15/03/2024
Risalat Media BD
এটা ইসলামিক পেজ।কোরআন ও সহিহ হাদিসের রেফারেন্স দিয়ে পোস্ট করা যাবে।
15/03/2024
সাহল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
জান্নাতে রাইয়্যান নামক একটি দরজা আছে। এ দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন সাওম পালনকারীরাই প্রবেশ করবে। তাঁদের ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা দেওয়া হবে, সাওম পালনকারীরা কোথায়? তখন তারা দাঁড়াবে। তাঁরা ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। তাঁদের প্রবেশের পরই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। যাতে এ দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ না করে।”
সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮৯৬
শাফা‘আত কত প্রকার?
শাফা‘আত দুই প্রকারঃ
১. কিয়ামত দিবসের শাফা‘আতঃ যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে চাওয়া যাবে না। মহান আল্লাহ বলেন,
“বলুন, সমস্ত সুপারিশ আল্লাহরই ক্ষমতাধীন” (যুমার ৪৪)। এই প্রকার শাফা‘আতের দু‘টি শর্ত রয়েছেঃ
ক. আল্লাহ্র পক্ষ থেকে শাফা‘আতকারীর জন্য শাফা‘আত করার অনুমতি থাকতে হবে। যেমন মহান আল্লাহ বলেন,
“কে আছ এমন, যে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করবে?” (বাক্বারাহ ২৫৫)।
খ. যার জন্য শাফা‘আত করা হবে, তার উপর আল্লাহ্র সন্তুষ্টি থাকতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন,
“তারা শুধুমাত্র তাদের জন্য সুপারিশ করে, যাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট” (আম্বিয়া ২৮)। সুতরাং কিয়ামত দিবসে কেউ যদি তার নিজের জন্য শাফা‘আত কামনা করে, তাহলে সে যেন একমাত্র আল্লাহ্র কাছে তা প্রার্থনা করে; অন্য কারো কাছে নয়। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“তুমি যখন চাইবে, তখন আল্লাহ্র কাছেই চাও” (তিরমিযী)। সেজন্য নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে প্রার্থনা করা যাবে: হে আল্লাহ! আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত কর, যাদের জন্য কিয়ামত দিবসে শাফা‘আত করা হবে অথবা হে আল্লাহ! কিয়ামত দিবসে আপনি আমার ভাগ্যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শাফা‘আত নছীব করুন। তবে নিম্নোক্তভাবে প্রার্থনা করা হারাম: হে রাসূল! আপনি আমার জন্য কিয়ামতের দিন শাফা‘আত করুন।
২. দুনিয়ার জীবনে মানুষের পরস্পরের মধ্যে শাফা‘আতঃ এই প্রকার শাফা‘আত ভাল কাজের জন্য হলে মোস্তাহাব আর মন্দ কাজের জন্য হলে হারাম। মহান আল্লাহ বলেন,
“যে ব্যক্তি সৎকাজের জন্য কোন সুপারিশ করবে, তা থেকে সেও একটি অংশ পাবে। আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজের জন্য সুপারিশ করবে, সে তার বোঝারও একটি অংশ পাবে” (নিসা ৮৫)।
রাসুল (স) বললেন, ‘হে লোক সকল! সালাত অবস্থায় তোমাদের কিছু ঘটলে তোমরা হাততালি দিতে শুরু কর। অথচ হাততালি দেওয়া নারীদের কাজ। সালাত অবস্থায় কারো কিছু ঘটলে সে যেন ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে। কেননা এটা শুনলে তার দিকে দৃষ্টিপাত না করে পারত না।
‘হে আবু বকর! তোমাকে যখন ইশারা করলাম, তখন সালাত আদায় করাতে তোমার কিসের বাধা ছিল?’ তিনি বললেন, ‘আবু কুহাফার পুত্রের জন্য শোভা পায় না নবী (সা.) এর সামনে ইমামতি করা। (সহিহ বুখারি : ১২১৮)
এই দীর্ঘ হাদিসে ‘সালাত অবস্থায় কারো কিছু ঘটলে সে যেন ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে অংশটি প্রমাণ বহন করে
পরিবারের কোন সন্তান যদি বেনামাযী হয়, তবে কর্তার উপর আবশ্যক হচ্ছে তাদেরকে নামাযের ব্যাপারে বাধ্য করা। তিনি তাদেরকে নামাযের নির্দেশ দিবেন, বুঝাবেন, প্রয়োজনে তাদেরকে প্রহার করবেন। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,
وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا لِعَشْرِ سِنِينَ
“দশ বছর বয়সে ছালাত আদায় না করলে তাদেরকে প্রহার করবে।”
এতে যদি কাজ না হয়, তবে (ইসলামী রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিযুক্ত) দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে তাকে সোপর্দ করবেন। যাতে করে তাকে ছালাত আদায় করতে বাধ্য করা হয়। এক্ষেত্রে চুপ থাকা জায়েয হবে না। কেননা এতে অন্যায় কাজে সমর্থন হয়ে যায়। ছালাত পরিত্যাগ করা কুফরী। ছালাত আদায় না করলে ব্যক্তি ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে। বেনামাযী কাফের চিরকাল জাহান্নামী। তাই সে মৃত্যু বরণ করলে তাকে গোসল দেয়া, জানাযা পড়া বা মুসলমানদের গোরস্থানে দাফন করা যাবে না।
লোকদের অনীহা সত্ত্বেও গোপনে তাদের আলাপ শ্রবণ করা
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَ لَا تَجَسَّسُواْ ﴾ [الحجرات: ١٢]
“তোমরা গোয়েন্দাগিরি করো না”। [সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১২]
অনুরূপ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«مَنِ اسْتَمَعَ إِلَى حَدِيثِ قَوْمٍ، وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ، أَوْ يَفِرُّونَ مِنْهُ، صُبَّ فِي أُذُنِهِ الآنُكُ يَوْمَ القِيَامَةِ»
“যে ব্যক্তি লোকদের অনীহা বা তার কাছ থেকে পালানো সত্ত্বেও তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে ক্বিয়ামতের দিন তার দু’কানে গলিত সীসা ঢেলে দেওয়া হবে”।[1]
আর যদি ক্ষতি করার মানসে তাদের থেকে শোনা কথা তাদের অগোচরে মানুষের নিকট বলে বড়োয়, তাহলে গোয়েন্দাগিরি পাপের সাথে কুটনামির পাপও জড়িত হবে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«لَا يَدْخُلُ الجَنَّةَ قَتَّاتٌ»
“ক্বাত্তাত বা চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবে না”।[2]
[1] সহীহ বুখারী; মিশকাত, হাদীস নং ৪৪৯৯। [2] সহীহ বুখারী; সহীহ মুসলিম; মিশকাত, হাদীস নং ৪৮২৩।
উপুড় হয়ে শুয়ে থাকা,জাহান্নামিদের শয়ন।
(সুনানে ইবনে মাজাহঃ৩৭২৪)
আস্তাগফিরুল্লাহ।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Narayanganj
6260