চলো ভগবান কে জানি

চলো ভগবান কে জানি

Share

জ্ঞান অমুল্য সম্পদ, পুরো পৃথিবী অস্ত্র দিয়ে নয়, জ্ঞান দিয়ে শাসন করা হচ্ছে। তাই শিক্ষা কখনই কমে না, জানার কোনো বয়স হয়না। হরেকৃষ্ণ❤️ চলো ভগবান কে জানি 👏

10/06/2026

কমলা বা পরমা একাদশী মাহাত্ম্য || পুরুষোত্তম মাস, অধিমাস বা মলমাসের কৃষ্ণপক্ষের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্রত ||

১১/০৬/২৬ বৃহস্পতিবার পরমা একাদশী পারণ পরের দিন ১২ তারিখ শুক্রবার সকাল ৫:১০ -০৯:৪২ পযন্ত।

মহারাজ যুধিষ্ঠিরকে কমলা বা পরমা একাদশী মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছিলেন স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। একদা শ্রীকৃষ্ণের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় আর্যাবর্তের চক্রবর্তী সম্রাট ও পাণ্ডুপুত্র যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণের কাছে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, হে মধুসূদন! পুরষোত্তম মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথি মাহাত্ম্য, ব্রতকথা, আচার ও নিয়ম কানুন আপনার কাছ থেকে আগেই জেনেছি। এবার কৃপা করে অধিমাস, মলমাস বা পুরুষোত্তম মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশীর নাম, একাদশীর মাহাত্ম্য, পালনীয় বিধি ও এর ফলাফল সম্পর্কে বিশদ্ভাবে আমাকে বলুন।

পরমা একাদশী পালনের নিয়ম

উত্তরে শ্রীকৃষ্ণ সন্তুষ্ট চিত্তে যুধিষ্ঠিরের উদ্দেশ্যে বললেন “হে কৌন্তেয়, কমলা বা পরমা একাদশীতে পালনীয় বিধি পদ্মিনী একাদশী তিথিতে পালনীয় বিধির মত অভিন্ন। অন্যান্য একাদশী তিথির মতই পূর্দবের শমীর দিন থেকেই ব্রত কার্যের সূচনা হয়। এবং দশমীর দিন থেকেই কাঁসার পাত্রে ভোজন, মসুর, ছোলা, শাক এবং অপরের অন্ন ও আমিষ বর্জন করতে হয়। পরের দিন প্রাতঃকৃত্যের পর সুগন্ধী ধূপ, দীপ, চন্দনাদি দিয়ে ভগবানের পূজা করতে হয়। রাত্রিতে জাগ্রত থেকে ভগবানের নাম, গুণ কীর্তন করতে হয়। এবং পদ্মিনী একাদশীর মতই এই কমলা বা পরমা একাদশী ব্রত সুখদাত্রী, মুক্তি দানকারী, আনন্দ প্রদানকারী, পবিত্র এবং পাপবিনাশিনী। এসকল কারনে এই একাদশীর নাম পরমা।”

পরমা একাদশী মাহাত্ম্য

পরমা একাদশী পালনের বিধি ও নিয়ম কানুন বর্ণনা করার পর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবার পরমা একাদশী মাহাত্ম্য বর্ণনা শুরু করলেন। তিনি যুধিষ্ঠিরকে বললেন, “হে মহারাজ যুধিষ্ঠির, পরমা একাদশী কেন একটি অবশ্যই পালনীয় এবং এ একাদশীর প্রভাবে কি ধরনের ফল পাওয়া যায় সেই বিষয়ে একটি কাহিনী এখন আমি আপনাদেরকে বর্ণনা করব। একদা আমি যখন কাম্পিল্য নগরে ভ্রমণ করছিলাম, তখন সেখানকার কিছু সাধু-সন্যাসী ও মুনিঋষিদের সান্নিধ্য লাভ করার সুযোগ হয়েছিল আমার। এবং পরমা একাদশী মাহাত্ম্য বা ব্রতকথার এই কাহিনী আমি তাঁদের শ্রীমুখ থেকেই শ্রবণ করেছিলাম।

পুরাকালে কাম্পিল্য নগরে সুমেধা নামে এক হতদরিদ্র ব্রহ্মণ বাস করতেন। তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল পবিত্রা। দেবী পবিত্রা ছিলেন অত্যন্ত সাধ্বী ও পতিব্রতা। কিন্তু পূর্বে কৃত কিছু কর্মফলের কারনে সুমেধা নামের এই বাহ্মণ ধনহীন হয়ে পড়েন। তাঁর অবস্থা এতটা শোচনীয় ছিল যে গৃহীদের কাছে ভিক্ষা চেয়েও তাঁর কপালে কিছুই জুটত না। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁর পতিব্রতা স্ত্রী নিষ্ঠা সহকারে পতি সেবা করতেন। তিনি এতটাই ত্যাগী ছিলেন যে গৃহে অতিথি আসলে তাঁদের সেবা করার পরে প্রয়োজন পড়লে তিনি নিজে অনাহারে থাকতেন। দেবী পবিত্রা কখনোই তাঁর স্বামীকে কখনও বলতেন না যে তাঁদের গৃহে অন্ন বা ভোজ্য কিছু নেই। কিন্তু দিনের পর দিন অনাহার ও অর্ধাহারে থাকার পর ক্রমে ক্রমে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকল এই পতিব্রতা নারীর।

আর তাই পত্নীর শারিরীক দূরাবস্থার কথা চিন্তা করে ব্রাহ্মণ সুমেধা নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করতেন। একদিন ব্রাহ্মণ তাঁর পত্নীকে বললেন, “হে কান্তে! তুমি আমাকে নিজ মুখে না বললেও আমি তোমার কষ্ট বুঝি। তোমার জীর্ণ শরীর এই অর্ধাহার-অনাহারের বোঝা বইতে পারছে না। কিন্তু বলো এখন আমি কি করব? শত চেষ্টা করেও আমি ধনবান মানুষদের কাছেও ভিক্ষা চেয়ে পাই না। ক্রোশের পর ক্রোশ হেটে গিয়েও ভিক্ষা সংগ্রহে আমি প্রতিনিয়ত ব্যার্থ হই। এখন আমার ইচ্ছে, ধন সংগ্রহের জন্য আমি দূরদেশে কোথাও যেতে চাই। সেখান থেকে ধনলাভ করতে পারলে তোমার এই কষ্ট আর আমাকে দেখতে হবে না। তুমি আমাকে দূরদেশে ভিক্ষা সংগ্রহে যাওয়ার অনুমতি দাও।”

ব্রাহ্মণপত্নী তখন ক্ষীণ হেসে স্বামীকে বললেন, “হে বিদ্বান! এজগতে প্রত্যেক মানুষ তার পূর্বসঞ্চিত ফল ভোগ করে। তাই পূর্বজন্মের কোন সঞ্চিত ফল না থাকলে স্বর্ণপর্বতে গেলেও কিছু পাওয়া যাবে না। হে স্বামী, পূর্বজন্মে আমি অথবা আপনি কেউই হয়ত আমাদের ধনসম্পদ ইত্যাদি কোন কিছুই সৎপাত্রে দান করিনি। সেকারনেই আজ আমাদের এই দূর্দশা। তাই আমাদের ভাগ্যে যা আছে তা এখানে থেকেই লাভ হবে। তাছাড়া আপনাকে ছাড়া আমি এক মুহূর্তও থাকতে পারব না। কেননা আমার মত পতীহীনাকে দুর্ভাগা বলে সবাই তখন নিন্দা করবে। অতএব এখানে যা ধন লাভ হয় তা দিয়ে আমাদের দুজনের দিনযাপন করাই শ্রেয়। ব্রাহ্মণ সুমেধা তাঁর বিচক্ষণ পত্নীর কথা শুনে তাঁর অভিপ্রায় বদল করলেন। ভাবলেন তাঁর স্ত্রী শুধু সাধ্বী এবং পতিব্রতাই নন, বরং বিচক্ষণ ও জ্ঞানীও বটে। তাই স্ত্রীর পরামর্শে কাম্পিল্য নগরেই অতি কষ্টে দিনাতিপাত করতে লাগলেন এই দম্পতি।

পরমা একাদশী পালনের ফলাফল

একদিন ভগবানের আয়োজনে মুনিশ্রেষ্ঠ কৌণ্ডিন্য পদার্পণ করলেন কাম্পিল্য নগরের সুমেধার পর্ণকুটিরে। এমন বরেণ্য ঋষির দর্শন পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন ব্রাহ্মণ সুমেধা। তিনি সস্ত্রীক মুনিকে ষষ্টাঙ্গে প্রণাম করে, এবং কৌণ্ডিণ্য মুনির পদধৌত করে তাঁকে আপ্যায়ন করলেন। এরপর সুন্দর আসনে বসিয়ে দিয়ে তাঁর পূজা করলেন এবং পদসেবা করলেন। তাঁদের কুটিরে সঞ্চিত সামান্য কিছু ভোজন এনে ঐ দম্পতি আনন্দ সহকারে মুনিকে ভোজন করালেন। তাঁদের আয়োজন অতি সামান্য হলেও তাতে ভক্তি, আন্তরিকতা ও সেবার কোন ত্রুটি ছিল না। তাই মহামুনি কৌণ্ডিণ্য তাঁদের আপ্যায়নে অত্যন্ত প্রীত হলেন।

ঋষির ভোজন সমাপন হওয়ার পরে ব্রাহ্মণপত্নী ঋষি কৌণ্ডিণ্যকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে মুনিবর! আমরা অতিশয় দরিদ্র। বহু ক্রোশ পথ হেটেও ভিক্ষা জোটে না আমাদের কপালে। তাই দয়া করে আমাদের এই সামান্য আয়োজনে আপনি পরিতৃপ্ত হন। ব্রাহ্মণ পত্নীর ভক্তিতে আবারও প্রসন্ন হয়ে স্মিত হেসে বরাভয় প্রদর্শন করলেন মহামুনি কৌণ্ডিণ্য। এরপর ব্রাহ্মণ পত্নী আবারও জিজ্ঞাসা করলেন, “হে মুনিবর, আমার স্বামী আমাকে এখানে রেখে ভিক্ষা সংগ্রহের জন্য দূর দেশে যেতে চান। কিন্তু আমি তাঁকে যেতে নিষেধ করেছি। আমার বিশ্বাস ছিল আপনার মত কেউ একজন আমাদেরকে উদ্ধার করার জন্য এখানে পদার্পণ করবেন। হে জ্ঞানী, এখন আমাদের ভাগ্যবশে এখানে আপনার শুভাগমন হয়েছে। আপনিই আমাদেরকে বলে দিন কিভাবে দরিদ্রতা নাশ হয়? বিনা দানে কিভাবে ধন, বিদ্যা, স্ত্রী লাভ হয়? দরিদ্রতা বিনষ্ট হয় এমন কোন ব্রত বা তপস্যার কথা আপনি কৃপা করে আমাদের বলুন।
ব্রাহ্মণ পত্নীর কথা শুনে মুনিবর বললেন, “হে পুত্রী! তোমার বিচক্ষণতা, জ্ঞান, ও ভক্তিতে আমি অতিশয় সন্তুষ্ট হয়েছি। তাই আমিও তোমাদের এই দারিদ্রতা বিমোচনের উপায় বলে যাচ্ছি। পুরুষোত্তম মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথির নাম পরমা একাদশী। এই একাদশী সর্বশ্রেষ্ঠা এবং শ্রীভগবানের অতিব প্রিয়তমা। এই পরমা একাদশী ব্রত পালনে মানুষ অন্ন, ধনসম্পদ আদি সবই লাভ করে থাকে। এই ব্রত সর্বপ্রথম পালন করেছিলেন ধনপতি কুবের। রাজা হরিশচন্দ্রও এই ব্রত পালনে স্ত্রী-পুত্র ও রাজ্য ফিরে পেয়েছিলেন। হে বিশালাক্ষী! এই জন্য তোমরাও এই ব্রত পালন কর।” এই বলে ব্রাহ্মণের পর্ণকুটির ত্যাগ করলেন মহামুনি কৌণ্ডিণ্য।

এরপর কৌণ্ডিণ্য মুনির নির্দেশ মোতাবেক ব্রাহ্মণ সুমেধা সস্ত্রীক বিধিমতো পুরুষোত্তম মাসের কল্যানদায়িনী পরমা একাদশী ব্রত পালন করলেন। ব্রত সমাপনের পর আচমকা রাজভবন থেকে এক রাজকুমার তাঁদের ছোট্ট কুটিরে প্রবেশ করলেন। এবং ব্রহ্মার প্রেরণায় এই রাজকুমার বহু ধনসম্পদ, নতুন গৃহ ও গাভী দান করলেন সুমেধা ও স্ত্রীকে। এইভাবে পরমা ব্রতের প্রভাবে ব্রহ্মণ-দম্পতির সকল দুঃখের অবসান হল। অপরপক্ষে ব্রাহ্মণের প্রতি এই দানের ফলে মৃত্যুর পর সেই রাজকুমারও বিষ্ণুলোক প্রাপ্ত হয়েছিলেন।”

শ্রীকৃষ্ণ বলে চললেন, হে পাণ্ডব, যে মনুষ্য এই একাদশী ব্রত পালন না করেন তিনি চুরাশি লক্ষ যোনিতে ভ্রমণ করেও কখনও সুখী হন না। বহু পুণ্য কর্মের ফলে দুর্লভ মানব-জন্ম লাভ হয়। তাই মানব-জীবনে এই একাদশী ব্রত পালন করা অবশ্য কর্তব্য।” স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীমুখ নিঃসৃত এই পরমা একাদশী মাহাত্ম্য শ্রবণ করে মহারাজ যুধিষ্ঠির তাঁর আত্মীয়বর্গের সঙ্গে এই ব্রত পালন করেছিলেন।

26/05/2026

পদ্মিনী একাদশী, যা পুরুষোত্তমী একাদশী বা মলমাসী একাদশী নামেও পরিচিত, হিন্দু ধর্মে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্রত। প্রতি তিন বছর পর পর আসা অধিক মাসে (মলমাস বা পুরুষোত্তম মাস) এই একাদশী পালিত হয়, যা এর মাহাত্ম্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ২০২৬ সালে এই পুণ্য তিথি কবে পড়েছে, এর পারণের সময় কখন এবং এই ব্রতের মাহাত্ম্যই বা কী—এই সকল প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আমাদের আজকের এই বিস্তারিত আলোচনা।

পদ্মিনী একাদশী ২০২৬ কবে?

২০২৬ সালে পদ্মিনী একাদশী ব্রত পালিত হবে ২৭শে মে, বুধবার (বাংলা ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩)।

একাদশী তিথি কখন শুরু ও শেষ হবে?

তিথি শুরু: ২৬শে মে, মঙ্গলবার।

তিথি শেষ: ২৭শে মে, বুধবার।

দ্রষ্টব্য: উদয়া তিথি অনুসারে, অর্থাৎ সূর্যোদয়ের সময় একাদশী তিথি থাকায়, ব্রতটি ২৭শে মে পালিত হবে।

একাদশী পারণের সময় (Ekadashi Paran Time in Bangladesh)

সঠিক সময়ে পারণ বা ব্রত ভঙ্গ করা একাদশী পালনের একটি অপরিহার্য অঙ্গ।

পারণের দিন: ২৮শে মে, বৃহস্পতিবার।

ইসকন (ISKCON) মতে পারণের সময়: পরদিন ভোর ৫টা ১১ মিনিট থেকে সকাল ৮টা ২৯ মিনিটের মধ্যে।

স্মার্ত, গোস্বামী ও নিম্বার্ক মতে পারণের সময়: পরদিন সূর্যোদয় থেকে সকাল ৯টা ১০ মিনিটের মধ্যে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: উল্লেখিত সময়সূচী বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য। স্থানভেদে সময়ের সামান্য তারতম্য হতে পারে।

পদ্মিনী একাদশীর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য

পদ্মিনী একাদশী অন্য সকল একাদশী থেকে অধিক ফলদায়ী বলে মনে করা হয়। যেহেতু এটি ভগবান বিষ্ণুর প্রিয় পুরুষোত্তম মাসে অনুষ্ঠিত হয়, তাই এর মাহাত্ম্যও বিশেষ।

সর্বপাপ বিনাশ: এই ব্রত নিষ্ঠার সাথে পালন করলে সকল প্রকার পাপ থেকে মুক্তি লাভ করা যায়।

মনস্কামনা পূরণ: পদ্মিনী একাদশী ব্রত পালনকারীর সকল মনস্কামনা, বিশেষ করে পুত্র লাভের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয় বলে শাস্ত্রে বর্ণিত আছে।

যজ্ঞ ও তপস্যার সমান ফল: শাস্ত্র মতে, এই একটি ব্রত পালন করলে সকল যজ্ঞ, তপস্যা এবং দানের সমান পুণ্যফল লাভ করা যায়।

বিষ্ণুর আশীর্বাদ ও বৈকুণ্ঠ প্রাপ্তি: এই ব্রত পালনকারী ভগবান বিষ্ণুর বিশেষ কৃপা লাভ করেন এবং মৃত্যুর পর বৈকুণ্ঠ ধামে গমন করেন।

পিতৃপুরুষের মুক্তি: এই ব্রত পালনের ফলে ব্রতকারীর পিতৃপুরুষরাও মোক্ষ লাভ করে থাকেন।

পদ্মিনী একাদশী ব্রত কথা

ত্রেতা যুগে মহিষ্মতী পুরীর রাজা কৃতবীর্য নিঃসন্তান ছিলেন। তাঁর হাজার স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তিনি পুত্রসুখ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। সন্তান লাভের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে, তিনি তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী পদ্মিনীকে নিয়ে গন্ধমাদন পর্বতে কঠোর তপস্যা শুরু করেন। হাজার হাজার বছর তপস্যার পরেও যখন ফল মিলল না, তখন রাণী পদ্মিনী দেবী অনসূয়ার শরণাপন্ন হন।

দেবী অনসূয়া তাঁকে প্রতি বত্রিশ মাস অন্তর আসা পুরুষোত্তম মাসের শুক্লপক্ষের পদ্মিনী একাদশী ব্রত পালনের কথা বলেন। রাণীর শ্রদ্ধাপূর্ণ ব্রত পালনে সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান বিষ্ণু গরুড়ে আরোহণ করে তাঁর সামনে উপস্থিত হন এবং বর চাইতে বলেন। রাণী পদ্মিনী নিজের জন্য কিছু না চেয়ে তাঁর স্বামীর জন্য এমন এক পুত্র প্রার্থনা করেন যিনি সর্বগুণসম্পন্ন এবং ত্রিভুবনে সম্মানীয় হবেন।

ভগবানের আশীর্বাদে তাঁদের কার্তবীর্যার্জুন নামে এক পুত্র জন্মগ্রহণ করেন, যিনি ছিলেন অত্যন্ত বলশালী এবং এই কার্তবীর্যই একসময় লঙ্কাপতি রাবণকে পরাজিত ও বন্দী করেছিলেন।

পদ্মিনী একাদশী পালনের নিয়মাবলী

সঠিক নিয়ম মেনে ব্রত পালন করলে পূর্ণ ফল লাভ করা যায়।

ব্রতের আগের দিন (দশমী)

একবার নিরামিষ আহার গ্রহণ করুন।

কাঁসার পাত্রে ভোজন, মসুর ডাল, ছোলা, শাক এবং পেঁয়াজ-রসুন বর্জন করুন।

শারীরিক ও মানসিকভাবে শুদ্ধ থাকুন এবং ব্রহ্মচর্য পালন করুন।

একাদশীর দিন

উপবাস: সূর্যোদয় থেকে দ্বাদশী তিথির পারণের সময় পর্যন্ত নিরম্বু (জল ছাড়া) বা সজল (শুধু জল) উপবাস পালন করুন। অসুস্থ বা অশক্ত ব্যক্তিরা ফলমূল গ্রহণ করতে পারেন।

পূজা: সকালে স্নান সেরে পরিষ্কার বস্ত্রে ভগবান বিষ্ণুর পূজা করুন। হলুদ ফুল, ফল, ধূপ, দীপ ও চন্দন দিয়ে পূজা নিবেদন করুন।

মন্ত্র জপ: “ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায় নমঃ” – এই মন্ত্রটি সারাদিন ধরে জপ করুন।

সৎকর্ম: এই দিনে দান করা, শাস্ত্র পাঠ (বিশেষ করে গীতার একাদশ অধ্যায়) এবং ভগবানের নাম-গুণ কীর্তন করা অত্যন্ত পুণ্যের কাজ।

জাগরণ: রাতে জেগে থেকে ভগবানের নাম সংকীর্তন করলে বিশেষ ফল লাভ হয়।

পারণের দিন (দ্বাদশী)

সকালে স্নান সেরে পূজা নিবেদন করুন।

ব্রাহ্মণ বা দরিদ্রদের ভোজন করান ও দান করুন।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জল ও প্রসাদ গ্রহণ করে ব্রত ভঙ্গ করুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: পদ্মিনী একাদশী কি প্রতি বছর হয়?
উত্তর: না, পদ্মিনী একাদশী প্রতি বছর হয় না। এটি কেবল মাত্র অধিক মাস বা মলমাসে পালিত হয়, যা সাধারণত প্রতি তিন বছর পর পর আসে।

প্রশ্ন: এই একাদশীতে কী কী খাওয়া নিষেধ?
উত্তর: একাদশীর দিন চাল, ডাল, গম এবং যেকোনো ধরণের শস্যদানা ও আমিষ খাবার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ব্রতের আগের দিন (দশমী) থেকেই মসুর ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি বর্জন করা উচিত।

প্রশ্ন: একাদশী ব্রত কারা পালন করতে পারেন?
উত্তর: জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে ৮ থেকে ৮০ বছর বয়সী যেকোনো সুস্থ ব্যক্তি এই ব্রত পালন করতে পারেন।

প্রশ্ন: পারণ মন্ত্র কি?
উত্তর: পারণ করার সময় এই মন্ত্রটি পাঠ করা হয়: “অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য ব্রতেনানেন কেশব। প্রসীদ সুমুখো নাথ জ্ঞানদৃষ্টিপ্রদো ভব।।”

20/05/2026

আজকের সনাতনী প্রশ্ন অবশ্যই কমেন্ট করবেন পারেন বা না পারেন হরিবোল 🙏

19/05/2026

আজকের সনাতনী প্রশ্ন অবশ্যই কমেন্ট করবেন পারেন বা না পারেন হরিবোল 🙏

18/05/2026

হরিবোল 🙏 আজকের সনাতনী প্রশ্ন? অবশ্যই কমেন্ট করবেন পারেন বা না পারেন হরিবোল 🙏

17/05/2026

হরেকৃষ্ণ আজকের সনাতনী প্রশ্ন অবশ্যই কমেন্ট করবেন পারেন বা না পারেন হরিবোল 🙏
#বাংলাদেশ

13/05/2026

অপরা একাদশীর ব্রত কথা ও মাহাত্ম্য

12/05/2026

১৩ মে বুধবার ২৬ অপরা একাদশী, ১৪ মে বৃহস্পতিবার পারণ সময় সকাল (০৫:১৬-০৯:৪২)মিনিট পযন্ত।

হিন্দু ধর্মে জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম একাদশীকে অপরা একাদশী বলা হয়। ব্রহ্মাণ্ড পুরাণে এই একাদশী ব্রতের কথা বর্ণিত রয়েছে। অপরা একাদশীর উপবাস রাখা অত্যন্ত পুণ্যময় বলে বিবেচিত হয়।এই বছর, অপরা একাদশীতে এমন শুভ যোগ তৈরি হচ্ছে, যা প্রচুর সম্পদ এবং সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।জেনে নেওয়া যাক এই ব্রতের কথা।

মহারাজ যুধিষ্ঠির শ্রীকৃষ্ণকে জিজ্ঞাসা করলেন, “হে জনার্দন, জ্যৈষ্ঠ মাসের কৃষ্ণপক্ষে যে একাদশী আসে তার নাম কী? এই একাদশীর উপবাস পালনের সুবিধা কী? এই একাদশী সম্পর্কে আমাকে বর্ণনামূলকভাবে বলুন!”

যুধিষ্ঠির মহারাজের প্রশ্ন শোনার পর শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “হে মহারাজ, আপনি লোকহিতকর প্রশ্ন করেছেন। ‘অপার’ বা ‘অপরা’ শব্দের অর্থ অসীম, যা এই ব্রত থেকে প্রাপ্ত বিশাল আধ্যাত্মিক পুণ্যের প্রতিফলন ঘটায়। যারা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে অপরা একাদশী পালন করেন তারা গুরুতর পাপ এবং কর্মের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। ব্রহ্মহত্যা (ব্রাহ্মণ হত্যা) থেকে শুরু করে প্রতারণা, ডাকাতি, এমনকি জালিয়াতি — সমস্ত পাপ, যতই গুরুতর হোক না কেন, সত্য উদ্দেশ্যে এই ব্রত পালন করলে ক্ষমা করা যেতে পারে। আপনি আমার থেকে যা কিছু জানতে চাইছেন তার দ্বারা সমগ্র সমাজ আশীর্বাদ প্রাপ্ত হবে বলে আমি বলছি।

যে ব্যক্তি এই একাদশীর উপবাস পালন করে সে সমগ্র বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এমনকি সবচেয়ে জঘন্য পাপও যদি তার দ্বারা সংঘটিত হয়, যেমন ব্রাহ্মণ হত্যা, গরু হত্যা, গর্ভে শিশু হত্যা, কারো সমালোচনা করা এবং কারো স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা– এই জঘন্য পাপগুলিও এই একাদশীর উপবাসের মাধ্যমে শেষ হয়ে যায়। মহারাজ! যে ব্যক্তি মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় সে সবচেয়ে বড় পাপী, এবং আমি তোমাকে আরও অনেক ধরণের পাপীর কথা বলছি।

যদি কেউ মিথ্যাভাবে কাউকে মহিমান্বিত করে অথবা উপহাসের মাধ্যমে মহিমান্বিত করে

যদি কোন ব্যক্তি দাঁড়িপাল্লায় ওজন করার সময় অসৎ হয়

যদি কেউ তার আশ্রম বা বর্ণ পুরোপুরি না মানে

যদি কেউ অন্যদের সাথে প্রতারণা করে

যদি কেউ কারো সম্পর্কে মিথ্যা ভবিষ্যৎবাণী করে

যদি কেউ স্বেচ্ছায় হিসাবে ভুল করে

যদি কেউ ডাক্তারের নামে মিথ্যা বলে

এই পাপী ব্যক্তিরা মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদানকারী পাপীদের সমতুল্য। যে ব্যক্তি কঠোরভাবে এবং নিষ্ঠার সাথে এই অপরা একাদশীর উপবাস পালন করে, তার সমস্ত পাপ বিনষ্ট হয়। যদি কোন যোদ্ধা যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে যায়, তবে সে পাপ করেছে এবং নরকগামী হয়ে যায়। কিন্তু যদি সে এই একাদশীর উপবাস পালন করে, তবে সে স্বর্গে স্থান লাভ করে। আধ্যাত্মিক গুরুর কাছ থেকে আধ্যাত্মিক জ্ঞান গ্রহণের পর, যদি কোন শিষ্য তার সমালোচনা করে, তবে পৃথিবীতে তার সমতুল্য কোন পাপী ব্যক্তি নেই।তবে, যদি এই পাপী ব্যক্তি অপরা একাদশীর উপবাস পালন করে, তবে কেবল এটি করার মাধ্যমেই সে আধ্যাত্মিক জগতে যাওয়ার যোগ্য হয়। আমি আপনাকে এই একাদশীর আরও আশ্চর্যজনক মহিমা সম্পর্কে বলছি।

যে ব্যক্তি অপরা একাদশী পালন করে সে এত পুণ্য করে, সে এত বেশি লাভ লাভ করে যে, যদি এই পৃথিবীতে অনেক পুণ্য যোগ করা হয়, তাহলে সেই পুণ্য একজন ব্যক্তির পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়। যেমন কার্তিক মাসে তিনবার স্নান করা, শীতকালে প্রয়াগরাজে স্নান করা, কুরুক্ষেত্রে সূর্যগ্রহণের সময় স্নান করা এবং হাতি, গরু, সোনা ইত্যাদি দান করা, কেদারনাথ ও বদ্রীনাথের মতো তীর্থস্থানে দর্শন করা। যদি এই ভক্তিমূলক কাজগুলি একত্রিত করা হয়, তাহলে এই পবিত্র কাজের ফল অপরা একাদশীর উপবাসকারী ব্যক্তি লাভ করেন।এর সাথে, যদি কেউ গর্ভবতী গরু, সোনা, রূপা ইত্যাদি দান করেন, অথবা কোনও উর্বর জমি দান করে যে পুণ্য অর্জন করেন –এই একাদশী উপবাস্ করলে ব্যক্তির সমান পুণ্য লাভ হয় ।

যেমন একটি কুঠার সমগ্র বন ধ্বংস করতে পারে, তেমনি অপরা একাদশী নামক একটি কুঠার দিয়ে পাপের সমগ্র বন ধ্বংস করা যেতে পারে। যে ব্যক্তি তার পূর্বজন্মের পাপের ভয়ে ভীত, তার উচিত ভক্তি ও নিষ্ঠার সাথে এই একাদশী পালন করা।

অপরা একাদশীর গল্প —

প্রাচীনকালে, মহীধ্বজ নামে একজন রাজা ছিলেন। তিনি একজন ধার্মিক ও দানশীল রাজা ছিলেন। রাজার ছোট ভাইয়ের নাম ছিল ব্রজধ্বজ। তিনি ছিলেন অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও পাপী। তিনি এতটাই পাপী ও নিষ্ঠুর যে তার ধার্মিক ভাইকেও ঈর্ষা এবং ঘৃণা করত। একদা ব্রজধ্বজ নিজের ভাইয়ের বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন।

তিনি তার ভাইকে হত্যা করে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে একটি অশ্বত্থ গাছের তলায় পুঁতে দেন। রাজা মহীধ্বজের অকালমৃত্যু হওয়ায় প্রেতযোনিতে জন্ম হয় তাঁর। প্রেতাত্মা রূপে সেই অশ্বত্থ গাছে বাস করতে শুরু করেন তিনি। সেখানে উৎপাত শুরু করে ওই রাজার প্রেতাত্মা। একদা সেই অশ্বত্থ গাছের সামনে থেকে ধৌম্য ঋষি যাচ্ছিলেন। তিনি সেই প্রেতাত্মাকে দেখে বুঝতে পারেন যে তার অকালমৃত্যু হয়েছে। তখন ঋষি সেই প্রেতাত্মাকে গাছ থেকে নীচে নামান ও তাকে পরলোক বিদ্যা সম্পর্কে জানান।

ঋষি ধৌম্য রাজার প্রেতাত্মাকে প্রেতযোনি থেকে মুক্তির জন্য নিজে একাদশী ব্রতপালন করেন। জ্যৈষ্ঠ কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথিতে নিয়ম মেনে নারায়ণের পুজো করেন ওই ঋষি। তার পর বিষ্ণু তাঁকে আশীর্বাদ চাইতে বলেন। ঋষি বিষ্ণুর কাছ থেকে প্রেতাত্মাকে প্রেতযোনি থেকে মুক্তির আশীর্বাদ চান। ঋষি ধৌম্যের প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে বিষ্ণু রাজা মহীধ্বজকে প্রেতযোনি থেকে মুক্ত করেন। এর পর রাজা দিব্য শরীর ধারণ করে ধৌম্য ঋষিকে প্রণাম করেন এবং পুষ্পক বিমানে স্বর্গের উদ্দেশে রওনা হন।

তাই, এই অপরা একাদশী অত্যন্ত মহিমান্বিত। যে কেউ ভক্তি সহকারে এই অপরো একাদশীর উপবাস পালন করবে, তার সমস্ত জঘন্য পাপ বিনষ্ট হবে। যেহেতু একাদশীর অর্থ হল, “শরীরের জন্য উপবাস এবং আত্মার জন্য ভোজন”। তাই, একাদশীর দিনে, আমাদের ভক্তির জন্য অনুকূল কার্যকলাপ বৃদ্ধি করা উচিত যেমন:

ভক্তদের সংগঠন

পরমেশ্বরের দর্শন

পবিত্র নাম জপ

কীর্তন করা

ধর্মগ্রন্থ পড়া

আর একাদশীর দিনে, আমাদের ভক্তির প্রতিকূল কার্যকলাপ কমানো এবং বন্ধ করা উচিত, যেমন:

অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা।

বস্তুগত জিনিসের সংযোগ

বেশি ঘুমানো।

একাদশীর আগের দিন শুধুমাত্র সাত্ত্বিক খাবার খান।

একাদশীর সূর্যোদয় থেকে পরের দিন সকাল পর্যন্ত কঠোর উপবাস পালন করুন। কাঠের চৌকির উপর হলুদ কাপড় বিছিয়ে ভগবান বিষ্ণু এবং দেবী লক্ষ্মীর ছবি রেখে অভিষেক করুন। পোশাক, গয়না এবং ফুল দিয়ে সাজান। হলুদ, চন্দন দিয়ে তিলক করুন। ধূপকাঠি এবং প্রদীপ জ্বালান। মিষ্টি এবং ফলমূল অর্পণ করুন। অপরা একাদশীর উপবাসের কথা পাঠ করুন। অবশেষে, ভগবান বিষ্ণু এবং মা লক্ষ্মীর আরতি করুন।

দিনটি প্রার্থনা, ধ্যান এবং আধ্যাত্মিক প্রতিফলনে কাটান।নেতিবাচক চিন্তাভাবনা, পরচর্চা, অথবা আমিষ খাবার এড়িয়ে চলুন।

চৈতন্যচরিতামৃতে খুব সুন্দর একটি ঘটনা আছে যেখানে শচীমাতা চৈতন্য মহাপ্রভুকে বলেছিলেন যে, “হে! আমার প্রিয় পুত্র, আমার কাছে কিছু চাও!” তখন মহাপ্রভু বললেন, “মা! আমি তোমার কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতি চাই যে তুমি কখনো একাদশীতে অন্ন খাবে না।” তখন শচী মাতা বললেন, “হে! প্রিয় পুত্র, আজ থেকে আমি এই প্রতিজ্ঞা করছি যে আমি একাদশীতে অন্ন খাব না”, এবং সেই দিন থেকে শচীমাতা একাদশীর উপবাস পালন করতে শুরু করেন।

হরেকৃষ্ণ হরেরাম জয় একাদশীর হয়🙏🙏

08/05/2026

হরেকৃষ্ণ হরেরাম 🙏🙏জয় একাদশীর জয় 🙏🙏 নিজে করুন অন্যকে সহযোগিতা করুন👈

05/05/2026

হরেকৃষ্ণ 🙏🙏

Want your school to be the top-listed School/college in Narayanganj?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Address


Narayanganj