27/01/2026
আলহামদুলিল্লাহ! ফেব্রুয়ারীর ৬ তারিখ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে সবার জন্য ধারাবাহিক অনলাইন কুরআন শিক্ষা কোর্স — “কুরআন লার্নিং”
যারা কুরআন সহীহ ও শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ সুযোগ।
কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও আপডেট পেতে
জয়েন করুন আমাদের whatsapp Group
https://chat.whatsapp.com/KbfjVqMfESM715n5URSqGj
তত্ত্বাবধানে: হাফেয মাওলানা মোঃ হাবিবুল্লাহ
25/12/2025
মদ্দের হরফের উপরে মোটা চিহ্ন বামে হামযা মদ্দে মুত্তাসিল।ডান দিকের হরকত কে ৪ আলিফ টানিয়া পড়িতে হয়
যেমন: جَاءَ
السَّمَاءُ
سُوءُ
24/12/2025
মদ্দে মুনফাস্সিল (مدّ منفصل)
সংজ্ঞা: মদের হরফের উপরের চিহ্ন চিকন বামে হামযাহ,মদ্দে মনফাস্সিল।ডান দিকের হরকত কে ৩ আলিফ টানিয়া পড়িতে হয়।
যেমন:
بِمَاۚ أُنزِلَ
فِيۚ أَنفُسِكُمْ
إِنَّاۚ أَعْطَيْنَاكَ
22/12/2025
মদ্দে আরিযি...
এটাই আসল জায়গা যেখানে ৩ আলিফ আসে।
সংজ্ঞা
যখন কোনো শব্দের শেষে মদ্দের হরফ থাকে এবং ওয়াকফ (থামা) করার কারণে শেষ হরফে আরিযি সুকূন আসে—তখন তাকে মদ্দে আরিয বলে।
মানে ৩ আলিফ টানিয়া পড়িতে হয়।
উদাহরণ
الْعَالَمِينۡ
نَسۡتَعِينۡ
نُورِهِۡ
18/12/2025
মদ্দে লীন কাকে বলে
যখন ওয়াও সাকিন বা ইয়া সাকিন থাকে
এবং তার আগে যবর থাকে,
তখন তাকে মদ্দে লীন বলে।
এখানে উচ্চারণে শক্ত টান নয়,
বরং নরমভাব সৃষ্টি হয়।
এই নরমভাবকেই লীন বলা হয়।
---
মদ্দে লীন কখন টান হয়
মদ্দে লীন সাধারণত
ওয়াকফের সময় টান হয়।
ওয়াসলে পড়লে
টান করা হয় না।
ওয়াকফ করলে
নরমভাবে
১ আলিফ পরিমাণ টান দেওয়া যায়।
---
মদ্দে লীন হওয়ার শর্ত
ওয়াও বা ইয়া সাকিন হতে হবে
তার আগে যবর থাকতে হবে
শব্দের শেষে ওয়াকফ হতে হবে
---
উদাহরণ:
خَوۡف
بَيۡت
قَوۡم
شَيۡء
এখানে
خَوۡف এবং قَوۡم এ ওয়াও সাকিন,
بَيۡت এবং شَيۡء এ ইয়া সাকিন,
এবং সবার আগেই যবর আছে—
তাই এগুলো মদ্দে লীন।
ওয়াকফ করলে
নরমভাবে
১ আলিফ টানিয়া পড়া যায়।
17/12/2025
মদ্দে বদল কাকে বলে
যখন হামজার পরে মদের হরফ (আলিফ, ওয়াও, ইয়া) আসে,
তখন সেই মদ্দকে মদ্দে বদল বলে।
এখানে টান হয় ১ আলিফ পরিমাণ।
অর্থাৎ আগে হামজা, পরে মদের হরফ—
এই ক্রম থাকলেই মদ্দে বদল হবে।
উদাহরণ
آمَنُوا
إِيمَانٌ
أُوتُوا
উপরের প্রতিটি উদাহরণে
হামজার পরে মদের হরফ এসেছে,
তাই এগুলো মদ্দে বদল,
এবং ১ আলিফ টানিয়া পড়তে হয়।
16/12/2025
মদ অর্থ লম্বা করিয়া পড়া, বা টানিয়া পড়া।
মদের হরফ ৩ টি,
আলিফ ওয়াও, ইয়া।
যবরের বাম পাশে খালি আলিফ।
পেশের বামপাশে জযমযুক্ত ওয়াও।
যের এর বাম পাশে জযমওয়ালা ইয়া।
মদের হরফ হইলে তাহার ডান দিকের হরকত কে ১ আলিফ টানিয়া পড়িতে হয়।
উদাহরণ
যবর + খালি আলিফ
قَالَ
بَابَ
পেশ + জযমযুক্ত ওয়াও
يَقُوۡلُ
نُوۡرٌ
যের + জযমওয়ালা ইয়া
فِيۡ
এখানে প্রত্যেক জায়গায়
মদের হরফ হওয়ার কারণে
ডান দিকের হরকতকে
১ আলিফ টানিয়া পড়িতে হয়।
15/12/2025
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
আজ আমরা মাদ্দ শিখবো।
মাদ্দ মানে টান।
কোরআন পড়ার সময় কোথায় টান দিতে হবে
আর সেই টান কতটুকু হবে
এই বিষয়টা আজ পরিষ্কার করবো।
অনেকে খুব সুন্দর করে হরফ পড়েন,
কিন্তু মাদ্দ ঠিক না হওয়ায়
পড়া ঠিকভাবে দাঁড়ায় না।
এজন্য মাদ্দ বোঝা খুব জরুরি।
---
মাদ্দ কাকে বলে
যেখানে কোনো হরফকে
স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে
একটু লম্বা করে পড়তে হয়,
তাকে মাদ্দ বলে।
সব জায়গায় টান নেই,
আবার যেখানে টান আছে
সেখানে না দিলে পড়া অসম্পূর্ণ হয়।
---
মাদ্দের হরফ কয়টি
মাদ্দের হরফ তিনটি—
ا
و
ي
এই তিনটি হরফ
নিজেরা উচ্চারণ দেয় না,
বরং আগের হরফের ধ্বনিকে টেনে দেয়।
---
কখন স্বাভাবিক মাদ্দ হয়
যবরের পরে আলিফ এলে
যেরের পরে ইয়া সাকিন এলে
পেশের পরে ওয়াও সাকিন এলে
স্বাভাবিক মাদ্দ হয়।
এটাকে স্বাভাবিক মাদ্দ বলা হয়।
---
কতটুকু টান দিতে হয়
স্বাভাবিক মাদ্দে
ঠিক ১ আলিফ টান দিতে হয়।
না কম,
না বেশি।
---
উদাহরণ (সাকিনসহ)
قَالَ
এখানে আলিফ সাকিন অবস্থায় আছে
তাই ১ আলিফ টান হবে।
فِيۡ
এখানে ইয়া সাকিন আছে
আগে যের থাকায় টান হয়েছে।
يَقُوۡلُ
এখানে ওয়াও সাকিন আছে
আগে পেশ থাকায় টান হয়েছে।
এই তিনটিই স্বাভাবিক মাদ্দ।
আজকের অনুশীলন (আরবি)
قَالَ
فِيۡ
يَقُوۡلُ
ধীরে ধীরে পড়ুন।
প্রতিটি জায়গায়
ঠিক ১ আলিফ সময় নিয়ে টান দিন।
14/12/2025
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
আজ আমরা শিখবো মীম সাকিন।
কোরআন পড়ার সময় এটা খুব বেশি আসে,
কিন্তু অনেকেই বুঝে না কেন কোথায় কীভাবে পড়তে হয়।
মীম সাকিন কী
যে মীমের ওপর কোনো হরকত নেই
এবং মীম স্থির অবস্থায় থাকে
সেটাই মীম সাকিন।
মীম সাকিন পড়ার নিয়ম নির্ভর করে
এর পরের হরফটার ওপর।
---
মীম সাকিনের নিয়ম মোট তিনটি
এক. ইখফা শাফাওয়ি
মীম সাকিনের পরে
যদি বা আসে
তাহলে মীমকে পুরোপুরি প্রকাশ করা হয় না,
আবার একেবারে লুকিয়েও রাখা হয় না।
হালকা গুন্নাহ রেখে
ঠোঁট একটু কাছে এনে পড়তে হয়।
উদাহরণ
تَرْمِيهِمْ بِحِجَارَةٍ
هُمْ بِهِ
---
দুই. ইদগাম শাফাওয়ি
মীম সাকিনের পরে
আরেকটি মীম এলে
দুটো মীম একসাথে মিশে যায়।
এখানে গুন্নাহ থাকবে
এবং পড়া হবে টান দিয়ে।
উদাহরণ
لَهُمْ مَّغْفِرَةٌ
كَمْ مِّن
---
তিন. ইযহার শাফাওয়ি
মীম সাকিনের পরে
বা এবং মীম ছাড়া
অন্য যেকোনো হরফ এলে
মীমকে একদম পরিষ্কারভাবে পড়তে হয়।
এখানে কোনো গুন্নাহ নেই।
উদাহরণ
هُمْ فِيهَا
عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ
أَمْ لَهُمْ
---
আজকের অনুশীলন
এই তিনটি ধীরে ধীরে পড়ুন
এবং খেয়াল করুন
মীমের পরে কোন হরফ এসেছে।
تَرْمِيهِمْ بِحِجَارَةٍ
لَهُمْ مَّغْفِرَةٌ
هُمْ فِيهَا
একবারে তাড়াহুড়া করবেন না।
ধীরে পড়ুন, ঠোঁটের নড়াচড়া লক্ষ্য করুন।
এভাবেই মীম সাকিন পরিষ্কার হবে।
06/12/2025
ইক্বলাব
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
إقلاب কাকে বলে
নুন সাকিন বা তানভীনের পরে
ব অক্ষর এলে
নুনের ধ্বনি গোপন হয়ে
মীমের কোমল সুরে পরিবর্তিত হয়।
এই পরিবর্তনকেই বলা হয়
ইকলাব।
এতে নরম গুন্নাহ থাকে
এবং ঠোঁট সামান্য মিলিয়ে পড়তে হয়।
---
إقلابের হরফ
إقلاب হয়
হারফুন ওয়াহিদ
অর্থাৎ একটি হরফে
আর সেই হরফ হলো
ب
---
إقلابের নিয়ম
নুনের সুর লুকাবে
মীমের সুর প্রকাশ পাবে
নরম গুন্নাহ থাকবে
উচ্চারণ কোমল হবে
---
📌 إقلاب — উদাহরণ (এক লাইনে, আরবি)
مِنْ بَعْدِ مِمْ بَعْدِ
أَنْبِئْهُمْ أَمْبِئْهُمْ
يُنْبِتُ يُمْبِتُ
سَمِيعٌ بَصِيرٌ سَمِيعٌ م بَصِيرٌ
أَنْبَتَكُمْ أَمْبَتَكُمْ
সব জায়গায় নুন মীমের নরম সুরে পরিণত হয়ে পড়বে।
---
আজকের অনুশীলন (আরবি)
مِنْ بَعْدِ
يُنْبِتُ
أَنْبِئْهُمْ
ধীরে পড়ুন
নুনকে মীমের মতো করে নরম গুন্নাহ দিন
এবং ঠোঁট হালকা মিলিয়ে উচ্চারণ করুন।
---
02/12/2025
ইখফা (نۡ এর গোপন উচ্চারণ)
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
ইখফা কাকে বলে
নুন সাকিন (نۡ) বা তানভীন
যখন পরের হরফের সাথে আধা লুকানো অবস্থায়
গুন্নাহসহ পড়তে হয়—
তাকে ইখফা বলে।
নুন পুরো স্পষ্ট নয়,
আবার পুরো লুকিয়েও যায় না—
মাঝামাঝি নরম গুন্নাহ।
---
ইখফার হরফ কয়টি এবং কি কি?
ইখফার ১৫টি হরফ:
ت، ث، ج، د، ذ، ز، س، ش، ص، ض، ط، ظ، ف، ق، ك
নুন সাকিন বা তানউইনের পরে
এগুলোর যেকোনোটি এলে ইখফা হবে।
---
ইখফার মূল নিয়ম
نۡ — না স্পষ্ট, না সম্পূর্ণ মিলানো
হালকা গুন্নাহসহ
পরের হরফের দিকে মুখ ঘুরিয়ে পড়তে হয়।
---
مِنۡ تَحْتِهَا → مِــنۡ تَحْتِهَا
নুন আধা লুকানো, নরম গুন্নাহ।
(তানভীনর ইখফা)
مِنۡ قَبْلُ → مِــنۡ قَبْلُ
إِنَّ رَبَّهُمْ بِهِمْ يَوْمَئِذٍ لَخَبِيرٌ
এখানে: إِنَّ رَبَّهُمْ এর নুন নেই—
তবে يَوْمَئِذٍ لَخَبِيرٌ–এ ইখফা আছে।
مِنۡ شَرٍّ → মِــنۡ شَرٍّ
(সব نۡ–এ উঁচু সাকিন, এবং নরম গুন্নাহ থাকবে)
---
আজকের অনুশীলন
ধীরে পড়ুন—
مِنۡ تَحْتِهَا
مِنۡ قَبْلُ
مِنۡ شَرٍّ
নুন আধা লুকিয়ে নরম গুন্নাহসহ পড়ুন।
01/12/2025
ইদগাম বেলা গুন্নাহ
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
ইদগাম বেলা গুন্নাহ কাকে বলে
নুন সাকিন (نۡ) অথবা তানউইন
লাম (ل) বা রা (ر)–এর সাথে মিললে
গুন্নাহ ছাড়া মিশে পড়া—
এটাই ইদগাম বেলা গুন্নাহ।
নুনের ধ্বনি লুকানো হবে,
গুন্নাহ দেওয়া যাবে না,
পরের হরফে সরাসরি মিলবে।
---
ইদগাম বেলা গুন্নাহর হরফ
ل، ر
---
মূল নিয়ম
نۡ + ل → لّ
نۡ + ر → رّ
অর্থাৎ:
নুন সাকিন লুকিয়ে
লাম বা রা–তে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
---
📌 ইদগাম বেলা গুন্নাহ — উদাহরণ (উঁচু সাকিনসহ)
مِنۡ رَبِّهِ → مِرَّبِّهِ
مِنۡ لَدُنۡهُ → مِلَّدُنۡهُ
هُدًى لِلنَّاسِ → هُدًى لِلَّنَّاسِ
مِنۡ رَحْمَةٍ → مِرَّحْمَةٍ
مِنۡ لَيْلٍ → مِلَّيْلٍ
(সব نۡ–এ উঁচু সাকিন এবং পরের হরফে তাশদীদ যুক্ত করা হয়েছে)
---
আজকের অনুশীলন
ধীরে পড়ুন—
مِنۡ رَبِّهِ → مِرَّبِّهِ
مِنۡ لَدُنۡهُ → مِلَّدُنۡهُ
مِنۡ لَيْلٍ → مِلَّيْلٍ
গুন্নাহ ছাড়া, সরাসরি মিশে পড়ুন।
--