25/11/2023
১.
আমি যখন বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই তাকে চিনি। বলতে গেলে আমার কাছে সে এক রহস্যময় চরিত্র। দীর্ঘসময় ধরে তার সাথে উঠা-বসা, অথচ তার নাম জানা হয়নি । সে যে আমাকে তার নাম বলেনি তা নয়, আমি নিজেই কখনও তা জানতে চাইনি । কেন চাইনি, তার কোন উত্তর আমার কাছে নেই ।
২.
যখন আমার খুব একলা লাগে, নির্জন কোথাও গিয়ে বসি । চোখ বন্ধ করে কল্পনা করতে গিয়ে প্রায়ই একটা গভীর বনের ভিতর দিয়ে সরু একটা পথ ধরে হেঁটে যেতে যেতে খুব ক্লান্ত হয়ে একটা প্রাচীন বৃক্ষের নিচে বসি । ঠিক তখনই আসে সেই নাম না জানা চেনা লোকটি । দেখতে অনেকটাই আমার মতো, যে কেউ আমাদের দু'জনকে টুইন ভেবে ভুল করতে পারেন । আমরা দু'জনে মিলে ছোট ছোট কথা বলি । প্রতিদিনই নতুন কিছু স্বপ্ন নির্মাণ করি, যার বেশিরভাগই পূরণ হবার নয় । আমি বিশ্বাস করি, যতদিন স্বপ্ন দেখতে পারবো ততদিনই জীবন । স্বপ্ন দেখা থেমে গেলে আমি গতিহীন, অসাড়, মৃতপ্রায় এক মানুষে পরিণত হবো । আমি তার সাথে একনাগাড়ে আমার স্বপ্নের কথা বলে যাই । মনোযোগী শ্রোতার মতো সে আমার কথা শুনে । বোধ হয় সেকারণেই তাকে আমার খুব ভালোলাগে ।
৩.
আজ আবার নিজেকে একলা লাগছে খুব। আমি চোখ বন্ধ করে কল্পনায় সেই বনের পথ ধরেই হাঁটছি । মনে মনে সেই চেনা মানুষটিকে খোঁজ করছি । হঠাৎ দেখি, সে আমার পাশেই হাঁটছে । আমি অনর্গল কথা বলছি, সে শুনছে । হাঁটতে হাঁটতে পথের পাশেই একটা ক্যাফে দেখতে পাই । এর আগে এখানে কোন ক্যাফে দেখিনি । কাছে পৌঁছেই দেখি এটি একটা ডেথ ক্যাফে । আমরা দু'জনেই প্রবেশ করলাম । কেউ একজন কফি হাতে আমাকে অভ্যর্থনা জানালো। এখানে মৃতপ্রায় ব্যক্তিদের বসবাস। তাদের প্রত্যেকের জীবনেই আছে বিশাল বিশাল সব অভিজ্ঞতার গল্প। আমি কফি খেতে খেতে তাদের জীবনের গল্প শুনছি । এখানে তারা মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছেন । তাদের কাছে মৃত্যুর বাইরে আর কোন ভাবনা নেই । এখানে কোন স্বপ্ন নেই, চাওয়া-পাওয়া নেই, আনন্দ নেই, বেদনা নেই; আছে কেবল মৃত্যুদূতের অপেক্ষা ।
৪.
স্বপ্নবাজ মানুষেরা সুখ খোঁজে । সুখ ভবিষ্যতের সঞ্চয় । মানুষের ভবিষ্যত হলো তার মৃত্যু । সে অনিবার্যভাবেই আসে ।
যা অনিবার্য তা নির্মাণের কিছু নেই, বর্তমানই কেবল নির্মাণের, উপভোগের ।
মতিউর রহমান খান পাঠান
সহযোগী অধ্যাপক
আনন্দ মোহন সরকারি কলেজ
ময়মনসিংহ।
২৫ নভেম্বর, ২০২৩