21/09/2026
AI কে না থামিয়ে আরো বেশি ব্যবহার করতে চান ট্রাম্প।
এআইয়ের গতি কমানো নয় বরং আরও দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৯ সেপ্টেম্বর নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন একটি উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন, যা ভবিষ্যতের সামরিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনায় রয়েছে আমেরিকার সামরিক বাহিনীর জন্য একটি পৃথক “AI Force” গড়ে তোলা। এটি অনেকটা আগে তৈরি করা Space Force-এর মতো একটি আলাদা সামরিক কাঠামো হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এর মূল লক্ষ্য হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সামরিক প্রযুক্তি এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করা।
এআই নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান এতটা কঠোর কেন?
বর্তমানে এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন নিয়ে একদিকে যেমন ব্যাপক বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতা চলছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। OpenAI, Google ও Anthropic-এর মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এআইয়ের ঝুঁকি এবং নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতার কথা বলা হয়েছে।
কিন্তু ট্রাম্পের অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভিন্ন। তিনি এআই উন্নয়নের গতি কমানোর ধারণার বিরোধিতা করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।
বিশেষ করে চীনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাকে ট্রাম্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। তাঁর বার্তার মূল লক্ষ্য—যুক্তরাষ্ট্র যেন এআই প্রযুক্তিতে পিছিয়ে না পড়ে এবং কৌশলগতভাবে চীনের ওপর প্রযুক্তিগত সুবিধা ধরে রাখতে পারে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক
প্রথমত, এআইকে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি খাতের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতাও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, এআই সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য হোয়াইট হাউসে একজন “AI Czar” বা এআই বিষয়ক শীর্ষ সমন্বয়ক রাখার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। তিনি প্রেসিডেন্টের অধীনে এআই-সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালনা ও সমন্বয় করবেন।
তৃতীয়ত, এআই কোম্পানিগুলোর ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বা কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পরিবর্তে দ্রুত উদ্ভাবনের পরিবেশ তৈরি করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে দ্রুত নতুন এআই মডেল ও প্রযুক্তি তৈরি করতে পারে, সেটিই লক্ষ্য।
নিরাপত্তা নিয়ে কেন উদ্বেগ?
ট্রাম্পের এই অবস্থান অবশ্য বিতর্ক তৈরি করেছে। এআই গবেষক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত এআই ব্যবস্থার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছেন।
তাদের উদ্বেগের জায়গা হলো—প্রযুক্তির উন্নয়ন যদি নিরাপত্তা পরীক্ষা ও যথাযথ নিয়ন্ত্রণের তুলনায় অনেক দ্রুত এগিয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এআই ব্যবস্থার অপব্যবহার কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফলের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, দ্রুতগতির এআই উন্নয়নের পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের যুক্তি হলো, যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় ধীর হয়ে যায়, তাহলে চীনসহ অন্যান্য দেশ গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা অর্জন করতে পারে।
এআই কি এখন নতুন সামরিক শক্তি?
ট্রাম্পের পরিকল্পনা একটি বিষয়কে আরও স্পষ্ট করে তুলছে—এআই এখন আর শুধু প্রযুক্তি কোম্পানি বা গবেষণাগারের বিষয় নয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ধীরে ধীরে জাতীয় নিরাপত্তা, সামরিক প্রযুক্তি, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।
আগামী দিনে এআই প্রযুক্তিতে কে নেতৃত্ব দেবে, সেটি শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্যের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সামরিক সক্ষমতা, অর্থনৈতিক শক্তি এবং বৈশ্বিক প্রভাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও।
তাই ট্রাম্পের “AI Force” পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু মার্কিন সামরিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনবে না—বিশ্বের এআই প্রতিযোগিতার গতিপথেও এর প্রভাব পড়তে পারে।