21/09/2026
গত রাতে আমার শাশুড়ির মামা অর্থাৎ আমাদের এক নানা মারা গিয়েছেন।
সারা রাত জার্নি করে বাড়ি পৌঁছে সকালের নাস্তার পরে সেখানে গেলাম, জানাযার মোটামুটি আধাঘন্টা আগে।
জানাজার সালাত শেষে কবর থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আশপাশে কি হচ্ছে সেটা বোঝার চেষ্টা করলাম।
১।
জানাজার সালাতের শেষে বেশিরভাগেরই একটা তাড়াহুড়ো কবরে একটু মাটি দিয়ে তাড়াতাড়ি চলে যেতে হবে।
২।
আমার থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকজন গল্প গুজবে রত। এদের মধ্যে দুজন আলোচনা করছিলেন একটা সম্বন্ধের ব্যাপারে, " মেয়ে ইন্টার পাস, রেজাল্টো ভালো,,,,"
তার পাশে দুই একজন আলোচনা করছিলেন তাদের সন্তানদের ক্যারিয়ারের ব্যাপারে।
৩।
মাঝ উঠানে জানাজায় আগত লোকজনের জন্য খিচুড়ি পরিবেশন করা হচ্ছিলো।
৪।
ঘর থেকে তখনো কিছু কিছু মহিলাদের কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছিলো, যদিও ইতোমধ্যে পুরুষরা নিজেদেরকে সামলে নিয়েছেন।
হয়তো দু একজন ছাড়া কারো চোখে তখন পানি নেই।
এইযে চারটা দৃশ্যপট বললাম এর কোনটাই কিন্তু দোষের কিছু না। এটাই স্বাভাবিক দুনিয়া।
আপনি আমি দুনিয়া ছেড়ে যাওয়ার পরে ওভারঅল এটাই হচ্ছে দুনিয়ার বাস্তবতা।
আপনি আমি দুনিয়া ছেড়ে চলে যাওয়ার পরে হাতে গোনা কয়েকটা মানুষের হয়তো জীবন চিরকালের জন্য পরিবর্তন হয়ে যাবে(হয়তো),
যা এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের তুলনায় খুবই নগণ্য বিষয়।
বাকি পুরো দুনিয়াটাই আগের মতোই স্বাভাবিক ভাবেই চলবে।
সুতরাং নিজেকে খুব বেশি বড় বা গুরুত্বপূর্ণ ভাবার কিছু নেই।
📌আজকের জানাজা থেকে এটাই আমার প্রাপ্ত শিক্ষা।