An-Nisa Academy, Mymensingh

An-Nisa Academy, Mymensingh

Share

স্কুল, কলেজে পড়ুয়া মেয়েদের দ্বীন শিক্?

15/10/2024

সুনান ইবন মাজাহ এর একটা হাদিসে পাওয়া যায়,

একবার আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে একজন মহিলা তার দুই মেয়েকে সাথে নিয়ে আসলেন। আম্মাজান আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা মহিলার হাতে তিনটি খেজুর দিলেন যাতে তারা তিনজন খেতে পারে।

তিনটি খেজুর থেকে মহিলা তার দুই মেয়ের হাতে দুইটি খেজুর দিলেন এবং একটা রাখলেন নিজে খাওয়ার জন্য।

মেয়েরা নিজেদের ভাগে পাওয়া খেজুর দুটো খেয়ে আবার খেজুর চাইলে, নিজের জন্য রাখা খেজুরটা দুই ভাগ করে মহিলা তার দুই মেয়ের মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেন।

এই ঘটনাটা আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বিস্মিত করে এবং নবিজী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে ফিরলে তাঁকে ঘটনাটা জানান।

ঘটনা শুনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘অবাক হচ্ছো কেন? এই কাজটার জন্য উক্ত মহিলা জান্নাতে প্রবেশ করবে’।

কতো ছোট ছোট কাজের বিনিময়েই যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বান্দাদের জান্নাত দিয়ে দেন! আল্লাহু আকবার!

একটা খেজুর নিজে না খেয়ে, নিজের আপন বাচ্চাদের মাঝে ভাগ করে দিয়েছে। শুধু এতোটুকুই। একজন মা তার নিজের সন্তানের প্রতি দয়া দেখিয়েছে। শুধু একটা ছোট্ট খেজুর নিজে না খেয়ে বাচ্চাদের খেয়ে দিয়েছে—এতোটুকুই।

তাহলে, যারা নিজের সবটুকু দিয়ে বাবা-মা’র সেবাযত্ন করে, যারা সর্বোচ্চটুকু দিয়ে ভাই-বোন আর আত্মীয়স্বজনের হক আদায় করে, যারা প্রতিবেশির হক আদায়ে সর্বোচ্চ সতর্ক, তাদের বিনিময়টা কতো বিশাল হবে?

বিপদে, আপদে, দূর্যোগ দূর্ভোগের সময়ে যারা মানুষকে সাহায্য করার জন্য ছুটে যায়, বন্ধুর বিপদে যারা সহযোগিতার হাত বাড়ায়, যারা মানুষের মাঝে দ্বন্ধ দূর সম্পর্ক জোড়া লাগায়, যারা ভালো কাজের উৎসাহ দেয় আর মন্দ কাজ হতে মানুষকে বিরত থাকার আহ্বান জানায় জীবনভর—তাদের বিনিময় কেমন হবে?

একটা ছোট্ট খেজুরের বিনিময়ে যেখানে জান্নাত পাওয়া যায়, দুনিয়ার কোন সে প্রতিবন্ধকতা যা আমাকে এই জান্নাত লাভ থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে?

💙

08/07/2024



হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহ. ইরশাদ করেন, প্রতিদিনের একটি নির্ধারিত সময়ে নির্জনে একাকী বসে একথা চিন্তা করবে যে, আমার শেষ সময় উপস্থিত। ফেরেশতা আমার জান কবয করার জন্য পৌঁছে গেছে এবং সে আমার জান কবয করে নিয়েছে। আমার আত্মীয়- স্বজন আমার গোসল ও কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করছে। শেষ পর্যন্ত তারা আমাকে গোসল দিয়ে কাফন পরিয়ে খাটে করে কবরস্থানে নিয়ে গেল। জানাযার নামায পড়ে আমাকে কবরে রেখে দিল। অতঃপর কবরকে মাটি দিয়ে বন্ধ করে দিল। আমার উপরে কয়েক মণ মাটি দিয়ে সেটাকে সযত্নে নিখুঁতভাবে বন্ধ করে দিয়ে সকলেই চলে গেল। এখন অন্ধকার কবরে আমি একা অবস্থান করছি। ইতিমধ্যে প্রশ্নোত্তরের জন্য ফেরেশতারা কবরে আগমন করলেন। তাঁরা আমাকে প্রশ্ন করতে শুরু করলেন।

অতঃপর আখেরাতের চিন্তা এভাবে করবে যে, আমাকে কবর থেকে পুনরায় উঠানো হলো। এখন হাশরের ময়দান কায়েম হচ্ছে। সকল মানুষ হাশরের ময়দানে একত্র হয়েছে। সেখানে মারাত্মক গরম। সকলের শরীর হতে ঘাম ঝরছে। সূর্য একেবারে নিকটে। সকলে মারাত্মক চিন্তিত। মানুষেরা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের খেদমতে হাযির হয়ে নিবেদন করছেন যে, আল্লাহ পাকের নিকট দরখাস্ত করুন যাতে হিসাব-কিতাব শুরু করা হয়। অতঃপর এভাবে হিসাব-কিতাব, পুলসিরাত, বেহেশত ও দোযখের কথা চিন্তা করবে। প্রতিদিন ফজর নামায আদায়ের পর কুরআন শরীফ তেলাওয়াত, মুনাজাতে মাকবুল পাঠ ও অন্যান্য যিকির-আযকার থেকে ফারেগ হয়ে একটু চিন্তা করবে যে, এ ঘটনাগুলো আমার জীবনে ঘটবে, এ (মৃত্যুর) সময় আমার জীবনে অবশ্যই আসবে। আর এটা আমার জানা নেই যে, এ সময় কখন এসে যাবে। এটাও আমার জানা নেই যে, আজই এসে যায় কি না। এই চিন্তা (মুরাকাবাহ) করার পর আল্লাহ পাকের নিকট এই বলে দুআ করবে যে, ইয়া আল্লাহ! আমি দুনিয়ার ব্যবসা-বাণিজ্য ও কাজ-কারবারের জন্য বের হচ্ছি, এমন কাজ যেন আমার দ্বারা না হয়, যা আমার জন্য আখেরাতে ধ্বংসের কারণ হয়। প্রতিদিন এভাবে চিন্তা (মুরাকাবাহ) করবে। একবার যখন অন্তরে মৃত্যুর চিন্তা ও আখেরাতের ধ্যান বসে যাবে, তখন ইনশাআল্লাহ আত্মশুদ্ধির ফিকির হবে।

বই : দুনিয়ার ওপারে, (পৃষ্ঠা ৪৪-৪৫)

02/04/2024

শেষ বিচার দিবসে প্রত্যেককে ৫০ হাজার বছর শুধু দুপায়ে দাড়িয়েই থাকতে হবে বিচার শুরুর অপেক্ষায়! সেই দাড়িয়ে থাকা এতোটাই কষ্টকর হবে যে, যারা জাহান্নামি তারা আবেদন করবে যেনো তাদেরকে জাহান্নামে ফেলে দেয়া হয় তবুও ওভাবে দাড়িয়ে থাকার কষ্ট অসহনীয়! অথচ জাহান্নামের শাস্তি আরো কঠোর!

রমাদান মাসে,
❝দিনের বেলা সিয়াম,
রাতের বেলা কিয়াম।❞

ফরজ সলাতের কিয়াম ছাড়াও আমরা যারা রমাদান মাসে বাড়তি কিয়াম করছি (সলাতে দাড়াচ্ছি), আমাদের এই সকল কিয়ামের বিনিময়ে আল্লাহ যেনো আমাদের শেষ বিচার দিবসের হাজার হাজার বছরের কিয়াম সহজ করে দেন, আরামদায়ক করে দেন!

03/01/2024

আমরা অনেকেই চাই, জীবনটাকে শুরু থেকে শুরু করতে। কিন্তু সেটা কি আদৌ সম্ভব? না, সম্ভব না।

কিন্তু আমাদের সামনে আমাদের সন্তানের জীবনটা শুরু হচ্ছে। এটা কিন্তু গুছিয়ে শুরু করা সম্ভব। নিজের জীবনের ভুলগুলো যেন সন্তানের জীবনে প্রতিফলিত না হয় সে চেষ্টা করা সম্ভব।

আমাদের পরিবর্তিত ও অগোছালো লাইফস্টাইল আমাদের সন্তানের জীবনে প্রভাব ফেলে। যদি চাই, তারা গুছালো জীবনযাপনের অভ্যস্ত হয়ে উঠুক, আগে নিজেকে অভ্যস্ত হতে হবে।

যদি চাই, আমার সন্তান তাহাজ্জুদের অভ্যস্ত হোক, ফজর কাজা না হোক - আমার উপর আবশ্যক আগে নিজেকে সে পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।

আমি যদি ঘরে/বাইরে কোথাও কথাবার্তায় লুকোচুরির আশ্রয় না নেই, আমার সন্তানও অকপট ও সৎ হবে। আমি কৌশল করলে আমার সন্তান আমার কাছেও লুকোচুরি করবে।

আমরা চাই বা না চাই, আমার দৈনন্দিন কথা থেকে সন্তান কথা শেখে; আমার আঙ্গুল নাড়ানো আর কথার ভঙ্গিমা সন্তান অজান্তেই অনুকরণ করে। কাজেই, আমি যদি অন্যকে সম্মান করি, অন্যের দুর্বলতাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখি; আমার সন্তানও রহমদিল আর বিনয়ী হবে।

মোটকথা, সন্তানকে গড়ার জন্য আগে নিজেকে গুছানো খুবই জরুরী।

যৌথ পরিবারগুলোতে এটা কঠিন, এরপরও চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে অনবরত। একেক সন্তানের ক্ষেত্রে একেক রকম পদ্ধতিতে। একেক বিষয়ে একেক উপায়ে।

একা নিজের সংসার হলেও কি খুব সহজ? না। সব সন্তানের অবস্থা এক রকম হয় না।
কঠিন তো আসলে দুনিয়ার সর্বত্রই, লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো আমি আপ্রাণ চেষ্টা করছি কি না! নাকি দায়সারা গোছের প্রচেষ্টার অযুহাত খুঁজে বেড়াচ্ছি?

এরপর যা হবে, তা খন্ডানোর উপায় তো আমাদের নেই। তবে সান্ত্বনা তো থাকবে, আমি চেষ্টা করেছিলাম!

Farheen Al Munadi

07/11/2023

একটি সত্য ঘটনা

প্রায় এক'শ বছর আগে ঘটনাটি ঘটে সৌদি আরবের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে। রেডিওতেও ঘটনাটি প্রচার করা হয়। ঘটনাটা ইব্‌ন জাদ‘আঁন নামক এক ব্যক্তির। তার ছিল অনেকগুলো মোটা-তাজা উট। এই উটগুলোর ওলান এতই পূর্ণ ছিল যে, দেখে মনে হতো ভারে ফেটে যাবে।

ইব্‌ন জাদ‘আঁন নিজের কথায় বর্ণনা করেন যে, আমার পাশেই দরিদ্র এক প্রতিবেশী ছিল। সেই প্রতিবেশীর ছিল সাতটি কন্যা সন্তান। আমি আমার উটের পালের একটা উটনি বাচ্চাসহ তাকে সাদাকাহ হিসেবে দিয়ে দেওয়ার জন্য মনস্থির করলাম। আমি তখন এই আয়াতটি আবৃত্তি করলাম যেখানে আল্লাহ বলেছেন,

لن تنالوا البر حتى تنفقوا مما تحبون

“যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের পছন্দের জিনিস থেকে ব্যয় করবে, ততক্ষণ তোমরা পুণ্য অর্জন করতে পারবে না।” [আলি ‘ইমরান, ৩:৯২]

আমার উটের পালের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় হচ্ছে উটনিগুলো। আমি আমার উটের পাল থেকে ভালো একটি উটনি তার বাচ্চাসহ নিয়ে গেলাম আমার প্রতিবেশীর কাছে। তাকে বললাম, “আমার পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে এটা গ্রহণ করুন।” এটা শুনে আনন্দে তার চোখ-মুখ যেন জ্বলজ্বল করে উঠল—কী বলবে ভাষা খুঁজে পাচ্ছিল না।

উটনির দুধ থেকে আমার প্রতিবেশী ভালোই উপকার পাচ্ছিল। সে ওটার পিঠে কাঠ বহন করাত। ওটার বাচ্চাটা বড় হওয়ার জন্য সে অপেক্ষা করতে লাগল, যাতে সেটা ভালো দামে বিক্রি করতে পারে। এভাবে অনেক কল্যাণই সে পেতে লাগল।

বসন্তের পরে শুষ্ক গ্রীষ্ম তার অনাবৃষ্টি নিয়ে হাজির হলো। পানি ও ঘাসের খোঁজে আমি বেরিয়ে পড়লাম। পানির জন্য আমি দুহূলের খোঁজ করতে লাগলাম। দুহূল হচ্ছে এমন এক গর্তের মুখ যেটা ভূগর্ভস্থ পানির সন্ধান দিতে পারে। এসব গর্তের মুখগুলো মাটির উপরেই থাকে। আমরা আরব বেদুইনরা এগুলো ভালোভাবেই চিনতে পারি।

পানি নিয়ে আসার জন্য আমি এ রকম এক গর্তের মধ্যে প্রবেশ করলাম...

ইন জাদ‘আঁনের তিন ছেলে গর্তের বাইরে অপেক্ষা করছিল। কিন্তু তাদের বাবা ফিরে আসছিল না। তারা একদিন, দুদিন, তিনদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করল। কিন্তু তখনো তার বাবার ফেরার কোনো নামগন্ধ নেই। আশাহত হয়ে পড়ল তারা। ভাবল তাদের বাবাকে হয়তো সাপে কেটেছে, কিংবা গর্তের ভেতরে হারিয়ে গেছে। তারা তার মৃত্যুর প্রহর গুনছিল। কেন? যাতে তারা ই জাদ‘আনের উত্তরাধিকার সম্পদের ভাগ-বাটোয়ারা করে নিতে পারে।

তারা বাড়ি ফিরে এল। নিজেদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা করে নিল। তাদের হঠাৎ মনে পড়ল, তাদের বাবা পাশের এক প্রতিবেশীকে একটা উটনি দান করেছিলেন। তারা সেই প্রতিবেশীর কাছে গিয়ে বলল, ভালোয় ভালোয় সে যেন সেই উটনি দিয়ে দেয় এবং এর পরিবর্তে অন্য একটা উটনি নেয়। না হলে তারা জোর করে সেই নিয়ে নেবে। তখন আর তার কাছে কিছুই থাকবে না ।

প্রতিবেশী তখন বলল, সে তাদের বাবাকে এই কথা জানাবে। ছেলেরা বলল, তাদের বাবা মারা গেছে। প্রতিবেশী জিজ্ঞেস করল কীভাবে এবং কোথায় ইবন জাদ' আঁন মারা গেছে। তাকে এখনো জানায়নি কেন। ছেলেরা তখন তাকে বলল যে, তাদের বাবা মরুভূমির একটা গর্তে প্রবেশ করেছিল পানি আনার জন্য; কিন্তু আর ফিরে আসেনি।

প্রতিবেশী বলল, “আল্লাহর কসম, তোমরা আমাকে সেই জায়গায় নিয়ে যাও, আর তোমাদের উটনিও নিয়ে নাও। এটা দিয়ে যা খুশি কর গে, আমি আর তোমাদের উটনি চাই না।”

ছেলেরা তাকে সেই গর্তের প্রবেশমুখে নিয়ে গেল। সে একটা দড়ি আনল এবং আলো জ্বালাল। দড়িটা সে গর্তের বাইরে বাঁধল। এরপর হামাগুড়ি দিয়ে গর্তের মধ্যে প্রবেশ করল। যেতে যেতে এমন এক পৌঁছাল, যেখানে সে কোনোমতে গড়িয়ে গড়িয়ে চলতে লাগল। অবশেষে এক পর্যায়ে সে ভেজা মাটির গন্ধ পেল। তখন হঠাৎ সে শুনতে পেল পানির ধারে কোনো একজনের গোঙানির শব্দ।

শব্দ শুনে শুনে সে উৎসের কাছে যেতে লাগল, খুঁজতে লাগল চারপাশে হাত বিছিয়ে। এবং একসময় হাতড়ে হাতড়ে কাউকে যেন খুঁজে পেল। লোকটার দম আছে কি না দেখল। অবাক বিস্ময়ে আবিষ্কার করল যে, এক সপ্তাহ পরেও সেই লোকের এখনো দম আছে। তাকে বের করে নিয়ে এল। সূর্যের আলো থেকে রক্ষা করার জন্য তার চোখের সামনে হাত দিয়ে তাকে বের করে আনল। সে তার সাথে কিছু খেজুর নিয়ে গিয়েছিল। এগুলো পানিতে ভিজিয়ে খেতে দিল লোকটিকে। সেই লোকটি আর কেউ নয়; ইব্‌ন জাদ‘আঁন!

বেদুইন প্রতিবেশী তাকে পিঠে করে বয়ে তার বাসায় নিয়ে এলো। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠল ই জাদ‘আঁন—তার ছেলেরা জানতেও পারল না। প্রতিবেশী তখন ই জাদ‘আঁনকে জিজ্ঞেস করল, “কীভাবে এক সপ্তাহ আপনি বেঁচে ছিলেন?”

ইব্‌ন জাদ‘আঁন বলা শুরু করলেন, “সে এক আজব ঘটনা। নিচে আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম। অন্ধকারে কিছুই ঠাওর করতে পারছিলাম না। যেখানে পৌঁছেছিলাম সেখানে পানি ছিল। ভাবলাম, এই পানির কাছাকাছিই থাকি।
কাজেই পানি খেয়ে দিন পার করতে লাগলাম। কিন্তু ক্ষুধা না মানে অন্য কিছু। পানি খেয়ে আর পারছিলাম না। তিন দিন পর ক্ষুধা আরও তীব্রতর হলো। চারপাশ থেকে যেন চেপে ধরল ক্ষুধা। শুয়ে শুয়ে নিজেকে আল্লাহর কাছে সঁপে দিলাম। তাঁর হাতেই নিজেকে ছেড়ে দিলাম।

এরপর হঠাৎ টের পেলাম আমার মুখের উপর গরম দুধ ঝরছে। আমি অন্ধকারের মাঝে উঠে বসলাম। দেখলাম একটা পাত্র আসছে আমার কাছে। পাত্রটা থেকে দুধ খাওয়া শুরু করলাম। যতক্ষণ না খেয়ে পেট ভরছে, ততক্ষণ খেতাম। এরপর এটা চলে যেত। দিনে তিনবার এমনটা হতো। কিন্তু শেষ দুদিন আর এমনটা হয়নি। জানি না কেন এমন হলো।”

তার প্রতিবেশী তখন তাকে জানাল,

“এর কারণ জানলে আপনি আরও বেশি আশ্চর্যান্বিত হবেন। আপনার ছেলেরা ভেবেছিল আপনি মারা গেছেন। তারা আমার কাছে এসে আপনি আমায় যে উটনি দিয়েছিলেন সেটা নিয়ে যায়। সম্ভবত আল্লাহ এই উটের দুধই আপনাকে খাওয়াচ্ছিলেন।”

সাদাকাহ এভাবেই একজন মুসলিমকে বিপদে ছায়া দিয়ে রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

“আর যে আল্লাহকে ভয় করে তিনি তার জন্য (সংকট থেকে) বের হওয়ার একটা পথ করেই দেবেন। আর তাকে এমন জায়গা থেকে জীবিকার ব্যবস্থা করবেন, যা সে ধারণাও করে না। যে আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।” [আত-তালাক, ৬৫ঃ২-৩]

উপরোক্ত সত্য ঘটনাটা বর্ণনা করেছেন ড. সালিহ আস-সাঁলিহ। আল্লাহ তাআলা তাঁর উপর রহমাত বর্ষণ করুন।

11/10/2023

উমার [রা.] একটা খুব সুন্দর দুআ করতেন। আসুন দুআটা শিখে নেই:

اللَّهُمَّ، اجْعَلْ عَمَلِي صَالِحًا، وَاجْعَلْهُ لَكَ خَالِصًا، وَلَا تَجْعَلْ لِأَحَدٍ فِيهِ شَيْئًا

"হে আল্লাহ, আমার আমলকে নেক বানান। এই আমলকে আপনার জন্য খালিস/একনিষ্ঠ বানান। এতে অন্য কারও জন্য কোনো অংশ রাখবেন না।"


[ ইমাম আহমাদ (রাহ.), আয যুহদ, হা: ৬১৭] p: 138

10/10/2023

লিখাঃ S M Nahid Hasan

ফিলিস্তিন, ইসরায়েল, জেরুজালেম: মুসলিম ইহুদি খ্রিস্টান

পৃথিবীর বিভিন্ন সময় জেরুজালেম বিভিন্ন জাতির অধীনে ছিলো। মুসা আ এর সময় আমালিকাদের অধীনে ছিলো। পরে ইউশা ইবনে নুনের সময় বনী ইসরাইলের দখলে আসে। এরপর সুলাইমান আ এর পরে ইরাকের ব্যাবিলন সম্রাট বুখতে নাসর ইসরাইলীদের ধ্বংস করে। আবার একটা সময় পারস্য সম্রাট সাইরাস ব্যবলিনদের পরাজিত করে বনী ইসরাইলকে জেরুজালেমে নিয়ে আসেন। একসময় রোমান সম্রাট টিটাস তাদের জেরুজালেম থেকে বিতাড়িত করে। শেষে উমার রা এর সময় মুসলমানদের অধীনে আসে পবিত্রভূমি "জেরুজালেম"।

১৯১৪ সালের প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে তা উসমানী খিলাফতের দখলে ছিলো। যুদ্ধে পরাজরের পরে জেরুজালেম ব্রিটিশদের কাছে হাতছাড়া হয়। ব্রিটিশরা ইহুদিদের হাদিয়া স্বরুপ জেরুজালেম দান করে। ১৯৪৮ সালের আরব ইসরায়েল যুদ্ধে ইসরাইল জয় লাভ করে। এরপর থেকে ইসরাইল রাষ্ট্র চলছে।

এদিকে পবিত্র ভূমি জেরুজালেমের সাথে মুসলিমদের সম্পর্ক অনেক গভীর। বনী ইসরাইলের অধিকাংশ নবী এসেছেন এই অঞ্চলে। মহান আল্লাহ একে বরকতময় করেছেন। মুসলমানদের প্রথম কিবলাও ছিলো জেরুজালেমের বায়তুল মুকাদ্দাস। এখানে সালাত পড়লে অনেকগুন বেশি সাওয়াব। এগুলো আমরা কম বেশি জানি। কিন্তু ইহুদিরা কেন জেরুজালেমের দখল চায়? আর খ্রিস্টাণরাই বা কেন ঈহুদিদের জেরুজালেমে দখলে সাহায্য করে? তারা নিজেরাও কি দখল চায়?

ইহুদিরা নিজেদের আল্লাহর প্রিয়তম বান্দা মনে করে। তারা মনে করে যে শাম এলাকাটা মহান আল্লাহ তাদের লিখে দিয়েছেন। কুরানেও এটা আছে। যদিও তা নিশর্ত নয়। শর্ত হলো তারা আল্লাহর কিতাব অনুসরণ করবে।

Orthodox ইহুদিরা তাওরাতের (বিকৃত) আইন মেনে চলার চেষ্টা করে। এরা টুপি পরা এবং বিশাল দাঁড়িওয়ালা। তাওরাতের বিধান অনুযায়ী সব আইন পালন করার চেষ্টা করে। ঈমান, নামায, রোজা, হজ, যাকাত, শীর্ক, তাওহিদ, তাহারাত, পর্দা, হালাল-হারাম -- সবই ওদের শরিয়তে আছে।

Orthodox ইহুদিরা বিশ্বাস করে কিয়ামতের আগে King Messiah আসবেন। তিনি ইয়াকুবের কিবলা-পাথরের উপর 3rd Temple নির্মাণ করবেন। পৃথিবী শাসন করবে। যেমন আমরা বিশ্বাস করি ইমাম মাহদি আসবেন, ঈসা (আ) আসবেন, মুসলিমরা পুরো পৃথিবী রাজত্ব করবে, একই রকম।

তাওরাত অনুযায়ী ইহুদিরা জেরুসালেমে ফিরবে যখন ওদের মাসিহ আসবে। এর আগ পর্যন্ত এটি ওদের জন্য হারাম। অর্থাৎ ইহুদিদের ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী তারা তাদের মাসিহ না আসা পর্যন্ত ইজরায়েলে ঢুকতে পারবেনা। এর আগে ওখানে রাষ্ট্র বানানো বা জড়ো হওয়াকে ওরা ঈশ্বরের কাজের হস্তক্ষেপ মনে করে। আর তারা নিজেদেরকে অপবিত্র মনে করে। ভয় করে যে বাইতুল মাকদিসে ঢুকলে নিজের অজান্তে পবিত্র জায়গা পা দিয়ে মারাতে হতে পারে। এ কারণে ওরা বাইতুল মাকদিসে নিজেদের ঢোকা হারাম মনে করে আর western wall (বাইতুল মাকদিসের সীমানা প্রাচীর) এ দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করে। তাহলে প্রশ্ন আসে বর্তমানে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল কেন জেরুজালেম দখল করতে চায়?

বর্তমান ইসরায়েল রাষ্ট্র মূলত যায়নিস্টদের তৈরি যাদের অধিকাংশ ঐতিহাসিকভাবে সোশালিস্ট, সেকুলার এবং ধর্মকর্মহীন। তারা ধর্মীয় মুল্যবোধ-বিশ্বাসের চেয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিই বেশি গুরুত্ব দেয়। অনেকটা আমাদের গরু খাওয়া সেকুলার মুসলিমদের মত যারা ধর্ম কর্মের ধার ধারে না বরং ধর্মকে রাজনৈতিক সার্থসিদ্ধির কাজে লাগায়।

মূল অর্থাডক্স ইহুদি আর জায়নিস্টরা এক নয়। এদের এজেন্ডা হলো ইহুদিদের জন্য একটা জাতি রাষ্ট্র তৈরী করা। এর অনেক কারন যার মধ্যে অন্যতম হলো নিজেদের জন্য একটা শক্ত পলিটিকাল ভিত্তি তৈরী করা। কন্ট্রোলিং সেফ জোন তৈরী করা। ধর্মকর্মহীন হলেও ইহুদি জাত হওয়ার কারনে তারা কোথাও তেমন একটা সুবিধায় ছিলো না। এরপর হলোকাস্টের (হিটলারের ইহুদি নিধন) প্রভাব তো আছেই। ওদের বেশীরভাগই আসলে ইউরোপিয়ান কনভার্ট। ইহুদিরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যখন ছড়িয়ে ছিল, তখন ওরা খ্রিষ্টানদের সাথে মিলে ছিল। সুতরাং তাদের নিজেদের একটা রাষ্ট্রও দরকার ছিলো। এই ল্যান্ড কোথায় হবে তার কয়েকটা অপশন থাকলেও ভু রাজনৈতিক মর্যাদায় জেরুজালেমই ছিলো তাদের বেস্ট অপশন।

Zionism মূলত একটা খ্রিষ্টান মতবাদ। খ্রিষ্টান বাইবেল বলেঃ ইস্রায়েলের ১২ জাতি জেরুজালেমে এক হবার আগ পর্যন্ত ইসা মাসিহ পুনরাগমন করবে না। মাসিহের অপেক্ষায় অস্থির খ্রিষ্টান জাতি ১৭শ-১৮শ শতকের দিকে এভাবে বাইবেল ব্যাখ্যা করা শুরু করে যে মাসিহের আগমন ঘটানোর জন্য ইহুদিদেরকে জেরুজালেমে ঠেসে ভরতে হবে।

উসমানী খিলাফতের সময় খ্রিষ্টানরা দেখলো যে ওখানে থাকে মুসলিমরা। আর ইহুইদিদের বেশীরভাগই ইউরোপে। খ্রিষ্টান নেতারা ইহুদিদেরকে জেরুজালেমে যাবার জন্য ফুসলাতো। ইউরোপীয় ইহুদিদের বেশিরভাগই খুব একটা ধার্মিক না। ওরা সেকুলার বিভিন্ন দর্শনের রাজনৈতিক মতবাদ অনুসরন করত। খ্রিষ্টানদের ফুসলানীতে ওরা প্রভাবিত হয়। ইউরোপীয় ইহুদিদের মধ্যেও Zionism মাথাচারা দিয়ে ওঠে। ওরা ওদের কিতাব সে অনুযায়ী ব্যাখ্যা করতে শুরু করে।

এভাবে অধার্মিক ইহুদিরা ওদের কিতাবের কিছু অংশ খ্রিষ্টানদের মত ব্যাখ্যা করে ফিলিস্তিনের ইহুদি রাষ্ট্রের রূপরেখা তৈরি করে ফেলে। Theodor Herzl নামে এক ইহুদি বুদ্ধিজীবি এটা নিয়ে বিস্তারিত নীতিমালা তৈরি করে লেখালেখি শূরু করে। এর দ্বারা ইউরোপের বেশীরভাগ ইহুদি প্রভাবিত হয়ে যায়। খ্রিষ্টীয় ব্রিটেন তাদেরকে মদদ দিতে থাকে।

ইহুদি নেতারা উনবিংশ শতকের শেষ দিক থেকে আর বিংশ শোতকের শুরুতেই উসমানী খলিফার সাথে দেনদরবার শুরু করে ফিলিস্তিন যেন তাদের দিয়ে দেয়। ওরা কখনো আশা করত না যে উসমানীদের কখনো পরাজিত করতে পারবে। ইহুদিরা সংখ্যা ও শক্তিতে একেবারেই নগন্য ছিল।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উসমানীরা হেরে গেলে ইহুদিদের সামনে ফিলিস্তিনের দরজা খুলে গেল। পুরো মধ্যপ্রাচ্য জয়ী মিত্রশক্তির হাতে চলে গেল। আর খুব স্বাভাবিকভাবেই ব্রিটেন ও আমেরিকার রাষ্ট্র প্রধানরা তাদের মাসিহ আগমন করানোর নিয়তে ইস্রায়লে রাষ্ট্রের অঙ্গীকার করে বসলো। এটা তাদের করতেই হতো। ধীরে ধীরে বিভিন্ন ছলাকলা করে ইসরায়েল রাষ্ট্র বানিয়ে ফেলা হল।

খ্রিষ্টানরা বিশ্বাস করে মাসিহকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল এবং ৩ দিন পর তিনি মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হয়েছিলেন। এরপর শিষ্যদেরকে দিকনির্দেশনা দিয়ে আসমানে চলে গিয়েছেন। কিয়ামতের আগে তিনি আবার আসবেন। খৃষ্টানদের বিশ্বাস কিছুটা পৌত্তলিক। ওরা বিশ্বাস করে সবাই তখন ঈসা(আ) এর সামনে মাথা নত করবে, তাঁর উপাসনা করবেন। ঈসা(আ) মানুষের বিচার করবেন। তারা ঈসা(আ)কে বিচার দিবসের মালিক মনে করে।

খ্রিষ্টান বাইবেল বলেঃ ইস্তায়েলের ১২ জাতি জেরুজালেমে এক হবার আগ পর্যন্ত মাসিহ পুনরাগমন করবে না। ১২ জাতি হচ্ছে বনী ইস্রায়লের ১২ জাতি। আল কুরআনেও এদের উল্লেখ আছে। ইয়াকুব(আ) এর ১২ ছেলের থেকে ১২ জাতি। মাসিহের অপেক্ষায় থাকা খ্রিষ্টান জাতি ১৭শ-১৮শ শতকের দিকে এভাবে বাইবেল ব্যাখ্যা করা শুরু করেঃ মাসিহের আগমন ঘটানোর জন্য ইহুদিদেরকে জেরুজালেমে ঠেসে ভরতে হবে। এজন্যই তারা ইহুদিদের ইসরাইল রাস্ট্রের সমর্থক এবং ইহুদিদের জেরুজালেম দখলে সাহায্যকারী।

28/09/2023

আশ্চর্য হতে হয় ওই জাতিকে দেখে, যারা তাদের নবীর (সা.) ওফাত দিবসকে আনন্দে-উৎসবে উদযাপন করে অথচ তাঁর সুন্নত ও শরিয়ত বাস্তবায়নের কথা ভুলে থাকে!
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পরে ৪২ বছর বেঁচে ছিলেন। তিনি কখনো নবীজির (সা.) জন্মদিন পালন করেননি।

প্রশ্ন হলো, (হে মিলাদুন্নবীপন্থী ভাই,) আপনি কি নবীজিকে (সা.) আম্মাজান আয়েশার (রা.) চেয়েও বেশি ভালোবাসেন?

#আরবি_থেকে_আলী_হাসান

28/09/2023

আমরা যারা যথেষ্ট ধন-সম্পদের মালিক....আমাদের বাড়ি আছে, প্রয়োজন মিটিয়ে অতিরিক্ত খাদ্য আছে। তাই, যখন কেউ আমাদের কাছে কিছু চাইবে, এলাকার ছেলেরা বা অনলাইনে গরিবদের সাহায্য করার কোনো উদ্যোগে আপনার সাহায্য চাইবে তখন মনের মধ্যে অহংকার ফিল করবেন না।

আমার সম্পদ, আমার আয়, আমার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি, আমার ডাক্তারি ডিগ্রি, আমার সিইও স্ট্যাটাস এগুলো ভেবে গর্বে ফুলে উঠবেন না। এসব চ্যারিটিতে আমাকে কেন দিতে হবে—এভাবে ভাববেন না। লা হাওলা ওয়া লা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

প্রিয় ভাইয়েরা, সম্ভবত আমরা যে আমাদের আয়ের ০.০১% দান করি সেজন্যে আল্লাহ আমাদেরকে বাকি ৯৯.৯৯% নিজেদের কাছে রাখতে দিয়েছেন। সম্ভবত আমরা যে দশ টাকা, বিশ টাকা বা একশো টাকা দান করি ফলশ্রুতিতে কোনো বস্তির, কোনো শরণার্থী শিবিরের কোনো ব্যক্তির দোআ—

"ও আল্লাহ যে আমাকে আহার করিয়েছে আপনিও তাকে আহার করান। ও আল্লাহ! যে আমাকে সাহায্য করেছে আপনিও তাকে সাহায্য করেন।"

তার এ দোয়া আল্লাহ কবুল করছেন বলেই আমরা আরামে আছি। স্বাবলম্বী আছি। সে ব্যক্তির দোয়া আল্লাহর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমাদের সকল সম্পত্তির চেয়েও।

সম্ভবত আত্মীয় স্বজন এবং অজানা অচেনা মানুষদের যে সামান্য কিছু টাকা পয়সা আমরা দান করি, তার কারণে শেষ বিচারের দিন আমাদের কিছু অজুহাত থাকবে।

শেষ বিচারের দিন আমরা আল্লাহকে এভাবে বলতে পারবো —

"ও আল্লাহ! আপনি আমাকে যে সম্পদ দান করেছেন তার থেকে আমি কিছুটা দান করেছি। আজ আমি আপনার ক্ষমাপ্রার্থী।"

"ও আল্লাহ! আমি হয়তো দুনিয়া পরিবর্তন করতে পারিনি কিন্তু যৌক্তিকভাবে যতটুকু করা সম্ভব আমি করেছি। আজ আমি আপনার ক্ষমাপ্রার্থী।"

"আমি যতবার সম্ভব দান করেছি। বিনিময়ে ওদের কাছে কিছুই চাইনি। আজ আমি আপনার ক্ষমাপ্রার্থী।"

তখন ইনশাআল্লাহু তায়ালা, আমার এই ক্ষুদ্রকাজগুলো তিনি কবুল করে নিবেন এবং আমার কৃত পাপগুলো উপেক্ষা করবেন এবং আমাকে তাঁর জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দিবেন।

—শায়েখ ইয়াসির কাদির আলোচনা অবলম্বনে

31/08/2023

রিজিক সম্পর্কে আমরা অনেকেই ভুল ধারণা রাখি। শায়খ মুতাওয়াল্লি শারাবি (রাহ.) বলেন—

‘আমার মতে রিজিক হলো, যার মাধ্যমে আমরা উপকৃত হয়ে থাকি। যা আমরা লাভ করে থাকি, তার সবটাই রিজিক নয়। কেননা, আমরা অঢেল সম্পত্তি লাভ করি, কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারি না, তা খরচ করতে পারি না। এগুলো তো আমাদের রিজিক নয় বরং তা অন্যের রিজিক। আমরা কেবল তার পাহারাদার মাত্র। আমরা তার একটি পয়সাও খরচ করতে পারি না। বরং সময় হলে মালিকের নিকট পৌঁছে দিয়ে থাকি। অধিকাংশ মানুষ মনে করে যে, ধনসম্পদ হলো রিজিক। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আদম-সন্তান বলে থাকে—আমার মাল, আমার মাল... হে আদম-সন্তান, তুমি যা খেয়ে শেষ করে ফেলো কিংবা যে পোশাক পরে তা পুরাতন করে ফেলো কিংবা যা সাদাকাহ করে দাও, তা ব্যতীত তোমার কোনো মাল আছে?’’ [তিরমিযি, আস-সুনান: ২৩৪২]

ধনসম্পদ হলো রিজিকের এক সামান্য অংশ। সুস্থতা, সন্তান-সন্ততি, খাবার-দাবার, বারাকাহ প্রভৃতি হলো রিজিক। আল্লাহপ্রদত্ত সকল নিয়ামতই রিজিক। শুধু ধনসম্পদ একমাত্র রিজিক নয়। [মুতাওয়াল্লি শারাবি, ইসলাম আমার অহংকার, পৃষ্ঠা: ৪৩; ঈষৎ পরিমার্জিত]

শায়খ শারাবি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন—
সম্পদ হলো রিযিকের সর্বনিম্ন স্তর।
সুস্থতা হলো রিযিকের সর্বোচ্চ স্তর।
নেককার সন্তান হলো রিযিকের সর্বোত্তম স্তর।
আর আল্লাহর সন্তুষ্টি হলো রিযিকের পরিপূর্ণতা।

23/08/2023

প্রতিদিন সকালে ভাবি আজকে একজন আদর্শ বান্দী, আদর্শ মেয়ে, আদর্শ মা, আদর্শ বোন, আদর্শ স্ত্রী, আদর্শ মানুষ হয়ে চলব, সবার হকগুলো ঠিক ঠিকভাবে আদায় করব। অথচ রাত হলে যখন কর্মের ঝুলি খুলে বসি তখন দেখি, না ঠিকভাবে আল্লাহর হক আদায় করলাম, না মানুষের। আমার কথা দ্বারা কেউ কষ্ট পেয়ে গেল, আমার ব্যবহার দ্বারা কেউ কষ্ট পেয়ে গেল, আমার বোকামির জন্য কেউ কষ্ট পেয়ে গেল, আমার অবহেলার দ্বারা কেউ কষ্ট পেয়ে গেল।

ভীষণ মন খারাপ হয়। তারপর আবার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করি, আগামীকাল থেকে অবশ্যই আরও কঠিনভাবে চেষ্টা করব। আল্লাহর দিকে চেয়ে থাকি উনার সাহায্য পাবার আশায়। আল্লাহ তার কোনো বান্দাকে কখনই নিরাশ করেন না। একদিন আসবে বিইজনিল্লাহ, যেদিন থেকে সত্যি সত্যিই একজন উত্তম ও আদর্শ মানুষ হয়ে চলতে পারব।

21/08/2023
Want your school to be the top-listed School/college in Mymensingh?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address


52/2 Shehora, Dhopakhola
Mymensingh