26/08/2026
#সিরাতুন্নবী
১২ই রবিউল আউয়ালকে হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম এবং ওফাত দিবস হিসেবে ধরা হয়৷ তবে কোনো কোনো রেওয়ায়াত অনুসারে জন্মের ব্যাপারে এই দিনটি সিদ্ধ কি না তা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে৷অনেকের মতে ৯ই রবিউল আ়উয়ালে উনার জন্ম হয়েছিলো৷জন্ম,কিংবা ওফাতের চেয়েও গুরুত্বপুর্ণ বিষয়, নবীর জীবনের প্রতিফলন নিজেদের জীবনে প্রতিফলিত করা৷সেক্ষেত্রে, নবীর সিরাত নিয়ে আলোচনার কোনো বিকল্প নেই —
★ কুরাইশ বংশের মর্যাদা ও জমজম কূপ পুনঃখনন: মহানবীর পিতামহ আব্দুল মুত্তালিব স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে বিলুপ্ত জমজম কূপ পুনঃখনন করেন। এর মাধ্যমে কুরাইশ বংশের নেতৃত্ব ও মর্যাদা আরবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
★ পিতার ওফাত: মা আমেনার সহিত বিবাহের অল্প কিছুদিন পর বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে সিরিয়া গিয়ে ফেরার পথে মাত্র ২৫ বছর বয়সে ইয়াসরিবে (মদিনা) মহানবীর পিতা আব্দুল্লাহ ইন্তেকাল করেন। তখন মহানবী মা আমেনার গর্ভে ছিলেন।
★ হস্তী বাহিনীর ঘটনা: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মের মাত্র দুই মাস পূর্বে ইয়ামানের শাসক আবরাহা কাবা ঘর ধ্বংসের উদ্দেশ্যে হস্তী বাহিনী নিয়ে মক্কা আক্রমণ করে। মহান আল্লাহর কুদরতে অলৌকিক পাখি (আবাবিল)-র ছোঁড়া পাথরে আবরাহার সম্পূর্ণ বাহিনী ধ্বংস হয়ে যায়। এই বছরকে আরবে 'আমুল ফিল' (হস্তী বর্ষ) বলা হয়।
★ জন্মকালীন ঘটনাবলি ও অলৌকিক নিদর্শন
রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ (কারো মতে ৯ই রবিউল আউয়াল) সোমবার সুবহে সাদেকের সময় মক্কার বনু হাশিম গোত্রে মহানবী (সা.) জন্মগ্রহণ করেন।
★ পিতামহের নামকরণ: জন্মের পর পিতামহ আব্দুল মুত্তালিব কাবার চত্বরে নিয়ে গিয়ে আকিকা করেন এবং তাঁর নাম রাখেন 'মুহাম্মদ' (প্রশংসিত) এবং মা আমেনা নাম রাখেন 'আহমদ'।
★ অলৌকিক আলামতসমূহ:
মা আমেনা অনুভব করেন যে, গর্ভকালীন বা প্রসবকালীন সময়ে তিনি কোনো কষ্ট পাননি এবং তাঁর দেহ থেকে একটি নূর (আলো) বের হয়ে সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ আলোকিত করে তোলে।
মহানবীর জন্মের সাথে সাথে পারস্যের (ইরান) রাজপ্রাসাদের ১৪টি চূড়া ভেঙে পড়ে।পারস্যের হাজার বছর ধরে জ্বলতে থাকা অগ্নিপূজকদের অগ্নিকুণ্ড হঠাৎ নিভে যায়।‘সাওয়া’ নামক হ্রদের পানি শুকিয়ে যায়।
★ জন্ম-পরবর্তী উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি
দাই হালিমা ও শৈশব: তৎকালীন আরব রীতি অনুযায়ী শিশু মুহাম্মদ (সা.)-কে মরুভূমির শুদ্ধ ভাষা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে লালন-পালনের জন্য বনু সা'দ গোত্রের ধাত্রী হালিমা সাদিয়ার কাছে সোপর্দ করা হয়। হালিমার ঘরে যাওয়ার পর তাঁর সংসারে অপার বরকত নেমে আসে।
★ বক্ষবিদারণ (শাক্কুস সাদর): চার বছর বয়সে হযরত জিবরাইল (আ.) এসে শিশু মুহাম্মদের বক্ষ বিদারণ করে তাঁর হৃদয় ধৌত করেন এবং শয়তানের প্ররোচনার অংশ দূর করে দিয়ে পুনরায় জোড়া লাগিয়ে দেন।
★ মাতার ওফাত: ছয় বছর বয়সে মা আমেনা তাঁকে নিয়ে ইয়াসরিবে (মদিনা) স্বামীর কবর জিয়ারত শেষে মক্কায় ফেরার পথে 'আবওয়া' নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন।
★ পিতামহের লালন-পালন ও ওফাত: মাতৃহীন বালক মুহাম্মদ (সা.)-এর দায়িত্ব নেন পিতামহ আব্দুল মুত্তালিব। তবে তাঁর আট বছর বয়সে পিতামহও ইন্তেকাল করেন।
★ চাচা আবু তালিবের আশ্রয় ও বহিরা সফর: পিতামহের ওফাতের পর চাচা আবু তালিব তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব নেন। ১২ বছর বয়সে চাচার সাথে বাণিজ্য উপলক্ষে সিরিয়া যাওয়ার পথে 'বুহাইরা' নামক এক খ্রিস্টান পাদ্রি তাঁর মাঝে শেষ নবীর সমস্ত লক্ষণ দেখে তাঁকে চিনে ফেলেন এবং মক্কায় ফিরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন।
এই ধারাবাহিক ঘটনাবলি ও অলৌকিক নিদর্শনের মধ্য দিয়েই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুয়তের পূর্ববর্তী শৈশব ও কৌশোর অতিক্রম করেন।