18/08/2026
মাঝে মাঝে অদ্ভুত কিছু চিন্তা আসে। অন্য দশটা সাধারণ ভাবনার মতো নয়।
হঠাৎ চোখের সামনে সব পরিষ্কার হয়ে যায়। এতদিন কীসের পেছনে ছুটে সময় নষ্ট করছিলাম আর আসলে কী করা উচিত ছিল, সব এক মুহূর্তে মনে পরে যায়।ভেতরটা কেমন যেন কেঁপে ওঠে। একটা জেদ চাপে, আজ থেকে সব বদলে ফেলব।
তারপর ঠিক তিনদিন পর, সব আবার আগের মতো।
এমন ঘোরের মুহূর্ত কমবেশি সবারই আসে। পার্থক্যটা কে ভেবেছে তাতে নয়, বরং কে সেটাকে ধরে রাখতে পেরেছে, তার ওপর।
এই বিরল চিন্তাগুলোকে একটা অতিথি ভাবুন।
অতিথি এলে বসতে দিতে হয়, যত্ন করতে হয়। অবহেলা করলে সে যেমন মুখ ঘুরিয়ে চলে যায়, দ্বিতীয়বার আর সহজে দরজায় কড়া নাড়ে না।
অতিথি ভাবনাগুলোকেও আটকে রাখার উপায় হলো সেগুলোকে একটা অবয়ব দেওয়া।
যতক্ষণ সে নিছকই চিন্তা, তার কোনো ওজন নেই। হাওয়ায় উড়ে যেতে পারে যেকোনো সময়। চিন্তাকে তাই শব্দে রূপান্তরিত করতে হয়, শব্দকে কাজে, আর কাজকে অভ্যাসে। অভ্যাস আর হাওয়ায় ওড়ে না, সেটা তখন হয়ে ওঠে জমাট বাঁধা
বাস্তবতা।
কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই রূপান্তরটা প্রথম ধাপেই ভেঙে পড়ে।
এর পেছনের কারণটা কোনো বড়সড় ট্র্যাজেডি নয়। খুব সাধারণ একটা ব্যাপার: অলস একটা সন্ধ্যা। আর উদ্দেশ্যহীন স্ক্রলিং।
যে ভাবনাটা আপনার জীবনটা ঘুরিয়ে দিতে পারত, সেটা স্রেফ মরে যায়। কারণ ওই দুই ঘণ্টায় আপনার মাথায় বাইরের আরও তিনশোটা আবর্জনা ঢুকে পড়ে, যার একটাও আপনার কাজের নয়। ভিড়ের ধাক্কায় আসল অতিথি কখন যে হারিয়ে যায়, টেরই পাওয়া যায় না। এই অতিথিকে ধরে রাখার একটাই শর্ত, নীরবতা। এটা কোনো বিলাসিতা নয়, আবশ্যকতা।
যে ঘরে অনবরত লোক ঢুকছে আর বেরোচ্ছে, সেখানে বসে গভীর কোনো আলাপ জমানো যায় না। কিছু সময়ের জন্য তাই দরজাটা বন্ধ করতে হয়। ফোনটা দূরে ছুড়ে ফেলতে হয়। ফাঁকা মুহূর্তগুলোকে জোর করে সস্তা বিনোদন দিয়ে না ভরে, প্রয়োজনে তাকে খালিই পড়ে থাকতে দিতে হয়।
শুরুতে দমবন্ধ লাগবে। এই অস্বস্তিটাই আসলে আসক্তির টান, মন তার চেনা সস্তা খোরাক খুঁজছে। কয়েকদিন পর এই ছটফটানিটা আর থাকবে না। তখন নীরবতাকে আর শাস্তি মনে হবে না, মনে হবে একটা বিস্তীর্ণ আশ্রয়। আর ঠিক সেই আশ্রয়েই আপনার কাঙ্ক্ষিত অতিথি নিশ্চিন্তে বসতে পারবে।
আজ হয়তো এমন একটা চিন্তা আপনার কাছেও এসেছে। সে কি আজ রাতে আপনার ঘরেই থাকছে, নাকি কাল সকালের ভিড়ে মুখ লুকিয়ে পালাচ্ছে? নির্ভর করছে আপনার আতিথেয়তার উপর।