মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা ও চেতনা প্রোথিতকরণ কেন্দ্র

  • Home
  • Bangladesh
  • Mymensingh Lunai
  • মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা ও চেতনা প্রোথিতকরণ কেন্দ্র

মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা ও চেতনা প্রোথিতকরণ কেন্দ্র Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা ও চেতনা প্রোথিতকরণ কেন্দ্র, Educational Research Center, Kasor Road, Mymensingh Lunai.

বীরাঙ্গনার মহাপ্রয়াণকয়েকদিন থেকে বীরাঙ্গনা টেপরী রানীর মৃত্যু সংবাদ ঘুরছিল টাইমলাইনে। আমার মতো অনেকেই জানেন না তার ইতিহ...
15/05/2026

বীরাঙ্গনার মহাপ্রয়াণ

কয়েকদিন থেকে বীরাঙ্গনা টেপরী রানীর মৃত্যু সংবাদ ঘুরছিল টাইমলাইনে। আমার মতো অনেকেই জানেন না তার ইতিহাস। একটু সময় নিয়ে লেখাটি পড়ুন তাহলেই বুঝতে পারবেন কে ছিলেন এই মহীয়সী নারী।..যুদ্ধ চলছে। টেপরী রাণীর বয়স তখন মাত্র ১৭। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার। তখনই পরিবারকে বাঁচানোর নাম করে এগিয়ে এল এক রাজাকার। সে টেপরীর বাবাকে বলল—
“তোমার মেয়েকে যদি পাকিস্তানি ক্যাম্পে দাও, তাহলে পুরো পরিবার বেঁচে যাবে।”

পরিবারকে রক্ষা করতে টেপরীকে ‘বিসর্জন’ দেওয়ার কথা ভাবল তার অসহায় বাবা। বাবার কথা শুনে কিশোরী টেপরীও আর বাধা দিল না। সে জানত ক্যাম্পে গেলে কি হবে তার সঙ্গে। তবু পরিবারকে বাঁচাতে হবে। নিজের বাবা তার মেয়ের হাত ধরে পৌঁছে দিলো ক্যাম্পে, জমের মুখে। সেদিন সারাটা পথ বাবা-মেয়ে একটিও কথা বলেনি। মেয়েকে তুলে দেওয়া হচ্ছে পাকিস্তানি ক্যাম্পে। পাকসেনারা তাকে ধ*র্ষণ করবে, ধ*র্ষণের পর মেরেও ফেলতে পারে। এই যখন হবিতব্য, কি কথা বলবে বাবা মেয়েকে?

সেদিন টেপরিকে ক্যাম্পে তুলে দিয়ে মাথা নিচু করে ফিরে আসেন নির্বাক বাবা। এই নিরবতার অর্থ বোঝেন? নিজের মেয়ের দিকে তাকিয়ে (নিজেকে বাবা বা মেয়ের স্থানে বসিয়ে) কল্পনা করেন তো!!

টেপরী আর পাঁচটা মেয়ের মতো মরে যেত পারত। কিন্তু কপাল খারাপ তার, সে মরেনি। দীর্ঘ ছয় মাসের নরকযন্ত্রণা ভোগ করে ফিরে আসে সে। এমন কোনো রাত যায়নি, পাকসেনারা তাকে ধ*র্ষণ করেনি। আজ শুনতে ‘বাড়াবাড়ি’ মনে হচ্ছে না? ইয়েস, একাত্তর মিথ না, এই ‘বাড়াবাড়ির’ নামই একাত্তর!

মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বাড়ি ফেরেন টেপরী। শুরু হয় আরেক যন্ত্রণা। অনাগত সন্তানকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত না সমাজ। সন্তানকে ‘নষ্ট’ করে ফেলার জন্য নানা আসে চারদিক থেকে। তখন মেয়ের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ান তার বাবা। তিনি বলেছিলেন, “না মা, রাখ। এ-ই হবে তোর সম্বল। তোকে তো আর কেউ গ্রহণ করবে না। শেষ বয়সে এই সন্তানই হবে তোর বেঁচে থাকার অবলম্বন হবে।”

হয়েছেও তাই। ছেলে সুধীর বর্মনের আশ্রয়েই তার বাকি জীবনটা কেটেছে।

কিন্তু সমাজের কটূক্তি সুধীরেরও পিছু ছাড়েনি। সুধীরকে ‘পাঞ্জাবির বাচ্চা’ বলে অপমান করা হয়েছে নিয়ত। একবার তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সে প্রতিবাদ করে না কেনো?

সুধীরের উত্তর—“ঝগড়া করতে তো লোক লাগে, কিন্তু আমার কে আছে?”

না, সুধীরের পাশে কেউ নেই। তখনও ছিল না, এখনও নেই। কিন্তু এরপরও সুধীর বেঁচে আছে মাথা উঁচু করে। তার একটা মেয়ে আছে, নাম—‘জনতা’।

জনতা কি ভাবে জানেন? তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তার দাদিকে নিয়ে। সে দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিল—
“দেশে যদি আবার যুদ্ধ হয়, দাদীর মতো আমিও দেশের জন্য নিজের সব কিছু বিসর্জন দিতে দ্বিতীয়বার ভাববো না।”

এই আমাদের ‘জনতা’, একাত্তরের উত্তরসূরি।

দীর্ঘ অবহেলার পর ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে বীরাঙ্গনা (হওয়ার উচিত ‘মুক্তিযোদ্ধার’) স্বীকৃতি পান টেপরী রাণী।

তাকে তখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কি চান তিনি। বৃদ্ধবয়সী টেপরী রানী বলেছিলেন: মৃত্যুর পর তাঁর দেহটাকে লাল-সবুজের পতাকায় মুড়িয়ে জাতি বিদায় জানাবে। এর চেয়ে আর বেশি কিছু তার চাওয়া নেই।

তার সেই চাওয়া পূরণ হয়েছে।

আসেন আমরা অন্তর থেকে তাঁকে স্যালুট জানাই। তাঁর স্মরণে একা একা এক মিনিট নিরবতা পালন করি। একশো থেকে এক হাজার, এক হাজার থেকে এক লক্ষ, লক্ষ থেকে কোটি মানুষ নিরবতা পালন করুন এই মায়ের জন্য। সুধীর ও জনতার জন্য।

(সংগৃহীত)
(শেয়ার করে, তার এই আত্মত্যাগের গল্প ছড়িয়ে দিন)

১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাবাশ বাংলাদেশ’ ভাস্কর্যের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিচ্ছেন শহীদ জননী জাহা...
31/03/2026

১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাবাশ বাংলাদেশ’ ভাস্কর্যের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে
বক্তৃতা দিচ্ছেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম।
#ইতিহাসেরখোঁজেগিরিধর

মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানীশহীদ মহিউদ্দিন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার সন্তান।এক অমর বীরের জীবনের আখ্যান স্বাধীনতার পক্ষে  যে...
20/03/2026

মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী
শহীদ মহিউদ্দিন

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার সন্তান।
এক অমর বীরের জীবনের আখ্যান
স্বাধীনতার পক্ষে যে প্রথম গুলিটি ছোড়া হয়, থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল হাতে
সেই সাহসী বীর শহীদ মহিউদ্দিনের ট্রিগার থেকে।পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে লড়েছেন পিতা-পুত্র এক সাথে।

বাংলার স্বাধীনতার ইতিহাসে কিছু নাম জ্বলজ্বল করে দীপ্ত নক্ষত্রের মতো—তাঁদের আত্মত্যাগে রচিত হয়েছে একটি স্বাধীন দেশের মানচিত্র। তেমনই এক বীর সন্তান শহীদ মহিউদ্দিন, যার জীবন ও আত্মদান জাতির জন্য চিরস্মরণীয়।

১৯৩২ সালে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও থানার পাঁচভাগ ইউনিয়নের লামকাইন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই মহান দেশপ্রেমিক। তাঁর পিতার নাম জয়দে আলী ঢালি এবং মাতার নাম মেহেরবান।তাঁরা ছিলেন সৎ ও ধর্মপ্রাণ মানুষ।

শৈশব থেকেই মহিউদ্দিন ছিলেন দৃঢ়চেতা ও কর্তব্যপরায়ণ। তিনি পাঁচবাগ উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৫২ সালে পূর্ব পাকিস্তান পুলিশের সদস্য হিসেবে যোগদান করেন। দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা ও কর্তব্যনিষ্ঠাই ছিল তাঁর জীবনের মূলমন্ত্র।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে তিনি ঢাকায় কর্মরত ছিলেন। সেই অগ্নিঝরা সময়ে, যখন সমগ্র জাতি স্বাধীনতার স্বপ্নে উজ্জীবিত, তখন তিনিও পিছিয়ে থাকেননি। ২৫ মার্চের কালরাত্রি—যে রাত বাঙালির ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় অধ্যায়—সেই রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আকস্মিক আক্রমণ চালায়।
কিন্তু ভীত না হয়ে, বরং অদম্য সাহস নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মহিউদ্দিন ও তাঁর সহযোদ্ধারা।

রাজারবাগ পুলিশ লাইন, যা আজ পুলিশের তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত, সেখান থেকেই প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু হয়। বলা হয়ে থাকে, স্বাধীনতার পক্ষে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যে প্রথম গুলিটি ছোড়া হয়, তার অন্যতম সাহসী অংশীদার ছিলেন ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁওয়ের শহীদ বীর মহিউদ্দিন।
থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল হাতে নিয়ে সীমিত অস্ত্র ও সামর্থ্য নিয়েও তাঁরা শত্রুর বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করেন। সেই রক্তক্ষয়ী সম্মুখযুদ্ধে রাজারবাগের পবিত্র ভূমিতে শহীদ হন মহিউদ্দিন।
তাঁর এই আত্মত্যাগকে আরও বেদনাময় করে তোলে এক নির্মম সত্য—একই যুদ্ধে তাঁর বড় ছেলে বাবুল (১৮) এবং শ্যালক আব্দুল কাদের (১৭) শহীদ হন। একটি পরিবার যেন একসাথে উৎসর্গ করে নিজেদের সর্বস্ব—দেশের স্বাধীনতার জন্য।

শহীদ মহিউদ্দিনের এই অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী রাজারবাগ পুলিশ লাইনের দুই নম্বর গেটের নামকরণ করেছে “শহীদ মহিউদ্দিন গেইট”।

এছাড়া ঢাকার রাজারবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে তাঁর ব্যবহৃত স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত আছে, যা নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

তাঁর জন্মভূমিও তাঁকে ভুলে যায়নি। উত্তর লামকাইন থেকে কান্দিপাড়া মুখী সড়কের নামকরণ করা হয়েছে “শহীদ মহিউদ্দিন সড়ক”—যেন প্রতিদিন মানুষ তাঁর নাম উচ্চারণ করে স্মরণ করে সেই মহান আত্মত্যাগ।

শহীদ মহিউদ্দিন কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি এক প্রতীক—সাহস, আত্মত্যাগ এবং দেশপ্রেমের প্রতীক। তাঁর রক্তে লেখা স্বাধীনতার ইতিহাস প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা জোগাবে। জাতি চিরকাল কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে এই বীরকে।

শহীদ মহিউদ্দিনের সন্তান মোঃ আবুল কালাম, মোছাম্মৎ নাসিমা খাতুন, মোছাম্মৎ শরিফা খাতুন, মোহাম্মদ আবুল কাশেম, মোঃ মনিরুজ্জামান, মোহাম্মদ কামরুল ফারুক(গর্বিত পুলিশ অফিসার) বাবার মত দেশ কে ভালোবাসে,ভালোবাসে দেশের মানুষকে।

মুক্তিযুদ্ধের নারী কমান্ডার১৯৭১ সালে তিনি ছিলেন এসএসসি পরীক্ষার্থী। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে একদিন রাজা'কা'রে'রা তাদের  বাড়ি...
14/03/2026

মুক্তিযুদ্ধের নারী কমান্ডার

১৯৭১ সালে তিনি ছিলেন এসএসসি পরীক্ষার্থী। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে একদিন রাজা'কা'রে'রা তাদের বাড়িতে বাবা হরিপদ বৈদ্যর কাছে চিঠি দিল, “আপনার দুটো মেয়ে আছে, ওদেরকে পা'কবা'হিনীর কাছে তুলে দিতে হবে অন্যথায় পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে হবে”। দুই মেয়ে আশালতা ও তাঁর বোনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হু'মকি পেয়ে হরিপদ বাবু ও স্ত্রী সরলাময়ী ভারতে চলে যাওয়ার চিন্তা করতে থাকেন। দিনও ঠিক হলো। মঙ্গলবার চলে যাবেন তার ঠিক এক দিন আগে সোমবার রাতে এই ঘটনা জেনে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার হেমায়েত বা'হি'নীর প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত উদ্দিন এলেন হরিপদ বৈদ্যের বাড়িতে। হরিপদ বৈদ্যকে বললেন “মাস্টার বাবু ছেলে হোক বা মেয়ে হোক একজনকে মুক্তিযু'দ্ধের জন্য আমাকে দিতে হবে”। পিছনে থেকে আশালতা বলে উঠলো, বাবা আমি যাবো যু'দ্ধে। হেমায়েত উদ্দিন বললেন এইত পেয়ে গেছি। মেয়ের আগ্রহ দেখে বাবাও আর আপত্তি করলেন না। শুধু বললেন, ‘ও নিজে থেকে যু'দ্ধে যেতে চাইলে আমি অবশ্যই বাধা দেব না, দেশের জন্য ওকে আমি উৎসর্গ করলাম।’
আশালতাকে নিজের মাতৃভূমিতে থেকে দেশমাতৃকা তথা মা বোনের সম্মান রক্ষার্থে মুক্তিযু'দ্ধে যোগদানের জন্য উদ্বুদ্ধ করলেন হেমায়েত উদ্দিন। আশালতা উদ্বুদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন মুক্তিযু'দ্ধে যোগ দিবেন। হেমায়েত উদ্দিন খুশি হলেন। আশালতাকে কাছে নিয়ে হ্যান্ডশেক করলেন এবং বললেন, “তুই কালকে সকাল বেলা ৩০-৪০/৪০-৫০ জন মেয়ে গুছিয়ে লেবুবাড়ি স্কুলে আসবি, পারবি?” আশালতা জানালেন পারবো।
হেমায়েত উদ্দিন মুক্তিযু'দ্ধে অংশ নিতে বলেছেন একথা শুনে অন্যরা সবাই সঙ্গে সঙ্গে স্বেচ্ছায় রাজি হলো। ছোট দুই বোন এবং ভাই হরগোবিন্দসহ মোট ৪৫ জন সহপাঠী ও প্রতিবেশী মেয়ে নিয়ে তিনি লাটেঙ্গা লেবুবাড়ী সরকারি প্রাথমিক স্কুলে উপস্থিত হলেন।
আশালতা বৈদ্যের জন্ম ১৯৫৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায়। ১৬ বছর বয়সী আশালতা ৮ ও ৯ নং সেক্টরে কোটালীপাড়া সীমানা সাব সেক্টর কমান্ডার হেমায়েত মহিলা বাহিনীতে যোগ দেন। সেখানে ৩৫০ জন নারী মুক্তিযোদ্ধা বা'হি'নীর একমাত্র ক'মা'ন্ডার ছিলেন আশালতা বৈদ্য।
নেতৃত্ব দিয়েছেন ৪৫ জনের স'শস্ত্র নারী গে'রিলা দলকে। তিনি তাদের নিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। হেমায়েত বাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয় বরিশালের হেরেকান্দি হাইস্কুলে ও লেবুর বাড়ি প্রাইমারি স্কুলে। স্বল্পসময়ের প্রশিক্ষণে আশালতা বৈদ্য অ''স্ত্র পরিচালনা এবং যু''দ্ধকৌশলের উপর আশ্চর্যজনক পারদর্শিতা লাভ করেন। অ''স্ত্র প্রশিক্ষণে সেখানে ফাস্ট হলেন।
এরপর অংশগ্রহণ করলেন বেশ কয়েকটা যু'/দ্ধে যার ভেতর কলাবাড়ি যু/'দ্ধ, হরিনাহাটি যু/'দ্ধ , রামশীল পয়সার হাট যু'/দ্ধ অন্যতম।
আশালতার সাহসিকতায় ক্যাম্পের ২৪ জন নারীকে নিয়ে হেমায়েত উদ্দিনের আদেশে আলাদা একটা নারী কমা'ন্ডো তৈরি করা হয়েছিল, যার নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। যাঁদের কাজ ছিল শ/ 'ত্রুর অবস্থান রে'কি করা, ছদ্মবেশে গে'রিলা আ'ক্র/মণ করা এবং সু'/ই'/সা'/ ইড স্ কো'য়াড হিসেবে কাজ করা। আশালতা সহ তার কমা'ন্ডের সকলেই সু/'ই'/সা/ইড স্কো'য়াড হিসেবে কাজ করার জন্য ছিলেন সদা প্রস্তুত।
রামশীল নদী পাড়ে একদিন লঞ্চে করে রা'/জা'কা'রেরা পা'কি'স্তানি বা'/হি'নীকে সাথে নিয়ে আসে। সেখানে আশালতা এবং তাঁর সহযোদ্ধাদের ৩ ঘণ্টার ও বেশি সময় যু/'দ্ধ হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের জয় হয়েছিল সেদিন।
গোপালগঞ্জে ছোটোখাটো অনেক গেরিলা যু/'দ্ধ ছাড়াও ২২টি বড় যু'/দ্ধে অংশগ্রহণ করেন আশালতা বৈদ্য। শুধু প্রত্যক্ষ যু/'দ্ধে অংশগ্রহণ করেননি, আ'হ/ত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করেছেন নিজ হাতে। এই অপ্রতিরোধ্য নারী যো'দ্ধা সেদিন যু'/দ্ধ'কেই ধ্যানজ্ঞান করেছিলেন।
স্বাধীনতার পর তাদের টিম শরণার্থীদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতেন।
স্বাধীনদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে তিনি উচ্চশিক্ষা শেষ করেন। ১৯৮০-এর দশকে নারী উন্নয়নের লক্ষ্যে গড়ে তোলেন "সূর্যমুখী সংস্থা"। বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দু'র্যোগেও তিনি মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। আশালতা বৈদ্য তার বৈচিত্র্যময় জীবনের সেবামূলক কাজের জন্য ২০০৫ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বাছাই কমিটিতে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। যদিও একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি কোনো রাষ্ট্রীয় উপাধি পাননি।
তেমন কেউ চেনেও না।

কার্টেসি: গিরিধর দে

মেজর নাজমুল হক, তিনিই একমাত্র সেক্টর কমান্ডার, যিনি যুদ্ধকালীন সময়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে তিনি সম্মু...
12/03/2026

মেজর নাজমুল হক, তিনিই একমাত্র সেক্টর কমান্ডার, যিনি যুদ্ধকালীন সময়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে তিনি সম্মুখযুদ্ধেই কেবল অংশ নেননি, একই সঙ্গে স্থানীয় যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছেন লড়াই করার জন্য। ৭ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর বেঁচে ছিলেন তিনি মাত্র ছয় মাস। এই ছয় মাসে সাত নম্বর সেক্টরের অধীনে সমগ্র রাজশাহী, পাবনা ও বগুড়া জেলা, দিনাজপুর ও রংপুরের কিছু এলাকায় অসংখ্য অভিযান পরিচালনা করেন। ইপিআর সদস্য ও স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে নিয়ে নওগাঁ ও বগুড়ার সেনা ক্যাম্পে হামলা করেন তিনি। শত্রুমুক্ত করেন সমগ্র বগুড়া জেলা। এরপর গ্রহণ করেন রাজশাহী ও চাঁপাইপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত করার পরিকল্পনা।

বগুড়া ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ৯১ আইএপি (ইনডিপেনডেন্ট এমুনেশন প্লাটুন)। রংপুরে অবস্থিত ২৩ ব্রিগেডের যাবতীয় গোলাবারুদের সঞ্চিত রাখা হতো এখানেই। মেজর নাজমুল হক প্রথমে এই প্লাটুনের গোলাবারুদ যেন শত্রুর নিয়ন্ত্রণে না যায় তা নিশ্চিত করেন। এরপর বিস্তৃত অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ছাত্র ও যুবকদের সংগঠিত করতেন। কাছাকাছি কোনো স্কুলের মাঠে চলত প্রশিক্ষণ পর্ব। মুক্তিযুদ্ধকে একটি গণযুদ্ধের দিকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থেকেই তিনি প্রথম থেকে উদ্যোগী ছিলেন।

মেজর নাজমুল হক ৭ নম্বর সেক্টরের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, সেই সেক্টরে প্রায় ১৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন। নিয়মিত বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা ছিল প্রায় আড়াই হাজার এবং সাড়ে বারো হাজার মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন গণবাহিনীর সদস্য। এই সেক্টরের আটটি সাব–সেক্টর ছিল। প্রতিটি সাব-সেক্টরের অপারেশনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকতেন। অনেক সময় তিনি নিজেই অভিযানে নেতৃত্ব দিতেন।

মেজর নাজমুল হক ১৯৩৮ সালের ১ আগস্ট চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার আমিরাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা অ্যাডভোকেট হাফেজ আহমদ, মা জয়নাব বেগম। তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে কুমিল্লার ঈশ্বর পাঠশালা থেকে ম্যাট্রিকুলেশন ও ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ঢাকা আহসান উল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে (বর্তমানে বুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময়ই যোগ দেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে। ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দের ১৪ অক্টোবর আর্টিলারী কোরে কমিশন লাভ করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে মেজর পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি রাজশাহী জেলা, পাবনা জেলা, বগুড়া জেলা এবং দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গড়ে ওঠা ৭ নং সেক্টরের কমান্ডার পদে ১৯৭১ এর এপ্রিল থেকে অগাস্ট মাস পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। তরঙ্গপুর ছিল তাঁর যুদ্ধকালীন হেডকোয়ার্টার।তাঁর সেক্টরে তিনি গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করতেন এবং মুক্তিবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিতেন যারা প্রথাগত সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিলো না।প্রায় পনের হাজার মুক্তিযোদ্ধা এ সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন। বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর তাঁর অধীনেই যুদ্ধ করেন।

১৯৭১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মিত্রবাহিনীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে ভারতের শিলিগুড়ি ক্যান্টনমেন্ট থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা ছোট সোনা মসজিদ এর প্রাঙ্গনে মেজর নজমুল হকের সমাধি রয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর মেজর কাজী নুরুজ্জামানকে ৭ম সেক্টরের নতুন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

পরম করুনাময় তাঁকে চিরশান্তির স্থানে আসীন করুন।

সময়টা ১৯৬৯ সালের ১৪ নভেম্বর। সবে লেফটেন্যান্ট থেকে ক্যাপ্টেন হয়েছেন আফতাবুল কাদের। নিয়োগ তখন তার পাকিস্তানের হায়দ্রাবা...
27/02/2026

সময়টা ১৯৬৯ সালের ১৪ নভেম্বর। সবে লেফটেন্যান্ট থেকে ক্যাপ্টেন হয়েছেন আফতাবুল কাদের। নিয়োগ তখন তার পাকিস্তানের হায়দ্রাবাদের ৪০ ফিল্ড আ/র্টিলারি রেজিমেন্টে।
এর মধ্যে কদিন পরপর চিঠি আসে দেশ থেকে। তার ভালোবাসার মানুষ জুলিয়ার চিঠি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে পড়া মুর্শেদা বাহার জুলিয়া আত্মিয়তার সম্পর্কে খালাতো বোন। দারুণ সুন্দর জুলিয়া। আফতাব কাদের‌ও কম নন, তার গলায় ইংরেজি গান শুনে অন্যান্য অফিসাররা তাকে বিখ্যাত হলিউডের নায়ক রক হাডসনের নামে ‘রকি’ বলে সম্বোধন করতেন।
জুলিয়ারা তখন থাকে চট্টগ্রামের দেওয়ান বাজারের সিরাজ-উদ-দৌলা রোডে। আর আফতাবের বাবা ছিলেন চট্টগ্রামের সাবেক ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল কাদের। যদিও তারা থাকতেন পুরাতন ঢাকার ফরিদাবাদ এলাকার লালমোহন পোদ্দার লেনে।
জুলিয়া এবং আফতাব দুজনের পরিবারেরই ইচ্ছে বিয়েটা সেরে ফেলার। কারণ সেনাবাহিনীর চাকরি, সহসা ছুটি মেলে না। ১৯৭১ এর জানুয়ারি মাসে তাই এক বছর ছুটির জন্য আবেদন করলেন ক্যাপ্টেন আফতাব। কিন্তু ছুটি মঞ্জুর হলো দুই মাসের।‌ পাঁচ ফেব্রুয়ারি দেশে এলেন আফতাব। ফেব্রুয়ারির ১৯ তারিখ মহা ধুমধাম করে জুলিয়াদের বাড়ি চট্টগ্রামের দেওয়ান বাজারের সিরাজ-উদ-দৌলা রোডে বিয়ে হলো তাদের। এরই মধ্যে দেশের পরিস্থিতি খারাপ হয়ে গেল।
২৫ মার্চ গ/ণহ/ত্যা/র রাতে নববধূসহ ঢাকার বাড়িতেই ছিলেন আফতাব। গ/ণহ/ত্যা/র পর আফতাব সিদ্ধান্ত নিলেন আর ফিরে যাবেন না পশ্চিম পাকিস্তানের কর্মস্থলে। মার্চের ২৮ তারিখ আফতাব ঢাকা ছেড়ে ফিরে গেলেন চট্টগ্রামে।
.
বিয়ের মাত্র একমাস পার হয়েছে মাত্র। প্রিয় মানুষ জুলিয়াকে নিয়ে মায়ার সংসার। অথচ এক রাতে সব মায়া ত্যাগ করে দেশমাতৃকার টানে বাড়ি থেকে চলে গেলেন আফতাব কাদের। শুরু করলেন এক অনির্দিষ্ট পথে যাত্রা। লক্ষ্য দেশ স্বাধীন করার। চট্টগ্রাম তখনো মুক্তাঞ্চল। ঢাকা চটগ্রাম মহাসড়ক জুড়ে বিভিন্ন পজিশনে ক্যাপ্টেন রফিক (পরবর্তীতে মেজর এবং ১ নং সেক্টর কমান্ডার) এর নেতৃত্বে ইপিআর বাহিনী নিয়েছিল শক্ত অবস্থান। 'জান দেব, তবু রাস্তা ছাড়বো না' -এই মূলমন্ত্র নিয়ে মাটি কামড়ে প্র/তিরক্ষা ব্যুহগুলোতে স্বল্প রসদে লড়ে যাচ্ছিল সেদিন হাজার হাজার ইপিআর।
১৩ এপ্রিল, ১৯৭১
এদিন দুপুরে রামগড় থানার ওসির অফিসে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক এইচ টি ইমাম আর ৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান আলোচনায় ব্যস্ত। এমন সময় থানায় এলেন ৫ ফুট ৭ ইঞ্চির এক সুঠামদেহী যুবক।
এসেই মি/লি/টারি কায়দায় সালাম ঠুকে বললেন, ‘ক্যাপ্টেন আফতাব কাদের, আ/র্টি/লারি, রিপোর্টিং প্রেজেন্ট স্যার।’ মেজর জিয়া পাকিস্তান মি/লি/টারি একাডেমিতে আফতাবের কোর্সের প্লাটুন কমান্ডার ছিলেন। ইতোমধ্যে যু/দ্ধে/র দামামা বেজে উঠেছে। ক্যাপ্টেন আফতাব কাদের ৮ ইস্ট বেঙ্গলের সাথে সম্মুখযু/দ্ধে অংশ নিয়ে মহালছড়িতে ডিফেন্স নিলেন।
সেই যু/দ্ধে/র আগে এই দু/র্ধ/র্ষ মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়টা বলে নিই। ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের ইকবালের জন্ম ১৯৪৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর দিনাজপুর শহরে। যদিও তাদের পৈত্রিক নিবাস ছিল লক্ষ্মীপুর জেলাএ রামগঞ্জ থানার তেওড়ি গ্রামে। তার বাবা আবাস গড়ে তোলেন পুরান ঢাকার ফরিদাবাদ এলাকার লালমোহন পোদ্দার লেনে। সে বাড়িতেই শৈশব কেটেছিল আফতাবুল কাদেরের। বাবা আব্দুল কাদের ছিলেন ইংরেজ আমলের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। আর মা রওশন আরা বেগম গৃহিনী।
বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে তার ছোটবেলা কেটেছে দেশের নানা জায়গায়। ময়মনসিংহের মৃত্যুঞ্জয় স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং আনন্দমোহন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করার পর ভর্তি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে। কিন্তু সে বছরই পা/কিস্তান সে/না/বা/হি/নীতে যোগ দিলেন আফতাব কাদের। দু বছর পর ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান সে/না/বা/হি/নীর আ/র্টি/লারি কোরে কমিশনপ্রাপ্ত হলেন আর এর পরের বছর ১৯৭০ সালে হায়দারাবাদ ক্যান্টনমেন্টে ৪০ ফিল্ড আ/র্টি/লারি রেজিমেন্টে ক্যাপ্টেন হিসেবে যোগ দিলেন।
ক্যাপ্টেন কাদির যখন এই ই/পিআর সৈ/ন্যদের সঙ্গে ফেনীর ছা/গ/ল/নাইয়ার শুভপুর প্র/তিরক্ষায় যোগ দিলেন। পা/কিস্তানিরা হেলিকাপ্টারের সাহায্যে শুভপুরে সৈ/ন্য নামানোর সময় গ্রামবাসীদের সহায়তায় ধ/রে ফেলেন একজন সৈ/ন্যকে। পরবর্তীতে তিনি রামগড় ফিরে আসেন। এখানে তিনি ৫০০ জন তরুণকে নিয়ে গড়ে তোলেন একটি মুক্তি ক্যাম্প। এসব তরুণদের তিনি নিজ হাতে প্র/শিক্ষণ দেওয়া শুরু করলেন।
.
নিজের অধীনস্ত মুক্তিযোদ্ধাদের উজ্জ্বীবিত করতে একটা কথা প্রায়ই বলতেন ক্যাপ্টেন আফতাব কাদের। “একজন পাকিস্তানি সৈ/ন্য/কে খ/ত/ম করার অর্থ হলো এদেশের অন্তত এক লক্ষ নিরীহ মানুষ ও নারীকে নি/র্যা/ত/নের হাত থেকে রক্ষা করা।”
ফেনীতে গিয়ে তিনি শুভপুরের যু/দ্ধে ইপিআর বাহিনীর সাথে যোগ দেন। শুভপুর ব্রিজ এলাকায় তখন পা/কি/স্তানি হা/না/দার বা/হি/নী হেলিকপ্টারের সাহায্যে ছত্রী সে/না নামাচ্ছিল। পা/কি/স্তানি ছত্রীসে/না/দের একজনকে ক্যাপ্টেন আফতাব গ্রামবাসীর সহায়তায় ধরে ফেললেন। বন্দি ছত্রীসে/না/কে নিয়ে ২ এপ্রিল ১৯৭১ রাতে পৌঁছান রামগড় শহরে।
২৪ এপ্রিল ১৯৭১
সেদিন খবর এলো মেজর শওকতের কাছ থেকে। এখনই তাকে মহালছড়িতে ফিরে যাবার নির্দেশ দেয়া হলো। নির্দেশ মতো ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের রওনা দিলেন মহালছড়ির উদ্দেশ্যে। বুড়িঘাটে এসে দেখা হলো লেফটেন্যান্ট মাহফুজ, ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান, হাবিলদার সায়ীদ এবং হাবিলদার তাহেরসহ আরো অনেকের সাথে। বুড়িঘাট থেকে রওনা হয়ে যখন ক্যাপ্টেন কাদেরদের লঞ্চটি একটি দ্বীপে (কাপ্তাই লেকের মধ্যে পাহাড়গুলোকে দ্বীপের মতোই মনে হয়) এসে ভিড়লো তখনই পা/ক বা/হি/নীর একটি ধাবমান লঞ্চ এসে পৌঁছাল সেখানে।
ব/ন্দু/কভা/ঙ্গায় ক্যাপ্টেন আফতাব এর বা/হি/নীকে না পেয়ে শ/ত্রু/পক্ষ কয়েকটি লঞ্চে করে পুরো লেক এলাকায় তাদেরকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল। শ/ত্রু/পক্ষের অ/ত/র্কিত আ/ক্র/মণে ক্যাপ্টেন আফতাব কাদেরের কোম্পানির সদস্যরা এদিক সেদিক ছি/টকে পড়লেন।
শুরু হয় বি/ক্ষি/প্ত গো/লা/গু/লি বিনিময়। শেষ পর্যন্ত ক্যাপ্টেন আফতাবের পাশে থেকে যান হাবিলদার সায়ীদ এবং হাবিলদার তাহের। এদের দুজনের হাতে ছিল এ/ল/এ/ম/জি। তিনটি এ/ল/এ/মজির অনবদ্য গু/ লি ব/র্ষ/ণের ফলে শ/ত্রু/পক্ষ ব্যাপক ক্ষ/য়/ক্ষ/তি স্বীকার করে পিছু হটে গেল। এক ঘণ্টা ধরে চলছিল বুড়িঘাটের এই যু/**দ্ধ। শ/ত্রু/পক্ষ পিছু হটে যাবার পর নিজ বা/হি/নীর সদস্যদেরকে একত্রিত করে মহালছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন ক্যাপ্টেন আফতাব। সাথে লেফটেন্যান্ট মাহফুজ, ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামানসহ আরো বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা।
মুক্তিবাহিনীর অবস্থান তখন সুবিধাজনক ছিল না। উপর্যুপরি বিমান আ/ক্র/মণ চলছিল। রামগড় দখলে নেবার জন্যও পাকিস্তানি বা/হি/নী তখন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছিল। মহালছড়িতে তখন বি/ক্ষি/প্ত সে/না দলগুলোকে একত্রিত করার কাজ চলছিল। উদ্দেশ্য শ/ত্রু/প*ক্ষের উপর শে/ষ আ/ঘা/*ত হা/না।
এদিকে একের পর এক মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচণ্ড হা/ম/লার মুখে ব্যাপক ক্ষ/তি/গ্র/স্ত হয়ে পা/ক/বা/হি/নী তাদের শক্তি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিলো। তাঁরা মি/জোরামের দু’টি বি/দ্রো/হী গ্রুপের সদস্যদের নিজ দলে অন্তর্ভুক্ত করতে শুরু করে। অন্যদিকে স্থল আ/ক্র/ম/ণের সাথে সাথে বিমান ও হেলিকপ্টারের সাহায্যেও শুরু করা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্ভাব্য অবস্থান-ঘাঁটির উপর প্র/বল হা/ম/লা। এ অবস্থায় পার্বত্য এলাকায় পূর্ব ট্রে/নিংবি/হীন মুক্তিযোদ্ধারা ক্রমশ দু/র্ব/ল হয়ে পড়ে। র/ সদ এবং গো/লা/বা*/রু/দ সংকটও দেখা দিলো তাদের।
২৭ এপ্রিল ১৯৭১
সেদিন সকাল থেকে মহালছড়ির অবস্থা থমথমে। এই প্রতিকূল ও দুর্বল মুহূর্তে ২৭ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে হা/না/দার বা/হি/নী/র দ্বিতীয় কমা/ন্ডো ব্যা/টা/লি/য়নের এক কোম্পানি সৈ/ন্য (১৩৬ জন) এবং একটি মি/জো ব্যা/টা/লিয়নকে (১০০০ জন) সঙ্গে নিয়ে আ/ক্র/ম/ণ চালায় মহালছড়িতে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের উপর।
মেজর মীর শওকত এবং চন্দ্রঘোনা পেপার মিলের প্রকৌশলী ইসহাকের নেতৃত্বে ওই সময় শ/ত্রু/দের আ/ক্র/ম/ণ প্র/তি/হত করা হচ্ছিলো। এর মধ্যে হা/না/দা/র বা/হি/নী হেলিকপ্টারযোগে দ্বিতীয় কমা/ন্ডো ব্যা/টালিয়নের আরও এক কোম্পানি সৈ/ন্য এখানে নামিয়ে দিয়ে যায়।
দুই পক্ষের প্র/চণ্ড গো/লা/ গু/লি। এ যু*/দ্ধের মধ্যে বেলা ৩টায় ক্যাপ্টেন আফতাবের নেতৃত্বাধীন মুক্তিযোদ্ধা গ্রুপটি মহালছড়ি এসে পৌঁছালেন। সুদক্ষ যু//দ্ধ কৌশলে টগবগে তরুণ ক্যাপ্টেন আফতাব সঙ্গীদের নিয়ে নামলেন শ//ত্রু মোকাবিলায়। তাদের এ সম্মিলিত কঠিন প্র/তি/রো/ধের মুখে মি/জো বা/হি/নী প্রথম অবস্থায় পিছু হটতে শুরু করে। এতে হা/না/দা/রে/রা বেপরোয়া হয়ে উঠে। তারা মিজোদের সামনে রেখে একটার পর একটা আ/ক্র/ম/ণ চালিয়ে অগ্রসর হতে থাকলো।
প্রতিবারই মুক্তিযোদ্ধারা পাল্টা জবাব দিয়ে ক্ষ/তি/গ্র/*স্ত করেছে শ/ত্রু/দের। মুক্তিযোদ্ধাদের লক্ষ্য করে বে/প/রোয়া গু/*লি ছুঁড়তে ছুঁড়তে এগিয়ে যায়। তিন চারগুণ অধিক সংখ্যক শ/ত্রু/পক্ষ বী/*ভ/*ৎস উল্লাস ধ্বনি দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রায় চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। চরম এ বি/ পজ্জনক অবস্থায় সহযোদ্ধারা পিছু হটার পরামর্শ দেয় ক্যাপ্টেন আফতাবকে।
কিন্তু ক্যাপ্টেন আফতাব তার সহযো*/দ্ধা ছাত্র শওকত, ফারুক এবং দুই ইপিআর সৈ/নি/ক/কে সঙ্গে নিয়ে তিনটি এ/ল/এ/মজির অবিরাম বৃষ্টির গু/লি/ব/র্ষ/ণে কোণঠাসা করে ফেলে শ/ত্রু/দের। এই চরম মুহূর্তে হঠাৎ এক সহযোদ্ধার এ/ল/এ/মজির ফা/য়া/রিং বন্ধ হয়ে গেল! শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার জীবনকে শ/ত্রু:র হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখার তিনটি এ/ল/এ*মজির একটি অচল হয়ে পড়ায় অস্থির হয়ে উঠলেন ক্যাপ্টেন আফতাব।
মেরামতের জন্য দ্রুত অ/স্ত্র/টি তার কাছে নিয়ে আসার নির্দেশের পরও সহযোদ্ধা শওকতের আসতে খানিক দেরি হওয়ায়, ক্যাপ্টেন আফতাব নিজেই ক্র/লিং করে এগিয়ে যেতেই শ/ত্রু/র অ/স্ত্রে/র কয়েকটি গু//লি এসে বেধে তার ডান ব/গ/লের কয়েক ইঞ্চি নিচে এবং পে/টের বাম পাশে।
বৃষ্টির মতো গো/*লা/গু/লির মধ্যেই গুরুতর আ*হ/ত আফতাবকে বহন করে একটু নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন শওকত, ফারুক ও ইপিআরের ড্রাইভার আববাস। সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য জিপ গাড়িযোগে রামগড় আসার পথে শহীদ হন অসম সাহসী মুক্তিযোদ্ধা। অথচ শহীদ আফতাব কাদেরের হাতের মেহেদীর রঙ তখনো শুকায়নি।
ক্যাপ্টেন আফতাব শহীদ হওয়ার পরে তার র/*ক্তভেজা শার্ট আর বিয়ের আংটি স/হযো/*দ্ধারা জেড ফোর্স হেডকোয়ার্টার্সে পাঠিয়ে দেন। যু*/দ্ধের পরে ১৯৭২ সালের শেষের দিকে মায়ের হাত হয়ে জুলিয়ার হাতে আসে শহীদ স্বামী আফতাবের শার্ট ও আংটি। সেই শার্ট আর আংটিই ছিল শহীদ স্বামীর একমাত্র স্মৃতি।
সময়ের পরিক্রমায় ১৯৭৫ সালে আবার বিয়ে হয়েছিল জুলিয়ার। স্বামী ড. শামসুল হুদা যুক্তরাষ্ট্রের জেভিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের শিক্ষক। আজও প্রতিবছর একবার হলেও দেশে আসেন জুলিয়া আর শামসুল হুদা। এয়ারপোর্টে নামার আগেই এয়ারপোর্টের বাইরে অপেক্ষায় থাকে সে/না/বা*/ হি/নীর একটি জিপ। প্রথমেই তারা সেই জিপে করে ছুটে যান খাগড়াছড়ির রামগড়ের কেন্দ্রীয় ক/বরস্থানে। যেখানে শুয়ে আছেন ক্যাপ্টেন আফতাব। স্বামীর ক/ব/রের সামনে দাঁড়ান জুলিয়া। যেখানে শেষ আশ্রয় বাংলার নক্ষত্র বীর সেনানী ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদেরের। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই এপ্রিল মাসেই (২৭ এপ্রিল) শহীদ হয়েছিলেন কিংবদন্তি মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আফতাবুল কাদের (বীর উত্তম)।
যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততোদিন শহীদ আফতাবুল কাদের থাকবেন চির ভাস্বর হয়ে। বীর এই যো/দ্ধার প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।🙏💞
উৎপল কান্তি ধর
কৃতজ্ঞতা: দ্য ডেইলি স্টার
সৌজন্যে: আহমাদ ইশতিয়াক/ বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র

#আফতাবুলকাদের #মুক্তিযুদ্ধ #গিরিধরদে #বাংলাদেশের_দুষ্প্রাপ্য_ছবি_সমগ্র #ইতিহাসেরখোঁজেগিরিধর

যে বয়সে হাতে থাকার কথা স্কুলের বই, দাপিয়ে বেড়ানোর কথা খেলার মাঠ, সেই বয়সে হাতে তুলে নিয়েছে রাইফেল। দেশ মাতৃকার মুক্তির জ...
27/02/2026

যে বয়সে হাতে থাকার কথা স্কুলের বই, দাপিয়ে বেড়ানোর কথা খেলার মাঠ, সেই বয়সে হাতে তুলে নিয়েছে রাইফেল। দেশ মাতৃকার মুক্তির জন্য। এমনই একজন বীর সন্তান এই ছবির সেই বিখ্যাত বালক, চুয়াডাঙ্গা জেলার সুর্যসন্তান বীর মুক্তিযো*দ্ধা নুরুজ্জামান নান্টু। কাব্যিক এই মহা নায়ক আজ ২৬ সে ফেব্রুয়ারী চির বিদায় নিয়েছেন। 🥲

কীর্তিমানের মৃত্যু নাই, আপনিও বেচে থাকবেন আপনার বীরত্ব আর এই কাব্যিক ছবির মাধ্যমে। যতোদিন বাংলাদেশ নামক ভুখন্ড থাকবে ততোদিন। বিনম্র শ্রদ্ধা হে জাতির শ্রেষ্ট সন্তান 🇧🇩🇧🇩🙏

একাত্তরের গণহত্যার সাক্ষী বন্ধু সাংবাদিক গ্যালোওয়ে ৷উৎপল কান্তি ধর :একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্মমত...
12/01/2026

একাত্তরের গণহত্যার সাক্ষী বন্ধু
সাংবাদিক গ্যালোওয়ে ৷

উৎপল কান্তি ধর :
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নির্মমতার সাক্ষী, বাংলাদেশের বন্ধু ,লেখক ও সাংবাদিক জোসেফ গ্যালোওয়ে

একাত্তরে পাকিস্তানীরা বাংলাদেশে যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, ‘গণহত্যা’ হিসেবে তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়েও কাজ করেছেন ,করছিলেন বাংলাদেশের বন্ধু গ্যালোওয়ে।

গ্যালাওয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, একাত্তর সালে দুই বার তাকে ঢাকায় আসতে হয়। প্রথমবার এসে জানুয়ারি থেকে মার্চের শেষ পর্যন্ত ছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে ডিসেম্বরে ঢাকায় এসে বিজয় অর্জন পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করেন তিনি।

২০১৬ সালে নর্থ ক্যরোলিনায় প্রবাসী বাংলোদেশীদের আয়োজনে এক অনুষ্ঠানে তিনি একাত্তরের স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন, “২৫ মার্চ রাত থেকে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নৃশংসতা চালিয়েও পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী দেখানোর চেষ্টা করেছে যে দেশে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। এজন্য ওরা কয়েকজন বিদেশি সাংবাদিক নিয়ে এক সফরের ব্যবস্থা করে। আমিও ছিলাম সেই সফরে”।

ওই সফরে থাকা গ্যালোওয়ে বলছিলেন, ‘তারা সাংবাদিকদের ছোট একটি বিমানে করে দূর থেকে পূর্ব পাকিস্তানের কিছু এলাকা দেখিয়ে বলে সর্বত্র পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে আমাদের বুঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়নি। এজন্য আমি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের আড়ালে চলে গিয়ে, ঢাকার মার্কিন কনস্যুলেটে আশ্রয় নিই’।

ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন কনসাল জেনারেল 'আর্চার কে. ব্লাড 'পাকিস্তানিদের নির্বিচার গণহত্যার ঘটনায় তার কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন গ্যালোওয়ে। তিনি বলেন, “মুক্তিকামী বাঙালির প্রতি সংবেদনশীল এই কূটনীতিক নিজের জীবন ও চাকরির ঝুঁকি নিয়ে কনস্যুলেটের একটি কক্ষ আমাকে ব্যবহারের অনুমতি দেন।”

এরপর ইউনাইটেড প্রেস ইন্টারন্যাশনালের (ইউপিআই) রিপোর্টার গ্যালোওয়ে যুদ্ধের খবর সংগ্রহ করে দেশের বাইরে পাঠানোর কাজ শুরু করেন। তিনি বিভিন্ন সময় লুকিয়ে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকা ঘুরে, কখনও কনস্যুলেটের কর্মচারীদের কাছ থেকে থেকে গণহত্যা, ধ্বংস, ও দুর্ভোগের তথ্য জেনে তা যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিকগুলোয় পাঠাতেন ।

এরপর ফিরে আসেন যুক্তরাষ্ট্রে। কয়েকমাস পর বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ যখন চূড়ান্ত পর্বে, সেই সময়ে ফের ঢাকায় ফেরেন তিনি। পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের বিভিন্ন পর্যায়ের সাক্ষী ছিলেন এই মার্কিন সাংবাদিক।

মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে 'হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল'কে রেডক্রসের আওতায় নেওয়া হলে সাংবাদিক গ্যালোওয়ে তার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। সেখানে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর শেষ সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জেনারেল নিয়াজিকে তার সামরিক ব্যাজ ও অস্ত্র বাইরে রেখে ঢুকতে বাধ্য করেন। এ সময় ক্ষুব্ধ নিয়াজি তাকে গুলি করার হুমকিও দিয়েছিলেন বলে স্মৃতিচারণ করেন গ্যালোওয়ে।

১৬ ডিসেম্বরে বাঙালির অবিস্মরণীয় জয়ের পর গ্যালাওয়ে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী হত্যার স্থান পরিদর্শন করে এই নৃশংসতার সমালোচনা করে কলম ধরেছিলেন এই সাংবাদিক।

হে বন্ধু,বিনম্র শ্রদ্ধাজ্ঞলী ও কৃতজ্ঞতা চিরদিন ৷

10/10/2025

Celebrating my 4th year on Facebook. Thank you for your continuing support. I could never have made it without you. 🙏🤗🎉

Address

Kasor Road
Mymensingh Lunai
2200

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা ও চেতনা প্রোথিতকরণ কেন্দ্র posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share