07/03/2020
#করোনা (COVID-19) ভাইরাস- কিছু বিভ্রান্তি ও সতর্কতা।
#প্লীজ, কভিড-১৯ নিয়ে প্যানিক হবেন না।
#করোন (COVID-19) ভাইরাস কোথা থেকে এলো, কেন এলো, কিভাবে এলো এসব প্রশ্ন এখন অপ্রাসঙ্গিক।
**এই মূহুর্তে আমাদের আলোচনা করা প্রয়োজন কিছু বিভ্রান্তি ও দরকারি সতর্কতা নিয়ে।
★করোনা ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়?
#সর্বশেষ WHO এর আপডেট অনুযায়ী করোনা তথা COVID-19 ভাইরাসটিকে মারাত্মক ভয়াবহ বলা যাচ্ছে না। এই ভাইরাসটা প্রথমে প্রাণী থেকে ছড়ালেও এখন এটি ছড়াচ্ছে মানুষ থেকে মানুষে। এজন্য সে বেছে নিচ্ছে মানুষের রেসপিরেটরি সিস্টেমকে। আক্রান্ত ব্যাক্তির ড্রপলেট (থু থু, কফ, হাঁচি) থেকে এই ভাইরাস সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে নাক ও মুখ দিয়ে। দরুন আক্রন্ত ব্যাক্তির ড্রপলেট কোন সারফেসে পড়ল এবং আমাদের হাত যদি কোনভাবে সেই সারফেসের সংস্পর্শে যায় এবং সে হাত দিয়ে আমরা আমাদের নাক মুখ স্পর্শ করি তবে ভাইরাসটি আমাদের রেসপিরেটরি সিস্টেমে ঢুকে যাবে এবং লক্ষ্মণ হিসেবে দেখা দিবে সর্দি-জ্বর। এবং ভাইরাস প্রথমেই আক্রান্ত করবে আমাদের ফুসফুসকে এরপর সে আক্রান্ত করবে ফুসফুসের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত তিনটা বড় অর্গান হার্ট, লিভার ও কিডনি। বাতাসের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ানোর চান্স খুবই কম, আই রিপিট খুবই কম। তবে আক্রান্ত ব্যাক্তি থেকে মিনিমাম তিন ফীট দূরে থাকার কথা বলা হয়েছে WHO থেকে।
★ সতর্ক থাকার উপায় কি?
#একটু সচেতন হলেই আপনি আমি এই ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে পারি। অবশ্যই আমরা যেখানে সেখানে কফ থু-থু ফেলব না, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হ্যান্ড ওয়াশ ব্যবহার করব।
ময়লা টকা-পয়সা ধরার পর কিংবা লোকাল বাসে চলাচলের পরে অবশ্যই হ্যান্ড সেনিটেইজার ব্যাবহার করব। মনে রাখতে হবে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রধান মাধ্যম হতে পারে আমাদের 'হাত'।
***কিছু বিভ্রান্তি ও প্রশ্নের জবাব পরিস্কার করা প্রয়োজন।
★ করোনা (COVID-19) কতটা ভয়াবহ?
#কিছু সমীক্ষা দিলেই পরিস্কার হয়ে যাবে করোনার ভয়াবহতা কতটুকু। WHO এর তথ্যমতে এই পর্যন্ত সারাবিশ্বে কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছে লক্ষাধিক মানুষ কিন্তু আশার কথা এদের মধ্যে ৬০ হাজারের বেশী মানুষ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে তরুন-যুবকদের (১৮-৩৫ বছর) সংখ্যা একেবারে শুন্যের কোঠায়, শিশুদের আক্রান্ত হবার সংখ্যা সব মিলিয়ে ৫০০-৬০০ জন রেকর্ড করা হয়েছে। এদের মধ্যে মৃতের সংখ্যা প্রায় শূন্য। যেখানে ইবোলাতে মৃতের হার ছিল ৫০%, মার্সে ছিল ৩০%, সার্সে ছিল ১০% সেখানে কভিড-১৯ এ মৃত্যুর হার মাত্র ৩.৪%।
কভ-১৯ আক্রান্ত মানুষগুলোর প্রিভিয়াস হিস্ট্রি চেক করে বেশিরভাগই দেখা গেছে তার আগে থেকেই হার্ট, লিভার, কিডনি কিংবা এজমা সমস্যায় ভুগতেছিলেন। তাই নিজেকে সুস্থ রাখা, প্রচুর পানি খাওয়া, বাইরে কাঁচা ও আন-হাইইজেনিক খাবার না খাওয়া, যেখানে সেখানে থু-থু না ফেলে ও হাত পরিস্কার রেখে আমরা কভিড-১৯ এর ভয়াবহতাকে নিজেরাই শুন্যের কাছাকাছি নামিয়ে ফেলতে পারি।
★ কভ-১৯ কি তাপমাত্রা সেন্সটিভ?
#কভিড-১৯ অবশ্যই তাপ সেন্সিটিভ। তবে ৭০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এটা মারা৷ যায়। এত তাপমাত্রায় ত মানুষই মারা যাবে। তবে আশার কথা হচ্ছে এই ভাইরাস সাধারণত ২৩-২৫ এর উপড়ের তাপমাত্রায় ছড়াতে পারে না।
তাহলে ইরানে কিভাবে ছড়ালো? গুগল করে দেখুন ইরানে এখন তাপমাত্রা ৭-৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস, সৌদি আরবে ১৭ ও চীনে ১০ এর নিচে।
ভারত সরকার ত জরুরি ব্যবস্থা নিচ্ছে!!
ভাইরে ভাই, সব জায়গায় কই? শুধু ঠান্ডা অঞ্চল যেমন সিকিম, হিমাচল ও দারজেলিংয়ে সতর্কতা ঝাড়ী ও টুরিজম বন্ধ রেখেছে।
★ বাংলাদেশ কতটা নিরাপদ?
#যুক্তরাষ্ট্র যতটা বলছে বাংলাদেশ আসলেই ততটা রিস্কে নেই। কেন নেই? বাংলাদেশে এখন গরম পড়তে শুরু করেছে। তাপমাত্রা ৩০ এর উপরে প্রায়। সেক্ষেত্রে আমরা নিজেদের ও আশেপাশের পরিবেশকে একটু পরিস্কার পরিচ্ছন রাখলেই বাংলাদেশকে নিরাপদ রাখা সম্ভব। বাইরে থেকে আসা আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে ভাইরাসটা ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ থাকলেও আমাদের আবহাওয়া, আদ্রতা ও তাপমাত্রা আমাদেরকে বাড়ির সুরক্ষা দিবে। 🙂
This may vary under different conditions (e.g. type of surface, temperature or humidity of the environment).
★ মাস্ক ব্যাবহার কি বাধ্যতামূলক?
#মাস্ক ব্যবহার কিন্তু আপনাকে আমাকে কভিড-১৯ থেকে সুরক্ষা দিবে না তেমন একটা। তবে মুখে মাস্ক থাকলে আপনারা আক্রান্ত হাত দিয়ে নাকে মুখে স্পর্শ করবেন না এতে করে আপনার রেসপিরেটরি সিস্টেমে কভিড-১৯ ঢুকতে পারবে না।
★ কভিড-১৯ কি মহামারী?
#মহামারী কিভাবে হয়? কোনটা কে মহামারী বলে? সাধারণ ভাইরাল জ্বরেও ত সারাবছরে হাজার মানুষের মৃত্যুর রেকর্ড আছে WHO এর ওয়েবসাইটে। সারাবিশ্বে তার চেয়ে বহুগুণ বেশী মানুষ মারা যায় মশকীবাহী রোগে (ডেংগু, ম্যালেরিয়া, ফাইল্যারিয়া)।
★ বাংলাদেশে কি এসেছে কভিড-১৯?
#আসতেও পারে আবার নাও আসতে পারে। কারও শরীরে কভিড-১৯ এটাক করলে সেটা প্রকাশ পেতে পেতে ১-১৪ দিন লাগে তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৫ দিনেই হয়ে যায়। তবে এর আগেই কারও সর্দি- জ্বর সেড়ে গেলে সেটা সাধারণ ভাইরাল ফিভার হিসেবেই বিবেচ্য৷ তাই অনেকে বলছে বাংলাদেশে কভিড-১৯ চলে এসেছে কিন্তু ১৭ মার্চের আগে সরকার ইচ্ছে করে ধামাচাপা দিয়ে রাখবে আবার আরেকদল বলছে এটা গজব তাই বাংলাদেশে আসবে না। আমি বলি এসব একদমই বানোয়াট ও মনগড়া কথাবার্তা।
#সবশেষে বলব করোনা বাংলাদেশের জন্য অতটা ভয়াবহ হবে না যতটা ভয়াবহ ডেংগু হয়েছিল।
সামনে ডেংগুর সিজন আসতেছে তাই কভিড-১৯ নিয়ে এত এত প্যানিক না নিয়ে নিজেকে ও নিজের আশপাশটাকে নিজ দায়িত্বে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখি তবে আমরা একসাথে করোন ও ডেংগুকে সফলতার সাথে মোকাবেলা করতে পারব।
@সংগ্রহীত