21/11/2014
অনেক দিন পর। আপনাদের
কাছে ফিরে এলাম।
ভালও লাগলে কমমেনট করবেন।
♠♠♦♦♠♦♠♦♦♦♦♦♠♠♦♠♦
একটা বিখ্যাত গল্প আছে, কেউ
কেউ হয়ত শুনে থাকবেন ৷
গল্পটা চারটি গরুকে নিয়ে ৷
তিনটি কালো, একটি সাদা ৷
তারা একটা শ্বাপদসংকুল
এলাকায় বাস করতো ৷ এজন্য
নিরাপত্তার
খাতিরে তারা একসাথে থাকত
এবং একে অপরের প্রতি সতর্ক
দৃষ্টি রাখতো ৷ যার
ফলে তারা টিকে ছিল ৷
একদিন কালো তিনজন একত্র হল
এবং বলল ‘এই সাদা গরুটার জন্য
আমরা ধরা পড়ে যাব ৷
আমরা কালো বলে রাতের
বেলা শত্রু আমাদের
দেখতে পায়না, কিন্তু
তাকে দেখতে পায় ৷ চল ঐ
গরুটাকে আমরা পরিত্যাগ
করি ৷ তারপর আমরা তিনজন
একসাথে থাকবো ৷’ যেমন
কথা তেমন কাজ ৷ সেদিন
থেকেই
কালো গরুগুলো সাদাটাকে বয়কট
করল, তিনজন একপাশে থাকত আর
বেচারা সাদা গরু আরেক
পাশে ৷
সেখানকার নেকড়ে, এই গরুদের
মধ্যে অনৈক্য
বুঝে ফেললো এবং সে সাদা গরুটার
উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো ৷ যখন
নেকড়ে সাদা গরুটার গোশত
খুলে খুলে খাচ্ছিল, তখন
কালো গরুগুলো কোন
বাধা দিলনা ৷
তারা তাকিয়ে তাকিয়ে তাদের
ভাইকে টুকরো টুকরো হতে দেখছিল
৷
পরের
রাতে নেকড়ে কালো গরুগুলো উপর
আক্রমণ করলো, কারণ তাদের
শক্তি কমে গেছে ৷ এজন্য
নেকড়ে একটা কালো গরুকে ছিনিয়
হলো ৷
পরের রাতে নেকড়ের জন্য
কাজটা আরো সহজ হয়ে গেল,
কারণ গরু আছেই মাত্র দু'টো ৷
নেকড়ে খুব সহজে আরেকটা গরু
খেয়ে নিল ৷
শেষ রাতে গরু বাকি রইল মাত্র
একটা ৷ গরুটা ভয়ে এদিক ওদিক
ছুটোছুটি করলো, কিন্তু তার
কোন সাহায্যকারী নেই ৷
নেকড়ে বুঝল
গরুটা দৌড়াদৌড়ি করে হাঁপিয়ে এ
পড়ে যাবে, তাই সে মনের
আনন্দে পায়চারি করতে লাগলো ৷
সময় সুযোগমত সে গরুটার উপর
ঝাঁপিয়ে পড়লো ৷ জীবনের
শেষ
মুহূর্তে এসে গরুটা একটা কথা বলেছি
খুবই শিক্ষণীয় কথা ৷
সে বলেছিল,
‘আমিতো সেদিনই খাদ্য
হয়েছি, যেদিন
সাদা গরুটাকে খাওয়া হয়েছে ৷’
অর্থাৎ গরুটা বুঝতে পেরেছিল,
যেদিন
সে সাদা গরুটাকে সাহায্য
করেনি, সেদিনই সে নিজের
মৃত্যুর চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ৷
আশা করি কাহিনীটি থেকে আপন
শিক্ষা পেয়ে গেছেন ৷ প্রথমত,
এই গল্পের সাথে বর্তমান
উম্মাহর অনেক মিল
পাওয়া যাবে ৷
আমরা দেখতে পাচ্ছি একের
পর এক মুসলিম জাতির/দেশের
পতন ঘটছে ৷ আমরা কি করছি?
আমরা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখি ৷
যখন
ফিলিস্তিনকে কেড়ে নেয়া হল,
আমরা কিছুই করিনি ৷ এরপর
একের পর এক জাতি বিপদের
মুখে পড়তে লাগল - কাশ্মীর,
চেচনিয়া, ফিলিপাইনের
মুসলিম এবং সর্বশেষ ইরাক ৷
ইরাকে যখন হত্যাযজ্ঞ চলছে,
তখন আমরা কিছুই করিনি ৷
এখানেই শেষ নয়,
পরবর্তীতে আরো জাতিকে ধরা হব
কাকে ধরা হবে তা আল্লাহ্ই
ভাল জানেন ৷
গল্পটা থেকে বুঝা যায়,
যে মুসলিম জাতিগুলো এখনও
টিকে আছে সেগুলো প্রথম
জাতিটার পতনের
সাথে সাথেই পরাস্ত হয়েছে ৷
দ্বিতীয়ত, এ গল্প
থেকে অনৈক্যের ফলাফল
বুঝা যায় ৷ গরুগুলো যতদিন
একসাথে ছিল, ততদিন শত্রু কিছু
করতে পারেনি। কিন্তু যেই
তারা একজনকে ছেড়ে দিল,
তখন কি হল? তারা সকলেই
হেরে গেল৷
রসূলুলৱাহ্ (সা.) বলেছেন, ‘এই
উম্মত হল একটি দেহের মত ৷
যদি দেহের কোথাও
ব্যথা লাগে,
তাহলে গোটা দেহ
জ্বরাক্রান্ত হয় ও
ঘুমাতে পারেনা ৷' (বুখারী)৷
অর্থাৎ কারও হাত
বা পায়ে আঘাত লাগলে,
সে ব্যথার
কারণে ঘুমাতে পারেনা,
এবং তার দেহ
ব্যথা সারাতে গিয়ে জ্বরগ্রস্থ
হয়ে পড়ে ৷ পূর্ব, পশ্চিম বা উত্তর,
দক্ষিণের মুসলিম
জাতি ব্যথা পেলে, আপনারও
এমন ব্যথা লাগা উচিত যেন
আপনার নিজ পরিবার আহত
হয়েছে ৷ আপনি যদি শুধু নিজের
এবং আপনজনদের
নিরাপত্তা নিয়েই চিন্তিত
হন - তবে একটা সমস্যা আছে,
তখন আপনাকে আর দেহের
(উম্মাহ) অংশ বলা যায় না ৷
মুসলিমরা রাষ্ট্র, মাযহাব,
দলাদলি নিয়ে বিভক্ত
হতে পারে, কিন্তু তাদের বড়
পরিচয় তারা মুসলিম
(যদি না তারা পথভ্রষ্টদের
মধ্যে কেউ হয়) ৷
অনেকে দাবী করেন ‘আমি ও
আমার দল মুসলিম’,
অন্যরা যেহেতু তাদের দলের
অনুসরণ করেন না তাই
অন্যরা মুসলিম না ৷ আপনি যতক্ষণ
না কোন
ভাইকে বা বোনকে কাফের
প্রমাণ করতে পারবেন, ততক্ষণ
সে মুসলিম [একজন মানুষের
অন্তরে ঈমান আছে কি নেই
তা দেখার ক্ষমতাও আমাদের
নেই বা তা দেখার নির্দেশও
আমাদের দেয়া হয়নি ৷ রসূল
(সা) আমাদের বাহ্যিক আমল
দেখে মুসলিম সনাক্ত
করতে বলেছেন ৷ যেমন: নামায,
যাকাত, হজ্জ ইত্যাদি]৷
আমরা মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য
চাই ৷ ঐক্য বলতে বলছিনা দল,
মাযহাব সব বাদ
দিয়ে সবাইকে একটা জামাতের
অনুসরণ করতে হবে ৷
সেটা হয়তো এই মুহূর্তেই সম্ভব নয়
৷ ঐক্য বলতে আমরা বলছি,
আপনি যে মুসলিম গোষ্ঠীর
(বা group-এরই) হননা কেন,
যে মাযহাবের হননা কেন -
আপনি বিপদে আপনার ভাইয়ের
পাশে এসে দাড়াঁবেন - এটাই
ঐক্য!
মুসলিমদের মধ্যে একেকটা দল
একেক রকম কাজ করছে - এই
বিভিন্নতার দরকার আছে ৷
মুসলিমদের আজ সব
ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে ৷
কেউ হয়তো দাওয়াহর কাজ
করছে, কেউ ইল্ম অর্জন করছে,
কেউ এবাদতে মশগুল আছে ৷
মানুষ বিভিন্ন রকমের, তাই
কাজও বিভিন্ন রকম হবে ৷
মানুষের দক্ষতাও একেক রকম,
কেউ ভাল আলেম, কেউ ভাল
ইমাম আর কেউ বা ভাল শিক্ষক ৷
কেউ কেউ আছেন
যারা কথা কম বলেন, কাজ
বেশি করেন ৷ সব ধরনের
লোকেরই দরকার আছে ৷
তাই অন্য মুসলিম ভাইদের
সাথে আপনার চিন্তাধারার
মিল নাও থাকতে পারে,
কিন্তু তাদের
বিপদে আপনি সাহায্য করবেন -
একেই বলে একতা ৷
আমাদের তাই রসূল (সা)
হাদীসটির কথা স্মরণ রেখে ও
সারা পৃথিবীর মুসলিমদের
দুর্দশার কথা চিন্তা করে কষ্ট
লাগা উচিত ৷ ফিলিস্তিন,
ইরাক বা কাশ্মীরে কি হচেছ
সে ব্যাপারে আপনাকে সচেতন
হতে হবে, যদিও তা আপনার
দেশ নয় ৷ এসব মুসলিম দেশের
কয়েকটির মধ্যে বিরোধ
থাকতে পারে, যুদ্ধ
বা রাজনৈতিক সমস্যাও
থাকতে পারে ৷ কিন্তু তাই
বলে আপনার মনোভাব একই
থাকবে,
যা সমস্যা তা সরকারের মধ্যে,
সে দেশের
মুসলিমরাতো আপনার ভাই ৷
যে মুসলিমদের
নিয়ে ভাবেনা সে তাদের
অন্তর্ভুক্ত নয় ৷
রসূল (সা.) বলেছেন, ‘একজন মানুষ
যাকে ভালবাসে (কেয়ামতের
দিন) তার সাথে থাকবে ৷’
আপনি যদি মুসলিমদের
ভালবাসেন, তবে মুসলিমদের
সাথে থাকবেন (জান্নাতে),
আর যদি কাফিরদের
ভালবাসেন, তবে আপনার
আবাস হবে তাদেরই
সাথে (জাহান্নামে) ৷
রসূল (সা.) বলেছেন,
কেয়ামতের দিন আল্লাহ
বলবেন ‘তোমরা যার
উপাসনা করতে তার পিছু পিছু
যাও৷’ তাই যে ক্রুশের
উপাসনা করত, সে ক্রুশের
কাছে যাবে,
যে প্রতিমা পূজা করত,
সে প্রতিমার কাছে যাবে ৷
এরপর আল্লাহ এসব
মিথ্যা উপাস্যদের
জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন
এবং তাদের অনুসারীরাও
তাদের পিছু পিছু যাবে ৷
গল্পটা থেকে তৃতীয়ত
আমরা বিশ্বাসঘাতকতার
পরিণাম জানতে পারি,
জানতে পারি একজন
মুসলিমকে পরিত্যাগ করার কুফল
৷ রসূল (সা) বলেছেন, 'যে তার
মুসলিম ভাইকে অত্যাচার
করেনা,
বিশ্বাসঘাতকতা করেনা এবং পরিত্
করেনা সেই (প্রকৃত) মুসলিম
৷' (বুখারী ও মুসলিম) ৷