09/08/2025
১.
ইত্যাদির যে থিম সংটা— আমরা ছেলেবেলায় ভাবতাম ‘পিউ-পিউ অবিরাম চুপি-চুপি’, আবার কখনও ভাবতাম ‘কিউ-কিউ অবিরাম চুপি-চুপি’— ওটা আসলে ‘কেউ-কেউ অবিরাম চুপি-চুপি, চেহারাটা পালটে সাজে বহুরূপী’। লিখেছেন লুৎফর রহমান রিটন।
২.
‘লীলাবালি, লীলাবালি’র পরে অনেকেই গেয়ে থাকে ‘বড়/ভরা যুবতী সই গো’ কিংবা ‘বর ও যুবতী সই গো’। কিন্তু এখানে কোনো বড় সাইজের যুবতীর সম্পৃক্ততা নেই, এমনকি ‘যুবতী’ শব্দেরই অস্তিত্ব নেই এখানে। প্রকৃতপক্ষে বাক্যটি হলো— ‘লীলাবালি, লীলাবালি, বর অযুবাতি, সই গো; বর অযুবাতি, সই গো; কী দিয়া সাজাইমু তোরে’। ‘বর অযুবাতি’ মানে বর এসে গেছে। গানটা লিখেছেন রাধারমণ দত্ত।
৩.
‘বকুল ফুল, বকুল ফুল, সোনা দিয়া হাত ক্যানে বান্ধাইলি’ বলে অনেকেই বকুল ফুলকে প্রশ্নের সম্মুখীন করে থাকে। বকুল ফুলের জন্য এই প্রশ্ন হয়রানিমূলক। বাক্যটা আসলে এ-রকম— ‘বকুল ফুল, বকুল ফুল, সোনা দিয়া হাত-কান(ও) বান্ধাইলি’।
৪.
‘শুয়াচান পাখি, আমার শুয়াচান পাখি; আমি ডাকিতাছি, তুমি ঘুমাইছ নাকি’— এই গান গাওয়া বা শোনার সময়ে অনেকেই ভেবে থাকে বাস্তবে বা গীতিকারের কল্পনায় ‘শুয়াচান’ নামে কোনো পাখির অস্তিত্ব আছে। আসলে ব্যাপারটা ‘শোয়া চানপাখি’, অর্থাৎ যে-চানপাখি শুয়ে আছে। ময়মনসিংহের বাউল উকিল মুনশি (১৮৮৫-১৯৭৮) ঘরে অসুস্থ স্ত্রী রেখে দূরের গ্রামে গান গাইতে গিয়েছিলেন (উকিল মুনশির প্রকৃত নাম আবদুল হক আকন্দ)। অনুষ্ঠান চলাকালে খবর এল ওঁর স্ত্রী মারা গেছেন ৷ দূরের পথ, ফিরতে-ফিরতে কয়েকদিন লাগল ৷ ততদিনে কবর দেওয়া হয়ে গেছে৷ উকিল মুনশি বাড়ি ফিরে কবরের সামনে বসে পড়লেন এবং রচনা করে ফেললেন— ‘শোয়া চানপাখি, আমার শোয়া চানপাখি; আমি ডাকিতাছি, তুমি ঘুমাইছ নাকি’।
অনলাইন থেকে নেয়া