21/09/2022
২৫ থেকে ৩০ বয়সটা মেয়েদের জন্য খুব কঠিন সময়।
- এই বয়সে কারো হয়ত নতুন বিয়ে হয়েছে কিংবা কারো এক দুটো ছানাপোনা হয়েছে। কিন্তু মনের মধ্যে সেই ২০ এর এক রঙ্গিন ছায়া কোথায় যেনো রয়ে গেছে৷ এই বয়সে বিয়ে হলে চাইলেই ২০ এর
মত ন্যাকামি করা যায় না, আবার খুব বেশি জ্যাঠামি'ও করা যায় না, লোকে তখনো জ্যাঠামিকে মেনে নিতে সক্ষম হয় না, আবার ন্যাকামি করলেও সকলের কথা শুনতে হয়৷ অথচ এই ২৫-৩০ এর ন্যাকামিটাই বেশ শক্ত হয়। কোন খাদ থাকে না। কোন চাওয়া পাওয়াও থাকে না। ভালোবাসার মানুষটার সাথে একটু আহ্লাদ করতেই এই ন্যাকামি, কিন্তু তবুও সমাজ এটা মেনে নিতেই নারাজ।
- ২৫-৩০ বয়সে চাইলেই নিজের ভুল সিদ্ধান্ত শুধরানোর সময় পাওয়া যায় না। যায় না বলতে, এই বয়সের ভুলটা কেউ একসেপ্ট করতে পারে না। সবাই ভাবে এই বয়সেও ভুল করলে আর শুধরাবে কবে! অথচ পুরো জীবনটাই কিন্তু একটা প্রাথমিক স্কুলের মত। শিখতে শিখতেই একদিন মরে যেতে হয়। এই বয়সে নিজের কোন সিদ্ধান্তে পরিবার কোন দায়িত্ব নিতে চায় না। নিজের ভুল নিজেকে শুধরাতে হবে অথবা পচতাতে হবে নিরবে। কাউকে প্রকাশ করলেও লজ্জা পেতে হবে। জীবনটা এই বয়সে এসেই ফ্যাকাসে লাগা শুরু হয়ে যায়।
- এই বয়সে এসে খুব করে চোখ এঁকে কিংবা চোখ ল্যাপ্টে কাজল পরা যায় না। আবার মুরুব্বিদের মতোও থাকা যায় না। খুব করে সাজলে সমাজ বলবে বাচ্চামি করছে আবার ফ্যাকাসে থাকলে বলবে মুরুব্বি ভাব ধরেছে। এই দো'টানা কথায় জীবনটাকে অদ্ভুত লাগা শুরু হয়ে যায়।
- প্রেম করে বিয়ে করা কিংবা বাবা মায়ের পছন্দে বিয়ে করা মানুষটাও তখন বদলাতে থাকে। প্রেমের বয়সের মত সেই আবেগে এখন আর প্রেম ভিজে না। বছর খানেক হওয়া বিয়েটাও তখন বোরিং লাগা শুরু হয়। তোমার চুল উষ্কখুষ্ক কেনো!? তুমি মোটা হয়ে যাচ্ছ কেনো!? তোমার চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল কেনো!? এই কথাগুলো শুনা তখন নিত্য রুটিন হয়ে যায়।
-এই বয়সে মেজাজ হঠাৎ খিটমিট করে উঠে,অনেকের কথাই তখন সহ্য হতে চায় না। অনেকের সিদ্ধান্ত মেনে নিতেও তখন কষ্ট হয়। এই সময়ে সেই ১৬ বছরের মত মাঝে মাঝে আদর পেতে ইচ্ছে করে, আবার মাঝেমাঝে সেটাও খুব অসহ্য লাগে। এটা এক অদ্ভুত অনুভূতি। মুড সুইং করে ক্ষনেক্ষনে। হঠাৎ পাশে থাকা ভালোবাসার মানুষটাকেও তখন অপ্রিয় মনে হয়।
-আয়নায় তাঁকিয়ে নিজের ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া স্কিনের দিকে তাকালেও তখন মেজাজ খারাপ লাগতে শুরু করে। যদি সদ্য বাচ্চা হওয়া মা হয় তাহলে এই সময়টা ভয়ংকর লাগে। হুট করে এত বড় দায়িত্ব নেয়াটাও দম বন্ধের মত লাগে। আবার শারীরিক পরিবর্তনটাও মেনে নিতে কষ্ট হয়ে যায়।
- এই বয়সে আবদার করা যায় না। আবদারটা কেবল নিজের কাছে নিজের করতে হয়। পরিবার তখন বিয়ে না হওয়া মেয়েটাকে নিয়ে চিন্তিত, আবার সদ্য বিয়ে হয়ে যাওয়া মেয়েটা নতুন পরিবারের সাথে এডজাস্ট করতে করতে বিধবস্ত, সদ্য মা হওয়া মেয়েটা বাচ্চা সামলানো শিখাতে ব্যস্ত। জীবনটা কেনো এই বয়সটা দিয়েছে সেটা চিন্তা করতে করতেই মেয়েটার দম বন্ধ লাগা শুরু করে।
- হয়ত প্রিয়জন কাছে এলে ভালো লাগবে, আবার অনেক সময় ভালো নাও লাগতে পারে৷ সারাদিন সংসার সামলানো কিংবা চাকরি করা মেয়েটা অফিস সামলানোর পর কিংবা ঐ যে সদ্য মা হওয়া মেয়েটা বাচ্চাকে সামলানোর পর হয়ত প্রিয়জনের আক্ষেপ মেটাতে একটু বিরক্ত হতেই পারে। মেয়েটা তখন প্রিয়জনের বুকে শুয়ে থাকতে চায়। মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে হয়ত প্রিয় মানুষটার নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতেই সুখ অনুভব করছে। কিন্তু পাশে থাকা মানুষটা হয়ত সেটা ধরতেই পারছে না কিংবা বুঝতে পারছে না। বাচ্চার কান্নায় ঘুম হবে না, সকালে অফিসের চিন্তায় হয়ত পাশের ঘরে গিয়ে ঘুমাবে, অথবা মেয়েটার গায়ে আগের মত সুঘ্রান আসে না বলে হয়ত ' তুমি কেমন যেনো বদলে গেছো' কথাটা নিমিষেই ছুড়ে মারল মেয়েটার দিকে। মেয়েটা হয়ত তখন অভিমান করে মেনেই নিল জীবনটা এমনই। এভাবেই কাটাতে হবে।
জীবনে মেনে নিতে নিতে আর মানিয়ে নিতে নিতেই এক সময় অনেকেই মৃত্যু হয়। জীবনটা যে আসলেই ভয়ংকর সুন্দর ভাবে কাটানো যায় কিংবা জীবন যে আসলেই সুখে ভাসাতে পারে এমন তৃপ্তি অনেকে না পেয়ে মরে যায়। আশেপাশে খুজলেই এমন অনেক বেঁচে থেকেও মরে আছে এমন মেয়ে পাওয়া যাবে। আফসোস হয়, কষ্টও হয়, তবুও মেনে নিচ্ছি, মানিয়ে নিচ্ছি। জীবন চলে যাচ্ছে! 🙂
-আনিকা তাহসিন সাদিয়া
📸 jithi 🌸
Follow : Md Sagor Hossain