ঐ ব্যক্তির মুহব্বতও দান করুন যার মুহব্বত আপনার নিকটে আমার উপকারে আসবে। [তিরমিজি: ৩৪৯১]

ধরুন আপনি এই দু’আ গুলি নিয়মিত করছেন। দু’আ গুলি যদি কবুল হয়ে যায় তাহলে যা হবে বলে আমি বিশ্বাস করি তা হলো, অনেক কাছের মানুষ আপনার থেকে দূরে সরে যাবে আর অনেক দূরের মানুষ আপনার কাছে আসবে। কিভাবে তা আমি সংক্ষেপে বুঝানোর চেষ্টা করছি।

প্রথম দু’আতে বলা হচ্ছে - “হে আল্লাহ্‌ আমাকে আপনার মুহব্বত দান করুন।” আল্লাহ্‌ তো সব বান্দাকেই সাধারণভাবে মুহব্বত করেন। তাই এখানে খাস মুহব্বত চাওয়া হচ্ছে। এই দু’আ কবুল হলেই পরের অংশ কবুল হবে বলে ধারণা করা যায়, যেখানে বলা হচ্ছে- “যে আপনাকে (আল্লাহকে) মুহব্বত করে তার মুহব্বত দান করুন”।

আমরা মুসলমান মাত্রই মনে করি আমরা আল্লাহকে মুহব্বত করি। কিন্তু এ দাবী আল্লাহ্‌র কাছে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পেল, আবার গ্রহনযোগ্যতা পেলেও তা কোন স্তরে স্বীকৃত হলো তা অবশ্যই ভাবনার বিষয়। আল্লাহর মুহব্বতকারী দাবী করে সারাদিন তাঁর নাফরমানি করে যাচ্ছি। টিভি, গান-বাজনা, বেপর্দা, বেহায়াপনা, ইউটিউব, টিকটক, ইত্যাদিতে সারাদিন ব্যাস্ত থাকি। বলাই বাহুল্য যে, এখন আর টিভি সেটের সামনে বসে কাউকে টিভি দেখতে হয় না। হাতের স্মার্ট ফোন আর টিভির মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই, বরং টিভির চেয়েও বড় ভয়ংকর ফাঁদ এই ফোন। সারাদিন ইসলামিক কন্টেন্টের নামে যা দেখে যাচ্ছি তার ৯০ভাগেই হারাম মিশ্রিত। তাই আল্লাহ্‌র কাছে যারা সত্যিকার অর্থেই আল্লাহ্‌র মুহব্বতকারী তাক্বওয়াবান আমরা দু’আ-তে আল্লাহ্‌র মুহব্বতের পরে তাদেরই মুহব্বত প্রার্থনা করছি। এসকল মুহব্বতকারীদের মধ্যে আমাদের খুব কাছের মানুষজন থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে।

একইভাবে দ্বিতীয় দু’আতেও আমরা আল্লাহ্‌র মুহব্বত প্রার্থনা করার পর ওই ব্যাক্তির মুহব্বত চাচ্ছি যার মুহব্বত আল্লাহ্‌র নিকটে আমার জন্য উপকারী হবে। অর্থাৎ উক্ত ব্যক্তি মুহব্বতের মাধ্যম দিয়ে আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভের রাস্তা আমার আপনার জন্য সুগম হবে বলে আল্লাহ মনে করেন।

এখানেও ফলাফল একই দাঁড়ানোর কথা। যাদের দ্বারা আল্লাহ্‌ আপনাকে উপকৃত করতে চাইবেন শুধু মাত্র তারাই আপনার উপকারে আসবে। আর যাদেরকে আল্লাহ্‌ আপনার আমার জন্য উপকারী মনে করবেন না তাদের তিনি তাঁর আপন হিকমতে দূরে সরিয়ে দেবেন। তাই আমাদের কাছের অতি আপন মানুষজন যদি প্রকৃত অর্থে আল্লাহ্‌র মুহব্বতকারী না হন তাহলে কিন্তু আমরা তাদের দ্বারা উপকৃত হব না, আর তা উক্ত দু’আ কবুল হবার কারণেই।

জাগতিক দৃষ্টিতে যাদের আমরা ভালোবাসি তারা যদি দূরে সরে যেতে থাকে তাহলে হতাশ ও বিভ্রান্ত হবার কিছু নেই। কারণ আল্লাহই আমাদের জন্য উত্তম পরিকল্পনাকারী। এ জন্যই দেখবেন নবী-রসূল (আলাইহিমুস সালাম) গণের দু’আর ভাষা সরাসরি হতো না। সব দু’আতেই ওনারা ফয়সালা আল্লাহ্‌র হাতে ছেড়ে দিতেন, যেমন দেখা যাচ্ছে উল্লেখিত দুটি দু’আয়।

অপর একটি সুপরিচিত দু’আ রয়েছে- “রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানা…” যে দু’আ আমরা সবাই জানি। এটিও একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ যার মাধ্যমে আমরা আমাদের ইহকাল ও পরকালের সকল ভালো চেয়ে থাকি।

আল্লাহ্‌ কুরআনে বলেন, “তোমরা যা অপছন্দ কর হতে পারে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর এবং যা ভালবাস হতে পারে তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আর আল্লাহ্‌ জানেন তোমরা জান না।”
[সূরাঃ আল-বাকারাঃ ২১৬]

তাই আল্লাহ্‌র উপর যখন আপনি সিদ্ধান্তের ভার ছেড়ে দিবেন তখন এমন সব মুখ আপনি দেখতে পাবেন যেগুলির সম্পর্কে আপনার ধারণা ছিলো না। এজন্য দুঃচিন্তাগ্রস্থ হবার দরকার নেই, আপনার উদ্বিঘ্নতা থাকবে, আপনার নিকট যাদের হক্ব রয়েছে আপনি তা আদায় করছেন কিনা। তারা আপনাকে মুহব্বত করুক আর না করুক। তাদের মুহব্বত আল্লাহ্‌র পছন্দনীয় না হলে তা আপনার কাজে আসবে না। আপনার দু’আ-ই তার কারণ।

জাযাকুমুল্লাহ!

- 💞

01/11/2024

মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র ৯৯ টি নাম, টাইমলাইনে রেখে দিতে পারেন।

Send a message to learn more

14/10/2024

মহান আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে হেদায়েত নসীব করুন আমীন।

Want your school to be the top-listed School/college in Narayanganj?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address


Narayanganj
1400