09/05/2026
নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট/কোচিং পড়ানো সংক্রান্ত বিধান
বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্তৃক নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট বা কোচিং পড়ানো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক রয়েছে। এ কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় “কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা–২০১২” প্রণয়ন করে। এই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমানো এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানকে কার্যকর করা।
নীতিমালার মূল বক্তব্য
“কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা–২০১২” অনুযায়ী কোনো শিক্ষক তার নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে প্রাইভেট বা কোচিং পড়াতে পারবেন না। কারণ এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে এবং শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কেন এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে
১. অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ পাওয়া যায় যে কিছু শিক্ষক ক্লাসে পর্যাপ্ত পড়ান না এবং পরে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করেন।
২. দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়।
৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমান শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়।
৪. শিক্ষকতার পেশাগত নৈতিকতা ক্ষুণ্ন হয়।
৫. পরীক্ষায় নম্বর বা বিশেষ সুবিধা পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
সরকারি নির্দেশনা ও আচরণবিধি
সরকারি শিক্ষকরা সরকারি কর্মচারী হওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারী আচরণবিধিও প্রযোজ্য। সেখানে এমন কোনো কর্মকাণ্ড নিরুৎসাহিত করা হয়েছে যা পেশাগত নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতার পরিপন্থী। তাই নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে পড়ানো অনেক ক্ষেত্রে শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
প্রতিষ্ঠানের করণীয়
প্রতিষ্ঠান প্রধান এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে সতর্কীকরণ, কারণ দর্শানো নোটিশ বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নীতিমালার মাধ্যমেও এটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।
উপসংহার
শিক্ষকতা একটি মহান ও দায়িত্বশীল পেশা। শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি সমান আচরণ বজায় রাখা একজন শিক্ষকের নৈতিক দায়িত্ব। তাই শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন রাখতে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগত প্রাইভেট বা কোচিং পড়ানো নিরুৎসাহিত ও নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে।