11/02/2016
আমি প্রায়ই মৃত্যুর সবচেয়ে সহজ উপায় নিয়ে ভাবি। প্রথমেই মাথায় আসে বিমান ক্র্যাশের কথা। ধাম করে ফুটবে। সেকেন্ডেই দেহ, মগজ ছিন্ন ভিন্ন হয়ে ছাই। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শেষ। কিন্তু ওটা অনেক এক্সপেন্সিভ। আর আমার জন্য আরো এতগুলো মানুষ মরবে সেটাও চাইনা। পৃথিবীর সবচেয়ে ডেঞ্জারাস দৃশ্য... মৃত্যুর জন্য ছটফট করা। আর অতি আপনজনরা পাশে বসে দোয়া করা। "আল্লাহ আর কষ্ট দিও না। তারাতারি নিয়ে যাও।" গা শিউরে ওঠা দৃশ্য। মানুষ কতো অসহায়! কোথাও কোন বিপদ হলে যে আপনজনরা সবার আগে এগিয়ে আসে। এক মুহুর্ত না দেখলে যে যারা ছটফট করে তারাই সবচেয়ে বিপদের মুহুর্তে পাশে বসে দোয়া করে, আল্লাহ তারাতারি নিয়ে যাও। যেখান থেকে আর কোনদিন ফিরে আসা যায় না তারাতারি সেখানে নিয়ে যাও। আসলে মৃত্যুর কোন সহজ উপায় নেই। আইসিইউর ভেতরে এসি রুমে আরামে শুয়ে মৃত্যু বরনও আরামদায়ক নয়। মৃত্যু মৃত্যুই। একমাত্র তিনিই পারেন অবসম্ভাবী ওই মুহুর্তটাকে সহজ করতে। একটা মজার ব্যাপার আছে। মানুষ কখনো নিজের মৃত্যু কল্পনা করতে পারে না। ধরেন, বাসে কোথাও যাচ্ছেন। একা বসে ভাবছেন, আচ্ছা গাড়িটি যদি মুখোমুখি এক্সিডেন্ট করে তবে কি হবে? দেখবেন, চিন্তা আসবে বার্ণারে বসা মানুষগুলো মরে যাবে। বাকীরা আহত হবে। আপনি সামনের সিট আকড়ে ধরে কোন ব্যথা ছাড়াই বেঁচে যাবেন। যদি পেছন থেকে অন্য গাড়ি ধাক্কা দেয় আপনি বড় জোড় উল্টে গিয়ে দুই সিট সামনে গিয়ে পড়বেন। সবার অনেক ক্ষতি হলেও আপনি বড় কোন আঘাত ছাড়াই বেঁচে যাবেন। নৌকা বা লঞ্চে করে যাচ্ছেন। চিন্তা হবে, সবাই ডুবে গেলেও আপনি কোন না কোন ভাবে ঠিকই পানিতে ভেসে থাকবেন। এবার সেটা যত অযৌক্তিক আর গোজামিলই হোকনা কেন। অর্থৎ মানুষ নিজের মৃত্যুটা ভাবতে পর্যন্ত পারে না। মনে হয় মৃত্য হলো, পাশের বাড়ির ওই থুরথুরে বুড়োটার জন্য কিংবা হাসপাতালে শুয়ে থাকা ওই অপরিচিত মানুষগুলোর জন্য। অথচ এই অপ্রিয় দৃশ্যটাই একদিন সত্য হয়ে ধরা দেয়। মৃত্যুর সময় নাকি মানুষের বার বার পেছনের কথা মনে হতে থাকে। চোখে ভাসতে থাকে অতীতের সব কর্মকান্ড। যদি তাই হয় তবে কেউ মোটেও চাইবে না সেই সময়ে অতীতের কোন মন্দ দৃশ্য তার চোখে ভাসুক। আর আমরা প্রায়ই ভুলে যাই আজকের বর্তমানটাইতো আগামী দিনের অতীত। অন্তত মৃত্যুর সময় কোন অনাকাংখিত দৃশ্য যেন চোখে না ভাসে সে ব্যবস্থাটা এখন থেকেই করতে হবে।
idea ta Nahid vai theke dhar kora.