31/01/2022
আমার একটা পায়জামা কেনা দরকার এর লইগ্যা আপনাগো ধারে খয়রাত করতেছি। ৭০ টাকা হইছে আর ৩০ টাকা দরকার। দেবেন স্যার। নামাজ পইরা দোয়া করমু।” এভাবেই বরিশাল নগরীর বিবির পুকুরের পাড়ে বসে রাত সাড়ে নয়টার সময় শীতের একটি গরম পায়জামা কেনার জন্য ভিক্ষা করছিলে সাইদ নামের ৯ বছর বয়সী কাশিপুর এতিমখানা মাদ্রসার একটি শিশু ওর সাথে আলাপচারিতায় জানা গেল জন্মের পর বাবার মুখ দেখেনি মা ওকে দাদির কাছে রেখে অন্যত্র বিয়ে করেছে। এভাবে নগরীর সদর রোড, লঞ্চঘাট, নথুল্লাবাদ বাসষ্ট্যান্ড, শিশু পার্ক, বঙ্গবন্ধু উদ্যান সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রতিদিন চোখে পড়বে এমন শতাধিক সাইদদের। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রচন্ড কনকনে শীতে গায়ে নেই কোন মোটা কাপড় টিং টেং দেহ আর পথচারীদের দিকে ফ্যাল ফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে। কখনও বা ক্ষুধার অন্ন যোগাতে মানুষের কাছে হাত পাতা আবার কখনও বা গায়ের কাপড় চোপড় কেনার জন্য কিছু টাকা সহায়তা চেয়ে পথ শিশুরা দিন পার করলেও ওদের পুণঃবাসনে নেই সরকারী / বেসরকারী কোন সংস্থার উদ্যোগ। পথ শিশুদের নিয়ে কাজ করার জন্য বরিশালে অনেক এনজিও ও সরকারী প্রতিষ্ঠান থাকলেও বিলাসবহুল গাড়ীর কালো গ্লাসের ভিতর থেকে ওদের দেখা যায় না। অথচ ওদের জন্য বরাদ্ধকৃত টাকা দিয়েই চলে এ সমস্ত সংস্থার কর্মকর্তাদের পকেট খরচ। শিশুদের জন্য কাজ করা এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সেইভ দ্যা চিল্ড্রেন, অপরাজেয় বাংলাদেশ এছাড়াও বিভিন্ন নামী দামী সংগঠনের কর্মকর্তারা। পথ শিশুদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন অথবা তাদের উদ্যোগেই পথ শিশুদের সংকট দুর হচ্ছে বিভিন্ন সভা সেমিনারে এমন বুলি আউরিয়ে অথবা পত্রিকা অফিসগুলোতে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে সমাজের মানুষগুলোর কাছ থেকে বাহবা নিলেও মাঠ চিত্রে এর মিল খুজে পাওয়া খুবই কঠিন। অন্যদিকে নগরীর সিটি মেয়র শিশুদের ক্ষেত্রে ভাল কিছু করেন বলে নগর জুড়ে তার সুনাম রয়েছে। কিন্তু একটা পায়জামার জন্য যখন এতিমখানা থেকে পালিয়ে ছোট্ট অবুঝ শিশু রাস্তায় দাড়িয়ে ভিক্ষা করে তখন লিখতে বাধ্য হতে হয়। এসম্পর্কে আলাপ কালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ্যাড. শওকত হোসেন হিরন এ প্রতিবেদককে জানান পথ শিশুরা আমাদেরই একজন। ওদের পুণঃ বাসনের জন্য সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং বেশ কিছু প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন আছে। ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে পথ শিশুদের জন্য ২০ লক্ষ টাকা বাজেটে বরাদ্ধ ছিলো। আসছে বাজেটে পথ শিশুদের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে বলে জানান তিনি। তবে সাধারণ মানুষরা মনে করছেন পথ শিশুদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যদি গুরুত্ব সহকারে তাদের দায়িত্বটা পালন করে তবেই বরিশাল থেকে পথশিশুদের আবাসন সংকট দুর করা সম্ভব হবে।