Talimun Nisa Momenshahi

Talimun Nisa Momenshahi আসসালামু আলাইকুম �
দ্বীনি শিক্ষা অর্জনের জন্য তা'লীমুন নিসা মোমেনশাহী মাদরাসায় আপনাকে স্বাগতম�

আলহামদুলিল্লাহ আমাদের মাদ্রাসায় ছোট্ট ইফতারের আয়োজন ❤️❤️
23/02/2026

আলহামদুলিল্লাহ আমাদের মাদ্রাসায় ছোট্ট ইফতারের আয়োজন ❤️❤️

আমাদের মাদ্রাসায় আপনাদের স্বাগতম ❤️❤️
22/02/2026

আমাদের মাদ্রাসায় আপনাদের স্বাগতম ❤️❤️

01/06/2025

আ্সসালামু আলাইকুম, আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে,আবহাওয়াগত পরিবর্তনের কারণে তা'লীমুন নিসা, মোমেনশাহী র "বাৎসরিক পুরষ্কার বিতরণী" ও "হিফজ সমাপণী " অনুষ্ঠান টি স্থগিত ঘোষণা করা হলো। ইংশা আল্লাহ! বন্ধ পরর্বতী তারিখ জানানো হবে। সবাই এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া যেন দ্রুত কেটে যায় দুআয় স্মরণ রাখি।

গীবতের নিষেধাজ্ঞা ও এর ভয়াবহ পরিণাম: কুরআন ও হাদীসের আলোকেঃগীবত বা পরনিন্দা ইসলামে একটি জঘন্য এবং নিষিদ্ধ কাজ। এটি ব্যক্...
07/05/2025

গীবতের নিষেধাজ্ঞা ও এর ভয়াবহ পরিণাম: কুরআন ও হাদীসের আলোকেঃ
গীবত বা পরনিন্দা ইসলামে একটি জঘন্য এবং নিষিদ্ধ কাজ। এটি ব্যক্তি, সমাজ ও ঈমানের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। গীবতের মাধ্যমে মানুষের মানহানি হয় এবং সামাজিক সম্পর্ক ভেঙে পড়ে। আল্লাহ তাআলা এবং রাসূল (সা.) গীবতকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন এবং এর জন্য ভয়াবহ শাস্তির কথা বলেছেন।
গীবতের সংজ্ঞা:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“তুমি তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কিছু বলো যা সে অপছন্দ করে।”
— (মুসলিম, হাদীস: ২৫৮৯)

সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন: “যদি আমার ভাইয়ের মাঝে আমি যা বলছি তা থেকে থাকে?”
তিনি (সা.) বললেন:
“যদি তা থেকে থাকে, তবে তুমি তাকে গীবত করছো; আর যদি তা না থাকে, তবে তুমি তার প্রতি অপবাদ দিচ্ছো (বুহতান)।”
কুরআনের নিষেধাজ্ঞা:
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা কেউ যেন অন্যের পশ্চাতে নিন্দা (গীবত) করো না। তোমাদের কেউ কি পছন্দ করবে যে, সে তার মৃত ভাইয়ের গোশত খাবে? নিশ্চয়ই তোমরা তা ঘৃণা করো।”
— (সূরা হুজুরাত: ১২)

এই আয়াতে গীবতের সাথে মৃত ভাইয়ের মাংস খাওয়ার তুলনা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত ভয়ানক ও জঘন্য বিষয়।
গীবতের ভয়াবহ পরিণাম হাদীসের আলোকে:
১. মিরাজের রাতে গীবতের শাস্তি:
রাসূল (সা.) মিরাজের রাতে এমন এক সম্প্রদায় দেখেন, যাদের নখ ছিলো তামার তৈরি, তারা নিজেদের মুখ ও বুকে আঁচড়াচ্ছিলো। তিনি জিবরাইল (আ.)-কে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বললেন—
“এরা তারা, যারা গীবত করত এবং মানুষের সম্মান নষ্ট করত।”
— (আবু দাউদ, হাদীস: ৪৮৭৮)

২. নেক আমল ধ্বংসের আশঙ্কা:
রাসূল (সা.) বলেন,
“যে ব্যক্তি গীবত করে, তার সমস্ত নেক আমল কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তিকে দিয়ে দেওয়া হবে, যার গীবত সে করেছে।”
— (তাবারানি, আল-মুজামুল আওসাত)
গীবতের প্রকারভেদ:
গীবত শুধু মুখে বলা নয়, ইশারা-ইঙ্গিত, লেখালেখি, হাসাহাসি এমনকি অনুকরণ করাও গীবতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। যেমন কেউ কাউকে কণ্ঠ নকল করে উপহাস করলে সেটিও গীবত।
গীবত থেকে বাঁচার উপায়:
১. আল্লাহভীতি অর্জন করা।
২. নিজের জবানের হেফাজত করা।
৩. ভালো কাজ ও সদুত্তরে নিজেকে ব্যস্ত রাখা।
৪. যদি গীবত হয়ে যায়, সঙ্গে সঙ্গে তাওবা ও ক্ষমা চাওয়া এবং যার গীবত করা হয়েছে, তার কাছে ক্ষমা চাওয়া।
৫. এমন Majlis এ বসা থেকে বিরত থাকা, যেখানে গীবত হয়।
গীবত এমন একটি গুনাহ যা সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে, সম্পর্ক ভেঙে দেয় এবং আখিরাতে শাস্তির কারণ হয়। একজন মু’মিনের উচিত

জিলক্বদ মাস ইসলামি বর্ষপঞ্জির ১১তম মাস। এটি একটি সম্মানিত ও হারাম মাস (أشهر الحرم) — যার ফজিলত কুরআন ও হাদীসের আলোকে বিশ...
05/05/2025

জিলক্বদ মাস ইসলামি বর্ষপঞ্জির ১১তম মাস। এটি একটি সম্মানিত ও হারাম মাস (أشهر الحرم) — যার ফজিলত কুরআন ও হাদীসের আলোকে বিশেষভাবে উল্লেখ আছে। নিচে জিলক্বদ মাসের ফজিলত সংক্ষেপে আলোচনা করছি:

---

১. জিলক্বদ মাস “আশহুরে হুরুম” এর একটি:

কুরআনুল কারিমে আল্লাহ বলেন:

> "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট মাসের সংখ্যা বারটি — যেদিন তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। তন্মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত।"
— সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত ৩৬

এই চারটি মাস হলো:

মুহাররম

রজব

জিলক্বদ

জিলহজ্জ

জিলক্বদ মাস এই সম্মানিত মাসগুলোর একটি।

---

২. হারাম মাসে গুনাহ ও নেক আমলের গুরুত্ব বেশি:

হাদিসে নবী (সা.) বলেন:

> "হারাম মাসে নিজের ওপর জুলুম কোরো না (অর্থাৎ গুনাহ থেকো বিরত থাকো)।"
— সহীহ বুখারী ও মুসলিম

এই মাসগুলোতে গুনাহ করলে তার শাস্তি গুরুতর হয়, আবার নেক আমল করলে তার সওয়াবও অনেক বেশি হয়।

---

৩. নবীজি (সা.) অধিকাংশ উমরাহ জিলক্বদ মাসে করেছেন:

হাদীস:

> "নবী (সা.) চারটি উমরা করেছেন — সবগুলোই জিলক্বদ মাসে।"
— সহীহ বুখারী: ১৭৭৮

এ থেকে বোঝা যায় যে, এই মাস উমরাহর জন্য বরকতময় ও ফজিলতপূর্ণ।

৪. যুদ্ধ-বিবাদ থেকে বিরত থাকার মাস:

জাহেলিয়াত যুগেও মানুষ এই চারটি মাসে যুদ্ধ বন্ধ রাখত। ইসলাম তা বহাল রেখেছে, কারণ এ সময়টি শান্তির, আত্মশুদ্ধির ও ইবাদতের।

জিলক্বদ মাস হচ্ছে এমন এক বরকতময় সময়, যেখানে গুনাহ থেকে বিরত থেকে বেশি বেশি ইবাদত, তাওবা, যিকির ও উমরাহ করার প্রতি তাগিদ আছে। মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত এই সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগানো।

আল্লাহর ৯৯ নামের ফজিলতইসলামে আল্লাহর গুণবাচক ৯৯টি নামকে বলা হয় “আস্মা’ উল হুসনা” (أَسْمَاءُ ٱللَّٰهِ ٱلْحُسْنَىٰ) — যার ...
04/05/2025

আল্লাহর ৯৯ নামের ফজিলত

ইসলামে আল্লাহর গুণবাচক ৯৯টি নামকে বলা হয় “আস্মা’ উল হুসনা” (أَسْمَاءُ ٱللَّٰهِ ٱلْحُسْنَىٰ) — যার অর্থ, “সুন্দরতম নামসমূহ।” প্রতিটি নাম আল্লাহর এক একটি গুণ ও মহিমাকে প্রকাশ করে। এসব নাম শুধু জ্ঞানের খনি নয়, বরং আমাদের ইবাদত, দোয়া ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিশুদ্ধতা ও আশ্রয় লাভের অসীম উৎস।

আল্লাহর ৯৯ নামের ফজিলত ও মাহাত্ম্য:

১. জান্নাত লাভের উপায়:
হাদীসে এসেছে—
“আল্লাহর ৯৯টি নাম আছে, যে কেউ তা মুখস্থ করবে (ইমান সহকারে আমল করবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
(সহীহ বুখারী: ২৭৩৬, সহীহ মুসলিম: ২৬৭৭)

২. আল্লাহর পরিচয় ও সান্নিধ্য লাভ:
প্রতিটি নাম আল্লাহর এক একটি গুণ প্রকাশ করে, যা জানলে আমরা তাঁর প্রতি আরও ভালোবাসা ও ভক্তি অর্জন করতে পারি। যেমন, “আর-রহমান” মানে পরম করুণাময়, “আল-গাফূর” মানে মহা ক্ষমাশীল — এই নামগুলো আমাদেরকে আশা ও ধৈর্য শেখায়।

৩. দোয়া কবুলের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম:
আল্লাহ বলেন—
“তোমরা আমাকে ডাকো আমার নামসমূহ দিয়ে।”
(সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত ১৮০)
যখন দোয়া আল্লাহর বিশেষ নাম ধরে করা হয়, তখন তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

৪. মানসিক প্রশান্তি ও আত্মিক পরিশুদ্ধতা:
আস্মা’ উল হুসনা পাঠ করলে হৃদয়ে প্রশান্তি আসে, মন থেকে দুশ্চিন্তা দূর হয় এবং অন্তর আল্লাহর প্রতি ঝুঁকে পড়ে।

৫. আত্মশুদ্ধি ও চরিত্র গঠন:
আল্লাহর নাম জানার মাধ্যমে আমরা তাঁর গুণাবলী নিজেদের জীবনে অনুসরণ করার চেষ্টা করি। যেমন, “আল-আদল” (ন্যায়বিচারক) জানলে আমরা জীবনে ন্যায়পরায়ণতা রক্ষা করতে শিখি।

কিভাবে আমরা আল্লাহর ৯৯ নামের আমল করতে পারি?

প্রতিদিন কিছু কিছু করে মুখস্থ করা

নামের অর্থ ও ব্যাখ্যা জানা

নাম ধরে দোয়া করা (যেমন, “ইয়া আর-রহীম, আমায় রহম করো।”)

নামগুলো জিকির করা ও তা দিয়ে তাসবিহ বলা

জীবনে গুণাবলী বাস্তবায়নের চেষ্টা করা
আল্লাহর ৯৯ নাম কেবল নাম নয়, এগুলো এক একটি রুহানিয় শক্তি। এগুলো মুখস্থ ও আমল করা আমাদের জীবনকে বদলে দিতে পারে, শান্তিময় ও কল্যাণময় করতে পারে দুনিয়া ও আখিরাতে।

তাই আসুন, আমরা নিয়মিতভাবে আল্লাহর নামসমূহ জানি, হৃদয়ে স্থান দিই এবং জীবনে প্রতিফলিত করি।

এস্তেগফার পড়ার গুরুত্ব ও ফজিলত(কুরআন ও হাদীসের আলোকে)অর্থ ও পরিচিতি:“এস্তেগফার” শব্দটি আরবি “ইস্তিগফার” (الاستغفار) থেকে...
03/05/2025

এস্তেগফার পড়ার গুরুত্ব ও ফজিলত

(কুরআন ও হাদীসের আলোকে)

অর্থ ও পরিচিতি:

“এস্তেগফার” শব্দটি আরবি “ইস্তিগফার” (الاستغفار) থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা। এটি এমন একটি ইবাদত, যার মাধ্যমে মানুষ তার পাপ ও ত্রুটির জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় এবং তাঁর করুণা ও মাফের আশ্রয় নেয়।

---

কুরআনের আলোকে এস্তেগফারের গুরুত্ব:

১. আল্লাহ ক্ষমাকারী ও পরম দয়ালু:

> “তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন অধিক হারে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা সাহায্য করবেন...”
(সূরা নূহ: ১০-১২)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, এস্তেগফার শুধুমাত্র গুনাহ মোচনের মাধ্যমই নয়, বরং এটি দুনিয়ার কল্যাণ, রিজিক বৃদ্ধি ও সন্তান লাভের উপায়ও।

২. নবীদের দোয়া ও পথনির্দেশ:

> “আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। তিনি তো ক্ষমাকারী।”
(সূরা নূহ: ১০)

নবী নূহ (আ.) তাঁর জাতিকে বারবার এস্তেগফারের দাওয়াত দিয়েছেন, যা এস্তেগফারের গুরুত্বকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরে।

---

হাদীসের আলোকে ফজিলত:

১. রাসূল (সা.)-এর নিয়মিত এস্তেগফার:

> "আল্লাহর কসম, আমি প্রতিদিন আল্লাহর কাছে সত্তরবার বা তারও বেশি সংখ্যায় ইস্তিগফার করি ও তাওবা করি।"
(সহীহ বুখারী, হাদীস: ৫৯৪৮)

যখন গুনাহহীন নবীও প্রতিদিন এতবার এস্তেগফার করতেন, তখন আমাদের কত বেশি দরকার তা সহজেই অনুমেয়।

২. গুনাহ মাফের গ্যারান্টি:

> “যে ব্যক্তি নিয়মিত এস্তেগফার করে, আল্লাহ তার জন্য প্রতিটি সংকট থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করে দেন, প্রতিটি দুঃখ থেকে উত্তরণের পথ করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।”
(আবু দাউদ, হাদীস: ১৫১৮; আহমদ)

৩. গোনাহ মোচনের উপায়:

> "যে ব্যক্তি এস্তেগফার করে, আল্লাহ তার গোনাহ মাফ করে দেন, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমান হয়।"
(তিরমিজি, হাদীস: ৩৫৭৭)

---

এস্তেগফারের কিছু সংক্ষিপ্ত দোয়া:

১. أستغفر الله — “আস্তাগফিরুল্লাহ”
(অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।)

২. اللهم اغفر لي وارحمني — “আল্লাহুম্মাগফিরলি ওয়ারহামনি”
(অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন ও দয়া করুন।)

৩. سيد الاستغفار (সায়্যিদুল ইস্তিগফার)
— রাসূল (সা.) যেটিকে সর্বোত্তম এস্তেগফার বলেছেন।

---দুরুদ পড়ার ফজিলতইসলামে দুরুদ শরীফ পড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল, যা আল্লাহ তায়ালা ও ফেরেশতাদের পক্ষ থেকেও প্রশংসিত। প্রিয়...
30/04/2025

---

দুরুদ পড়ার ফজিলত

ইসলামে দুরুদ শরীফ পড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল, যা আল্লাহ তায়ালা ও ফেরেশতাদের পক্ষ থেকেও প্রশংসিত। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে দুরুদ পাঠ। এটি শুধু একজন মুমিনের আত্মার পবিত্রতা অর্জনের উপায়ই নয়, বরং ইহকাল ও পরকালের অগণিত কল্যাণ বয়ে আনে।

দুরুদ পাঠের কুরআনিক নির্দেশ

আল্লাহ তায়ালা বলেন:

> “নিঃসন্দেহে আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরূদ পাঠ করে। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠ কর।”
— (সুরা আহযাব: ৫৬)

এই আয়াতে আল্লাহর আদেশ রয়েছে নবীজির (সা.) প্রতি দুরুদ পাঠ করার জন্য, যা দুরুদের মর্যাদা ও গুরুত্বকে স্পষ্ট করে তোলে।

দুরুদ পড়ার ফজিলতসমূহ

১. পাপ মোচন ও মর্যাদা বৃদ্ধি:
হাদীসে এসেছে, “যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দুরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তা'আলা তার উপর দশটি রহমত বর্ষণ করেন, তার দশটি গুনাহ মাফ করেন এবং দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।” — (সহিহ মুসলিম)

২. দোয়া কবুল হয়:
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যখন তোমরা দোয়া করো, তখন প্রথমে আমার উপর দুরুদ পাঠ করো, এরপর তোমার প্রয়োজন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো। দুরুদ ছাড়া দোয়া আকাশে উঠে না।” — (তিরমিজি)

৩. নবীজির সুপারিশ লাভ:
হাদীসে এসেছে, “কেয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী সেই ব্যক্তি হবে, যে ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি দুরুদ পাঠ করেছে।” — (তিরমিজি)

৪. চিন্তা-উদ্বেগ দূর হয়:
কেউ যখন দুরুদ পাঠ করে, তার অন্তরে প্রশান্তি আসে, আল্লাহর রহমতের দরজা খুলে যায়, দুশ্চিন্তা দূর হয়।

৫. ফেরেশতারা দোয়া করেন:
ফেরেশতারা সেই ব্যক্তির জন্য দোয়া করেন, যে নিয়মিত নবীজির (সা.) উপর দুরুদ পাঠ করে। এটি আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভের একটি অসাধারণ সুযোগ।

দুরুদ পাঠের সময়সমূহ

সালাতের শেষে (তাশাহহুদের পর)

শুক্রবার দিনে ও রাতে

নবীজির নাম শুনলে বা উচ্চারণ করলে

প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে

দোয়ার শুরু ও শেষে।

দুরুদ শরীফ পাঠ করা একজন মুসলমানের জন্য এক মহৎ ইবাদত, যা তাকে আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছে দেয় এবং প্রিয় রাসুল (সা.)-এর ভালোবাসা অর্জনে সহায়তা করে। তাই আমাদের উচিত প্রতিদিন নিয়ম করে দুরুদ শরীফ পাঠ করা এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে নবীজিকে স্মরণ করা এবং সুন্নতের অনুসারী হওয়া।

দ্বীনী জ্ঞান লাভ করার জন্য ছাত্রীদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। এগুলো হলো :১. নিয়ত বিশুদ্ধ রাখা:আল্লাহর ...
29/04/2025

দ্বীনী জ্ঞান লাভ করার জন্য ছাত্রীদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। এগুলো হলো :

১. নিয়ত বিশুদ্ধ রাখা:
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইলম অর্জন করতে হবে, দুনিয়াবি স্বার্থ বা লোক দেখানোর জন্য নয়।

২. ইলমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া:
দ্বীনী ইলম ও এর শিক্ষকদের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। বিনয়ী মনোভাব বজায় রাখতে হবে।

৩. নিয়মিত ও মনোযোগী হওয়া:
পাঠদানে মনোযোগী থাকা, প্রশ্ন করলে ভদ্রভাবে করা এবং পাঠদানকালে কোনো ধরনের অমনোযোগিতা বা অবহেলা না করা।

৪. ইলম অনুযায়ী আমল করা:
শিখে আমল না করলে ইলমের বরকত থাকে না। তাই শিখে সেই অনুযায়ী নিজের জীবন গড়ার চেষ্টা করতে হবে।

৫. ইলম ছড়িয়ে দেওয়া:
জ্ঞান অর্জনের পর তা অন্যদেরকেও শেখানোর চেষ্টা করা উচিত, যেন ইলমের বরকত ছড়িয়ে পড়ে।

৬. সবর ও অধ্যবসায় রাখা:
ইলম অর্জন সহজ কাজ নয়। ধৈর্য ধরে, কষ্ট স্বীকার করে ইলমের পথে অগ্রসর হতে হবে।

৭. গুনাহ থেকে দূরে থাকা:
গুনাহ ইলমের নূর (আলো) নিভিয়ে দেয়। তাই পাপ কাজ পরিহার করে তাকওয়া ও পরহেযগারি অবলম্বন করতে হবে।

৮. দু'আ করা:
ইলমে বরকত ও সহিহ বোঝাপড়ার জন্য সবসময় আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। যেমন রাসুল (সা.) দোয়া করতেন:
"হে আল্লাহ! আমাকে উপকারী জ্ঞান দান করুন।"

---

নিয়মিত দান-সদকা করার গুরুত্ব ও ফজিলতইসলামে দান-সদকা করার গুরুত্ব অপরিসীম। দান শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, বরং এটি মানবতার প্...
28/04/2025

নিয়মিত দান-সদকা করার গুরুত্ব ও ফজিলত

ইসলামে দান-সদকা করার গুরুত্ব অপরিসীম। দান শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, বরং এটি মানবতার প্রতি দায়িত্ববোধের প্রকাশ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি অন্যতম মাধ্যম। কুরআন এবং হাদীসে দান-সদকার অসংখ্য ফজিলত ও উপকারিতা বর্ণিত হয়েছে, যা আমাদের উৎসাহিত করে নিয়মিত দান-সদকা করতে।

কুরআনের আলোকে দানের গুরুত্ব

আল্লাহ তাআলা বলেন:

> "তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, তিনি তা জানেন। যেসব লোক দান করে, তাদের আল্লাহ ভালোবাসেন।"
— (সুরা আল-বাকারা, ২:২৭৩)

আরেক স্থানে ইরশাদ হয়েছে:

> "যারা আল্লাহর রাস্তায় নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের দৃষ্টান্ত একটি শস্যবীজের মতো, যা থেকে সাতটি শীষ বের হয় এবং প্রতিটি শীষে একশ’ করে দানা থাকে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আরো বাড়িয়ে দেন। আল্লাহ সুপ্রশস্ত, সর্বজ্ঞ।"
— (সুরা আল-বাকারা, ২:২৬১)

এই আয়াতগুলো প্রমাণ করে, দান করলে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সম্পদ বহু গুণ বৃদ্ধি করে দেন।

হাদীসের আলোকে দানের ফজিলত

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:

> "দান করা কখনো সম্পদ কমায় না।"
— (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৫৮৮)

আরো ইরশাদ করেছেন:

> "প্রত্যেক সকালেই দুইজন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাদের একজন বলেন: ‘হে আল্লাহ! যে ব্যয় করে তাকে তার ব্যয়ের বিনিময়ে দাও।’ আর অপরজন বলেন: ‘হে আল্লাহ! যে কৃপণতা করে, তাকে ধ্বংস করো।’"
— (সহীহ বুখারি, হাদীস: ১৪৪২; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১০১০)

এ থেকে বোঝা যায়, দানকারী ব্যক্তির জন্য ফেরেশতারা প্রতিদিন দোয়া করে, আর কৃপণের জন্য বদদোয়া করা হয়।

নিয়মিত দান-সদকার উপকারিতা

১. গুনাহ মাফ হয়:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

> "দান গোপন গুনাহ নষ্ট করে দেয় যেমন পানি আগুন নেভায়।"
— (জামে’ আত-তিরমিযি, হাদীস: ৬১৫)

২. রোগ থেকে রক্ষা:
তিনি আরো বলেছেন:

> "রোগ থেকে মুক্তি পেতে দান করো।"
— (আল-মু’জাম আল-কবীর, তাবারানী)

৩. আখিরাতে ছায়া পাওয়া:
হাদীসে এসেছে:

> "সাত শ্রেণির মানুষ কিয়ামতের দিনে আরশের ছায়ায় থাকবে, তার মধ্যে একজন হলো, যে ব্যক্তি এমনভাবে দান করে যে, তার ডান হাত যা দান করে, বাম হাত তা জানতে পারে না।"
— (সহীহ বুখারি, হাদীস: ৬৬০; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১০৩১)

দান-সদকা করার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি, পাপ মোচন করতে পারি এবং দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ অর্জন করতে পারি।

ইসলামে ইলমে দ্বীন শিক্ষার জন্য উস্তাদের মর্যাদা ও গুরুত্ব–––ইসলাম একটি জ্ঞানভিত্তিক ধর্ম। কুরআন ও হাদীসে জ্ঞানার্জনের ওপ...
22/04/2025

ইসলামে ইলমে দ্বীন শিক্ষার জন্য উস্তাদের মর্যাদা ও গুরুত্ব–––

ইসলাম একটি জ্ঞানভিত্তিক ধর্ম। কুরআন ও হাদীসে জ্ঞানার্জনের ওপর অসংখ্যবার গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তবে এই জ্ঞানার্জনের পথ শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তক নয়, বরং একজন প্রকৃত উস্তাদ বা আলিমের সান্নিধ্যে থাকা দ্বীনি জ্ঞানের প্রকৃত স্বাদ এনে দেয়।

উস্তাদ: ইলমের বাহক

উস্তাদ (শিক্ষক) হচ্ছেন সেই মহৎ ব্যক্তি, যিনি তাঁর ছাত্রদের আল্লাহর পথের জ্ঞান শিখিয়ে দেন, ভুল থেকে সতর্ক করেন এবং নেক আমলের পথে উৎসাহিত করেন। ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেন:

> "আমি যখন আমার উস্তাদের সামনে থাকতাম, তখন এমন ভয়ে থাকতাম, যেন আমি একদম শিশুর মতো।"

এ বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, উস্তাদের প্রতি কী রকম ভক্তি ও শ্রদ্ধা থাকা উচিত।

কুরআন ও হাদীসে উস্তাদের গুরুত্ব––

আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন:

> "তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা অনেক উঁচু করবেন।"
(সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত ১১)
রাসূল (সা.) বলেন:

> "আমার থেকে একটি আয়াত হলেও যারা অন্যদের কাছে পৌঁছায়, তারা উত্তম।"
(বুখারী)
এ হাদীস থেকে বুঝা যায়, দ্বীনের জ্ঞান যারা শেখে এবং অন্যদের শেখায়, তাদের মর্যাদা কতটা মহান।

উস্তাদের আদব ও সম্মান––

ইলম অর্জনের জন্য যেমন আন্তরিকতা জরুরি, তেমনি উস্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভক্তি ও আদব অপরিহার্য। সাহাবীগণ তাঁদের উস্তাদ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে কখনো উচ্চস্বরে কথা বলতেন না, এমনকি তিনি না থাকলেও তাঁর সম্মানের কারণে কণ্ঠ নিচু রাখতেন।

ইমাম মালিক (রহ.) তাঁর উস্তাদের ঘরের দরজায় কখনো কড়া নাড়তেন না; বরং তিনি বাইরে বসে থাকতেন যতক্ষণ না উস্তাদ নিজে বের হতেন।

উস্তাদের দোয়া ও বরকত :

উস্তাদ সন্তুষ্ট থাকলে ছাত্রের জীবনে দ্বীনি বরকত নেমে আসে। কারণ, ইলম শুধু মুখস্থ করার বিষয় নয়, বরং তা অন্তরে গেঁথে নেওয়ার বিষয়। একজন উস্তাদ দোয়ার মাধ্যমে সেই ইলমে নূরানিয়ত আনেন।
ইলমে দ্বীনের পথ আলোকিত, কিন্তু এই পথে চলতে হলে একজন উস্তাদের হাত ধরতে হয়। যিনি পথ দেখাবেন, ভুল ধরিয়ে দেবেন, আল্লাহর ভয় শেখাবেন। তাই উস্তাদদের সম্মান করা, ভালোবাসা ও তাঁদের থেকে ইলম গ্রহণ করা—এটা শুধু একজন মুসলিম ছাত্রের দায়িত্ব নয়, বরং এক ইবাদতের শামিল।

Address

Talimun Nisa Momenshahi Mymensingh
Mymensingh
2200

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Talimun Nisa Momenshahi posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share