দিনেদুপুরে দেশত্যাগের আগে শেখ হাসিনা নিজ দলকে এমনই এক হতবিহ্বল অবস্থায় রেখে গেছেন যে, চারদিন পেরিয়ে গেলেও অদ্যাবধি দলটির পক্ষ থেকে ন্যূনতম একটা বিবৃতি পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও না, অনানুষ্ঠানিকও না। কোন নেতা কই আছেন, কেউ জানে না। দোর্দণ্ড প্রতাপশালী শাসকদলের এমন বীভৎস বিচ্ছিরি গণপলায়ন বিশ্ব এর আগে কখনও প্রত্যক্ষ করেছে কি না, সন্দেহ আছে। টেলিভিশনে দিনে দশবার বদন দেখানো একটি আওয়ামি মদনকেও এখন কোথাও দেখা যাচ্ছে না— রণে না, বনে না, জঙ্গলেও না; জলে না, স্থলে না, অন্তরীক্ষেও না। মঙ্গলে গিয়ে হেলিকপ্টার দিয়ে ব্লক রেইড দিলেও এই মুহূর্তে কোনো আওয়ামি চামুণ্ডাকে খুঁজে পাওয়া যাবে— এমন সম্ভাবনা কম; হয়তো ইউরেনাসে গিয়ে শোনা যেতে পারে সেই অমোঘ বাণী— কারা ওরা, কোত্থেকে এল ওরা। একযোগে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার এমন অলৌকিক অভূতপূর্ব ক্ষমতা নিয়ে আওয়ামি লিগ জন্মেছিল, দেশবাসী তা স্বপ্নেও ভাবেনি। শেখ মুজিবুর রহমানের সপরিবার অপমৃত্যুর পরও আওয়ামি লিগ এভাবে গয়রহে অদৃশ্য হয়ে যায়নি, বরং বিচ্ছিন্নভাবে হলেও প্রতিবাদ হয়েছে। কেননা শেখ মুজিবুর রহমান খুন হয়েছিলেন, খুন হয়ে সাধারণ মানুষের সমবেদনা পেয়েছিলেন; সাধারণ মানুষ তাকে উৎখাত করেনি। কিন্তু শেখ হাসিনাকে সাধারণ মানুষ একযোগে উৎখাত করেছে। সেনাবাহিনী যথাসময়ে পালানোর পথ তৈরি করে না-দিলে তার পরিণতি হতো ইরাকের সাদ্দাম বা লিবিয়ার গাদ্দাফির মতো। যে-দলে হাজার-হাজার সহ-সভাপতি, লক্ষ-লক্ষ যুগ্ম-সম্পাদক, কোটি-কোটি সহ-সম্পাদক; সেই দলে আজ একজন নেতা নেই, যিনি অন্তত বাঙ্কার থেকে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে দলের বাক্রুদ্ধ কর্মীদেরকে আশ্বস্ত করে একটা বাণী দেবেন। অথচ মহাপতনের আধঘণ্টা আগেও দলটির পেঙ্গুইনকোটধারীরা অহংকারের টইটুম্বুর টানেলে টগবগ করছিলেন।
আওয়ামি লিগের পতনের একদিন পর শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটা ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। সেই ভিডিওর বক্তব্য শুনে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন যেকোনো মানুষেরই ব্রহ্মতালু গরম হয়ে যাবে, ক্রোধে মস্তিষ্কে লক্ষ মৌমাছি একযোগে ভনভন করবে, হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে আসবে অক্ষম আক্রোশে। তিনসপ্তাহ ধরে দেশে আওয়ামি লিগের নেতৃত্বে শেখ হানাদারদের চালানো নজিরবিহীন গণহত্যার ব্যাপারে সামান্যতম দুঃখপ্রকাশ বা ন্যূনতম উল্লেখ জয়ের বক্তব্যে ছিল না, নিজের মায়ের নারকীয় নৃশংসতার ব্যাপারে অপরাধবোধ ছিল না, ছিল না দলীয় নেতাকর্মীদেরকে উদ্বুদ্ধকরণে এতটুকু দিক্নির্দেশনা। ছিল আপাদমস্তক আমিত্ববাদ, অপরিসীম অহংকার, উন্নয়নের ফিচকে ফিরিস্তি। তার মা দেশের কী কী উন্নয়ন করে গেছেন, এ ছাড়া কোনো প্রসঙ্গ তার পচা-গলা পূতিগন্ধময় বক্তব্যে ছিল না; ছিল দেশের মানুষের ওপর খুলখাল্লাম ক্ষোভ, প্রতিহিংসা চরিতার্থকরণের ইচ্ছেকৃত ইঙ্গিত, আর বাঙালির উদ্দেশে তুমুল তাচ্ছিল্য। তার মাকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের মানুষকে তিনি অকৃতজ্ঞ হিশেবে সাব্যস্ত করেছেন। অবিশ্বাস্য ব্যাপার হলো, জয় এও বলেছেন— 'ঠিক আছে। শেখ হাসিনার পর আপনাদের কী হবে; সেটা আমারও চিন্তার বিষয় না, আমাদের-আমার পরিবারেরও আর চিন্তার বিষয় না; আপনারা বুঝবেন।' সম্পূর্ণ একক গোঁয়ার্তুমিবশত শত-শত মানুষকে হত্যা করে, হাজার-হাজার মানুষকে পঙ্গু করে, গোটা রাষ্ট্রকে চূড়ান্ত ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে পালিয়ে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীর ছেলের ভাষা হলো এই। পতনের প্রাক্কালে হাসিনা বারবার বলেছিলেন আমি বুঝলাম না আমার অপরাধটা কী, ভিডিওবার্তায় জয়ও বলেছেন আমি বুঝলাম না আমাদের অপরাধটা কী। হাজার-হাজার মানুষকে হত্যা করে মাও বুঝতে পারছেন না তার অপরাধ কী, ছেলেও বুঝতে পারছেন না মায়ের অপরাধ কী। এমন বক্তব্য মানুষের পক্ষে উচ্চারণ সম্ভব না, এ নিছক জম্বিদের বক্তব্য।
সজীব ওয়াজেদ জয়ের এহেন স্বার্থান্ধ বক্তব্যে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ষোলোই জুলাই ছয়-খুনের পর থেকে দেশে যত হত্যাকাণ্ড হয়েছে, শেখ হাসিনার একক সিদ্ধান্তে হয়েছে। কারো পরামর্শকেই তিনি পাত্তা দেননি। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে একাত্তরে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের পরিকল্পনা ছিল পঁচিশে মার্চ দিবাগত রাতে ঢাকায় আকস্মিকভাবে কয়েক হাজার বাঙালিকে হত্যা করে পূর্ব পাকিস্তানকে হতভম্ব করে দেওয়া, যাতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বাঙালি আর টুঁ শব্দটি না-করে। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ২০২৪ সালে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনারও পরিকল্পনা ছিল সর্বোচ্চসংখ্যক বিক্ষোভকারীকে আহত-নিহত-গ্রেপ্তার করে গোটা দেশকে ভড়কে দেওয়া; যাতে কেউ আর রাজপথে নামার সাহস না-করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু লেখার স্পর্ধা না-দেখায়, এমনকি কেউ যেন মনে-মনেও তার পতন করতে না-পারে। শেখ হাসিনা, সম্ভব হলে, মানুষের মনেও গুলি করতেন। ক্ষমতার তখতে তাউস টিকিয়ে রাখার জন্য তিনি পদত্যাগের দিনও সশস্ত্রবাহিনীর প্রধানদের উদ্দেশে বিষোদ্গার করেছেন আরো-আরো বিক্ষোভকারীকে হত্যা না-করার অপরাধে। যে-হাসিনা দেড় দশক ধরে বিভিন্ন কূটকৌশলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিলেন, তিন-তিনটে ভুয়া নির্বাচন করেও মসনদে থাকতে পেরেছিলেন, সমস্ত আন্দোলন-সংগ্রামকে এক তুড়িতে উড়িয়ে দিয়ে নিজের কলজে জুড়িয়ে দিয়েছিলেন; সেই হাসিনা নিশ্চয়ই ষোলোই জুলাইয়েই টের পেয়েছিলেন তার পতনঘণ্টা বেজে গেছে। নিশ্চিত পতন আঁচ করতে পেরেও তিনি ভিডিও গেমের মতো মানুষহত্যা করে গেছেন সেরেফ জেদ চরিতার্থ করতে। বিদ্রোহীদের হাতে জীবন গেলেও শেষ নিশ্বাসের সময়ে তিনি বলতেন— 'শেষ পর্যন্ত আমিই জিতেছি।' দেশের কথা নাহয় না-ই না ভাবলেন; হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হাসিনা নিজের দলের আপামর কর্মী-সমর্থকদের কথাও একবার ভাবেননি, অন্তত গোপনেও বার্তা দেননি পলায়নের জন্য প্রস্তুত থাকতে। অকল্পনীয় রকমের স্বার্থপরতার পরিচয় দিয়ে হাসিনা চারটে সুটকেস আর বোনকে নিয়ে পালিয়ে গেছেন; তিন সপ্তাহ সময় পেয়েও না-করেছেন শান্তিপূর্ণ পদত্যাগ, না-করেছেন কাউকে সতর্ক, না-দিয়েছেন মানবিকতার ন্যূনতম ছিটেফোঁটার পরিচয়। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে স্বার্থপর, সর্বোচ্চ বর্বর ও যারপরোনাস্তি হঠকারী রাজনৈতিক নেতা হিশেবে কালের কৃষ্ণগহ্বরে তলিয়ে গেছেন এককালের তুমুল জনপ্রিয় শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা একা স্বার্থপর নন, স্বার্থপর তার পুত্রপ্রবরও। ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলজুড়ে যেখানে ধুন্ধুমার ধ্বংসযজ্ঞের জীবাশ্ম, দেশের মানুষ যখন জ্বলন্ত আগুন থেকে ফুটন্ত কড়াইয়ে, দলের নেতাকর্মীরা যখন পালিয়ে থাকারও যোগ্য জায়গা পাচ্ছেন না; মায়ের মতোই স্বার্থপরতা আর হঠকারিতার সঙ্গে তখন তিনি জানিয়ে দিলেন শেখ হাসিনার পর দেশের কী হবে— তা তারও দেখার বিষয় না, তার পরিবারেরও দেখার বিষয় না। লুটপাট শেষ, সোনার বাংলাদেশ। আশ্বাস নেই, আশাবাদ নেই, অনুশোচনা নেই; জয়ের অসংলগ্ন বক্তব্যে ছিল কেবল তাচ্ছিল্য। মা দেশকে নরককুণ্ড বানিয়ে দিয়ে ভেগে গেছেন, ছেলে সেই নরককুণ্ডে দাঁড়িয়ে দেশবাসীকেই দায়ী করে এমন জঘন্য বক্তব্য দিচ্ছেন— বাংলাদেশের ভাগ্যলিপিতে শেষ পর্যন্ত এও লেখা ছিল। জয় আরেক বক্তব্যে বলেছেন— 'আপনারা সাহস নিয়ে দাঁড়ান। আপনারা একা না, আমরা আছি। বঙ্গবন্ধুর পরিবার কোথাও যায়নি। দেশকে, আমাদের নেতাকর্মীদেরকে, আওয়ামি লিগকে রক্ষা করার জন্য যা করা প্রয়োজন, আমরা করতে প্রস্তুত।' কিন্তু প্রহসনের ব্যাপার হলো— জয় এই বক্তব্য যখন দিয়েছেন; তখন তিনি নিজে ইউএসএতে, তার মা-খালা-বোন হাসিনা ভারতে, খালাতো বোন ব্রিটেনে, খালাতো ভাই ফিনল্যান্ডে; দলের শীর্ষ নেতারাও বিভিন্ন অজ্ঞাত দেশে পলাতক। নিজের গোটা পরিবারকে বিদেশে রেখে একজন ব্যক্তি বলছেন তার পরিবার 'কোথাও' যায়নি। জাতিকে কতটা নির্বোধ ভাবলে কেউ এমন উদ্ভট উজবুকির পরিচয় দিতে পারেন, তা বলাই বাহুল্য। জয় ধূর্ততাও রপ্ত করতে পারেননি। সাজিয়ে-গুছিয়ে ধূর্ত বক্তব্য দিতে যে-যোগ্যতা থাকতে হয়, জয়ের তাও নেই। ঢোক না-গিলে, হোঁচট না-খেয়ে, পাণ্ডুলিপি না-দেখে একটি বাংলা বাক্য উচ্চারণের ন্যূনতম শিক্ষাও শেখ হাসিনা তার ছেলেকে দিতে পারেননি; অথচ তার গায়ের ওপর লেপটে আছে হার্ভার্ডের সিলছাপ্পর।
সরকারপরিচালনায় জয় খুব-একটা প্রকাশ্যে থাকেননি। এর ফলে জনমনে ধারণা ছিল জয় নিছক গোবেচারা, সুবোধ বালক। কিন্তু মুখ খোলামাত্রই বোঝা হয়ে গেছে তিনি মোটেই গোবেচারা নন। জয় যাদেরকে মন্ত্রিত্ব দিয়েছিলেন বলে জানি, তাদের একজন মোস্তাফা জব্বার— যিনি মন্ত্রীদের মধ্যে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে অমেরুদণ্ডী ভাঁড় এবং গণকৌতুকের পাত্র; জব্বারই স্বাধীন বাংলাদেশের একমাত্র মন্ত্রী, যার একজনও ভক্ত নেই। জয় কোটায় মন্ত্রিত্ব পাওয়া আরেকজন মোহাম্মদ আলী আরাফাত। আওয়ামি লিগের এই অবাক পতনে যেসব মুখর মন্ত্রী সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছেন, তিনি হচ্ছেন হিরো আলমকে পরাজিত করে দুই হাতের চার আঙুল উঁচিয়ে ডাবল ভিক্টরি চিহ্ন দেখানো আরাফাত। পলকে-পলকে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া জুনায়েদ আহমেদ পলকও এই জয়ের কোটার মন্ত্রী। যার কোটার মন্ত্রীরা যে-পর্যায়ের, তিনি নিজেও ঐ একই পর্যায়ের; যেমন চাকর, তেমন ভৃত্য; যেমন ঘুঙুর, তেমন নৃত্য। নিযুক্তকে দেখেই বোঝা যায় নিয়োগকর্তা কেমন। উল্লিখিত তিন মন্ত্রীর অবস্থা দেখে বলার অপেক্ষা রাখে না— সব মন্ত্রী নিয়োগের একক ক্ষমতা পেলে বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় অর্ধশত জব্বার বসে থাকবে, যাদের কাজ হবে ইংরেজি অক্ষরধারী ফেসবুক আইডিগুলোকে দিবানিশি অবন্ধু করা আর ঘোষণা করা— আমার বন্ধুতালিকায় ঊনপঞ্চাশটি আসন খালি হয়েছে।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগপরবর্তী প্রথম বক্তব্যে জয় বলেছিলেন শেখ পরিবার আর কখনোই রাজনীতিতে ফিরবে না। এর দুদিন বাদেই বলেছেন দলের স্বার্থে তিনি রাজনীতিতে আসতে পারেন। মুহুর্মুহু সিদ্ধান্তপরিবর্তনের জন্য ইতিহাসে কুখ্যাত হয়ে আছেন শেখ হাসিনার তুলনায় শিশু স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং বিএনপির আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমেদ। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে— রাজনীতিতে নিয়মিত হলে এবং নিয়মিত মুখটা খুললে রাজনৈতিক ডিগবাজিতে জয় এরশাদ এবং মওদুদকে দুই সপ্তাহেই ছাড়িয়ে যাবেন। জয়ের ডিগবাজির অভ্যেস অবশ্য নতুন নয়। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শাহবাগে দানা বেঁধে ওঠা গণজাগরণ যখন তুঙ্গে, সময়ের সাথে নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখার জন্য মহাজোটের মন্ত্রীরা যখন অন্তত একবার করে শাহবাগে এসেছিলেন হাজিরা দিতে, সরকারের জন্য গণজাগরণ মঞ্চ যখন ছিল স্বর্ণডিম্বপ্রসবা হংস; তখন জঙ্গিহামলায় আচমকা নিহত হয়েছিলেন গণজাগরণের একজন অচেনা অখ্যাত কর্মী আহমেদ রাজীব হায়দার। শাহবাগে রাজীবের জানাজা হয়েছিল, সময়ের স্রোতে নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখতে জয় নিজে সেই জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন, শেখ হাসিনা রাজীবের বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করে বলেছিলেন— স্বজন হারানোর বেদনা আমার চেয়ে কে বেশি জানে। কিন্তু যখন আবিষ্কৃত হলো রাজীব ছিলেন ধর্মে অবিশ্বাসী, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারবিরোধীরা যখন প্রতিষ্ঠা করে ফেলল ঐ আন্দোলন ছিল 'ধর্মে অবিশ্বাসীদের আন্দোলন' এবং যখন প্রতীয়মান হলো গণজাগরণ মঞ্চ আওয়ামি লিগের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করছে; আওয়ামি লিগ তখন গণজাগরণ মঞ্চ মাটিতে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। ২০১৫ সালে যখন ধর্মে অবিশ্বাসীদেরকে ধারাবাহিকভাবে হত্যা করা শুরু হলো, জয় তখন বলেছিলেন এসব হত্যাকাণ্ডের দায়ভার সরকার নেবে না। অর্থাৎ গণজাগরণ থেকে মধু আহরণের পর আওয়ামি লিগ, হাসিনা এবং জয় মুখ মুছে উঠে গিয়েছিলেন। জয়-হাসিনার স্বার্থপরতার ইতিহাস নতুন নয়। তারা পুরোনো স্বার্থপর।
শেখপরিবার যদি উপদেষ্টা হিশেবে আওয়ামি লিগের সেবা করতে চায়, তাতে কারো আপত্তি থাকার কথা না। জুলাই গণহত্যা বাবদ জাতীয় বা আন্তর্জাতিক আদালতে শেখ হাসিনার যদি বিচার না-হয় বা বিচারে তিনি যদি বেকসুর খালাশ পান; তা হলে শেখ হাসিনা আওয়ামি লিগের উপদেষ্টা থাকতেই পারেন, দলের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে পারেন নিজের সাড়ে চার দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা; যদিও আওয়ামি লিগ শেখ হাসিনার পরামর্শ নিলে আবারও ছত্রিশে জুলাইয়ের মতো সদলবল পালানোর প্রয়োজন হতে পারে। জামায়াত যখন যাদের কাঁধে ভর করে, তখন তাদের ধ্বংস হয়; শেখ হাসিনার বুদ্ধি ভবিষ্যতে যারা নেবে, তাদেরও ধ্বংস অনিবার্য। হাসিনা এখন একাই একটি অখণ্ড জামায়াত। কোনো পরিস্থিতিতেই শেখ হাসিনার হাতে আওয়ামি লিগের আর নেতৃত্ব তুলে দেওয়া যাবে না। ২০০৯-এ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ামাত্র শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদেরকে ফাঁসিতে ঝোলালেও পিতৃহত্যার ঝাল হাসিনা গোটা জাতির ওপর দেড় দশক ধরে ঝেড়েছেন। প্রতিদিনের প্রতিটি বক্তব্যে 'স্বজন হারানোর বেদনা'র উল্লেখই প্রমাণ করে পিতৃহত্যার প্রতিশোধ তিনি দেশের সব মানুষের ওপর নিতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। আওয়ামি লিগের নেতৃত্বে এসে প্রধানমন্ত্রী হলে জয় একদিকে নেবেন মাতামহ-হত্যার প্রতিশোধ, অন্যদিকে নেবেন মাতৃ-অপমানের প্রতিশোধ। দুই মিলে জয় নরহত্যায় শেখ হাসিনার চেয়েও ভয়ংকর হয়ে উঠবেন। দলের নেতৃত্ব পছন্দে আওয়ামি লিগকে অবশ্যই শেখপরিবারমুক্ত হতে হবে। বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন স্বামী জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের জের ধরে। জিয়ার স্বাভাবিক মৃত্যু হলে খালেদা বগুড়ার গাবতলি উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যানও হতে পারতেন না। পিতা খুন হয়েছিলেন বলেই তারেক রহমান এখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ছিলেন দেশের ছায়া প্রধানমন্ত্রী; অন্যথায় তিনি থাকতেন ইন্টারপাশ ইউপি মেম্বার। শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট যে নারকীয় হামলা হয়েছিল, তা খালেদা-তারেকের অজ্ঞাতসারে হয়েছে— এই দাবি বদ্ধ উন্মাদও করতে পারবে না। বলাই বাহুল্য— খালেদা-তারেক অত নির্মম হয়ে উঠেছিলেন জিয়াহত্যার প্রেক্ষিতেই। পরিবারের কেউ নিহত হলে একপর্যায়ে মানুষ হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়। বিতাড়িত শেখ হাসিনা এবং অসুস্থ খালেদা জিয়া রাজনীতি থেকে এমনিতেই ছিটকে পড়েছেন। একুশে আগস্টের গ্রেনেডহামলার কারণে বিএনপির উচিত তারেককে এবং সাম্প্রতিক স্বার্থপর বক্তব্যের জন্য আওয়ামি লিগের উচিত জয়কে দলে আর ঠাঁই না-দেওয়া। এরা দেশকে প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারবেন বলে মনে হয় না।
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন দেশে গণতন্ত্র ফিরে এলেই তার মা এবং তিনি দেশে ফিরবেন। অর্থাৎ আওয়ামি লিগ ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে— এমন নিশ্চয়তা পাওয়ার আগ পর্যন্ত শেখ কোম্পানি আর বাংলাদেশে পা রাখবে না। দেশের সাধারণ মানুষ এবং দলের তৃণমূল কর্মীরা বেঘোরে জীবন দিয়ে যখন অন্য কোনো সরকারকে টেনে নামাবে, আওয়ামি লিগের তখনই ক্ষমতায় আসার সুযোগ তৈরি হবে। নইলে, পলায়নের আগে আওয়ামি লিগ এমন কোনো সওয়াব করে যায়নি, যেজন্য মানুষ আওয়ামি লিগকে এমনি-এমনি ভোট দেবে। তারেক রহমান দেড় যুগ পলাতক ছিলেন। উত্থানরহিত বিএনপি এই দেড় যুগে কখনোই আওয়ামি লিগ সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি। সাধারণ ছাত্রজনতা যখন নির্বিচারে জীবন দিয়ে আওয়ামি লিগের পতন ঘটাল, তারেক তখনই দেশে ফেরার উদ্যোগ নিয়েছেন। অর্থাৎ রাজনৈতিক সম্পর্ক সাপে-নেউলে হলেও স্বার্থপরতা, বিশ্বাসঘাতকতা আর হঠকারিতায় আওয়ামি লিগে-বিএনপিতে, হাসিনায়-খালেদায়, জয়ে-তারেকে তফাত নেই অথবা যৎসামান্য।
তারেক রহমান যদি দেশে ফিরে প্রাপ্য সাজা ভোগ না-করেই প্রধানমন্ত্রী হয়ে যান এবং আওয়ামি লিগ যদি সজীব ওয়াজেদ জয়ের হাতে দলের নেতৃত্ব তুলে দেয়, তা হলে বাংলাদেশের ভাগ্যে আরো বড় রকমের দুর্ভোগ আছে। সেই দুর্ভোগের তুলনায় ২০২৪-এর দুর্ভোগ নিছকই শিশু। ছাত্রজনতা জীবন থেকে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে ক্ষমতা এক হন্তারকের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে আরেক হন্তারকের হাতে তুলে দিতে নয়, গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছে হত্যাকারীদের কবল থেকে দেশকে স্থায়ীভাবে মুক্ত করার জন্য। সেই মুক্তির পথে এই মুহূর্তে বৃহত্তম বাধা পরিবারতন্ত্র। বাংলাদেশের পরিবারতন্ত্র আবার দাঁড়িয়ে আছে দুটো বৃহৎ মরদেহের ওপর। খুন-হওয়া নেতাদের পরিবারের সদস্যরাও ক্ষমতা পেলে আরো বড় খুনি হয়ে ওঠে— এর প্রমাণ বাংলাদেশ বহুবার পেয়ে গেছে। উল্লিখিত দুই পরিবারকে আর কোনোভাবেই মরদেহব্যবসা চালিয়ে যেতে দেওয়ার অবকাশ নেই।
#আখতারুজ্জামান আজাদ
City school teacher's foram
any qus....
06/04/2024
এটাকে রাজনীতি বলে?
এই রাজনীতি করার জন্য বুয়েটে
আবার রাজনীতি ফেরাতে হবে?
৬ অক্টোবর ২০১৯।
রাত ৮.১৩।
বুয়েট শেরেবাংলা হলের ১০১১ নাম্বার কক্ষে ঘুমাচ্ছিলো একটা ছেলে। একই ব্যাচের তানিমসহ তিনজন এসে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে।
-- বড় ভাইয়েরা তোকে ডাকছে। ২০১১ তে আয়।
-- কেনো?
-- গেলেই দেখতে পাবি।
-- কখন যাওয়া লাগবে?
-- এখনই। তোর ল্যাপটপ এটা?
-- হ্যাঁ।
-- মোবাইলটাও দে।
--কেনো?
-- দিতে বলছি তাই দিবি। ভাইরা বলছে।
মোবাইল, ল্যাপটপ এবং ছেলেটাকে নিয়ে তারা রওনা দিলো ২০১১ নাম্বার রুমের উদ্দেশ্যে। এই ছেলেটা কোন সাধারণ ছেলে ছিলো না। বুয়েটের EEE বিভাগে ২০১৮ সালে ভর্তি হওয়া এই ছেলের নাম আবরার ফাহাদ রাব্বি। অসাধারণ মেধাবী এই ছেলে ঢাবি 'ক ইউনিট' ভর্তি পরীক্ষায় ১৩ তম হয়েছিলো। চান্স পেয়েছিলো ঢাকা মেডিকেলেও। বড় ভাইদের ডাকে ২০১১ নাম্বার রুমের দিকে পা বাড়ানো আববার তখনো জানতো না, "অনন্ত মহাকালে এই যাত্রা, অসীম মহাকাশের অন্তে"।
আবরারের অপরাধ ছিল তাদের চোখে মারাত্মক! ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দিয়েছে সে। আবরারেরই রুমমেট মিজানের সন্দেহ, "আবরার শিবির করে।" তাই বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের আজ এই আয়োজন। কক্ষে ঢোকার পরই মোবাইল আর ল্যাপটপ চেক করা শুরু করে তারা। তেমন কোন প্রমাণ না পেয়ে রুমে থাকা রবিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
-- এদিকে আয়। চশমা খোল।
আবরার চশমা খোলার পর রবিন প্রচন্ড জোরে তার গালে কয়েকটি চড় মারে। হাত দিয়ে গাল চেপে বসে পড়ে আবরার। এরই মধ্যে মোরশেদ কাঠের তৈরি শক্ত ক্রিকেট স্ট্যাম্প নিয়ে আসে। ইফতি প্রথমে রবিনের মতোই গায়ের জোরে থাপ্পড় মারে আবরারকে। এরপর হাতে তুলে নেয় ক্রিকেট স্ট্যাম্প। পিঠে, পায়ে, পায়ের তালুতে, হাতে সর্বশক্তিতে মারতে থাকে। প্রচণ্ড শক্তিতে মারার কারণে কয়েক বাড়ি দেওয়ার পরই স্ট্যাম্প ভেঙে দুই টুকরা হয়ে যায়। আবরার ততক্ষণে চিৎকার দিতে দিতে লুটিয়ে পড়েছে মেঝেতে। সেই চিৎকার শুনে আশেপাশের রুমের জানালা ভয়ে দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। এহতেসামুল, রাব্বি ও তানিম আরেকটি নতুন স্ট্যাম্প নিয়ে আসে। এবার অনিক স্ট্যাম্প হাতে তুলে নেয়। একাধারে মাটিতে লুটিয়ে থাকা আবরারের সারা শরীরে আঘাত করতে থাকে। প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি আঘাত করে অনিক নিজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। মেঝেতে পড়ে কাতরাতে থাকে আবরারের শরীর। সঙ্গে সঙ্গে মুজাহিদ ও শামিম স্কিপিং রোপ (মোটা দড়ি) দিয়ে মারতে শুরু করে। আবরার তখন বাঁচার জন্য আকুতি-মিনতি করে কিন্তু তাতে কারো মন গলেনি। কারো মধ্যেই মনুষ্যত্ব ফিরে আসেনি। বরং জীয়ন এগিয়ে এসে অনিক থেকে ক্রিকেট স্ট্যাম্প নিয়ে আবরারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে সর্বশক্তিতে মারতে থাকে।
রাত সাড়ে দশটা। অমানুষিক মার খেয়ে মেঝেতে লুটিয়ে গোঙাতে থাকে আবরার। ইফতি ধমক দিয়ে টেনে দাঁড় করায়। তারপর সর্বশক্তিতে কয়েকটি চড় মারে। এরপর আবার স্ট্যাম্প দিয়ে পেটাতে থাকে।
রাত এগারোটা। ২০১১ নাম্বার কক্ষে এসে হাজির হয় এস এম মাহমুদ সেতু। এসেই সবাইকে জিজ্ঞেস করলো,
-- কি অবস্থা? কিছু বাইর হইছে?
-- না, কোন কিছু বলতেছে না।
-- মারতে থাক।
সেতুর নির্দেশে আবরারকে আবার ক্রিকেট স্ট্যাম্প, স্কিপিং রোপ দিয়ে মারা শুরু হয়। ইফতি ও অনিক আবরারকে ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে মারতে থাকে। হাতের কনুই দিয়ে পিঠে প্রচণ্ড আঘাত করে। উৎসাহিত হয়ে তখন সবাই মিলে প্রচন্ড শক্তিতে আবরারকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি চড়-থাপ্পড়, লাথি মারতে থাকেন। আবরারের কুঁকড়ে যাওয়া শরীর থেকে তখন শুধু গোঙানি শোনা যাচ্ছিলো।
রাত সাড়ে এগারোটা। কিছুক্ষণের জন্য রুম থেকে বের হওয়ার আগে অনিক ও রবিন অন্যদের বলে যায়,
-- তোরা অর কাছ থেকে যেমনেই হোক তথ্য বের কর।
এবার মনির ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে আবরারকে পেটাতে শুরু করে। তাবাখখারুল, নাজমুস সাদাত, তানিম, জেমি আবরারকে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে। বাইরে থেকে আবার রুমে ঢুকে অনিক হাতে ক্রিকেট স্ট্যাম্প তুলে নেয়। এরপর আবরারকে প্রচন্ড জোরে একটানা আরও ৪০ থেকে ৫০টি আঘাত করে। মুমূর্ষু আবরার তখন বমি ও প্রস্রাব করে ফেলে। ব্যথায় চিৎকার করার মতো শক্তিও অবশিষ্ট নেই। বাঁচার জন্য ইশারা-ইঙ্গিতে কাকুতি-মিনতি করে। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয়। শ্বাসকষ্ট দেখে ইফতি আবরারের মাথার নীচে বালিশ দেয়। পরপর আরো কয়েকবার বমি করে আববার। এমন অবস্থায় আবরারকে হলের বাথরুমে নিয়ে যাওয়া হয়। ধুয়ে মুছে জামা কাপড় বদলানো হয়।
রাত সাড়ে বারোটা। ইফতি ও মেহেদীর নির্দেশে আবরারকে ধরাধরি করে ২০০৫ নম্বর কক্ষে নিয়ে আসা হয়। ইফতি মোশাররফ হলের মেস বয় জাহিদ হাসানকে ডেকে আসে। ২০১১ নম্বর রুমে আবরারের বমি তাকে দিয়ে পরিষ্কার করানো হয়।
২০০৫ নম্বর কক্ষে আনার পর ইফতি বলে,
-- তোরা এবার অর থেকে তথ্য বাইর কর। বুয়েটে কে কে শিবির করে বাইর কর।
দুই-একজন আবরারের মুমূর্ষু অবস্থা দেখে ভয়ে ভয়ে বললো,
-- ভাই, অবস্থা বেশ খারাপ। হাসপাতালে নেওয়া দরকার।
এই কথা শোনার পর রবিন তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেন।
-- যা বলছি তাই কর। এইগুলি সব নাটক। ভং ধরছে। তোরা শিবির চেনস না। শিবির চেনা কষ্ট।
রবিনের রেগে ওঠা দেখে সবাই ভয়ে জলদি আবরারকে আবার ইন্টারোগেট শুরু করে। কিন্তু আবরারের মুখ থেকে কোন শব্দ আসে না। নিশ্চল, নিস্তেজ পড়ে থাকা দেহ কোন সাড়া না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে আবার আরেক দফা পেটানো শুরু হয়।
রাত দুইটা। সিদ্ধান্ত হয় আবরারকে হল থেকে বের করে পুলিশে দেওয়া হবে। মেহেদী চকবাজার থানা পুলিশকে ফোন দেয়, "হলে একটা শিবির ধরা পড়েছে। এসে নিয়ে যান।" চকবাজার থানা পুলিশ একটা টহল দল পাঠায় শেরে বাংলা হলের গেইটে। কিন্তু দেরী হওয়ায় গেইট থেকে পুলিশকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
রাত আড়াইটা। ইফতি, মুজাহিদ, তাবাখখারুল ও তোহা মিলে নিশ্চল আবরারকে তোশকে করে হলের দোতালার সিঁড়িতে এনে রেখে দেয়। সিঁড়ির লাইটের আলোয় আবরারের খালি গায়ে তখন স্পষ্ট কালো কালো দাগ। সারা শরীরে স্ট্যাম্পের বাড়ির কারণে কালশিটে পড়ে আছে। চোখ বন্ধ। তবে চেহারায় কোন যন্ত্রণার ছাপ নেই। বরং সেখানে প্রশান্তির চিহ্ন। নিষ্ঠুর অমানুষদের এই পৃথিবী ছেড়ে স্রষ্টার সান্নিধ্যে চলে যাওয়ার প্রশান্তি।
রাত তিনটা। খুনীরা বুয়েটের চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স ডেকে আনে। চিকিৎসক আবরারের দেহ পরীক্ষা করে ঘোষণা দেন সে মারা গেছে। তড়িঘড়ি করে ক্রিকেট স্ট্যাম্প, তোষক, বালিশ, আবরারের ল্যাপটপ, চাপাতি হলের ২০১১ নম্বর কক্ষ থেকে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ এর কক্ষে নিয়ে রেখে দেওয়া হয়। বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রাসেল আবরারের মৃতদেহ হলের নিচে নামানোর পর তড়িঘড়ি করে সেখান থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য বুয়েটের চিকিৎসককে চাপ দেন। খুনীরা সিদ্ধান্ত নেয় আবরারের লাশ গুম করে ফেলা হবে। কিন্তু ততক্ষণে কিছু শিক্ষার্থী দেখে ফেলায় তার নতুন পরিকল্পনা করে। আবরারের লাশের সাথে কিছু মাদক দিয়ে গণপিটুনিতে মারা যাওয়ার নাটক সাজানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আবরারের সহপাঠীদের দৃঢ়তায় সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
৭ অক্টোবর ২০১৯। ভোরের আলো ফোটার আগেই বুয়েটের শিক্ষার্থীরা উপহার পায় এক সতেজ তাজা লাশ। পাঁচ ঘন্টা অমানুষিক নির্যাতনে মৃত ফর্সা শরীরটার সবখানে শুধু লাল আর কালোর মিশ্রণ। দেশের পক্ষে ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাস আবরার ফাহাদ রাব্বিকে পৌঁছে দিয়েছে অনন্ত মহাকাশের পথে।
***
লেখা- মারুফ হাসান,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
# এই অরাজনীতির ফলে ২০০২ সালে "সাবেকুন নাহার সনি" এবং ২০১৩ সালে "আরিফ রায়হান দীপ" এরা দুজন বুয়েটে অরাজনীতির বলি হয়েছিলেন।
01/03/2024
25/02/2024
⭕🕋পবিত্রতা ইবাদত কবুলের পূর্ব শর্ত ।পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালবাসেন।
⭕মুশরিকরা অপবিত্র,কাদেরকে মসজিদে হারাম শরীফে ঢোকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যারা দেব-দেবীর পূজা করে তারা মুশরিক। আল্লাহ চাইলে সকল গুনাহ মাফ করে দিতে পারেন,কিন্তু মুশরিকদের কে আল্লাহ কখনোই ক্ষমা করবেন না।
⭕যারা মুশরিকদের হারাম পণ্য ভোগ করছেন তারা ক্ষমা পাবেন কোন শর্তে⭕?
⭕যারা জেনে বুঝে ইচ্ছা ইচ্ছা অনিচ্ছার মুশরিকদের হারাম পণ্য ভোগ করছে তারা মূলত আল্লাহর সাথে যুদ্ধ করছে।
⭕তাবলীগ জামাতে গিয়ে এক লক্ষ চিল্লা দিলে, মক্কা শরীফ গিয়ে হাজার হাজার ওমরা করলে, সেজদা দিয়ে কপালে দাগ পড়ালে কোন লাভ হবে না। যতক্ষণ না হারাম পণ্য বর্জন না করা হয় কারোরই ইবাদত হবে না।
⭕পবিত্রতা অর্জন করা ইবাদতের পূর্ব শর্ত হিসেবে আল্লাহ বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন।⭕
বয়কট ইন্ডিয়ান ও ইজরায়েলের পন্য।
boykott indian and Israel's product .
23/01/2024
সিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাএ/ছাএী, শিক্ষক/শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের ১৬ই ডিসেম্বর উপলক্ষে শোক রেলী ও দোয়া অনুষ্ঠান আয়োজন করেন।
আয়োজনে : অধ্যক্ষ মো: মিজানুর রহমান।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Telephone
Website
Address
হিরাঝিল আ/এ, ৪নংগলি, ১নংওয়ার্ড, নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ , মোবা:০১৯১৯০০০৮৫১
Narayanganj
1200