20/03/2025
🌺রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর তালাশ করতে থাকা। কারণ লাইলাতুল কদর হলো হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এ রাতের ইবাদাত হাজার মাসের ইবাদাতের সমান। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
'যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরের রাতে বিশ্বাস ও পুরস্কারের আশায় ইবাদাতরত অবস্থায় থাকবে, আল্লাহ তাআলা তার অতিতের সব গোনাহ মাফ করে দেবেন।' (বুখারি)
- বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে ইবাদাত
শেষ দশকের প্রতিটি রাতে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া ও ইসতেগফারে কাটিয়ে দেয়া। বিশেষ করে লাইলাতুল কদরের দোয়া নামে পরিচিত দোয়াটি পড়া। যে দোয়াটি বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে শিখিয়েছেন। আর তাহলো-
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ : 'আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।’
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)
"বছরের সবচেয়ে পবিত্র , বরকতময় , ফজিলতময় রাত শবে ক্বদরের রাত।
রমাদানের শেষের ১০ দিন যে কোন বিজোড় রাতে ( ১,৩,৫,৭,৯ ) হতে পারে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর "
রমজানের শেষ দশকে বেশি বেশি আমল করতে হবে এবং বেজোড় রাতগুলোতে ক্বদর খুঁজতে বলা হয়েছে।
৩১-০৩ রবিবার মাগরিবের পর থেকে
০২-০৪ মঙ্গলবার মাগরিবের পর থেকে
০৪-০৪ বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর থেকে
০৬-০৪ শনিবার মাগরিবের পর থেকে
০৮-০৪ সোমবার মাগরিবের পর থেকে
মাসজিদুল হারামের ইমাম শাইখ মাহির রামাদানের শেষ ১০ রাতের জন্য এক চমৎকার আমলের ফর্মুলা দিয়েছেন :
১. প্রতিরাতে এক দিরহাম (এক টাকা ) দান করুন,
যদি রাতটি লাইলাতুল ক্বদরের মাঝে পড়ে, তবে আপনি
৮৩ বছর ৪ মাস (১০০০ মাস ) পর্যন্ত প্রতি দিন এক টাকা দান করার সওয়াব পাবেন"।
২. "প্রতিরাতে দু' রাকা'আত নফল সালাত আদায় করুন, যদি রাতটি লাইলাতুল ক্বদরের মাঝে পড়ে, তবে আপনি ৮৩ বছর ৪ মাস ( ১০০০ মাস ) পর্যন্ত প্রতি দিন দু' রাকা'আত সালাতের সওয়াব পাবেন "।
৩. প্রতিরাতে তিন বার সূরা ইখলাস পাঠ করুন , যদি রাতটি লাইলাতুল ক্বদরের মাঝে পড়ে, তবে আপনি ৮৩ বছর ৪ মাস পর্যন্ত প্রতি দিন এক খতম কোরআন পাঠের সওয়াব পাবেন "।
তিনি আরও বলেন উপরের কথা গুলো মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিন, যারা আপনার কথা শুনে আমল করবে ,
আপনিও তাদের আমলের সমান সওয়াব পাবেন ।
"ইনশাআল্লাহ
কেউ যদি #কদরের_রাতে আমল করতে চান, এই নিয়মে করতে পারেন...
১// রাত দশটার পর থেকে টিভি বা মোবাইল দেখা থেকে বিরত থাকুন।
২// বেশি গরম লাগলে গোসল করুন ও পরিষ্কার পোষাক পরিধান করুণ।
৩// কোরআন পড়তে পারলে ১২ টার আগ পর্যন্ত কোরআন পরুন।
৪// ৩০মিনিট ধ্যান খেয়াল এনে সালাতু তাজবিহের নামাজ পরুন।
৫// রাত ১ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত জিকির করুন। যেমনঃ-
(১) সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার। (১০০ বার করে)
(২) লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (২০০ বার)
(৩) আস্তাগফিরুল্লাহ (কমপক্ষে ৫০০ বার, যত বেশি সম্ভব হয়)
(৪)বেশী বেশী দুরুদ পড়া।
(৫) সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি (কমপক্ষে ১০০ বার)
(৬)"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়া হুওয়া আ'লা কুল্লি শাইয়্যিন কদির" (কমপক্ষে ১০০ বার)
(৭) দুয়া ইউনুস - "লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায্ যলিমীন" ।(যত পারেন)
(৮)"সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি ওয়া সুবহানাল্লাহিল 'আযীম।" (কমপক্ষে ১০০ বার) ।
(৯) "লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ" বেশি বেশি পড়তে পারেন।
(১০) সূরা ইখলাস যত বেশি পড়া যায়।
(১১) সায়্যিদুল ইস্তেগফার পাঠ করা।
৬// আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।’( যত বেশি পারেন)
৭// রাত ২ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত তাহাজ্জুদ পরুন ৮ রাকাত। রুকু ও সিজদায় বেশি সময় ব্যয় করুন।পারলে সিজদায় দোয়া করা।
৮// তাহাজ্জুদের পর তিন রাকাআত বিতরের নামাজ পরুন।
৯// সেহরি খাওয়ার পূর্বেই হাত তুলুন মালিকের কাছে। আপনার প্রয়োজনের সব কিছু খুলে বলুন..একটু চোখের পানি ফেলে বলুন, "মালিক, আমি আপনার ইবাদত করি এবং আপনার কাছেই হাত পেতেছি... খালি হাতে ফিরিয়ে দিবেন না.....ইত্যাদি...
১০// সেহরি খান।
১১// ফরজ নামাজ পরে ঘুমিয়ে পরুন।
উপরের কথাগুলো মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিন, যারা আপনার কথা শুনে এ আমল করবে, আপনিও তাদের আমলের সমান সাওয়াব পাবেন ইনশাআল্লাহ্।
কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "ভালো কাজের পথ প্রদর্শনকারী আমলকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে, কিন্তু আমলকারীর সাওয়াবে কোনো ঘাটতি হবে না।..." [মুসলিম ২৬৭৪]
রমজানের শেষ দশ দিনের মধ্যে যে কোন দিন শবে কদর হয়ে যেতে পারে। তাই শবে কদরের রাত মিস করতে না চাইলে, বিশেষ করে বিজোড় রাতে এই আমল গুলো করুন।
আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের সবাইকে বেশি বেশি আমল করার তওফিক দান করুন।
"আমিন"