20/02/2020
২০০৬ সালের শেষের দিকের কথা, মাথায় তখন বই পড়ার পুকা ঢুকেছে।
সারাদিন বই পরি,সকাল সন্ধ্যা রাত!
এর, ওর থেকে বই ধার নিয়ে পড়ি!
একদিন Atiqul মামা ঘোষণা দিল আমরা একটা লাইব্রেরী দিব , ঘোষণা মুতাবেক লাইব্রেরিটা জুয়েল ভাইদের বাসার একটা রুমের কর্নারে শুরু হলো!
Abdullah Al Mahbub, Mohammad Ali Shohel Entarprise, DrAbu Torab Md Saifullah, Shahadat Hossain Nixon, Zahid Sumon, Saidul Haq Sayed ছিলেন একেবারে শুরু থেকে।
“ #সপ্তর্ষি_সাহিত্য_পাঠাগার”
২০০৮ এর ফেব্রুয়ারীর কোন এক সন্ধ্যায় Piash ভাই Razon আর আমাকে ইংরেজি গ্রামার বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন; হটাৎ ঐ কর্নারে রাখা বইগুলোর দিকে চোখ যেতেই - আমার মনস্থির করলাম লাইব্রেরীটাকে আরো বড় করবো।
ঐ সন্ধ্যায়ই চলে গেলাম রাজনের ক্লাসমেট, আমার বন্ধু মনজিল দের বাসায়। ( ২০১৫ সালে মনজিল আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গিয়েছে)
এরপর চলতে থাকলো একের পর এক মিটিং!!
প্রায় প্রতিদিন স্কুল থেকে এসেই সন্ধ্যা নাগাত সময় দিতাম।
স্যারেরা এগিয়ে আসলেন আমাদের পাশে
Habib Talukder স্যার, সাখায়াত স্যার, জুয়েল স্যার , রায়হান স্যার,মুতাহের স্যার, খায়ের স্যার এর সহযোগিতায় আমরা সপ্তর্ষি পাঠাগার টা ওয়াপদা মোড়ে নিয়ে আসি, রেলওয়ে মসজিদের পাশে।
সোবহান আংকেল খুবি সামান্য ভাড়ায় একটা রুম দিলেন আমাদের।
মাসুম ভাই ( সোবহান আংকেলের ছেলে) প্রায়ই এসে আমাদের খোঁজ খবর নিয়ে যেতেন।
স্যারেদের মতামতের ভিত্তিতে নাম থেকে 'সাহিত্য' কথাটা বাদ দেয়া হলো।
সারোয়ার হোসাইন ভাই আমাদের নতুন লোগোটা ডিজাইন করে দিলেন।
আমরা সবার বাড়ী বাড়ী গিয়ে বই নিয়ে আসতাম!
আশেপাশের সবাই “সপ্তর্ষি পাঠাগার” - এর কথা জানলো,সবাই এগিয়ে আসলো তাদের পুরনো বই দিয়ে সাহায্য করে।
Amatun Noor আপা আমাদের প্রায় ৫০০ এর অধিক বই দিয়েছিলেন! উনার বাবার ব্যাক্তিগত লাইব্রেরী থেকে।
ভালই চলছিল আমাদের পাঠাগার , একটা লোহার বুকসেল্ফ বানানো হল।
গ্রীষ্মের কোন এক সন্ধ্যায় আমরা খিচুড়ির দাওয়ার দিলাম স্যারদের!
ঐ অতিষ্ঠ গরমে খিচুড়ি খেতে খেতে Jewel স্যার আমাদের বললেন উনার রুম থেকে একটা ফ্যান নিয়ে এসে লাগাতে!!
সব কিছুই ঠিক ঠাক ভাবেই চলছিল।
হটাৎ করেই সবাই ব্যাস্ত হয়ে গেলাম।
আমরা আমদের পাঠাগার টা কে সময় দিতে পারছিলাম না ।
Mitul ভাই কোচিং এ Tariq মামা চাকরি নিয়ে, পিয়াশ ভাই রাজনীতি নিয়ে! Saifullah Dip ভাই Mhm Mubassir ভাই Ashikur Rahman ভাই ব্যাস্ত পড়াশোনা নিয়ে
২০১২ তে আমি ঢাকায় চলে গেলাম।
ঠিক তখনই জোনায়েদ ভাই এবং Shahnewaz Kabir Real ভাই হাল ধরলেন লাইব্রেরীর। ঐভাবেই চললো বেশ কিছুদিন।
২০১৩ এর দিকে লাইব্রেরীর দায়িত্বে আসলো জুনিয়রেরা! Hasibur Rahman Monim আমাদের পাঠাগারের বইপোকা! দায়িত্ব নিলো।
২০১৪ তে দায়িত্বে আসলো মনিমের জুনিয়র বায়েজিদ, Mutakabbirul Islam Pranto, Ziqrul Hossain Toton, সাকিব, মাহমুদুল, লাভলু সহ আরো অনেকেই
আমাদের নিজ হাতে গড়া পাঠাগার।