24/11/2024
জীবন কিছু মুহূর্তের সমষ্টি ছাড়া আর কিছুই নয় । জীবনের অর্জন বলতেও যৎসামান্যই; জন্ম, মৃত্যু, পুনরুত্থান অথবা পুনর্জন্ম ।
আমরা জন্মাই, বেড়ে উঠি, তারপর মরে যাই ; এটিই নিয়তি ।
নার্ভাস ফোরটি নাইন!
01/12/2023
তুমুল বৃষ্টিতে নিভে যে আগুন; তাকে বসন্ত দিও না, প্রভু ।
30/11/2023
১.
সেদিন রাতে দু'টো বাচ্চাকেই ডাকলাম । ওরা এসে পাশে বসলো । তাদের একজনকে ঘরের আলো নিভিয়ে দিতে অনুরোধ করলাম । আলো নেভাতেই ঘর জুড়ে ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে এসেছে । ওদের দু'জনের হাতে দু'টো মোমবাতি, দু'টো দিয়াশলাই ও কিছু অপ্রয়োজনীয় কাগজ ধরিয়ে দিলাম । বললাম, যেকোন একটিতে দিয়াশলাইয়ের জলন্ত কাঠি ছুঁয়ে দাও । তাদের একজন মোমবাতি জ্বালালো, অন্যজন কাগজে আগুন ধরিয়ে দিলো।
২.
একদিকে নিরাপদ প্রদীপের আলো, অন্যদিকে জ্বলন্ত কাগজে অনিরাপদ অগ্নিকুন্ডলী । কাগজ পুড়ে পুড়ে যখন ছাই, প্রদীপ তখনও আলো ছড়াচ্ছে । তার আলোয় পুরো গৃহ উজ্জ্বল ।
৩.
তাদের বললাম, 'আলো' চারপাশ আলোকিত করে, 'আগুন' আশেপাশে যা আছে তার সব পুড়িয়ে ছাই করে ! আমরা কোনটি জ্বালাবো, সে জানে 'সময়'। সময় মানে আমার 'চয়েজ' -যেখানে আছে একাধিক বিকল্প !
আগুন নয়, আমরা যেন আলো জ্বালাই ।
29/11/2023
যে জীবন আমার; সেই আমারে দাও, প্রভু ।
28/11/2023
১.
যে কোনদিন প্রেমে পড়েনি, তার কাছে কখনও প্রেমের গল্প শুনতে যেয়ো না।
২.
যার কোন বর্ণাঢ্য শৈশব নেই, তারুণ্যের উত্তালরূপ তাকে কখনই স্পর্শ করে না।
৩.
মানসিকভাবে জরা-জীর্ণ কোন বৃদ্ধ যদি বয়সে তরুণও হয়, তবুও তার কানে ভালোবাসার ফিসফিস শব্দ পৌঁছাতে নেই ।
মতিউর রহমান খান পাঠান
ময়মনসিংহ।
২৮ নভেম্বর, ২০২৩
25/11/2023
১.
আমি যখন বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই তাকে চিনি। বলতে গেলে আমার কাছে সে এক রহস্যময় চরিত্র। দীর্ঘসময় ধরে তার সাথে উঠা-বসা, অথচ তার নাম জানা হয়নি । সে যে আমাকে তার নাম বলেনি তা নয়, আমি নিজেই কখনও তা জানতে চাইনি । কেন চাইনি, তার কোন উত্তর আমার কাছে নেই ।
২.
যখন আমার খুব একলা লাগে, নির্জন কোথাও গিয়ে বসি । চোখ বন্ধ করে কল্পনা করতে গিয়ে প্রায়ই একটা গভীর বনের ভিতর দিয়ে সরু একটা পথ ধরে হেঁটে যেতে যেতে খুব ক্লান্ত হয়ে একটা প্রাচীন বৃক্ষের নিচে বসি । ঠিক তখনই আসে সেই নাম না জানা চেনা লোকটি । দেখতে অনেকটাই আমার মতো, যে কেউ আমাদের দু'জনকে টুইন ভেবে ভুল করতে পারেন । আমরা দু'জনে মিলে ছোট ছোট কথা বলি । প্রতিদিনই নতুন কিছু স্বপ্ন নির্মাণ করি, যার বেশিরভাগই পূরণ হবার নয় । আমি বিশ্বাস করি, যতদিন স্বপ্ন দেখতে পারবো ততদিনই জীবন । স্বপ্ন দেখা থেমে গেলে আমি গতিহীন, অসাড়, মৃতপ্রায় এক মানুষে পরিণত হবো । আমি তার সাথে একনাগাড়ে আমার স্বপ্নের কথা বলে যাই । মনোযোগী শ্রোতার মতো সে আমার কথা শুনে । বোধ হয় সেকারণেই তাকে আমার খুব ভালোলাগে ।
৩.
আজ আবার নিজেকে একলা লাগছে খুব। আমি চোখ বন্ধ করে কল্পনায় সেই বনের পথ ধরেই হাঁটছি । মনে মনে সেই চেনা মানুষটিকে খোঁজ করছি । হঠাৎ দেখি, সে আমার পাশেই হাঁটছে । আমি অনর্গল কথা বলছি, সে শুনছে । হাঁটতে হাঁটতে পথের পাশেই একটা ক্যাফে দেখতে পাই । এর আগে এখানে কোন ক্যাফে দেখিনি । কাছে পৌঁছেই দেখি এটি একটা ডেথ ক্যাফে । আমরা দু'জনেই প্রবেশ করলাম । কেউ একজন কফি হাতে আমাকে অভ্যর্থনা জানালো। এখানে মৃতপ্রায় ব্যক্তিদের বসবাস। তাদের প্রত্যেকের জীবনেই আছে বিশাল বিশাল সব অভিজ্ঞতার গল্প। আমি কফি খেতে খেতে তাদের জীবনের গল্প শুনছি । এখানে তারা মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছেন । তাদের কাছে মৃত্যুর বাইরে আর কোন ভাবনা নেই । এখানে কোন স্বপ্ন নেই, চাওয়া-পাওয়া নেই, আনন্দ নেই, বেদনা নেই; আছে কেবল মৃত্যুদূতের অপেক্ষা ।
৪.
স্বপ্নবাজ মানুষেরা সুখ খোঁজে । সুখ ভবিষ্যতের সঞ্চয় । মানুষের ভবিষ্যত হলো তার মৃত্যু । সে অনিবার্যভাবেই আসে ।
যা অনিবার্য তা নির্মাণের কিছু নেই, বর্তমানই কেবল নির্মাণের, উপভোগের ।
মতিউর রহমান খান পাঠান
সহযোগী অধ্যাপক
আনন্দ মোহন সরকারি কলেজ
ময়মনসিংহ।
২৫ নভেম্বর, ২০২৩
23/11/2023
Repost
দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের দ্বীপ সেন্টমার্টিন । চারপাশে বালুকাময় বিশাল বীচ । বীচের পাশে খুপরি দোকানের মওসুমি দোকানী ইয়ার হোসেন । বয়সে টিন এজ পেরোনো তরুণ । ক'মাস আগেই বিয়ে করেছেন দ্বীপেরই বাসিন্দা চতুর্দশী রমিছাকে । পর্যটনের সময়টুকুতে বাড়ির পাশেই অস্থায়ী দোকান চালান তিনি । দোকানের উঁচু মাচায় বিছানো চাটাই এ একা একা বসে থাকেন । দু'একজন ক্লান্ত পর্যটক হাঁপাতে হাঁপাতে বসেন দোকানের বেঞ্চিতে । একটা ডাব দু'কোপে কেটে পাইপ দিয়ে তুলে দেন ক্লান্ত ক্রেতার হাতে। ক্রেতা শূন্য সময়ে স্ত্রী রমিছা আঁচলে মুখ ঢেকে আলতো পায়ে উঁকি দেয় দোকানে । ইয়ার হোসেন আড়চোখে তাকায় ! রমিছার মুখ লজ্জায় রাঙা হয় । ইয়ার হোসেন উচ্ছ্বল হাসি হাসে । বিড় বিড় করে দু'একটা কথা হয় দু'জনের মাঝে । কান ও চোখ একসাথে ধরে না রাখলে যেন কাক-পক্ষীও শুনতে পারবে না কিছু । ক্রেতা এলে দ্রুতই সরে পড়েন রমিছা । ইয়ার হোসেনও স্বাভাবিক । যেন কেউ ছিলো না তার সামনে । আর বর্ষার সময়টাতে দ্বীপ একেবারেই পর্যটক শূন্য । তখন ইয়ার হোসেন ফিরে যান পৈত্রিক পেশায় । জাল হাতে সন্ধ্যায় চলে যান গভীর সমুদ্রে । রাত গভীর হয় । রমিছা অপেক্ষার প্রহর গুণে । কেয়া বনের আড়ালে দাঁড়িয়ে অনেক দূরের আলোয় ইয়ার হোসেনের মুখ ভেসে উঠে কিশোরী বঁধু'র চোখে । সমুদ্রের বিশাল ঢেউয়ের আয়নায় জাল হাতে ইয়ার হোসেনের চোখেও রমিছা'র আঁচল ঢাকা লজ্জায় রাঙা লাল মুখ ভেসে উঠে ।
উত্তরের বাতাসে কেয়া বনের পাতায় পাতায় আর সমুদ্রের ঢেউয়ে ঢেউয়ে যে প্রেম জাগে সেখানে ভালোবাসা বাঁচে অনন্তকাল !
22/11/2023
১.
তুমি অন্ধকারে নিমজ্জিত হলে অনিবার্যভাবেই তোমার ছায়া নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে, কেউ না চাইলেও ।
২.
ছায়া নিরুদ্দেশ হলে আলোর অপেক্ষা করো ।
৩.
বেশি তীক্ষ্ণ আলোয় প্রকৃত ছায়া দৃশ্যমান হয় না।
আলো ও ছায়ার খেলা আমাদের অনিবার্য নিয়তি।
18/11/2023
ভ্রমণ ও বই পড়ে আপনি যৎসামান্যই লাভবান হবেন। যতক্ষণ না নিজেকে নিজের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি আত্মজ্ঞান অর্জনে সমর্থ নন।
পৃথিবীব্যাপী শিক্ষার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে নিজেকে জানা ।
17/11/2023
তোমার চোখের কোণে জমে থাকা মদিরা ফোটা ফোটা করে আমার হৃদয়ে ঝরে পড়ে । আমি নেশায় বুঁদ হয়ে অগোছালো পড়ে থাকি আমার ঘরে; সেখানে তুমি ছাড়া আর কারো প্রবেশাধিকার নেই ।
মাতাল না হয়ে কেই বা প্রেমিক হয়েছে কবে, বলো !
16/11/2023
আমাদের হৃদয় এক সংকীর্ণ ও নির্জন কারাগার । সেখানে আমরা অকারণেই আমাদের স্বপ্ন, প্রেম, সাফল্যকে বন্দি করে রাখি । চারপাশে অসংখ্য মানুষের পদচারণা, হৈ-হুল্লোড় আছে বটে; সে অনেকটাই দেয়ালের বাইরে পায়চারি করা কারারক্ষীর বুটের আওয়াজের মতো ।
যা কিছু আমার, তার সবই হৃদয়ে বন্দি করে একলা হয়ে যাই । এ কেমন জীবন মানুষের !
15/11/2023
১.
একা বসেছিলাম পার্কের বেঞ্চিতে । অদ্ভূত পোষাকে কেউ একজন আমার পাশে বসলো । খুব চেনা, কিন্তু এই মুহূর্তে চিনতে পারছি না । এলোমেলো চুল, মুখে খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি আর গোঁফে আছে এক রহস্যময়তা। বিশ্বস্ত সঙ্গীর মতো তিনি আমাকে প্রাণ খুলে কিছু একটা বলতে চাইলেন । আমার সায় নেই জেনেও তিনি অনর্গল বলে যাচ্ছেন । আমি নিশ্চুপ ছিলাম কারণ এটি আমার প্রভূর গুণ ।
২.
গল্পের শুরুটা এমন যে, তিনি ছিলেন এক গোত্র প্রধান । গোত্রের সবাই তাকে ভালোবাসতেন খুব, তিনিও তার সাধ্যমত নিজ গোত্রের জন্য সব করতেন । একদিন হলো বিপত্তি । তার প্রিয় সহচরদের একজন গোত্র প্রধানের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে বসলেন । তিনি তখন ক্ষেপে গিয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সহচরকে হত্যা করলেন । হত্যার সাথে সাথেই মৃত ব্যক্তির দেহের গড়িয়ে পড়া রক্ত থেকে দু'টি কালো কুকুর জন্ম নিলো। হন্তারক গোত্র প্রধান ভয় পেয়ে গেলেন । তিনি তার ক্ষমতা ও জীবন নিয়ে আশংকায় পড়লেন । এরপর থেকে তিনি তার গোত্র অঞ্চলে যত কালো কুকুর ছিলো তার সবক"টাকে হত্যার নির্দেশ দিলেন ।
৩.
গোত্র প্রধানের নির্দেশ পেয়ে পাইক-পেয়াদারা পুরো গোত্র জুড়ে যত কুকুর ছিলো সবগুলোকে হত্যা করলেন । সেকথা গোত্র প্রধানকে বীরদর্পে জানানোও হলো । তিনি তা শুনলেন, কিন্তু আস্বস্ত হতে পারেননি। নতুন করে শুরু হলো অস্বস্তি । হন্তারক গোত্র প্রধান যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানেই তার ছায়া ভেসে উঠছে । তিনি দিব্যি দেখতে পাচ্ছেন, ছায়াটি দেখতে সেই শত্রুর রক্ত থেকে জন্ম নেয়া কালো দু'টি কুকুরের মতোন।
৪.
তিনি তার ছায়াকে তার জীবন থেকে কোনভাবেই সরাতে পারছেন না । নিজের ছায়া, সেও শেষে ! কী এক ভয় তাকে আঁকড়ে ধরেছে দানবের মতো । যেখানে তাকাচ্ছেন, সেখানেই যেন কুকুরের প্রতিচ্ছবি দেখছেন । দুঃসহ আর বিভৎস কাটে তার দিন-রাত !
৫.
এখন তিনি তার গোত্র, পরিবার পরিজন সব ছেড়েছেন । বদ্ধ উন্মাদের মতোন পথে পথে ঘুরে ঘুরে নিজের জীবনের ঘটে যাওয়া ভুলের গল্প বলছেন । সে গল্প কেউ শুনছে, কেউ শুনছে না । হঠাৎ দেখি তিনি নিরুদ্দেশ । ঘরে ফিরবো বলে আড়মোড়া ভেঙ্গে দাঁড়ালাম । দেখলাম, পুরো শহরে নিরবতা নেমেছে ।
কখনও কখনও পাপ ছায়ার মতোন আমাদের অনুসরণ করে, আমরা চাইলেও তাকে এড়াতে পারি না । কেবল প্রায়শ্চিত্ত দিয়ে কি হৃদয়ে স্বস্তি ফেরে !