13/04/2020
সারা বছরই যাকাত দেয়া যায়। যদিও রমজান মাসে যাকাত দেয়া আমাদের একটা অভ্যাস বা ট্রাডিশন। রমজান মাসে যাকাত দিলে বেশি সোয়াব হবে, রমজান মাসে যাকাত দিলে একটা দাতা দাতা ইমেজ আসে এইসব কিছু কারণে সবাই রমজানের জন্য অপেক্ষা করি। এছাড়াও রমজান মাসে গরীব, অসহায় লোকজন যাকাতের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে এটাও ঠিক। এরকম নানা রকম চিন্তা থেকে রমজান মাসেই আমরা সাধারণত যাকাত দেই।
তবে এখন অবস্থাটা বুঝতে হবে। রমযান আসতে আরো প্রায় ১২-১৩ দিন বাকি আছে। রমজান মাসে রোজা রাখার জন্য, একটু ভালো থাকার জন্য আমরা যাদেরকে যাকাত দেই, তারা এখনি না খেয়ে আছে। রমজানের অনুভূতি এখনি তারা বুঝতে পারছে। তাই তাদের মুখে দুবেলা আহার দেয়া সবচেয়ে জরুরি যাতে তারা রমজান পর্যন্ত টিকতে পারে।
ভাই, রমজান পর্যন্ত বাঁচব কিনা তার গ্যারান্টি আছে? আর এই অভূক্ত লোক গুলো রমজান পর্যন্ত বাঁচবে কিনা সেটারইবা নিশ্চয়তাই কই? জরুরী মুহূর্তে যদি আমাদের দান-সদকা তাদের কাজে না লাগে তাহলে আর পরে করে লাভ কী?
তাই সবাই যার যার পরিবারের যাকাতের টাকা একত্রিত করতে পার। নিজের হাতে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে, বন্ধু-বান্ধবের মাধ্যমে, পরিচিত ভালো মানুষের মাধ্যমে গরীব, কর্মহীন আর অভুক্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দিন। সহযোগিতার ক্ষেত্রে সব সময় চাল ডাল তেল দিতে হবে সেটাও ঠিক না। কিছু কিছু মানুষের নিয়মিত ওষুধ লাগে। অনেক গরিব মানুষ আছে যাদের ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা, প্রেশারের ওষুধ নিয়মিত খেতে হয়। তাই চাল-ডালের পাশাপাশি ওষুধের বিষয়টিও মাথায় রাখা যেতে পারে।
সহযোগিতা বা যাকাত যাই বলি না, তা প্রদানের সময় সবার প্রথমে মাথায় রাখতে হবে গরীব আত্মীয়দের কথা। তারপর মনে রাখতে হবে পাড়া প্রতিবেশীদের কথা। আমার আপনার আত্মীয়, প্রতিবেশী বা বন্ধু সাহায্যের জন্য দ্বারে-দ্বারে ঘুরবে বা চক্ষুলজ্জায় মরবে তা কোনভাবেই কাম্য নয়।
কেবলমাত্র সরকার, কিছু এনজিও, কিছু গ্রুপ আজকের এই সমস্যা সমাধানের জন্য যথেষ্ট নয়। আপনি, আমি যে যে অবস্থানে আছি, যার যতটুকু সামর্থ্য আছে তাই দিয়েই সহযোগিতায় নামি। সরকারকে সাহায্য করি ত্রাণকর্তার ভূমিকায় কাজ করতে। গরীববের ত্রাণ যাতে গরীবের থালায় পৌছায় সেটা খেয়াল রাখি আর আমার মাধ্যমে যাতে কোন পাপ না হয় তার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি।
শুধু যে আপনার টাকার জন্যই এই পোস্ট তা নয়। আপনি সহযোগিতা গোছাতে, জোগাড় করতে বা বিলি বন্টনের মাধ্যমেও মহত্ত্ব দেখাতে পারেন। নিদেন পক্ষে মন থেকে অসহায় মানুষের জন্য সহমর্মিতা প্রকাশ করতে পারেন, নিজে বিলাসিতা ত্যাগ করতে পারেন। আর দোয়া করতে পারেন তাদের জন্য যারা সম্পৃক্ত হয়েছে এই মহতী উদ্যোগের সাথে।
আসুন হাতে হাত রাখি, মানবতার কল্যাণে কাজ করি।