01/02/2026
বিক্রমপুরের স্থাপত্যশৈলীর অমর কীর্তি: সোনারং জোড়া মঠ
আপনার দেওয়া বাকি তথ্যগুলো এখানে গুছিয়ে সাজানো হলো:
নির্মাণকাল: আনুমানিক ১৮৪৩ সালে (মতান্তরে ১৮৪৮ সাল) নির্মিত। এটি মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার সোনারং গ্রামে অবস্থিত। ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে এই মঠটি টিকে আছে।
নির্মাতা: তৎকালীন বিক্রমপুরের বিখ্যাত হিন্দু জমিদার কালীচরণ মজুমদার। তিনি ছিলেন একজন প্রভাবশালী এবং দানশীল ব্যক্তি।
নির্মাণের উদ্দেশ্য: কালীচরণ মজুমদার তার বাবা ও মায়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই জোড়া মঠ বা মন্দিরটি নির্মাণ করেন।
বড় মঠ (পশ্চিমেরটি): এটি তিনি তার বাবার স্মরণে নির্মাণ করেছিলেন এবং এটি মূলত একটি কালী মন্দির।
ছোট মঠ (পূর্বেরটি): এটি তিনি তার মায়ের স্মরণে নির্মাণ করেছিলেন এবং এটি একটি শিব মন্দির।
স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য:
উচ্চতা: বড় মঠটির উচ্চতা প্রায় ১৫০ ফুট (প্রায় ৪৬ মিটার), যা এটিকে বাংলাদেশের অন্যতম উঁচু মঠ হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। ছোট মঠটির উচ্চতা বড়টির চেয়ে কিছুটা কম।
কারুকাজ: মঠের দেয়ালে চুন-সুরকি দিয়ে অপূর্ব সব কারুকাজ করা হয়েছে। এর উপরিভাগে অসংখ্য ছোট ছোট খোপ বা ছিদ্র রয়েছে।
পাখিদের আবাস: এই মঠের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর খোপগুলোতে হাজার হাজার টিয়া পাখি এবং শালিক বাসা বাঁধে। বছরের পর বছর ধরে এটি পাখিদের এক অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
পুকুর: মঠের সামনে একটি বিশাল পুকুর রয়েছে, যার সান বাঁধানো ঘাট এক সময় মঠের সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করত।
বর্তমান অবস্থা: দীর্ঘকাল অযত্নে থাকার পর মঠের চূড়ার স্বর্ণখণ্ড এবং কারুকাজ করা অনেক অংশ চুরি হয়ে গিয়েছিল। তবে সম্প্রতি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে মঠটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যার ফলে এটি তার পুরনো আভিজাত্য অনেকটা ফিরে পেয়েছে। এটি এখন পর্যটকদের জন্য একটি জনপ্রিয় আকর্ষণ।