সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
ময়মনসিংহ শহরের জুবিলী উৎসব পালনের লক্ষ্যে ১৮৭৯ সালে এই বাগান বাড়িতে ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য্য এক সুদৃশ্য ভবন নির্মাণ করেন যার নাম লোক মুখে লোহার কুঠি নামে পরিচিত। লোহার কুঠিকে কেন্দ্র করে তৎকালিন সময়ে ২৭.১৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। শিক্ষানগরী নামে খ্যাত ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরের এক মনোরম পরিবেশে সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, এইচ.এস.টি.টি.আই, ঐতিহাসিক আলেকজান্ডার
ক্যাসেল সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদ এর পাড় ঘেঁসে ময়মনসিংহ গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরী হাই স্কুলটি অবস্থিত। বৃহত্তর ময়মনসিংহের পরতে পরতে শিক্ষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য জড়িত। এ জেলার বিদ্যাপীঠগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন বহু মনীষী, শিক্ষাবিদ এবং চিন্তাবিদ। আর গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরী হাই স্কুলটি হলো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম।
গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরী হাই স্কুল, ময়মনসিংহ নামক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি তৎকালীন প্রাইমারী ট্রেনিং কলেজ এর সাথে একই আদেশে The director of public instruction, East Bengal এর স্মারক নং- 2610/Edn, dated Dacca, the 3rd September 1948 মোতাবেক Experimental School হিসেবে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালে পরীক্ষণ বিদ্যালয়টিতে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রম চালু ছিল। পরবর্তীতে প্রাইমারী ট্রেনিং কলেজটি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে এবং ময়মনসিংহ শহরের সম্মানিত অধিবাসীবৃন্দের আবেদনে ও বিদ্যালয় বাস্তবায়ন কমিটির আন্তরিক প্রচেষ্টায় ২৪/১২/১৯৮৭ সনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং- শা৪/১বি-১/৮৭(অংশ)১১১৪-শিক্ষা মোতাবেক হাই স্কুলে উন্নিত হয়, যার নাম করণ করা হয় গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরী হাই স্কুল। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ঢাকা এর মহাপরিচালক ডঃ আ হ ম করিম, জেলা প্রশাসক ময়মনসিংহ জনাব ম. শফিউল আলম মহোদয়ের উপস্থিতিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব জনাব শফিউল আলম মহোদয়, ১২/০২/১৯৮৮খ্রিঃ তারিখে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরী হাই স্কুল এর শুভ উদ্বোধনসহ বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দেয়ালে নাম ফলক স্থাপন করেন।
পরীক্ষণ বিদ্যালয় নামে ১৯৪৮ সালের ০৩ সেপ্টেম্বর প্রাইমারী ট্রেনিং কলেজের সাথে একই আদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়ে Experimental School টি সম্মানিত অধ্যক্ষ কর্তৃক নিয়োজিত প্রাইমারী ট্রেনিং কলেজের একজন প্রভাষক পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের সুপারিনটেনডেন্ট ও দুই জন শিক্ষক নিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছিল। ১৯৮৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর বিদ্যালয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার পরেও প্রধান শিক্ষকের পদ সৃজন না হওয়ায় ১৯/০৫/২০০০খ্রিঃ তারিখ পর্যন্ত টিচার্স ট্রেনিং কলেজ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃক পরিচালিত হয়ে আসছিল এবং ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত অত্র বিদ্যালয়টির তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করেন টিচার্স ট্রেনিং কলেজের তৎকালিন উপাধ্যক্ষ জনাব লুৎফর রহমান খান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হওয়ায় ২০/০৫/২০০০খ্রিঃ তারিখে প্রথম প্রধান শিক্ষক হিসাবে জনাব মাহফুজা খাতুন যোগদান করেন এবং শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ০৫/০২/২০০৮খ্রিঃ তারিখের স্মারক নং-শিম/শঃ ১০/বিবিধ-১/৯৮/১২৭ মোতাবেক উক্ত বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয়ের নিকট থেকে প্রধান শিক্ষকের উপর ন্যস্ত করা হয়।
মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য্য কর্তৃক নির্মিত সুদৃশ্য ভবন লোহার কুঠির অঙ্গনের রয়েছে সু-প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য। গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরী হাই স্কুল ও সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ এ অঙ্গনেই অবস্থিত। কথিত আছে বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবণ সংলগ্ন বটমূলে ১৯২৬ সনে বিশ্বকবি ররীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিতা রচনা করেছেন। তাই এ অঙ্গনে রয়েছে বিশ্ব কবির পদচিহ্ন যা লালন করে প্রতিবছর এ বটমূলে ময়মনসিংহের রবীন্দ্র পর্ষদ কর্তৃক আয়োজন করা হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের। দুর্লভ ভাস্কর্য, বিলুপ্ত প্রায় অশত্থ ও কর্পূরের বৃক্ষ আজও ঐহিত্যের চিহ্ন বহন করছে। নার্সারী শ্রেণি থেকে শুরু করে শিক্ষক-প্রশিক্ষণ, সারা দেশ থেকে আসা কলেজ শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং সর্বোপরি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের অফিসে শিক্ষকদের আনা-গোনায় মুখরিত হয় এই ক্যাম্পাস। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌদর্যের মাঝে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠে। এতে করে তারা হয়ে উঠে দৃঢ়চিত্ত, সুশৃংখল, বন্ধুবৎসল এবং আত্মবিশ্বাসী। বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্রমবর্ধমান চাপ নিরসনের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ৩১/১২/২০০৯খ্রিঃ তারিখের স্মারক নং- ১০/৪(ডাবল শিফট)-১/২০০৮/৯৫৫ মোতাবেক ডাবল শিফট চালু হলে ২০১০ সালের ১ জানুয়ারী থেকে যথারীতি ডাবল শিফট কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে প্রভাতি শিফট বালিকা এবং দিবা শিফট বালকদের জন্য পৃথক ভাবে পাঠদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।