28/04/2025
নিয়মিত দান-সদকা করার গুরুত্ব ও ফজিলত
ইসলামে দান-সদকা করার গুরুত্ব অপরিসীম। দান শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, বরং এটি মানবতার প্রতি দায়িত্ববোধের প্রকাশ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি অন্যতম মাধ্যম। কুরআন এবং হাদীসে দান-সদকার অসংখ্য ফজিলত ও উপকারিতা বর্ণিত হয়েছে, যা আমাদের উৎসাহিত করে নিয়মিত দান-সদকা করতে।
কুরআনের আলোকে দানের গুরুত্ব
আল্লাহ তাআলা বলেন:
> "তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, তিনি তা জানেন। যেসব লোক দান করে, তাদের আল্লাহ ভালোবাসেন।"
— (সুরা আল-বাকারা, ২:২৭৩)
আরেক স্থানে ইরশাদ হয়েছে:
> "যারা আল্লাহর রাস্তায় নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের দৃষ্টান্ত একটি শস্যবীজের মতো, যা থেকে সাতটি শীষ বের হয় এবং প্রতিটি শীষে একশ’ করে দানা থাকে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আরো বাড়িয়ে দেন। আল্লাহ সুপ্রশস্ত, সর্বজ্ঞ।"
— (সুরা আল-বাকারা, ২:২৬১)
এই আয়াতগুলো প্রমাণ করে, দান করলে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সম্পদ বহু গুণ বৃদ্ধি করে দেন।
হাদীসের আলোকে দানের ফজিলত
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
> "দান করা কখনো সম্পদ কমায় না।"
— (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৫৮৮)
আরো ইরশাদ করেছেন:
> "প্রত্যেক সকালেই দুইজন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাদের একজন বলেন: ‘হে আল্লাহ! যে ব্যয় করে তাকে তার ব্যয়ের বিনিময়ে দাও।’ আর অপরজন বলেন: ‘হে আল্লাহ! যে কৃপণতা করে, তাকে ধ্বংস করো।’"
— (সহীহ বুখারি, হাদীস: ১৪৪২; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১০১০)
এ থেকে বোঝা যায়, দানকারী ব্যক্তির জন্য ফেরেশতারা প্রতিদিন দোয়া করে, আর কৃপণের জন্য বদদোয়া করা হয়।
নিয়মিত দান-সদকার উপকারিতা
১. গুনাহ মাফ হয়:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
> "দান গোপন গুনাহ নষ্ট করে দেয় যেমন পানি আগুন নেভায়।"
— (জামে’ আত-তিরমিযি, হাদীস: ৬১৫)
২. রোগ থেকে রক্ষা:
তিনি আরো বলেছেন:
> "রোগ থেকে মুক্তি পেতে দান করো।"
— (আল-মু’জাম আল-কবীর, তাবারানী)
৩. আখিরাতে ছায়া পাওয়া:
হাদীসে এসেছে:
> "সাত শ্রেণির মানুষ কিয়ামতের দিনে আরশের ছায়ায় থাকবে, তার মধ্যে একজন হলো, যে ব্যক্তি এমনভাবে দান করে যে, তার ডান হাত যা দান করে, বাম হাত তা জানতে পারে না।"
— (সহীহ বুখারি, হাদীস: ৬৬০; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১০৩১)
দান-সদকা করার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি, পাপ মোচন করতে পারি এবং দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ অর্জন করতে পারি।