21/01/2024
গাজী আজমল স্যার ❤
বায়োলজি ক্লাস হচ্ছে। ছেলে-মেয়ে কমবাইন্ড ক্লাস। হঠাৎ পিছনের বেঞ্চে বসে থাকা দুইটা ছেলে কথা বলতে শুরু করে। বায়োলজি টিচার ছিলেন খুব কড়া। দেখা মাত্রই ছেলে দুটো কে দাঁড় করান।
তাদের দু'টো অপশন দেন - হয় ছেলে-মেয়ে সবার সামনে কান ধরে হাই বেঞ্চের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, নয়তো চিরতরে ক্লাস থেকে বের হয়ে যেতে হবে। এইকথা শুনে ঐ দুজনের একজন সাথে সাথে কান ধরে দাঁড়িয়ে যায়।
কিন্তু অন্যজনের আত্মসম্মান বোধ খুব বেশি, এতগুলো মেয়ের সামনে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকা তার পক্ষে সম্ভব না।সে সোজা ক্লাস থেকে বেরিয়ে পড়ল। সেই যে বের হলো, আর কোনদিন ঢোকেনি।
স্যারের উপর রাগ করে অপশোনাল সাবজেক্ট বায়োলজি বাদ দিয়ে কম্পিউটার নিয়ে নিলো । এরপর দেখতে দেখতে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ।
ফলাফলের ( ডিভিশন ) ভিত্তিতে চান্স হল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে। ডাক পড়লো ভাইভা বোর্ডে, কিন্তুু বিধি বাম! তাকে ভাইভা বোর্ড থেকে বের করে দেওয়া হলো। কারণটা সিম্পল, উচ্চ মাধ্যমিকে যার বায়োলজি ছিলো না, সে কীভাবে মেডিকেলে পড়বে....!
তারপর, মন খারাপ করে ভর্তি হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগে।
সেদিনের সেই ছেলেটা কে, জানেন ? তিনি হলেন উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণি বিজ্ঞান ও উদ্ভিদ বিজ্ঞান বই দু'টির লেখক গাজী আজমল স্যার।
২০১০ সালে নটর ডেম কলেজের বেস্ট টিচার অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত।
বয়স ষাটের আশেপাশে, হার্টে 'পেইস মেকার' বসানো... কিন্তুু বার্ধ্যক্য এখনও তাঁকে স্পর্শ করতে পারে নি।
মেডিকেল কলেজে পড়তে না পেরে গাজী আজমল স্যারের কোনো আক্ষেপ আছে কি-না, জানি না। তবে পুরো বাংলাদেশ যে গাজী আজমলকে এক নামে চেনে, সেটা নিয়ে নিশ্চয়ই স্যারের তৃপ্তিবোধ আছে।
লেখা : সংগৃহীত
18/08/2023
04/08/2023
27/07/2023
22/07/2023
21/07/2023