27/06/2025
গত ১০ বছরে (২০১৫-২০২৫) বাংলাদেশে সনাতন ধর্মের মানুষের উপর বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সাম্প্রদায়িক হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। নিম্নে কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনার বিবরণ দেওয়া হলো, যা বিভিন্ন সূত্র থেকে সংগৃহীত:
১. ২০১৬: নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ানাসিরনগরে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক হামলা ও লুটপাট হয়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকটি মন্দির ভাঙচুর করা হয় এবং অনেক হিন্দু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২. ২০২১: কুমিল্লা ও অন্যান্য জেলাকুমিল্লায় একটি পূজামণ্ডপে কোরআন পাওয়ার গুজবের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ব্যাপক হামলা শুরু হয়, যা দ্রুত চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, রংপুরসহ অন্যান্য জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। এই হামলায় বহু মন্দির, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। ইসকন মন্দিরে একটি হামলায় একজন তরুণকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
৩. ২০২২: নড়াইলনড়াইলে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার খবর পাওয়া যায়। মন্দির ও বাড়িঘরে ভাঙচুর করা হয় এবং বেশ কিছু পরিবার নির্যাতনের শিকার হয়।
৪. ২০২৩: বিভিন্ন জেলায় সংখ্যালঘু নির্যাতনবাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তথ্য অনুসারে, এই সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ৩,৫০০-এর বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মন্দির, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে হামলা অন্তর্ভুক্ত।
৫. ২০২৪: দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জধর্ম অবমাননার অভিযোগে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
৬. ২০২৪: দেশব্যাপী গণ-অভ্যুত্থানের পরবাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মতে, ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর ২৭টি জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা হয়। এতে ১১৭টি মন্দির-পূজামণ্ডপ ভাঙচুর এবং ৩০১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটে।
৭. ২০২৫: লালমনিরহাটলালমনিরহাট সদর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে একজন ৬০ বছর বয়সী হিন্দু বৃদ্ধ (পরেশ চন্দ্র শীল) ও তার ছেলে (বিষ্ণু চন্দ্র শীল) নির্যাতনের শিকার হন। তাদের পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পর্যবেক্ষণ:
এই হামলাগুলো প্রায়শই ধর্মীয় অবমাননার গুজব বা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটেছে, যা দ্রুত সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।হামলার ধরনের মধ্যে মন্দির ভাঙচুর, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট, শারীরিক নির্যাতন এবং কিছু ক্ষেত্রে হত্যা অন্তর্ভুক্ত।বিচার প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি কম;
২০১৮-২০২৪ সালের মধ্যে ৩০৭টি মামলার মধ্যে মাত্র ৭টির বিচার সম্পন্ন হয়েছে।দ্রষ্টব্য:এই তথ্যগুলো বিভিন্ন ওয়েব সূত্র এবং এক্স পোস্ট থেকে সংগৃহীত।