খরস্রোতা নবগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে লোহাগড়া উপজেলার অন্তর্গত ১৯১৬ সালে স্থাপিত সুপ্রাচীন নলদী ব্রাহ্মনডাঙ্গা শ্যামা সুন্দরী মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হলেও প্রতিকূল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে দক্ষিণ তীরের বিরাট জনগোষ্ঠি শিক্ষার আলো হইতে বঞ্চিত ছিল। এ কারণে স্বপ্নদ্রষ্টা শিক্ষা বিদ বাবু সুরেন্দ্র নাথ নন্দীর মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের লালিত স্বপ্ন প্রতিষ্ঠিত করিবার জন্য মুন্সী আবু বাকারসহ এলাকার আরও সুধীজনের সাথে পরামর্শ করিয়া ১৯৬৭ সালের শেষের দিকে নবগঙ্গা নীর তীরে চালিতাতলা বাজারের আশফল গাছ তলায় একটি সভা আহবান করা হয়। উক্ত সভায় বাবু সুরেন্দ্রনাথ নন্দী, জনাব মুন্সী আবু বাকার, বাবু সুনিল কুমার বসু, শেখ মোঃ আজিজুর রহমান, সৈয়দ মকবুল আলী, জিতু মুন্সী মোকাম শেখ, বাশি মিয়া, নূল মিয়অ শেখ, সাদেক মোল্যা, সৈয়দ রাজা আলী, সৈয়দ আনার আলী, দুলাল কৃষ্ণ সাহা, কেশব দাস প্রমূখ ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত হইয়া একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োনীয়তা অনুভব করেন। বাবু সুরেন্দ্র নাথ নন্দীর নির্দেশনায় এলাকার সর্ব স্তরের মানুষের সহযোগীতায় ১৯৬৮ সালের ১১ই জানুয়ারী, ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণীতে ৮৫ জন ছাত্র-ছাত্রী সমন্বয়ে চালিতাতলা বাজারের তেঁতুল গাছ তলায় নূর মিয়া সাহেবের একটি ফাঁকা ঘরে শ্রেণী কক্ষ ও বাবু কালপিদ বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয়। পধান শিক্ষক হিসাবে বাবু নিখিল রঞ্জন সাহা ও সহকারী শিক্ষক হিসাবে সেখ হাফিজুর রহমান, মোঃ হাফিজুর রহমান বিনা বেতনে নিয়োজিত হন।পরবর্তীতে বাবু সুনিল কুমার বসু, শ্রেমতি সুষমা রাণী বসু, জনাব তবিবর রহমান, বাবু দাস ও জনাবা আনোয়ারা বেগম জমি দান করেন এবং এলাকার সর্বস্তরের মানুষ ধান, বাঁশ, গাছ ও নগদ অর্থ দানের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের অব কাঠামো ও পরিসর বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়। এলাকার সর্ব স্তরের জন সাধারণের সম্মিলিত প্রয়াসে প্রতিষ্ঠিত হয় বলিয়া “সম্মলিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় চালিতাতলা”হিসাবে নাম করণ করা হয়। বিদ্যালয়টি নিম্ন মাধ্যমিক থাকা পর্যন্ত বাবু নিখিল রঞ্জন সাহা প্রধান শিক্ষক এবং ১৯৭৩ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত হইলে শিক্ষাবিদ বাবু সুরেন্দ্র নাথ নন্দী প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে সরকারী স্বীকৃতি প্রাপ্তির পর হইতেই আজও পর্যন্ত বিদ্যালয়টি এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ করিয়া নারী শিক্ষা উন্নয়নে প্রভূত ভূমিকা রাখিয়া আসিতেছে এবং বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় অত্র বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা গুণগত ও সংখ্যাগতভাবে সাফল্য লঅভ করিয়া বিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করিয়া যাইতেছে।