আমার একটা পায়জামা কেনা দরকার এর লইগ্যা আপনাগো ধারে খয়রাত করতেছি। ৭০ টাকা হইছে আর ৩০ টাকা দরকার। দেবেন স্যার। নামাজ পইরা দোয়া করমু।” এভাবেই বরিশাল নগরীর বিবির পুকুরের পাড়ে বসে রাত সাড়ে নয়টার সময় শীতের একটি গরম পায়জামা কেনার জন্য ভিক্ষা করছিলে সাইদ নামের ৯ বছর বয়সী কাশিপুর এতিমখানা মাদ্রসার একটি শিশু ওর সাথে আলাপচারিতায় জানা গেল জন্মের পর বাবার মুখ দেখেনি মা ওকে দাদির কাছে রেখে অন্যত্র বিয়ে করেছে। এভাবে নগরীর সদর রোড, লঞ্চঘাট, নথুল্লাবাদ বাসষ্ট্যান্ড, শিশু পার্ক, বঙ্গবন্ধু উদ্যান সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রতিদিন চোখে পড়বে এমন শতাধিক সাইদদের। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রচন্ড কনকনে শীতে গায়ে নেই কোন মোটা কাপড় টিং টেং দেহ আর পথচারীদের দিকে ফ্যাল ফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে। কখনও বা ক্ষুধার অন্ন যোগাতে মানুষের কাছে হাত পাতা আবার কখনও বা গায়ের কাপড় চোপড় কেনার জন্য কিছু টাকা সহায়তা চেয়ে পথ শিশুরা দিন পার করলেও ওদের পুণঃবাসনে নেই সরকারী / বেসরকারী কোন সংস্থার উদ্যোগ। পথ শিশুদের নিয়ে কাজ করার জন্য বরিশালে অনেক এনজিও ও সরকারী প্রতিষ্ঠান থাকলেও বিলাসবহুল গাড়ীর কালো গ্লাসের ভিতর থেকে ওদের দেখা যায় না। অথচ ওদের জন্য বরাদ্ধকৃত টাকা দিয়েই চলে এ সমস্ত সংস্থার কর্মকর্তাদের পকেট খরচ। শিশুদের জন্য কাজ করা এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সেইভ দ্যা চিল্ড্রেন, অপরাজেয় বাংলাদেশ এছাড়াও বিভিন্ন নামী দামী সংগঠনের কর্মকর্তারা। পথ শিশুদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন অথবা তাদের উদ্যোগেই পথ শিশুদের সংকট দুর হচ্ছে বিভিন্ন সভা সেমিনারে এমন বুলি আউরিয়ে অথবা পত্রিকা অফিসগুলোতে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে সমাজের মানুষগুলোর কাছ থেকে বাহবা নিলেও মাঠ চিত্রে এর মিল খুজে পাওয়া খুবই কঠিন। অন্যদিকে নগরীর সিটি মেয়র শিশুদের ক্ষেত্রে ভাল কিছু করেন বলে নগর জুড়ে তার সুনাম রয়েছে। কিন্তু একটা পায়জামার জন্য যখন এতিমখানা থেকে পালিয়ে ছোট্ট অবুঝ শিশু রাস্তায় দাড়িয়ে ভিক্ষা করে তখন লিখতে বাধ্য হতে হয়। এসম্পর্কে আলাপ কালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ্যাড. শওকত হোসেন হিরন এ প্রতিবেদককে জানান পথ শিশুরা আমাদেরই একজন। ওদের পুণঃ বাসনের জন্য সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং বেশ কিছু প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন আছে। ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে পথ শিশুদের জন্য ২০ লক্ষ টাকা বাজেটে বরাদ্ধ ছিলো। আসছে বাজেটে পথ শিশুদের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে বলে জানান তিনি। তবে সাধারণ মানুষরা মনে করছেন পথ শিশুদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যদি গুরুত্ব সহকারে তাদের দায়িত্বটা পালন করে তবেই বরিশাল থেকে পথশিশুদের আবাসন সংকট দুর করা সম্ভব হবে।
পথ শিশুর জীবন মান এগিয়ে
অবহেলা নয়,ভালবাসা আর আমাদের প্রচেষ্ট?
গত কয়েক দশকে বাংলাদের আর্থ-সামজিক অবস্থার বিস্ময়কর উন্নতি হয়েছে, শিক্ষার হার বেড়েছে, রিজার্ভ ব্যাংক ফুলে উঠেছে। জাতীয় প্রবৃদ্ধি নামক অচিন পাখিও তরতর করে বেড়ে চলছে। কিন্তু এত সব অর্জন কোন কাজে আসেনি সুবিধা বঞ্চিত পথ শিশুদের। দিন দিন বেড়েই চলেছেে এই সংখ্যা। যে শিশুরা শৈশব আর কৈশোরের অবাধ স্বাধীন জীবনকে বিসর্জন দিয়ে দু-মুঠো ভাতের জন্যে পথে পথে ঘুরছে, কামলা দিচ্ছে, তাদের কাছে রিজার্ভ ব্যাংক আর প্রবৃদ্ধি ফাঁকা বুলি ছাড়া কিছু না। রাজনৈতিক নেতাদের নানান আলোচনা কিংবা বক্তিতায় শুনি দেশ ডিজিটাল হওয়ার পথে নাকি অনেক দূর এগিয়ে গেছে, আমি অল্পবুদ্ধির মানুষ তাই রাজনৈতিক নেতাদের ডিজিটাল আমি ঠিক বুঝি না! আমার সল্প জ্ঞানে যতটুকু বুঝি তা হলো দেশের একটি মানুষও যতদিন পর্যন্ত শিক্ষা-খাদ্য-চিকিৎসা-বাসস্থান সহ মৌলিক অধিকারের বাইরে থাকবে ততদিন পর্যন্ত ডিজিটাল দেশ একটা মিথ্যে লোক দেখানো বুলি হয়ে থাকবে।
যে বয়সে এই সমস্ত শিশুদের যাওয়ার কথা ছিলো স্কুলে, বন্ধুবান্ধবের সাথে খেলার মাঠে উৎসবে মেতে উঠার কথা সেই বয়সে তাদের কে নামতে হয়েছে জীবনযুদ্ধে। আমরা সবাই জানি অভাবের তাড়নায় এরা জড়িয়ে পড়ছে অপরাধের জগতে, মাদকের জগতে। বাংলাদেশে যত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে তার প্রায় সবটুকু এদের দ্বারা সংঘটিত হয়ে থাকে, এমনকি রাজনৈতিক সহিংসতায় এরাই প্রধান সেনা। গাড়িতে আগুন দেওয়া, বোমা মারা, ভাঙচুর করার কাজগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা এদের দ্বারাই সংঘটিত করিয়ে থাকে। মাত্র চার-পাঁচশ টাকার জন্যে এরা মানুষ খুন করতে পারে অবলীলায়। শৈশব থেকেই অন্ধকার অনিশ্চিত একটা পৃথিবীর দিকে তাদের যাত্রা শুরু হয় আর সেই অন্ধকার জীবনের সুযোগ নেয় নষ্ট-ভ্রষ্ট রাজনৈতিক নেতারা।
এত বিপুল সংখ্যক একটা জন গোষ্ঠিকে খাদ্য-শিক্ষা-বাসস্থান সহ নিরাপদ একটা শৈশব থেকে বঞ্চিত করে কি করে আলোকিত বাংলাদেশ হবে? এত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় নিয়ে কোন দল/সরকারের কোন কালে মাথা ব্যাথা দেখলাম না। অথচ একটু পরিকল্পনা মাফিক আন্তরিকতার সহিত কাজ করলে কয়েক বছরের মাঝেই এই পথ শিশু শূন্যের কোটায় আনা সম্ভব। কিভাবে সেটি সম্ভব?
আমার একটা পায়জামা কেনা দরকার এর লইগ্যা আপনাগো ধারে খয়রাত করতেছি। ৭০ টাকা হইছে আর ৩০ টাকা দরকার। দেবেন স্যার। নামাজ পইরা দোয়া করমু।” এভাবেই বরিশাল নগরীর বিবির পুকুরের পাড়ে বসে রাত সাড়ে নয়টার সময় শীতের একটি গরম পায়জামা কেনার জন্য ভিক্ষা করছিলে সাইদ নামের ৯ বছর বয়সী কাশিপুর এতিমখানা মাদ্রসার একটি শিশু ওর সাথে আলাপচারিতায় জানা গেল জন্মের পর বাবার মুখ দেখেনি মা ওকে দাদির কাছে রেখে অন্যত্র বিয়ে করেছে। এভাবে নগরীর সদর রোড, লঞ্চঘাট, নথুল্লাবাদ বাসষ্ট্যান্ড, শিশু পার্ক, বঙ্গবন্ধু উদ্যান সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রতিদিন চোখে পড়বে এমন শতাধিক সাইদদের। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রচন্ড কনকনে শীতে গায়ে নেই কোন মোটা কাপড় টিং টেং দেহ আর পথচারীদের দিকে ফ্যাল ফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে। কখনও বা ক্ষুধার অন্ন যোগাতে মানুষের কাছে হাত পাতা আবার কখনও বা গায়ের কাপড় চোপড় কেনার জন্য কিছু টাকা সহায়তা চেয়ে পথ শিশুরা দিন পার করলেও ওদের পুণঃবাসনে নেই সরকারী / বেসরকারী কোন সংস্থার উদ্যোগ। পথ শিশুদের নিয়ে কাজ করার জন্য বরিশালে অনেক এনজিও ও সরকারী প্রতিষ্ঠান থাকলেও বিলাসবহুল গাড়ীর কালো গ্লাসের ভিতর থেকে ওদের দেখা যায় না। অথচ ওদের জন্য বরাদ্ধকৃত টাকা দিয়েই চলে এ সমস্ত সংস্থার কর্মকর্তাদের পকেট খরচ। শিশুদের জন্য কাজ করা এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সেইভ দ্যা চিল্ড্রেন, অপরাজেয় বাংলাদেশ এছাড়াও বিভিন্ন নামী দামী সংগঠনের কর্মকর্তারা। পথ শিশুদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন অথবা তাদের উদ্যোগেই পথ শিশুদের সংকট দুর হচ্ছে বিভিন্ন সভা সেমিনারে এমন বুলি আউরিয়ে অথবা পত্রিকা অফিসগুলোতে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে সমাজের মানুষগুলোর কাছ থেকে বাহবা নিলেও মাঠ চিত্রে এর মিল খুজে পাওয়া খুবই কঠিন। অন্যদিকে নগরীর সিটি মেয়র শিশুদের ক্ষেত্রে ভাল কিছু করেন বলে নগর জুড়ে তার সুনাম রয়েছে। কিন্তু একটা পায়জামার জন্য যখন এতিমখানা থেকে পালিয়ে ছোট্ট অবুঝ শিশু রাস্তায় দাড়িয়ে ভিক্ষা করে তখন লিখতে বাধ্য হতে হয়। এসম্পর্কে আলাপ কালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ্যাড. শওকত হোসেন হিরন এ প্রতিবেদককে জানান পথ শিশুরা আমাদেরই একজন। ওদের পুণঃ বাসনের জন্য সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং বেশ কিছু প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন আছে। ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে পথ শিশুদের জন্য ২০ লক্ষ টাকা বাজেটে বরাদ্ধ ছিলো। আসছে বাজেটে পথ শিশুদের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে বলে জানান তিনি। তবে সাধারণ মানুষরা মনে করছেন পথ শিশুদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যদি গুরুত্ব সহকারে তাদের দায়িত্বটা পালন করে তবেই বরিশাল থেকে পথশিশুদের আবাসন সংকট দুর করা সম্ভব হবে।
– রাইসুল ইসলাম অভি
01/01/2020
মানুষ হিসেবে আমরা অনেক বেশী আবেগপ্রবণ। কিন্তু কথায় আছে, আবেগ দিয়ে ভালোবাসা হয় জীবন চলে না। পথশিশুদের জীবনেও হয়তো ভালোবাসা আছে কিন্তু জীবন চলছে অন্য ভাবে। যে বয়সে শিশুর স্কুলে যাওয়ার কথা, বিভিন্ন খেলা করে হাসি আনন্দে বেড়ে ওঠার কথা। অথচ সে বয়স থেকেই শিশুকে ধরতে হচ্ছে সংসারের হাল। মোটর, রিকশা, সাইকেল নির্মাণ, বিদ্যুৎ,ইটভাটা, চা ষ্টল,হোটেল,রেষ্টুরেন্টে, রাজমিস্ত্রীর সাহায্যকারী, ওয়েলডিং কারখানায়, গার্মেন্টস,জুটমিল,কৃষিসহ বিভিন্ন কাজে শিশুরা জীবন জীবিকার পথ খোঁজে। অনেকেই ট্যাক্সি, ম্যাক্সি, টেম্পু,মাইক্রোবাসের হেলপার,কেউবা চালাচ্ছে রিক্সা,কেউ কাঠমিস্ত্রির সহকারী। অভাবের তাড়নায় বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে শিশুরা। জলন্ত কয়লার লেলিহান আগুনের শিখা, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করছে শিশুরা। এতে ওদের শারীরিক, মস্তিস্ক গঠনেও বাঁধা সৃষ্টি হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করার ফলে ওদের জীবনে অনেক দূর্ঘটনা ঘটে। ফলে কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এসব শিশুরা,অনেক সময় পঙ্গুত্ব বরণ করে, জীবন শক্তি ক্ষয়ে অনেক শিশু মারাও যাচ্ছে। দেশের সরকার এবং সচেতন নাগরিকগণ এ ব্যপারে নির্বাক থাকছেন। অথচ তাদের একটু সহানুভূতিই বদলে দিতে পারতো এসব শিশু শ্রমিকদের জীবন।
ছিন্নমূল শিশু বা পথ শিশু যে নামেই ডাকা হোক না কেন পথই ওদের আপন বাড়ি
টোকাই, ছিন্নমূল শিশু বা পথ শিশু যে নামেই ডাকা হোক না কেন পথই ওদের বাড়ি, পথই ওদের ঘর। শহরের বিভিন্ন রাস্তাঘাট, হোটেল-রেষ্টুরেন্ট, অফিস-আদালতের সামনে ওদের বিচরণ, দিনরাত জীবন যাপন। এসব শিশুরা বেড়ে উঠেছে অধিকার বঞ্চনার অনিশ্চিত জীবনকে সঙ্গী করে। আশ্রয়হীনতা, দরিদ্রতা, জন্ম পরিচয় না থাকার কারনেই ওরা পথ শিশু হিসেবে গন্য হচ্ছে। মৌলিক অধিকার বঞ্চিত এসব শিশুরা দেশের বোঝা হয়ে অনিশ্চিত ও নিরাপত্তাহীনতার মাঝে বেড়ে উঠেছে। পরবতর্ীতে তারা চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এর মত অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় এসব শিশুদের পুর্নবাসন, তাদের জন্য কর্মমূখী শিক্ষার ব্যবস্থা করা গেলে এসব শিশুরা হয়ত সুনাগরিক হয়ে গড়ে উঠতে পারবে। পটুয়াখালীর বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা ও শিশুদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব ছিন্নমূল শিশুদের দেখা যায়। মলি্ল্লকা রেস্তোরার সামনে প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ জন শিশুকে ভিক্ষুক রূপে দেখা যায়। ওদের বয়স ৫-১২ বছরের মধ্যে। রেস্তোরায় ঢোকার মুখে ওরা কারও হাত কারও পা জড়িয়ে ধরতে দেখা যায়। মলি্লকা রেস্তোরার ম্যানেজার আকরাম জানান, মালিকের নির্দেশে প্রতিদিনের অতিরিক্ত খাবারগুলো ওদের দেয়া হয়
04/01/2017
দেখুন শিশুরা কত সুন্দর ফুলের মালার বদলে শ্রমের মালা গেতে চলেছে । এরা কিনতু এ দেশেরই সন্তান এদের জন্য কি একটুও কষ্ট হয় না হৃদয়তা কি একটু কি কাদেনা ।
04/11/2016
ছিন্নমূল শিশু বা পথ শিশু যে নামেই ডাকা হোক না কেন পথই ওদের আপন বাড়ি
টোকাই, ছিন্নমূল শিশু বা পথ শিশু যে নামেই ডাকা হোক না কেন পথই ওদের বাড়ি, পথই ওদের ঘর। শহরের বিভিন্ন রাস্তাঘাট, হোটেল-রেষ্টুরেন্ট, অফিস-আদালতের সামনে ওদের বিচরণ, দিনরাত জীবন যাপন। এসব শিশুরা বেড়ে উঠেছে অধিকার বঞ্চনার অনিশ্চিত জীবনকে সঙ্গী করে। আশ্রয়হীনতা, দরিদ্রতা, জন্ম পরিচয় না থাকার কারনেই ওরা পথ শিশু হিসেবে গন্য হচ্ছে। মৌলিক অধিকার বঞ্চিত এসব শিশুরা দেশের বোঝা হয়ে অনিশ্চিত ও নিরাপত্তাহীনতার মাঝে বেড়ে উঠেছে। পরবতর্ীতে তারা চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এর মত অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় এসব শিশুদের পুর্নবাসন, তাদের জন্য কর্মমূখী শিক্ষার ব্যবস্থা করা গেলে এসব শিশুরা হয়ত সুনাগরিক হয়ে গড়ে উঠতে পারবে। পটুয়াখালীর বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা ও শিশুদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব ছিন্নমূল শিশুদের দেখা যায়। মলি্ল্লকা রেস্তোরার সামনে প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ জন শিশুকে ভিক্ষুক রূপে দেখা যায়। ওদের বয়স ৫-১২ বছরের মধ্যে। রেস্তোরায় ঢোকার মুখে ওরা কারও হাত কারও পা জড়িয়ে ধরতে দেখা যায়। মলি্লকা রেস্তোরার ম্যানেজার আকরাম জানান, মালিকের নির্দেশে প্রতিদিনের অতিরিক্ত খাবারগুলো ওদের দেয়া হয়
27/10/2016
আমার একটা পায়জামা কেনা দরকার এর লইগ্যা আপনাগো ধারে খয়রাত করতেছি। ৭০ টাকা হইছে আর ৩০ টাকা দরকার। দেবেন স্যার। নামাজ পইরা দোয়া করমু।” এভাবেই বরিশাল নগরীর বিবির পুকুরের পাড়ে বসে রাত সাড়ে নয়টার সময় শীতের একটি গরম পায়জামা কেনার জন্য ভিক্ষা করছিলে সাইদ নামের ৯ বছর বয়সী কাশিপুর এতিমখানা মাদ্রসার একটি শিশু ওর সাথে আলাপচারিতায় জানা গেল জন্মের পর বাবার মুখ দেখেনি মা ওকে দাদির কাছে রেখে অন্যত্র বিয়ে করেছে। এভাবে নগরীর সদর রোড, লঞ্চঘাট, নথুল্লাবাদ বাসষ্ট্যান্ড, শিশু পার্ক, বঙ্গবন্ধু উদ্যান সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রতিদিন চোখে পড়বে এমন শতাধিক সাইদদের। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রচন্ড কনকনে শীতে গায়ে নেই কোন মোটা কাপড় টিং টেং দেহ আর পথচারীদের দিকে ফ্যাল ফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে। কখনও বা ক্ষুধার অন্ন যোগাতে মানুষের কাছে হাত পাতা আবার কখনও বা গায়ের কাপড় চোপড় কেনার জন্য কিছু টাকা সহায়তা চেয়ে পথ শিশুরা দিন পার করলেও ওদের পুণঃবাসনে নেই সরকারী / বেসরকারী কোন সংস্থার উদ্যোগ। পথ শিশুদের নিয়ে কাজ করার জন্য বরিশালে অনেক এনজিও ও সরকারী প্রতিষ্ঠান থাকলেও বিলাসবহুল গাড়ীর কালো গ্লাসের ভিতর থেকে ওদের দেখা যায় না। অথচ ওদের জন্য বরাদ্ধকৃত টাকা দিয়েই চলে এ সমস্ত সংস্থার কর্মকর্তাদের পকেট খরচ। শিশুদের জন্য কাজ করা এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সেইভ দ্যা চিল্ড্রেন, অপরাজেয় বাংলাদেশ এছাড়াও বিভিন্ন নামী দামী সংগঠনের কর্মকর্তারা। পথ শিশুদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন অথবা তাদের উদ্যোগেই পথ শিশুদের সংকট দুর হচ্ছে বিভিন্ন সভা সেমিনারে এমন বুলি আউরিয়ে অথবা পত্রিকা অফিসগুলোতে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে সমাজের মানুষগুলোর কাছ থেকে বাহবা নিলেও মাঠ চিত্রে এর মিল খুজে পাওয়া খুবই কঠিন। অন্যদিকে নগরীর সিটি মেয়র শিশুদের ক্ষেত্রে ভাল কিছু করেন বলে নগর জুড়ে তার সুনাম রয়েছে। কিন্তু একটা পায়জামার জন্য যখন এতিমখানা থেকে পালিয়ে ছোট্ট অবুঝ শিশু রাস্তায় দাড়িয়ে ভিক্ষা করে তখন লিখতে বাধ্য হতে হয়। এসম্পর্কে আলাপ কালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ্যাড. শওকত হোসেন হিরন এ প্রতিবেদককে জানান পথ শিশুরা আমাদেরই একজন। ওদের পুণঃ বাসনের জন্য সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং বেশ কিছু প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন আছে। ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে পথ শিশুদের জন্য ২০ লক্ষ টাকা বাজেটে বরাদ্ধ ছিলো। আসছে বাজেটে পথ শিশুদের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে বলে জানান তিনি। তবে সাধারণ মানুষরা মনে করছেন পথ শিশুদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যদি গুরুত্ব সহকারে তাদের দায়িত্বটা পালন করে তবেই বরিশাল থেকে পথশিশুদের আবাসন সংকট দুর করা সম্ভব হবে।
– রাইসুল ইসলাম অভি
27/10/2016
এই বয়সে তার শ্রমের কথা না এখন বোজার পরিবর্তে তার হাতে বই খাতা কলম থাকার কথা কেউ কি নেই তার হাতে একটি বই একটি খাতা একটি কলম দেওয়ার মতো ।
এতা কি তার মাথায় ভারী জিনিস নেওয়ার বয়স ।?????
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Telephone
Website
Address
Munshiganj
1500