14/08/2022
বাংলা ১৩৮২ সনের ৩১শে শ্রাবণ।
সময়টা ঠিক বর্ষাকাল। ঘন অন্ধকার ও মুষলধারে বৃষ্টির এইদিন রাতে বাঙ্গালী জাতির জীবনেও ঘটে যায় এক জঘন্যতম, কলঙ্কময় ও শোকাবহ ঘটনা। ইতিহাসের যেসব কালো অধ্যায়
রয়েছে তারমধ্যে একটি এই জঘন্যতম হলো ঐ কালোরাতের ঘটনা।
এই রাতে বাংলাদেশ নামক ভূখন্ডের স্বপ্নদ্রষ্টা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতাও বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের প্রায় সকল সদস্যকে হত্যা করে সেনাবাহিনীর বিপথগামী কিছু সেনা অফিসার। বাংলাদেশ ও পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্যতম হত্যাকান্ডের একটি ঘটে এই রাতে।
এই হত্যাকান্ডে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ মোট ২৬ জন নিহত হন। বাদ যায়নি ছোট্ট শিশু শেখ রাসেলও। এমনকি বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনির অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকেও হত্যা করতে কুণ্ঠিত হয়নি ঐ নরপিশাচের দল।
তাঁরা চেয়েছিলো বঙ্গবন্ধুও তাঁর পরিবারকে হত্যা করে সদ্য স্বাধীন একটি দেশের মানুষদের শাসন-শোষণ করে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে। কিন্তু তাঁরা তা পারেনি। বঙ্গবন্ধুকে দৈহিকভাবে হত্যা করা হলেও তার মৃত্যু নেই। তিনি চিরঞ্জীব। কেননা একটি জাতিরাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা এবং স্থপতি তিনিই। যতদিন এ রাষ্ট্র থাকবে, ততদিন তিনি অমর।
৩১শে শ্রাবণ ১৩৮২ সনের ঐ দিনটি ছিলো ইংরেজি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট।
আর তাই ১৫ আগষ্টকে আমরা জাতীয় ভাবে শোক দিবস হিসেবে পালন করি এবং এই শোক থেকে শিক্ষা নেই, জাগরিত হই, শক্তি পাই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে।
শোক থেকে শক্তি, শোক থেকে জাগরণ।
১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস অমর হোক।
© জনসংযোগ ও মার্কেটিং বিভাগ, বাংলাদেশ স্কাউটস