11/08/2026
লাল বিপ্লবীর লালখানা
আমাদের গ্রামে তৎকালীন সময়ে টয়লেট কে ল্যাট্রিন বলতাম। গ্রামটা তখনো এতটা আধুনিক হয়নাই ল্যাট্রিনকে টয়লেট বলার মতো। তো একবার আব্বুর সাথে আসলাম শহরে একটা মামার বাসায়, তখন ক্লাস ফোরে পড়ি।
আমি আমার কাজিনকে বলছিলাম তোমাদের ল্যাট্রিন কোনদিকে? তখন সে এমনভাবে তাকায়ছিলো, যেনো জন্মের পর এই বুঝি সে কোনো ভূতের নাম শুনলো। আর ল্যাট্রিনের কাজ আজ অবধি তার দরকার হয়নাই। শহরের মানুষ ওসব করেই না। পরে মামি শিখায় দিলেন এটার নাম নাকি "বাথরুম" 😺
আরেকবার একটা ফ্রেন্ডের সাথে ফেনীতে ওদের বাড়ি বেড়াতে গেছিলাম। সকালে লেট করে উঠে দেখি ফ্রেন্ড কোথায় যেন গেছে। লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে আন্টিকে বললাম,"আন্টি আপনাদের বাথরুম কোনদিকে?"
তখন আন্টি বললেন "গোসল দিবা বাবা?" কি করে বলবো গোসল না চাপ পেয়েছে। 😭🙏
এটা না বলেই বললাম; "জ্বি আন্টি গোসল করবো।" তো প্রায় আধা ঘন্টা পর আন্টি লুঙ্গি সাবান গামছা বালতি মগ এনে দিয়ে উঠোনের কোনায় পাকা একটা রুমে ঢুকায় দিলেন।
যাক বাঁচা গেলো বলে ভেতরে ঢুকে ছিটকিনি লাগিয়ে দেখি এখানে জাস্ট একটা টিউবওয়েল। চিৎকার দিয়ে কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছিলো। করলাম গোসল।
আইসা দেখি ফ্রেন্ড হালারপো এখনো আসে নাই। ফোন দিলাম, "হারামজাদা তদের বাথরুম কই? তরা কি ইয়ে টিয়ে করছ না?" সে বললো ওহ টয়লেট? ওইটা তো এদিকে গিয়ে ওদিকে মোচড় দিয়ে হাতের বামে। ফোন ছুড়ে ফেলে দিলাম দৌড়!
একবার গিয়েছিলাম তাবলীগে, নাহ ওখানে কোন ঝামেলা হয়নি আমি ঠিকঠাক পেয়েছি। কাউকে জিজ্ঞেস করতে হয়নি।
কিন্তু সকালে একজন উঠে আমাকে বলতেছিলো;
"ভাই এস্তাঞ্জারখানা কোন দিকে?"
আমি চোখ বড়বড় জিজ্ঞেস করলাম, "কী খানা?"
"এস্তাঞ্জারখানা"
না বুঝেই বললাম;
ওহ্ এই খানা এই এলাকাতে নাই।
সে ভূত দেখার মতো তাকিয়ে আছে। আরেকজন পাশ থেকে বলে দিলো; এইযে ভাই ওই চিপা দিয়েই বাথরুম। যান আপনি।
এবার আমি ভূত দেখার মতো তাকিয়ে আছি! এটার নাম এস্তাঞ্জারখানা! হাউ ম্যান?
আব্বু একবার সৌদি আরব থেকে এসে আমাকে বলেছিলেন "টিউবওয়েল থেকে এক বালতি ঠান্ডা পানি এনে দাও হাম্মামে।"
আমিও টিউবওয়েল থেকে পানি নিয়ে পথে গেলাম রাস্তার পাশে গেলাম। এক্সেক আর কোথায় যাবো বুঝতেছিলাম না। পরে আব্বু-ই রাস্তায় এসে বলতেছিলো;
সেই কখন থেকে বাথরুমে ঢুকে আছি। আর তুমি পানি নিয়ে ঘুরতেছো?
আপনি না হাম্মামে দিতে বললেন? আব্বু বললো হ্যা হাম্মাম তো বাথরুমেই দিবো। আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি।
তারপর একটা বিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলাম কয়েকমাস আগে। গিয়ে পেয়েছে হটাৎ চাপে। কি করবো বুঝতেছিনা। ধুর ছাই অবস্থা বেগতিক!! তাড়াতাড়ি ভেতরে গিয়ে দেখি কনের ছোট বোন আছে। উনাকে মোটামুটি চিনি আগে থেকেই।
যাইহোক, উনাকে বললাম, "এক্সকিউজ মি! আপনাদের টয়লেট'টা কোনদিকে জানি?" তো সে বললো, "কি বললেন রেস্টরুম?" আমি বললাম, "না না ঐযে টয়লেট'টা আরকি।" হাহাহা আরে ওইটাই রেস্টরুম। ঐদিকে গিয়ে এদিকে যান। টয়লেটে বসে বসে চিন্তা করতেছিলাম হালায় আমি কোন জগতে বাস করি! এহ? এর নাম রেস্টরুম অথচ এই বয়সে আইসা জানলাম। দুদিন পর গ্রাজুয়েশন করবো।
অবশেষে গেলাম গ্রামে ফুফুর বাড়িতে। তাও তিন বছর পর। সকালে ঘুম থেকে উঠে ছাই দিয়ে দাঁত মাজতে মাজতে ফুফাত ভাইয়ের বউকে বললাম,
"ভাবী রেস্টরুমটা কোনদিকে?" ভাবী একটা শয়তানি হাসি দিয়ে বলল,
"গার্লফ্রেন্ডের সাথে আলাপ করবা তাইনা?"
কী বুঝলো আল্লাহ্ই জানেন! গেলাম পিছু পিছু। গিয়ে দেখি উনি বাংলো ঘরের তালা খুলে দিয়ে বলতেছে যাও এখানে বসে, শুয়ে যত খুশি ফোনে আলাপ করো কেউ ডিস্টার্ব করবে না।
তখন মেজাজ অতি মাত্রায় খারাপ হয়ে যাওয়ায় বলেই ফেললাম,
"ভাবী একটু শুসু করবোরে বইন শুসু! তামাশা পরে করবো, হাগু শুশু চিনো না? করো নাই কখনো? না এটাও বুঝো'ই নাই?"
তখন সে বিরাট একটা হাহাহা মার্কা হাসি দিয়ে বললো, "ওয়াশরুমে" যাবা আগে বলবা না? হাহাহা!🙂
শেষমেশ ভার্সিটিতে এসে জানলাম এর আরও একটা নাম আছে। "প্রক্ষালন কক্ষ" 🐸
প্রক্ষালন কক্ষে বসে আছি, মনের দুঃখে আর বাঁচতেছিনা। নাকের ডগা দিয়ে দেশটা আপডেটেড হইতাছে ব্যাকডেটড'ও হইতেছে। কোনো বাতাসই বুঝতেছিনা, টের-ই পাচ্ছিনা কেমনে কীভাবে দিন দুনিয়া চলতেছে। কেমনে জিন্দেগি কাটাইমো আমি কন না ভাই, হ্যাহ? এটার আর কি কি নাম আছে দুনিয়ায়?🥴