মাদরাসাতুল আকাবির আলইসলামিয়া, মুন্সীগঞ্জ

মাদরাসাতুল আকাবির আলইসলামিয়া, মুন্সীগঞ্জ

Share

দারুল উলুম দেওবন্দের মহান আকাবিরের আদর্শ ও চেতনা লালিত ইসলামী ও জেনারেল শিক্ষার সমন্বিত যুগোপযোগী আদর্শ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

18/03/2026

ভর্তি চলছে! ভর্তি চলছে!
২০২৬-২৭ ইং শিক্ষাবর্ষে সকল বিভাগে ভর্তি চলছে!

প্রিয় ভাই/বোন!
আপনি কি সর্বাধুনিক পাঠদান পদ্ধতিতে আপনার সন্তানকে বিশুদ্ধভাবে কুরআনুল কারীম শিক্ষা দিতে চান?

আপনি কি আপনার সন্তানকে স্কুলশিক্ষার সাথে সমন্বিত দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চান?

আপনি কি আপনার সন্তানকে বাংলা, গণিত ও ইংরেজী শিক্ষার পাশাপাশি সুদক্ষ হাফেজ ও আলেম বানাতে চান?

তাহলে আপনার সন্তানকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান- মাদরাসাতুল আকাবির আলইসলামিয়ায় আপনাকে স্বাগতম!

#অবস্থান : নয়াগাঁও মাজারসংলগ্ন ভবন, সদর, মুন্সীগঞ্জ (প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন কলেজ থেকে প্রায় ৩০০ গজ পশ্চিমে অবস্থিত)

আমাদের বিভাগসমূহ :

#আদর্শ_নূরানী_বিভাগ
(আধুনিক পদ্ধতিতে পাঠদানের মাধ্যমে মাত্র ১ বছরে কুর‌আনুল কারীম তিলাওয়াতের যোগ্যতা অর্জন)

#স্ট্যান্ডার্ড_নাজেরা_বিভাগ
(মশকের সর্বাধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করে কুর‌আনুল কারীম বিশুদ্ধকরণ ও হিফজের উপযোগীকরণ)

#হিফজুল_কুরআন_বিভাগ
(পৃথিবীর বিখ্যাত ক্বারীদের তিলাওয়াত অনুকরণে মাশককরণ)

এছাড়া স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে পবিত্র কুরআন শেখার সুব্যবস্থা।

তাই আসুন। দেখুন এবং সিদ্ধান্ত নিন।

সার্বিক যোগাযোগ : 01914-089122

09/03/2026

ভর্তি চলছে! ভর্তি চলছে!

প্রিয় ভাই/বোন!
আপনি কি সর্বাধুনিক পাঠদান পদ্ধতিতে আপনার সন্তানকে বিশুদ্ধভাবে কুরআনুল কারীম শিক্ষা দিতে চান?

আপনি কি আপনার সন্তানকে স্কুলশিক্ষার সাথে সমন্বিত দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চান?

আপনি কি আপনার সন্তানকে জাগতিক শিক্ষার পাশাপাশি সুদক্ষ হাফেজ ও আলেম বানাতে চান?

তাহলে আপনার সন্তানকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান- মাদরাসাতুল আকাবির আলইসলামিয়ায় আপনাকে স্বাগতম!

অবস্থান : নয়াগাঁও মাজারসংলগ্ন ভবন, সদর, মুন্সীগঞ্জ (প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন কলেজ থেকে ৩০০ গজ পশ্চিমে অবস্থিত)

আমাদের বিভাগসমূহ :

# আদর্শ নূরানী বিভাগ (আধুনিক পদ্ধতিতে পাঠদান)

# স্ট্যান্ডার্ড নাজেরা বিভাগ (মশকের সর্বাধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন)

# হিফজুল কুরআন বিভাগ (পৃথিবীর বিখ্যাত ক্বারীদের তিলাওয়াত অনুকরণে)

এছাড়া স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে পবিত্র কুরআন শেখার সুব্যবস্থা।

তাই আসুন। দেখুন এবং সিদ্ধান্ত নিন।

সার্বিক যোগাযোগ : ০১৯১৪-০৮৯১২২

16/01/2026

আগামীকালের বেফাক পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ একটি আমল।
মুফতী তাকী উসমানী হাফিযাহুল্লাহ এর পক্ষ থেকে পরীক্ষায় কামিয়াবি ও সফলতার মুজাররব আমল৷
=========================
আগামীকাল থেকে একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে কওমী মাদ্রাসার সর্ববৃহত শিক্ষাবোর্ড বেফাকের ৪৯ তম কেন্দ্রীয় বোর্ড পরীক্ষা৷
আমাদের জামিয়া আল-হেরা টাঙ্গাইলেও কাল থেকে বেফাক ছাড়া বাকি জামাতের বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে ইনশাআল্লাহ৷
ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে৷

তো এই পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হল, অনেক সময় প্রশ্নের জবাব পড়া সত্ত্বেও ভুলে যায়, বা স্বরণে থাকেনা৷
তাদের জন্য এই আমল-

শাইখুল ইসলাম মুফতি তাকী উসমানী হাফিজাহুল্লাহ বলেন, আমার সম্মানিত পিতা হযরত মুফতি শফি' সাহেব রহ. আমাকে একটা আমল শিখিয়েছেন। আমলটি হল- যখন তুমি পরীক্ষার হলে যাবে, তখন পরীক্ষার খাতা খোলার পূর্বে ডান হাতের আঙ্গুলগুলির উপর کٓہٰیٰعٓصٓ এই পদ্ধতিতে পড়বে- প্রথমে ছোট আঙ্গুল كَ বলে বন্ধ করবে। তারপর প্রত্যেক হরফ পড়ে এক এক আঙ্গুল বন্ধ করবে। এরপর كُفِيْتُ বলবে। পরে حٰمٓ
ও عٓسٓقٓ এই পদ্ধতিতে পড়বে- حَا বলে ছোট আঙ্গুল খুলবে। এরপর প্রত্যেক হরফ পড়ে এক এক আঙ্গুল খুলবে। সর্বশেষ حُمِيْتُ বলবে। আমি আমার সকল ইমতেহান বা পরীক্ষায় এই আমল করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, সকল পরীক্ষায় আল্লাহ তাআ'লা আমাকে পূর্ণ কামিয়াবি ও সফলতা দান করেছেন।

(ইয়াদে কিস্তি নাম্বার ২৯ মাসিক আল বালাগ শা'বান ১৪৪১হি.)

আল্লাহ তাআলা সমস্ত পরীক্ষার্থীদেরকে পূর্ণ সফলতা দান করুন, আমীন৷

12/01/2026

দরসকে আকর্ষণীয় করার ৮টি টিপস

আজ আমাদের জামিয়ায় এসেছিলেন মনোবিজ্ঞানের আলোকে শিক্ষক-প্রশিক্ষণের জন্য পরিচিত মুফতি সালমান হাফি.। তার নিজস্ব প্রশিক্ষণ সেন্টার রয়েছে যার নাম দ্বীনিয়াত বাংলাদেশ (Deeniyat Bangladesh)। সচরাচর তিনি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ দেন না, তবে জামিয়ার নায়েবে মুহতামিম হযরত মাওলানা Masrur Hasan হাফি.-এর আমন্ত্রণে আজ তিনি জামিয়ায় তাশরিফ আনেন এবং তাদরিসের অঙ্গনে প্রবেশ-উদ্যত তাখাসসুসের ছাত্রদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রাখেন, মাশাআল্লাহ।

তার আলোচনা থেকে এই টিপসগুলো তুলে ধরছি-

১। শিক্ষকতার গুরুত্ব ও দায়িত্ব মাথায় রেখে দরসে বসা। আমরা শুধু শিক্ষকতার আজমত বা মর্যাদা মাথায় রেখে দরসে বসি, ফলে ছাত্র কোনও ছোটখাটো ভুল করলেও আমরা রেগে যাই।

শিক্ষদের উচিত, নিজ কাজের গুরু্ত্ব ও দায়িত্ব মাথায় রাখা যে, একটি জাতি বিনির্মাণের দায়িত্ব আমার কাঁধে অর্পিত। আমার সামনে যারা বসে আছে, তাদেরকে আদর্শ মানুষ ও ওয়ারিসে আম্বিয়া করে গড়ে তোলার জন্য আমাকে বসানো হয়েছে। এই ভাবনা থাকলে শিক্ষক ছাত্রের প্রতি যত্নশীল হবেন। একটি ইট বানাতেও যত্নের প্রয়োজন, সুতরাং আদর্শ জাতি নির্মাণের জন্য কতটা যত্নের প্রয়োজন হতে পারে!

২। ছাত্রদের আজমত দিলে রেখে দরসে বসা। আমাদের আকাবির নিজদেরকে ‘খাদিমুত তলাবা’ বলতেন। হাদিসে তালিবে ইলমের ফজিলত বেশি বর্ণিত হয়েছে। তালিবে ইলমের জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেওয়া হয়, সকল মাখলুক তালিবে ইলমের জন্য দোয়া করে ইত্যাদি।

উস্তাদের দিলে তালিবে ইলমের আজমত থাকলে তিনি তাকে ‘গাধা’ বলে গালি দেবেন না, তাকে চড়-লাথি মারবেন না। অথচ আমরা মনে করি, তালিবে ইলম আমাদের গোলাম, তাদের সঙ্গে আমরা যে আচরণই করি, সব বৈধ।

দারুল উলুম দেওবন্দের একজন উস্তাদের কথায় কষ্ট পেয়ে এক ছাত্র বাড়ি চলে গিয়েছিল। তিনি ওই ছাত্রের বাড়িতে গিয়ে তাকে খুশি করে তার মালামাল নিজ মাথায় নিয়ে তাকে মাদরাসায় নিয়ে এসেছিলেন। এমনই ছিল তাদের দিলে ছাত্রদের আজমত।

৩। ছাত্রদের হক মাথায় নিয়ে দরসে বসা। প্রত্যেক ছাত্রের উস্তাদের উপর চারটি হক রয়েছে; ১। মানুষ হিসেবে, ২। প্রতিবেশি হিসেবে, ৩। মুসলমান হিসেবে, ৪। তালিবে ইলম হিসেবে। ছাত্রটি সাধারণ মেধাবি হলে আরেকটি যুক্ত হবে, ৫। দুর্বল হিসেবে।

শিক্ষক যদি এই হকগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখেন, তাহলে তিনি দরসের সময় ইত্যাদিতে খেয়ানত করবেন না, ছাত্রদেরকে গালিগালাজ করবেন না।

৪। উস্তাদ-ছাত্রের দিলের সংযোগ স্থাপন করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি কৌশলে দিলের সংযোগ স্থাপন করতেন।

ক. উত্তম সম্বোধনের মাধ্যমে। সেটা হতে পারে ভালোবাসাপূর্ণ ব্যাপক সম্বোধন, যেমন, يا غلام إني أعلمك كلمات إلخ কিংবা সরাসরি নাম দ্বারা সম্বোধন, যেমন, يا أبا ذر، يا معاذ ইত্যাদি।

খ. অধিক ইন্দ্রীয়কে সক্রিয় করার মাধ্যমে। ছাত্রদের সামনে এমন কথা বা এক্টিভিটি করা, যার মাধ্যমে তাদের অধিক ইন্দ্রীয় সচল হয়। যেমন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, من يأخذ مني خمس خصال। এই ‘দেওয়া-নেওয়া’ শব্দের মাধ্যমে অধিক ইন্দ্রীয় সচল করেছেন।

গ. ব্লকিং টেকনিকের মাধ্যমে। যেমন উক্ত হাদিসে ‘পাঁচ’ সংখ্যা বলার মাধ্যমে সাহাবিদের মনোযোগ পাঁচে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সবাই পাঁচটি বিষয়ের জন্য প্রতীক্ষমান ছিল। এভাবে আমাদেরও ক্লাসের শুরুতে বলতে হবে, আজ আমি তোমাদেরকে তিনটি বিষয় শেখাব বা তিনটি আলোচনা করব। এভাবে ছাত্ররা মনোযোগী হবে। অন্যদিকে এর জন্য উস্তাদের মুতালায়া করতে হবে এবং সবকের পরিকল্পনা করতে হবে।

৫। শিক্ষকের মনে করতে হবে যে, আমি আমার জানা বিষয় শোনাতে এসেছি। শেখাতে এসেছি, এই ধারনা নিয়ে না বসা। কারণ, আমাদের মস্তিষ্ক জানা বিষয় বারবার চর্চা করতে বিরক্তিবোধ করে। ফলে শেখানোর ধারনা নিয়ে দরসে গেলে এক কথা বারবার বলতে বিরক্তিবোধ হবে। দুর্বল ছাত্রদের জন্য বারবার বলতে মন চাইবে না। অন্যদিকে শোনানোর ধারনা থাকলে কাজটি আনন্দদায়ক মনে হবে। যেমন, হেফজখানার ছাত্র এক পড়া বারবার শোনাতে বিরক্ত হয় না। এমনিভাবে পেশাদার বক্তারাও এক ওয়াজ বারবার করতে বিরক্তিবোধ করেন না।

৬। নিজকে ছাত্রদের সমবয়সী মনে করে দরসে বসা। কারণ, মানুষকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য সময়বয়সী মানুষের প্রয়োজন হয়। শিশুরা শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারে, কিন্তু বড়দের সঙ্গে পারে না। কাজেই নিজকে সমবয়সী মনে করলে ক্লাস আনন্দময় হবে।

শিশুর সঙ্গে শিশুসুলভ আচরণ করতে হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ নাতির জন্য ঘোড়া সেজেছেন, হযরত আয়শার সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছেন। শিশুদের দুষ্টুমিকে অপরাধ মনে করা যাবে না, কারণ দুষ্টুমিই তার স্বভাবের দাবি।

৭। ছাত্রের আকলকে নিজের আকলের সমান মনে না করা। শিক্ষক যদি নাহবেমির পড়ান, আর তাকরির করেন কাফিয়ার, তার কারণ হল তিনি ছাত্রকে নিজের সমান ভাবছেন। সুতরাং তাদেরকে তাদের আকল অনুযায়ী পড়াতে হবে।

৮। ছাত্রদের প্রতি দয়াপ্রবণ ও স্নেহশীল হতে হবে। তাদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ না করে নম্রতাপূর্ণ আচরণ করা। তাদের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করা।

(ইতোপূর্বে আমি ছাত্রদেরকে শাসনের বিষয়ে একাধিকবার লিখেছি। অনেকে বলেছেন, শাসন-পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত লিখতে। এখন থেকে কেউ পরামর্শ চাইলে তাকে দ্বীনিয়াতের কোর্স করতে বলে দেব, ইনশাআল্লাহ।)
©নাঈম আবু বকর

Photos from মাদরাসাতুল আকাবির আলইসলামিয়া, মুন্সীগঞ্জ's post 06/01/2026

আমাদের মাদরাসার কিন্ডারগার্টেন শাখার ২০২৬ ইংরেজি শিক্ষাবর্ষের বই উৎসব। শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে এতে অংশগ্রহণ করেছে এবং নতুন বই পেয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেছে।
#ব‌ই_উৎসব_২০২৬

07/11/2025

আমাদের প্রাণপ্রিয় উস্তাদে মুহতারাম হযরত মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ হাফিজাহুল্লাহ (আদীব হুযুর)।
শিক্ষা ও দীক্ষার কাজে একজন নীরব সাধক, কর্মবীর আলেম। কওমী মাদরাসার মহলে শিক্ষা ও চিন্তা বিপ্লবে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। সংস্কার ও চিন্তার বিপ্লব নিয়ে একা ছুটে চলা এই মহা নায়ক ইতিহাসের এক গৌরবময় তারকা হয়ে থাকবেন ইনশাআল্লাহ।
হযরতের সুস্বাস্থ্য ও সুদীর্ঘ নেক হায়াতের জন্য আল্লাহর কাছে পার্থনা করি এবং সকলের কাছে দোআ কামনা করি।

ক'দিন আগে চোখের সানি অপারেশন হয়েছে। আল্লাহর কৃপায় এই চোখে কতশত কাজ করেছেন এই জীবনে এবং এখনো করেই চলছেন রাতদিন। সংক্ষেপে তাঁর জীবন-কর্ম ও কৃতিত্ব জেনে নেওয়া যাক।

#পরিচিতি

আবু তাহের মিসবাহ। ২২ রজব, ১৩৭৫ হিজরী [মোতাবেক ১৯৫৬ সালের ৬ মার্চ] মঙ্গলবার জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মাওলানা মিসবাহুল হক, একজন দুনিয়াবিমুখ খোদাভীরু আলেম ছিলেন। মাতা সত্যিকারের নেককার ও সম্ভ্রান্ত মহিলা। দেশের বাড়ী চান্দিনা থানা কুমিল্লা জেলায়। পারিবারিকভাবে তাঁরা ঢাকায় বাস করতেন।



মায়ের কাছেই হুযুর পড়াশোনা আরম্ভ করেন। ছোটবেলায় হুযুরের আম্মা হুযুরকে আরবীও পড়িয়েছেন। পরে ভর্তি হন জামেয়ো কোরআনিয়া, লালবাগ মাদরাসায়। কুরআন হিফয করেন এখানেই। হাফেজ্জী হুযুর রহ. প্রতিষ্ঠিত নূরিয়া মাদরাসায় দরসে নিযামী পড়েন।
একসময় আবার চলে আসেন লালবাগে। হিদায়া জামা‘আত সম্পন্ন করে আপন উস্তায মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ মুহাদ্দিছ ছাহেব হুযুরের নির্দেশে চলে যান জামিয়া পটিয়ায়। সেখানে ১৩৯৭ হিজরী [মোতাবেক ১৯৭৭ সালে] দাওরাতুল হাদীস সমাপ্ত করেন।



হুযুরের শিক্ষকজীবনের যাত্রা শুরু হয় ঢাকা যাত্রাবাড়ী মাদরাসায়। পরে কিছুদিন মালিবাগ জামিয়ায় অধ্যাপনা শেষে হাফেজ্জী হুযুর রহ. এর নির্দেশে নূরিয়া মাদরাসায় আসেন এবং একাধারে ১৫বছর শিক্ষকতা করেন। ১৪১৩ হিজরী [মোতাবেক ১৯৯২ সালে] নূরিয়া মাদরাসা ছেড়ে হুযুরের আব্বা ও হাফেজ্জী হুযুরের দু‘আয় এবং পরমপ্রিয় উস্তায আল্লামা আব্দুল হাই পাহাড়পুরী রহ. এর নির্দেশ ও তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠা করেন মাদরাসাতুল মাদীনাহ। সেখানে জন্ম হয় মাদানী নেসাবের।



কর্মজীবনের শুরুতে আদীব হুযুর বেশ কিছুদিন ইসলামিক ফাউন্ডেশনে কাজ করেছেন। জীবনের প্রথম অযীফা তিনি এখান থেকেই লাভ করেন। হুযুরের রচিত অধিকাংশ কিতাব প্রথমে মোহাম্মদী লাইব্রেরী হতে বের হয়। বর্তমানে তাঁর সমস্ত কিতাব নিজস্ব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান দারুলকলম হতে প্রকাশ পায়।



হাফেজ্জী হুযুরের বড়ছেলে আহমদুল্লাহ আশরাফ সাহেবের কন্যাকে বিবাহ করেছেন। একছেলে দু‘মেয়ের গর্বিত জনক তিনি। ছেলে মুহম্মদকে গড়ে তুলেছেন তাঁর স্বপ্নপূরণের পরম সারথিরূপে। মুহম্মদ বিন মিসবাহ বর্তমানে বিবাহিত। (তিনিও একছেলের বাবা) বাবার সুসন্তান। উভয় মেয়েকে তুলে দিয়েছেন যোগ্য দু‘জন আলিমে দ্বীনের হাতে। বড়জামাই মাওলানা হাবীবুর রহমান মুনীর নদবী-কে গড়ে তুলছেন জীবনসংগ্রামের সহযোদ্ধারূপে সেই ছোটবেলা থেকে। মাওলানা সালমানের সঙ্গে ছোট মেয়ের আকদ সম্পন্ন হয় নবীর দেশ আরবে।



নূরিয়ার শিক্ষকজীবনে হুযুর “اقرأ” (ইক্বরা) নামে আরবী মাসিক বের করেন। যা পরবর্তীতে “القلم” (আলকলম) আরবী পত্রিকা নামে বের হয়। এছাড়া ১৪২০ হিজরী [মোতাবেক ১৯৯৯ সালে] তাঁর হাতে জন্ম লাভ করে বাংলা আলকলম পত্রিকা। যা পুষ্প ডাকনামে সাহিত্যের দিশারী হয়ে আজো পর্যন্ত নবীন ও কঁচিকাঁচাদের সাহিত্যচর্চার রাহনুমায়ী করছে। এখন পর্যন্ত পুষ্প তার তৃতীয় প্রকাশনাকাল অতিক্রম করেছে।



✧ #আবু_তাহের_মিসবাহ ✧

সুবিদিত নাম। শুধু একটি নাম নয়; একটি বিপ্লব, একটি ইনকিলাব। সত্যিকারার্থেই একটি মিসবাহ, একটি প্রদীপ্ত প্রদীপ। সবার কাছেই পরিচিত। আমাদের জীবন উদ্যানের দরদী মালী, আঁধার রাতের আলোর দিশারী। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় এক অধ্যায়ের নাম “আদীব হুযুর”। বাঙালি আলিমসমাজ যাঁরা মাতৃভাষায় ইসলামচর্চার পথিকৃৎ, তিনি তাঁদের মাঝে এক অবিনাশী চেতনার আঁতুরঘর।

দেশের শীর্ষস্থানীয় আলিমে দ্বীন। মানুষ গড়ার প্রবাদপুরুষ। পুষ্পকলিকে পূর্ণ ফুল হয়ে ফোঁটাতে ও বিকশিত করতে এবং তার সুবাস চতুর্দিকে ছড়িয়ে দিতে বিরামহীন সাধনা করে যাচ্ছেন।। জীবনভর সাধনারত আছেন উম্মাহ ও ইলমী অঙ্গনের উন্নতির প্রচেষ্টায়। আরবী ভাষা নিয়ে নিরন্তর ফিকিরকামী এ আত্মনিবেদিত মহান সাধক জীবনের সোনালি মুহূর্তগুলো বিকিয়ে দিয়েছেন শ্রম, সাধনা ও ত্যাগের উপাখ্যান তৈরিতে। জীবনের প্রভাততারা ও সন্ধ্যাতারার ভূমিকায় ছিলেন শাইখুল হাদীস আল্লামা আব্দুল হাই পাহাড়পুরী রহ.।



পটিয়ায় অধ্যয়নকালীন তাঁর জীবনের আলোকবর্তিকারূপে আবির্ভূত হন আল্লামা সুলতান যাওক নাদাবী দা.বা.। আরবীভাষার যা কিছু যাওক ও রুচি হুযুর লাভ করেছেন, তার শিকড় প্রোথিত হয় যাওক ছাহেব হুযুরের সান্নিধ্যেই। জীবননদীর বহতা স্রোতে শিক্ষকদের আদব রক্ষায় থেকেছেন সদা তৎপর; ফলস্বরূপ ভূষিত হয়েছেন যাওক ছাহেবের ‘প্রিয়ছাত্র’-অভিধায়। বরিত হয়েছেন উস্তাযদের মুখনিঃসৃত নানা প্রার্থনায়।



সময় এবং সময়ের ভগ্নাংশবলীর হিফাযতে যত্নবান মনোভাব লালন করে আসছেন জীবন বিনির্মাণের রাঙাপ্রভাত থেকেই। সূচনালগ্নেই পণ করেছেন সূচীবদ্ধ সুশৃঙ্খল জীবন গঠনের। হাতে নিয়েছেন শিক্ষাসংস্কারের ‘‘সিন্দাবাদী হাল’’। এগিয়ে চলেছেন সংস্কারধর্মী অনির্বাণ মশাল হাতে।



আধুনিক ও সংস্কারবাদী ‘মুজাদ্দিদ’ বলে প্রথমেই ‘‘ভালোমন্দ’’ শুনেছিলেন অনেক পরিচিত ও অপরিচিত সজ্জন পুরুষদের কাছ থেকে। কটাক্ষের ঢেউ ধেয়ে চলেছে তখন থেকেই। সমালোচনার সূতিকাগারে পরিণত হয়েছিলেন একদিন। থমকে যাননি; রুখে দাঁড়িয়েছেন তবুও। এগিয়ে গেছেন দরদী মালীর বেদনা নিয়ে ও ভালোবাসা ছড়িয়ে। শুধু এক নতুন ভোরের আশায়। একটি সুন্দর সকালের প্রতীক্ষায়।



যারা কটাক্ষের অতিশয়তায় মুখ ফিরিয়েছিলেন তাদের অনেকেই তাঁকে সাদরে বরণ করে নিয়েছেন। সাফল্যের নিশান সবে উড়াতে শুরু করেছেন তিনি। মানযিল অনেক দূর। এখনো অনেকটা পথ বাকি। তাই তিনি থেমে নেই । অবিরাম চলেছেন ভবিষ্যতের দিকে। সেই ত্যাগ-সাধনার ধোঁয়ায় সাফল্যের ছোঁয়া পেতে শুরু করেছে অনেকে।

খ্যাতির আকাশে কখনও উড়েননি। তিনি চান না সেই আকাশে উড়তে। খ্যাতি দিয়ে মানুষ মাপা যায় না তা তিনি জানেন ভালো করেই। তাই নির্জনতা তাঁর প্রিয় সঙ্গ। সেখানে বন্ধু কেবল কলম ও কালি। জ্ঞান ও কর্মরাই সেখানে সন্ধ্যাপ্রদীপ। তারাই সেই নিঃসঙ্গতাকে আলোয় আলোয় ভরিয়ে তোলে।



তবু মহৎজনদের কর্ম, ত্যাগ ও অবদান চাপা পড়ে থাকে না। দিগন্তবিস্তৃত আলো ছড়ায় সূর্যের সারথি হয়ে। জগতজুড়ে খুশবু বিলায় গোলাপের আরশি হয়ে।

তাঁর আলোয় দিগন্ত ছেয়ে যাবে উজ্জল চাঁদোয়ায়। তাঁর কর্মসুবাস সৃষ্টিজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে মায়াবী মুখরতায়।

আল্লাহ তাআলা হুজুরকে হায়াতে তাইয়্যেবাহ দান করেন…!

#রচনাবলী
-----------

#নেসাবী_কিতাব
-----------
১. এসো আরবী শিখি ১
২. এসো আরবী শিখি ২
৩. এসো আরবী শিখি ৩
* এসো আরবী শিখি (মাজমূআ)
৪. এসো কোরআন শিখি ১
৫. এসো কোরআন শিখি ২
৬. এসো কোরআন শিখি ৩
৭. এসো কোরআন শিখি ৪
৮. এসো ছারফ শিখি
৯. এসো নাহব শিখি
১০. এসো ফিকহ শিখি
১১. এসো বালাগাত শিখি
১২. এসো উর্দূ শিখি ১
১৩. এসো উর্দূ শিখি ২
১৪. আত তামরীনুল কিতাবিয়্যু
১৫. আত তারীকু ইলা তাফাসীরিল কুরআনিল কারীম ১
১৬. আত তারীকু ইলা তাফসীরিল কুরআনিল কারীম ২
১৭. আত তারীকু ইলা তাফসীরিল কুরআনিল কারীম ৩

#তালীকাত
-------
১/১৮. তাইসীরুল ফিকহিল মুয়াসসার
২/১৯. কাছাছুন নাবিয়্যীন ১
৩/২০. কাছাছুন নাবিয়্যীন ২
৪/২১. কাছাছুন নাবিয়্যীন ৩
৫/২২. কাছাছুন নাবিয়্যীন ৪
৬/২৩. মুখতাসারুল কুদূরী
৭/২৪. আল ক্বিরাআতুর রাশিদাহ ১
৮/২৫. আল ক্বিরাআতুর রাশিদাহ ২

#মাদানী_মাকতাব_নেসাব
------------
১/২৬. বাংলায় বিসমিল্লাহ ১
২/২৭. বাংলায় বিসমিল্লাহ ২
৩/২৮. কায়দায় বিসমিল্লাহ
৪/২৯. নাযেরায় বিসমিল্লাহ
৫/৩০. আমাদের আল্লাহ
৬/৩১. ছোটদের মুসহাফ

#অনুবাদসাহিত্য
-----------
১/৩২. জীবনপথের পাথের
২/৩৩. আপনার আমানত
৩/৩৪. ইতিহাসের কাঠগড়ায় হযরত মো'আবিয়া রা.
৪/৩৫. তোমাকে ভালোবাসি হে নবী!
৫/৩৬. মুসলিম উম্মাহর পতনে বিশ্বের কী ক্ষতি হলো!?
৬/৩৭. আমার স্মৃতি; কিছু সুখের, কিছু দুঃখের ১
৭/৩৮. আমার স্মৃতি; কিছু সুখের, কিছু দুঃখের ২
৮/৩৯. পশ্চিম দিগন্তে, পূর্ব দিগন্তে
৯/৪০. মসজিদের মর্মবাণী
১০/৪১. গীবত
১১/৪২. আরকানে আরবাআ
১২/৪৩. প্রাচ্যের উপহার
১৩/৪৪. যোহাল ইসলাম ১
১৪/৪৫. যোহাল ইসলাম ২
১৫/৪৬. যোহাল ইসলাম ৩
১৬/৪৭. আল মোরতাযা
১৭/৪৮. মাযহাব কী ও কেন?
১৮/৪৯. মাকামে ছাহাবা
১৯/৫০. মাওলানা মুহাম্মাদ ইলয়াস রহ. ও তাঁর দ্বীনি দাওয়াত
২০/৫১. রিয়াযুছ ছালিহীন
২১/৫২. মুনতাখাব আহাদীছ
২২/৫৩. ফাযায়েলে আ'মাল
২৩/৫৪. হেকায়াতে ছাহাবা
২৪/৫৫. ফাযায়েলে ছাদাকাত
২৫/৫৬. হিদায়া ১
২৬/৫৭. হিদায়া ২
২৭/৫৮. হিদায়া ৩
২৮/৫৯. হিদায়া ৪
২৯/৬০. সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস ২

#বাংলাসাহিত্য
----------
১/৬১. এসো কলম মেরামত করি
২/৬২. বাইতুল্লাহর মুসাফির
৩/৬৩. বাইতুল্লাহর ছায়ায়
৪/৬৪. তুরস্কে তুর্কিস্তানের সন্ধানে
৫/৬৫. ইসলামকে জানতে হলে
৬/৬৬. আমার ঈমান
৭/৬৭. দরদী মালীর কথা শোনো ১
৮/৬৮. দরদী মালীর কথা শোনো ২
৯/৬৯. দরদী মালীর কথা শোনো ৩
১০/৭০. আমার রামাযান: রহমতের দশদিন
১১/৭১. আমার রামাযান: মাগফিরাতের দশদিন
১২/৭২. আমার রামাযান: নার থেকে নাজাতের দশদিন
১৩/৭৩. আমার মা আমার জান্নাত
১৪/৭৪. হায়াতে মুহাদ্দিস

#সম্পাদনা_সাহিত্য
-------------
১/৭৫. হাদীসের আলো জীবনের পাথেয়
২/৭৬. তাওবা ইস্তিগফারের হাকিকত

#শিশুসাহিত্য
---------
১/৭৭. গাযযার সেই মেয়েটি
২/৭৮. আমি গাযযার মেয়ে, গাযযা
৩/৭৯. আমার দু'আ-মুনাজাত
৪/৮০. চাঁদ দু'টুকরো হলো
৫/৮১. ছোটদের সীরাত সিলসিলা ১
৬/৮২. ছোটদের সীরাত সিলসিলা ২
৭/৮৩. ছোটদের সীরাত সিলসিলা ৩
৮/৮৪. ছোটদের সীরাত সিলসিলা ৪
৯/৮৫. ছোটদের সীরাত সিলসিলা ৫

(সিরাত সিলসিলা: মক্কায় নবীজী, মদীনায় নবীজী, জিহাদের ময়দানে নবীজী ১, জিহাদের ময়দানে নবীজী ২, নবীজী এমন ছিলেন ১, নবীজী এমন ছিলেন ২, শিশুদের প্রতি নবীজীর ভালোবাসা, নবীজীর মো'জিযা, নবীজী বলেছেন, তুমি না এলে...)

১০/৮৬. শিশু আকীদা সিলসিলা ১
১১/৮৭. শিশু আকীদা সিলসিলা ২
১২/৮৮. শিশু আকীদা সিলসিলা ৩

(শিশু আকীদা সিলসিলা: আল্লাহ, প্রথম মানুষ, ফিরিশতা, মাটির ঘর, আসমানী কিতাব, নবী ও রাসূল, কিয়ামত, শেষ বিচার, জান্নাত, জাহান্নাম)

#ফাযায়েল_সিলসিলা
১২/৮৯. ঈমান শিখি
১৩/৯০. নামায পড়ি ১
১৪/৯১. নামায পড়ি ২
১৫/৯২. আল্লাহকে ঝণ দেই

#সম্পাদিত_মাসিক_পত্রিকা
---------------------
১/৯৩. القلم
২/৯৪. পুষ্পসমগ্র ১
৩/৯৫. পুষ্পসমগ্র 2
* আল কলম (পুষ্প)
৪/৯৬. আরাকান সংখ্যা
৫/৯৭. আল কুদস সংখ্যা
৬/৯৮. তৃতীয় প্রকাশনা ৩
৭/৯৯. তৃতীয় প্রকাশনা ৪
৮/১০০. তৃতীয় প্রকাশনা ৫
৯/১০১. তৃতীয় প্রকাশনা ৬
১০/১০২. তৃতীয় প্রকাশনা ৭
১১/১০৩. তৃতীয় প্রকাশনা ৮
১২/১০৪. কাশ্মীর সংখ্যা
১৩/১০৫. তৃতীয় প্রকাশনা ১০
১৪/১০৬. তৃতীয় প্রকাশনা ১১
১৫/১০৭. তৃতীয় প্রকাশনা ১২

#রিসালা
------
১/১০৮. رسائل المصباح

#অভিধান
-------
১/১০৯. আল মানার (বাংলা-আরবী)
২/১১০. আল ওয়াসীত (আরবী-বাংলা)

#কোরআন_তরজমা
--------
১/১১১. কোরআনুল কারীমের তারজুমানী

#সম্ভাব্য_প্রকাশিতব্য
--------------
* আত্মজীবনী
** নেসাবী কিতাব
* উন্দুলুসের সফরনামা
* মাদানী নেসাব কী ও কেন?
* এসো কলম মেরামত করি ২
* পুষ্পসমগ্র ৩ (তৃতীয় প্রকাশনা ১-১২)

22/09/2025

| একটি শব্দ এবং আমাদের আজকের মনোজগৎ |

ঘটনা: ০১
আমি তখন জাওয়ার মাদরাসায় পড়ি। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। পাশেই খাঁ বাড়ি। সেই বাড়ির একজন লেখক আছেন। হঠাৎ হঠাৎ বাড়ি আসেন। একদিন কৌতূহল জাগল লেখককে দেখার। একজনের সঙ্গে গেলাম তার সঙ্গে দেখা করতে। তিনি বৈঠকঘরেই ছিলেন। আমাকে দেখে খুব সুন্দর করে আদুরে ভাষায় কাছে ডাকলেন। এরপর অন্যদিকে মনোযোগ দিলেন। আমি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বসতে বললেন। জানতে চাইলেন আমরা বাংলা, ইংরেজি, গণিত ইত্যাদি পড়ি কি না! আমি বললাম, ‘পড়ি তো’। আমি কোনো বাংলা কবিতা মুখস্থ পারি কি না জানতে চাইলেন। প্রথমে আমি আমাদের পাঠ্য বইয়ের ‘মুনাজাত’ কবিতাটি বলতে শুরু করি। ‘শুনো দয়াময় আরজু আমার...’ বলতেই তিনি থামিয়ে আরেকটি বলতে বললেন। ‘এই করিনু পণ মোরা এই করিনু পণ’ বলতেই আবার থামালেন। বললেন রবীন্দ্রনাথের কোনো কবিতা জানো? আমি ‘মেঘের কোলে রোদ হেসেছে...’ শুনালাম। তিনি সামনে থাকা লোকজনকে বললেন, “দেখো, এইসব মেধাবী ছেলেদের জীবনটাই নষ্ট করছে মাদরাসাগুলো। পড়াশোনার নামে ‘ভিক্ষা’ আর লিল্লাহ-সদকা খাওয়ানো শিখাচ্ছে।”

আমার খারাপ লাগল। বের হয়ে চলে এলাম। তিনি ছিলেন কথা সাহিত্যিক রাহাত খান।

ঘটনা: ০২
আমার খুব কাছের আত্মীয়। তিন ছেলের মধ্যে বড় দুই ছেলে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়েছে। পরিবারের ছোটটাকে মাদরাসায় পড়ানোর নিয়ত করেছে। ছোট ছেলেও সেইভাবেই মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছে। পঞ্চম শ্রেণি পাশ করে মাদরাসায় ভর্তি হয় ছেলেটি। খুব উৎসাহ নিয়ে পড়তে থাকে। মাদরাসার শিক্ষকগণের কাছে বেশ সমাদৃত হয় সে।

দুই বছর পর একদিন হঠাৎ শুনি তাকে আবার স্কুলে ফেরত আনা হয়েছে। আমি তার সঙ্গে কথা বলি। সে জানায়, “আমাকে সবাই বলে সারা জীবন ‘ভিক্ষা’ করে নাকি খাইতে হবে মাদরাসায় পড়লে। আমার বড় ভাইদের গোলামি করেই নাকি আমার জীবন চলবে। আমার ভয় লাগতে শুরু করেছে। তাই মাদরাসা ছেড়ে দিয়েছি।”

ঘটনা: ০৩
দুই হাজার তিন সাল। অনার্স প্রথম বর্ষের নন মেজর বিষয় সমাজ কর্মের ভূমিকা আমাদের পাঠ্য। সমাজকল্যাণ বিভাগে ক্লাস হয় আমাদের। খুব আগ্রহ নিয়ে ক্লাস করছি।

সমাজের নানা বিষয় নিয়ে নতুন নতুন জিনিস শিখছি। স্যারও খুব মজা করে ক্লাস নেন। সোস্যাল ইন্টারেকশন, মৌল-মানবিক চাহিদা ইত্যাদি বিষয়ের ক্লাস উপভোগ করছি।

একদিন আমাদের ক্লাসের বিষয় ছিল সামাজিক সমস্যা। সেই সমস্যার মধ্যে ‘ভিক্ষাবৃত্তি’ অন্যতম একটি। ভিক্ষাবৃত্তির সংজ্ঞা বলা হয়েছিল অনেকটাই এমন: ‘ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্য মানুষের কাছ থেকে হাত পেতে যা নেয়; সেই নেওয়াটাকে যদি পেশা হিসেবে গ্রহণ করে, তাহলে তা ভিক্ষাবৃত্তি নামে অভিহিত হবে।’ বহুদিন আগের ক্লাস লেকচার। কিছু শব্দ এদিক-সেদিক হতে পারে। এই সংজ্ঞায় ‘ব্যক্তিগত মৌলিক চাহিদা’ কথাটা গুরুত্বপূর্ণ আমাদের এই লেখার জন্য।

স্যার তখন ভিক্ষাবৃত্তির তালিকা দিতে গিয়ে বললেন, মাজার, মসজিদ, মাদরাসার নামে জনগণের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়াও ভিক্ষাবৃত্তি। ক্লাসে আমরা কয়েকজন আপত্তি জানালাম। স্যার বললেন, ‘দেখো, আমি নিজেও মসজিদ ও মাদরাসার জন্য কালেকশন করাকে ভিক্ষাবৃত্তি মনে করি না। কিন্তু সমাজকল্যাণ এইটা মনে করে। তোমরা পড়তে এসেছো। পরীক্ষা দিবে নম্বর পাবে। পাশ করবে। এর বাইরে সিরিয়াসলি নিয়ো না এইসবকে।’

তিনটি ঘটনাতেই আমরা দেখি, মসজিদ মাদরাসার জন্য মানুষের কাছে হাত পাতাকে আক্ষরিক অর্থেই ‘ভিক্ষাবৃত্ত’ বলা হয়েছে। এই বলাটা কি সহজাত? না পরিকল্পিত? আমি মনে করি এই বলাটা বা এই শব্দের ব্যবহারটা পরিকল্পিত। কিন্ত যারা এইটা নিয়মিত ব্যবহার করেন, তারা সেই পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত না। ফলে, চেতনে-অবচেতনে ‘ভিক্ষাবৃত্তি’ শব্দটা ব্যবহার করছে অনেকেই। গত শতকের শেষ দিকে এই শব্দটা মাদরাসা যারা অপছন্দ করত, মাদরাসা শিক্ষিতদের যারা বোঝা মনে করত, তারা ডিহিউম্যানাইজ করতে কোমল শিক্ষার্থীদের সামনে এই শব্দ ব্যবহার করত। আর যারা আরেকটু উচ্চ শিক্ষিত ও বুদ্ধিজীবি, তারা পত্রিকার পাতা ও ক্লাস লেকচারে বলতেন।

ব্যাপকভাবে সাধারণ মানুষ এগুলো বলতেন না। সাধারণ জনগণকে দেখেছি মাদরাসার কালেকশনে ধান, চাল, টাকা দিয়ে নানান উপায়ে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করতে। আমি নিজেও কওমি মাদরাসায় পড়েছি। মৌসুমী ধান কালেকশন করতে গিয়েছি। যাঁরা চাঁদা দিতেন তাদেরকে কখনোই এইসব চাঁদাকে ভিক্ষাবৃত্তি বলতে শুনিনি। বরং যারা চাঁদা দিতেন না তারা আমাদের হুজুরকে দু-চার কথা শোনাতেন। কেউ কেউ বলতেন, ‘ছোট ছোট বাচ্চাদের এখনই ভিক্ষা করা শিখায়া ফালাইতেছেন!’ হুজুরকে এড়িয়ে যেতে দেখতাম। আমরাও তাদেরকে পথে-ঘাটে দেখলে সালাম দিলেও কথা বলতে চাইতাম না।

ধীরে ধীরে সমাজকর্মী, এনজিও কর্মী বাড়তে থাকে আমাদের সমাজে। শিক্ষার হার বাড়তে থাকে। মাদরাসা শিক্ষা। ইসলামি শিক্ষা নিয়ে ষড়যন্ত্রও সমানতালে চলতে থাকে। একটা সময় সমাজের সচ্ছল ও উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলেরা মাদরাসায় পড়তে আসতে থাকে। শিল্প-সিহিত্যের নামে কেউ কেউ মাদরাসার গণ্ডি পেড়িয়ে নানা চিন্তা ও মতবাদের মানুষের সঙ্গে মিশতে থাকে। একধরনের হীনম্মন্যজাত আভিজাত্য কারো কারো ভেতরে আসতে থাকে। এরা সমাজের একটা শ্রেণিকে সুপিরিয়র ভেবে নিজেদেরকে ইনফেরিয়র ভাবতে থাকে।

যে ‘ভিক্ষাবৃত্তি’ শব্দটা বিরোধীদের শব্দ ছিল, আজকাল মাদরাসায় পড়ুয়া এবং পড়া শেষ করা অনেকেই আত্মসমালোচনার নামে মাদরাসা মসজিদের জন্য কালেকশনকে অবলীলায় ‘ভিক্ষাবৃত্তি’ বলছে।

একটা শব্দ ক্রমাগত নানাভাবে নানামাত্রিক ব্যবহারে সেই শব্দ যাদের বিপক্ষে তারাও ব্যবহার করতে থাকে। আর আত্মপ্রবঞ্চিত হতে হতে আত্মপরিচয়হীন হয়ে যায়। ভাষারাজনীতির এ-ও এক জটিল দিক। এই রাজনীতিটা ধরতে না পারলে নিজেই নিজের প্রতিপক্ষ হয়ে, নিজের সর্বনাশ করার জন্য যথেষ্ট।

বর্তমানে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেদারসে তরুণ আলেম ও মাদরাসা শিক্ষার্থী রীতিমতো ক্যাম্পেইন করে কালেকশন করে জনগণের চাঁদা নিয়ে মাদরাসা পরিচালনার বিপক্ষে মতামত দিচ্ছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো বিকল্প প্রস্তাবনা ছাড়াই তারা তাদের প্রতিবাদ জারি রাখছেন। আবার সেই প্রতিবাদীদের অনেকেই শিক্ষাজীবন শেষ করে কওমি মাদরাসার শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

কেন চাঁদা ও কালেকশন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এড়ানো সম্ভব নয়? কেন এইটা দরকার? সেই বিষয়ে আলোচনার শেষে কথা বলব। এখন এই ‘ভিক্ষাবৃত্তি’ শব্দটা কেন রাজনৈতিক ও কেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তা নিয়ে বলি।

সাম্প্রতিক কালের কিছু কি ওয়ার্ড দেখুন আগে। ‘চ্যারিটি ওয়ার্ক’, ‘ক্রাউড ফান্ডিং’, ‘ত্রাণ তহবিল’, ‘এক টাকার খাবার’ ইত্যাদি নামে চাঁদা কালেকশন চালু আছে সোসাইটিতে। চ্যারিটি ক্রিকেট, চ্যারিটি ফুটবল ম্যাচ ইত্যাদি নামেও চাঁদা কালেকশন করে ‘ওয়ার্ল্ড ভিশনসহ’ বিভিন্ন এনজিও। এই দেশের এনজিও ও মিশনারিদের চাঁদা কালেকশনের বিষয়টা অবশ্য আরও মজার।

এখন আসুন, বন্যা দুর্গতদের জন্য ত্রাণ তহবিল গঠনে চাঁদা উঠালে, অসুস্থ কারো জন্য ক্রাউড ফান্ডিং করলে, পথশিশুদের জন্য এক টাকার মিল সংস্থা চালালে; আমাদের মিডিয়া তাদেরকে এপ্রিশিয়েট করে। আমাদের তরুণ আলেমরা সেইসব কালেকশনে খুব উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। কখনোই এইরকম ফান্ডিংকে তারা ভিক্ষাবৃত্তি বলেন না।

বাট, যখনই পৃথিবীর সবচেয়ে বেসরকারি চ্যারিটি শিক্ষাব্যবস্থা; যেখানে খাবারসহ মৌলিক চাহিদা মিটিয়ে একজন প্রান্তিক শিশুকে একটা বেটার লাইফ দেওয়া হচ্ছে, নৈতিক ও সমাজের জন্য উপকারি মানুষ হিসেবে তৈরি করে দিচ্ছে, তখন পরিকল্পিতভাবে সেইসব মাদরাসার জন্য হাতপাতা মুখলিস মানুষগুলোকে ‘ভিক্ষুক’ বলা হচ্ছে। দুঃখজনক বাস্তবতা হচ্ছে, এইসব চ্যারিটি প্রতিষ্ঠানে খেয়ে পড়ে যে আজকে সমাজে সম্মানজনক অবস্থানে এসেছে; সেও অতীত ভুলে তার শিক্ষকদের ভিক্ষুক বলছে।

অথচ অন্যান্য যতগুলো চ্যারিটি এক্টিভিটি আছে; এর প্রায় কোনোটাই ব্যক্তিকে দীর্ঘ মেয়াদে একটা বেটার লাইফের জন্য তৈরি করে না। এর পরেও আমাদের ভাষারাজনীতি ও অপরাজনীতি এই মহান কাজকে ভিক্ষাবৃত্তি বলে যাচ্ছে। আর মাদরাসা পড়ুয়া দুর্বল চৈতন্যের কিছু মানুষকে শিকড়চ্যুত করছে।

কেন চাঁদা ও কালেকশন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এড়ানো সম্ভব না? প্রথম কারণ, এই দেশের শাসনব্যবস্থা কখনোই ইসলামি শিক্ষাবান্ধব না। রাষ্ট্রের অধীনে রাষ্ট্রীয় সুযোগ নিলে ইসলামি শিক্ষাকে আর ইসলামের মৌলিক পন্থায় দেওয়া সম্ভব হবে না। এছাড়া এই শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য জনগণের ভেতরে ইসলামের চৈতন্য জাগ্রত রাখা। জনগণ-বিচ্ছিন্ন হলে নিজস্ব অর্থায়নে এই শিক্ষা ব্যর্থ হবে। কারণ, এমন অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দেখা গেছে তাদের মধ্যে একধরনের এলিটিজম-জনিত অহম এসে জায়গা নেয়। ফলে ইলম ও দ্বীনের খেদমত তাদের দ্বারা হয়ে ওঠে না। খেলাফত ব্যবস্থা না থাকলে ইলমের সিলসিলায় মুসলমানদেরকে গণমুখী হতে হবে। তাহলেই ইলম তার মূল লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে। যদিও আধুনিক পৃথিবীর অনেক দেশের উদাহরণ আনা যাবে যে, খেলাফত না থাকার পরেও তারা ইলমের ক্ষেত্রে বড় অবদান রাখছে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে; সেই ইলম কতটুকু দ্বীন কায়েমের কাজে লাগছে।

কেন চাঁদা দরকার? পৃথিবীর খুব কম শিক্ষাই আছে যেখানে রাষ্ট্রের ভর্তুকি নেই। ফলে মাদরাসার জন্য, ইসলামি শিক্ষা ও মসজিদের জন্য জনগণ ভর্তুকি দেবে। এইটা খুব অসুন্দর কিছু না।

এখন প্রশ্ন আসে; এসব চাঁদা তোলার পদ্ধতি অসুন্দর। আনস্মার্ট। চাঁদা অনেক ক্ষেত্রেই আত্মসাৎ হয়। আসলে, মাথাব্যথার জন্য মাথার চিকিৎসা করতে হয়। মাথা কেটে ফেলা যায় না। সকল অসুন্দরের বিপক্ষে বলার জন্য সুন্দর ভাষা আছে। সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতি আছে। আমরা সেই পদ্ধতি অবলম্বন করি। কারো এজেন্ডার গিনিপিগ যেন না হই।

ভাষা ও ভাষার ব্যবহার মূলত একটা বিরাট পলিটিক্স। সেই পলিটিক্সটা ধরতে না পারলে নিজেই নিজের শত্রু হয়ে যেতে হয়। ব্যতিক্রম, সততা, ইলমি দায়বোধ, সংস্কার, জমানা, সময়ের ভাষা ইত্যাদি চটকদার শব্দের মোহে পড়ে কেউ তার নিজের অঙ্গনের বিপক্ষেই শত্রু শত্রু খেলায় অবতীর্ণ হয়। সেই ফাঁদ থেকে বাঁচতে হলে ভাষার প্রয়োগ, রাজনীতি ও শব্দ ব্যবহারের উদ্দেশ্যকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে আমাদের। তখনই কেবল আত্মপ্রবঞ্চিত হওয়া থেকে বাঁচা সম্ভব হবে।


সাইফ সিরাজ
কবি ও বিশ্লেষক

সিয়ান | বিশুদ্ধ জ্ঞান | বিশ্বমান

14/06/2025

মাদরাসা খুলেছি, দোকান নয়
—মুফতি তাকী উসমানী হাফিযাহুল্লাহ

আমার শ্রদ্ধেয় আব্বাজান হযরত মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ শফী রাহ. আমাদেরকে অসিয়ত করে বললেন, শোনো! আমি মাদরাসা খুলেছি, কোনো দোকান খুলি নি, এবং যে কোনো মূল্যে তা চালু রাখা আমার দায়িত্ব নয়। তবে আমার দায়িত্ব হলো যথাসাধ্য চেষ্টা করা। তেমনিভাবে সদা-সর্বদা চালু রাখাও আমার দায়িত্ব নয়। তাই যতদিন সম্ভব সঠিক পদ্ধতি ও ন্যায়-নিষ্ঠার সাথে চালাও। কিন্তু যেদিন ন্যায়-নীতি ত্যাগ করতে হবে সেদিন মাদরাসা তালাবদ্ধ করে দিবে। কেননা মাদরাসা মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টিই মূল উদ্দেশ্য। আর এ উদ্দেশ্য তখনই অর্জন হবে যখন মাদরাসা সঠিক নিয়মে পরিচালনা করা হবে। সঠিক নিয়মে চালানো সম্ভব না হলে অন্য কোনো পেশা খুঁজে নাও।

সাধারণত যখন মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয় তখন মস্তিষ্কে এই কথা বদ্ধমূল থাকে যে, যেকোনো মূল্যে মাদরাসা চালু রাখতেই হবে। তখন সঠিক পন্থায় পরিচালনা সম্ভব না হলে ভুল পন্থায় পরিচালিত হয়। কিন্তু মুফতি শফী রাহ. বলতেন, ভুল পন্থায় মাদরাসা পরিচালনার প্রশ্নই হয় না। তাই সঠিক পন্থায় না চললে বন্ধ করে দাও। এর জন্য আখেরাতে জিজ্ঞাসিত হবে না। তিনি আজীবন এই নিয়ম বজায় রেখেছেন। এর বিপক্ষে কোনো আবেগ-অনুভূতির ক্ষেত্রে ছাড় দেন নি।

যখন দারুল উলূম করাচী নানকওয়াডা থেকে বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত হয় তখন এই জায়গা জনমানবহীন বিরানভূমি ছিলো। এমন জঙ্গল ছিলো যে, দূর-দূরান্ত পর্যন্ত পানি, বিদ্যুত ও ফোন ছিলো না। এখানে যাতায়াতের কোনো পরিবহণ ব্যবস্থাও ছিলো না। সুদূর জঙ্গল পেরিয়ে প্রায় দু'মাইল দূরে বাস পাওয়া যেতো। পানি শারাফিগোঠ থেকে আনা হতো। এখানকার বর্তমান প্রসিদ্ধ শিক্ষকমণ্ডলীও কষ্টদায়ক জীবনযাপনের কারণে তখন এখানে আসতে রাজি ছিলেন না। এমনকি তখন কয়েকজন নামিদামি শিক্ষক চলে যান, যাদেরকে মাদরাসার ভিত্তি মনে করা হতো। তাদের চলে যাওয়াতে বাহ্যিকভাবে মাদরাসার উপর প্রভাব পড়েছিলো। হিতাকাঙ্ক্ষীরা আব্বাজানকে বললেন, বড় বড় উস্তাযগণ চলে গেলে মাদরাসা চলবে কীভাবে! কোনো প্রসিদ্ধ উস্তাযকে চিঠি লিখে আসতে বলেন। কিন্তু আব্বাজান বললেন, এটা নিয়ম বহির্ভূত। আমি এমন করতে পারবো না। আমি এমন করতে পারবো না যে, এক মাদরাসা বরবাদ করে আরেক মাদরাসা আবাদ করবো। সে তো কোনো এক মাদরাসায় চাকরি করছে। তাই আমি بيع على بيع أخيه করতে পারবো না। তবে সে যদি স্বেচ্ছায় চলে আসে সেটা ভিন্ন কথা।

এক বছর এমন হলো যে, দাওরায়ে হাদীসে মাত্র ১২/১৩ জন ছাত্র ছিলো। লোকেরা বলতে লাগলো, দাওরায়ে হাদীসে মাত্র ১২/১৩ জন ছাত্র! হযরত বললেন, ছাত্রদের সংখ্যা বেশি হওয়া আবশ্যকীয় নয়। সঠিক নিয়মে আমরা যতটুকু করতে পারবো ততটুকুই আমাদের দায়িত্ব। চাই ছাত্র ১০ জন হোক, ০৫ জন হোক অথবা ০১ জন। সঠিক পন্থা ত্যাগ করে ছাত্রদের সংখ্যা বাড়াতে পারবো না। এভাবে কয়েক বছর কেটে গেলো। লোকেরা বরাবর বলতে থাকলো, অমুক মাদরাসায় এতো এতো ছাত্র আর এখানে মাত্র ১৪ জন! এর উত্তরে আব্বাজান বলতেন, ছাত্রদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমাদের উদ্দেশ্য তো হলো দ্বীনের খেদমত করা। তাই উস্তাযের মত একজন উস্তাযই যথেষ্ট। কেউ বললো, হযরত এখন তো প্রয়োজন ও অপারগতার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বললেন, মৌলভীদের মতো যুক্তি দিবেন না। এই কাজ আমি করতে পারবো না। হ্যাঁ, কেউ স্বেচ্ছায় কোনো মাদরাসা ছাড়লে তাকে ডেকে পাঠাবো। হযরত আজীবন এই নিয়মে কাজ করেছেন।

এ কথা স্মরণ রাখতে হবে, যেহেতু দ্বীনই আসল উদ্দেশ্য, সুতরাং সকল ক্ষেত্রে দ্বীনের শিক্ষা সামনে থাকতে হবে। এবং সে অনুযায়ী আমল করতে হবে। এমন যেনো না হয় যে, মাদরাসার জন্যে এক নিয়ম হবে আর অন্যদের জন্যে আরেক নিয়ম।
©

Photos from মাদরাসাতুল আকাবির আলইসলামিয়া, মুন্সীগঞ্জ's post 25/03/2025

মুন্সীগঞ্জ জেলা ও ঢাকা দক্ষিণাঞ্চল কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান ''মাদরাসাতুল আকাবির আল‌ইসলামিয়া" অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে আলহামদুলিল্লাহ। সকল পরীক্ষার্থী A+ পাওয়ায় শতভাগ A+ প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। বোর্ড স্ট্যান্ড করেছে পাঁচজন। যথাক্রমে- ২য়, ৬ষ্ঠ, ৮ম, ১৩তম এবং ১৮তম।

প্রিয় অভিভাবক!
আপনি কি সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে আপনার সন্তানকে বিশুদ্ধভাবে কুরআনুল কারীম শিক্ষা দিতে চান?

আপনি কি আপনার সন্তানকে জেনারেল শিক্ষার পাশাপাশি সুদক্ষ হাফেজ ও আলেম বানাতে চান?

তাহলে মুন্সীগঞ্জ জেলা ও ঢাকা দক্ষিণ কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে অন্যতম সেরা দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘‘মাদরাসাতুল আকাবির আলইসলামিয়া’’য় আপনাকে স্বাগতম! এটি নয়াগাঁও মাজারসংলগ্ন ভবনে অবস্থিত।

আমাদের বিভাগসমূহ :

আবাসিক শাখা :
*** আদর্শ নূরানী বিভাগ (আধুনিক পদ্ধতিতে পাঠদান)
*** স্ট্যান্ডার্ড নাজেরা বিভাগ (মশকের সর্বাধুনিক পদ্ধতি অবলম্বনে)
*** হিফজুল কুরআন বিভাগ (পৃথিবীর বিখ্যাত ক্বারীদের তিলাওয়াত অনুকরণে)

অনাবাসিক শাখা :
*** শিশু শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত। (বালক-বালিকা)
*** স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাচভিত্তিক পবিত্র কুরআন শেখার সুব্যবস্থা।

তাই আসুন। দেখুন এবং সিদ্ধান্ত নিন।

সার্বিক যোগাযোগ : 01914-089122 (পরিচালক)
নয়াগাঁও মাজার সংলগ্ন মাদরাসা ভবন, সদর, মুন্সীগঞ্জ

মাদরাসার লোকেশনের গুগল ম্যাপ-
https://maps.app.goo.gl/CF5e9ibziNKUMBWQ6

06/03/2025

ভর্তি চলছে! ভর্তি চলছে! ভর্তি চলছে!

প্রিয় অভিভাবক!
আপনি কি মশকের সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে আপনার সন্তানকে বিশুদ্ধভাবে কুরআনুল কারীম শিক্ষা দিতে চান?
আপনি কি আপনার সন্তানকে জেনারেল শিক্ষার পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চান?
আপনি কি আপনার সন্তানকে জাগতিক শিক্ষার পাশাপাশি সুদক্ষ হাফেজ ও আলেম বানাতে চান?

তাহলে আপনার সন্তানকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান- নয়াগাঁও মাজারসংলগ্ন পুরাতন এ.আর ক্লিনিক ভবনে অবস্থিত মাদরাসাতুল আকাবির আলইসলামিয়ায় আপনাকে স্বাগতম!

আমাদের বিভাগসমূহ :
অনাবাসিক শাখা : শিশু শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত। (বালক-বালিকা)

আবাসিক শাখা :
আদর্শ নূরানী বিভাগ (আধুনিক পদ্ধতিতে পাঠদান)
স্ট্যান্ডার্ড নাজেরা বিভাগ (মশকের সর্বাধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন)
হিফজুল কুরআন বিভাগ (পৃথিবীর বিখ্যাত ক্বারীদের তিলাওয়াত অনুকরণে)

এছাড়া স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে পবিত্র কুরআন শেখার সুব্যবস্থা।
তাই আসুন। দেখুন এবং সিদ্ধান্ত নিন।

সার্বিক যোগাযোগ : ০১৯১৪-০৮৯১২২

Want your school to be the top-listed School/college in Munshiganj?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Address


নয়াগাঁও মাজার সংলগ্ন পুরাতন এ. আর. ক্লিনিক ভবন, পঞ্চসার, মুন্সীগঞ্জ
Munshiganj
1500

Opening Hours

Monday 06:00 - 21:00
Tuesday 06:00 - 21:00
Wednesday 06:00 - 21:00
Thursday 06:00 - 21:00
Friday 09:00 - 21:00
Saturday 06:00 - 21:00
Sunday 06:00 - 21:00