14/03/2026
বাংলাদেশে একজন গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে রাষ্ট্রের বিনিয়োগ
বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একজন শিক্ষার্থীকে পড়াশোনা করাতে রাষ্ট্রকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। এই ব্যয়ের বড় অংশই আসে দেশের করদাতাদের কাছ থেকে।
২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয়ের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে একজন শিক্ষার্থীর পেছনে বার্ষিক মাথাপিছু ব্যয় ৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।
শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয়ের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে একজন শিক্ষার্থীর পেছনে বছরে গড়ে প্রায় ৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় প্রায় ৩ লাখ ৮১ হাজার টাকা।
এর পরের অবস্থানে রয়েছে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে প্রতিজন শিক্ষার্থীর জন্য ব্যয় হয় প্রায় ৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা।
প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় প্রায় ৩ লাখ ১৪ হাজার ৪৭৭ টাকা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ব্যয় প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৭ টাকা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় প্রায় ২ লাখ ১ হাজার ৭৭৮ টাকা, আর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৭০ টাকা।
অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার টাকা।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) প্রায় ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৯৫ টাকা এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় হয়।
এ ছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার ৩০৯ টাকা, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) প্রায় ৯২ হাজার ২৪২ টাকা, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৮ টাকা এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯০০ টাকা।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)-এ শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় যথাক্রমে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার, ১ লাখ ১৬ হাজার এবং ১ লাখ ৩৯ হাজার ১৯ টাকা।
অন্যদিকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ২৩১ টাকা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ব্যয় প্রায় ৮১ হাজার টাকা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৭১ হাজার ৫৬৯ টাকা।
ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয়ের দিক থেকে সবচেয়ে কম অবস্থানে রয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী সেখানে একজন শিক্ষার্থীর পেছনে গড়ে ব্যয় মাত্র ৭০২ টাকা।
এর পরেই রয়েছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় প্রায় ৩ হাজার ৪১৫ টাকা।
এ ছাড়া তুলনামূলক কম ব্যয়ের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় প্রায় ৪৩ হাজার ২২ টাকা এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে একজন শিক্ষার্থীর জন্য ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৪ হাজার টাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে উচ্চশিক্ষায় এই ব্যয় মূলত দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।
কারণ একজন গ্র্যাজুয়েট তৈরি হওয়া শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়। এটি দেশের মানুষের করের অর্থ দিয়ে গড়ে ওঠা একটি সামাজিক দায়িত্বও।
নোট:
এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করতে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। সব বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য পাওয়া যায় নাই। যদি কারও কাছে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ভরযোগ্য তথ্য বা পরিসংখ্যান থাকে, অনুগ্রহ করে শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ।
-----------------
Azizul Haque
Oriyet-অরিয়েট