26/08/2016
সালাত #৬- Wake up before you sleep
আল্লাহ কুর'আনে অনেক অনেকবার এই কথাটা বলেছেন যে, তিনি মানুষকে তাঁর নিদর্শন দেখান। তারপরও কি মানুষ বুঝবে না, উপলব্ধি করবে না, চিন্তা করবে না? আল্লাহর নিদর্শন, রিমাইন্ডার, আয়াত আমাদের আশেপাশে সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে। অনেকে দেখেও দেখে না, অনেকে দেখলেও পাত্তা দেয় না। বুদ্ধিমান মানুষ সেগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহন করে, কাজে লাগায়, আত্ম-উপলব্ধি বাড়ায়। আল্লাহর পক্ষ থেকে সেরকম একটা বিরাট রিমাইন্ডার আমি দেখলাম।
আত্মীয়ের বাসায় গিয়েছিলাম এক বিকেলে। মাগরিবের আযান দিয়েছে। মসজিদের দিকে যাচ্ছি। এই ভদ্রলোককে দেখলাম পথে। তিনিও মসজিদে যাচ্ছেন। পরনে সাদা পাঞ্জাবি আর লুঙ্গি, মাথায় টুপি। বাম বগলে একটা কাঠের ক্রাচ। লুঙ্গির নিচে বাম-পা টা নেই। তারপরও ভালই হাঁটতে পারেন ভদ্রলোক। মসজিদের দরজায় এসে থামলেন। নিচু হয়ে স্যান্ডেল খুললেন। পকেট থেকে একটা ছোট পলিথিন বের করে সেটা দিয়ে ক্রাচের নিচটা বাধঁলেন, যাতে মসজিদ ময়লা না হয়। এরপর মসজিদে ঢুকে নামাজে দাঁড়ালেন। ঠিক কি কারনে জানিনা, আমি নামাজের মধ্যে আমার পায়ের দিকে তাকিয়ে রইলাম। একবার, দুইবার, বারবার। মানুষের ব্রেইনের ডিজাইন অতি জটিল। মানুষের অনূভুতি ভয়ঙ্কর কমপ্লেক্স যা কখনো কোন ভাষায় লিখে বোঝান সম্ভব না । পুরো নামাজের মধ্যে যেসব অনূভুতি আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখল সেগুলোর মধ্যে করুনা, মায়া, গ্লানি, অপরাধবোধ, অনুতপ্ততা, ভয় উল্লেখযোগ্য। আমার দুই পায়ের দাম কত? সারা পৃথিবী আমাকে লিখে দিলেও কি আমি কাউকে আমার বাম-পা টি দিব কখনও? আমি কি আল্লাহকে বাম পায়ের দাম শোধ করেছি ? যে অসীম নিয়ামত তিনি আমাকে দান করলেন সেটার জন্য যতটুকু কৃতজ্ঞ হবার কথা ছিল, সেটা কি হয়েছি?
বাসায় গেলাম। আত্মীয় বড় মেয়েকে নিয়ে চিন্তার মধ্যে আছেন। মেয়েটার বয়স ১১, এমনিতে লক্ষ্মী মেয়ে, কিন্তু নামাজ পড়তে চায়না। আত্মীয় নিজ থেকেই বললেন যে, পাশের বাসায় একজন কেয়ারটেকার থাকেন। এক পা নেই, কিন্তু প্রতিটি ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে পড়েন। দুইয়ে দুইয়ে চার মিলাতে এক সেকেন্ড সময়ও লাগল না। অপরাধবোধ প্রবল থেকে প্রবলতর হল। কারন সেইদিন ভোরে ফজরের নামাজে আমি মসজিদেই যাইনি। খুব সম্ভবত সময়মতন নামাজই আদায় করিনি।
এশার আজান হল। আবার গেলাম মসজিদে। এবারও তাঁর সাথে দেখা। একই ভাবে ঢুকলেন। সালাম বিনিময় করলাম। এই প্রথম আমি ভদ্রলোকের চেহারা ভাল করে দেখলাম। বয়স ত্রিশ থেকে চল্লিশের ভেতর। চেহারা চোখে পড়ার মতন সুদর্শন। লম্বা চওড়া গঠন। গায়ের রঙ রোদে পোড়া তামাটে,খাড়া নাক, মুখে ঘন দাঁড়ি। চেহারা শান্ত, সৌম্য, ভাবলেশহীন। এবার তিনি ঠিক আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি আর দশজনের মতই দাঁড়িয়ে নামাজ পড়েন, এক পায়ে তাঁর তেমন কোন সমস্যা হয়না। তিনি যখন রুকু করেন তখন দুইহাত দিয়ে এক হাটু চেপে ধরেন। সেইসময় তিনি খুব ভাল ব্যালান্স রাখতে পারেন না, একটু একটু কাঁপতে থাকেন। তাঁর ডান পায়ের দিকে লক্ষ্য করে আমি দেখলাম, পায়ের আঙ্গুলগুলো তিনি মাটির সাথে জোরে চেপে ধরে রাখেন এবং তখন তাঁর পা লালচে হয়ে যায়। বোঝা যায় তাঁর কষ্ট হয়। নামাজের আর বাকি সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে আদায় করেন তিনি। তিনি বসার পর আমি লক্ষ্য করলাম, তাঁর বাম পা টি একদম উরুর কাছ থেকে কাটা। হয়ত কোন রোড এক্সিডেন্ট, কিংবা কোন অসুখ। এই ভদ্রলোকের অধিকার আছে চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার। এই ভদ্রলোক যদি তাঁর পা কাটা যাওয়ার পর রাগে দুঃখে আল্লাহকে বলতেন-" আল্লাহ আমি তো নিয়মিত নামাজ পড়তাম। আমার কি অপরাধ যে তুমি আমার পা নিয়ে নিলে ? যাও আমি আর নামাজই পড়ব না। "- এই কথা বলতেই পারতেন তিনি। কারন এরচে অনেক কম দুঃখকষ্টে পড়েও মানুষ আল্লাহর উপর রাগ করে, বিশ্বাস হারায়। দুই পাওয়ালা অনেক সুস্থ মানুষও চেয়ারে বসে নামাজ পড়ে। আর ইনি? মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।
নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে আমি একটা দৃশ্য চিন্তা করলাম। বহু বছর পরের একটা দৃশ্য। শত শত বছর, বা হাজার হাজার বছর পর। এই দিবসের নাম ইয়াওমুল কিয়ামাহ- শেষ বিচারের দিন। কবর থেকে প্রতিটি মানুষকে উঠিয়ে জীবিত করা হয়েছে। জড় করা হয়েছে বিশাল এক প্রান্তরে। প্রত্যেকে ভীত, আতঙ্কিত, সবার মুখ ছাইয়ের মতন ফ্যাকাসে। সূর্য মাথার এত কাছে যে মানুষ তার নিজের ঘামের মধ্যে নিজেই দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে জাহান্নামের আগুনের গর্জন শোনা যাচ্ছে। এক এক করে প্রত্যেককে পাঠান হচ্ছে স্বয়ং আল্লাহর সামনে জবাবদিহিতার জন্য। অনু পরমানু ভাল-খারাপের হিসাব পর্যন্ত বাদ যাবেনা। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সবাইকে তার নিজ নিজ আমলনামা ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই ভদ্রলোক তাঁরটা পেলেন। আমিও আমারটা পেলাম। পুলসিরাত পার হবার পালা। অতি ভয়ঙ্কর এক রাস্তা। অন্ধকার,বিশাল বিশাল কাঁটা, নিচে হা করে আছে অতল আগুনের লেলিহান শিখা। এই ভদ্রলোক গেলেন। দুনিয়ায় যদিও তাঁর একটাই পা ছিল, কিন্তু তিনি হাতে অতি উজ্জ্বল আলো নিয়ে বিদ্যুৎগতিতে পুলসিরাত পার হয়ে গেলেন। আমি গেলাম এরপর। দেখলাম, আমার হাতের আলো অতি ক্ষীন নিবুনিবু, আমার গতি শামুকের মতন, আমার সুস্থ সবল পাদুটি যেন দশমণ পাথরের বোঝা। আমি হাহাকার করে বললাম- কি ব্যাপার ! যাচ্ছ না কেন ? আমার পা আমাকে উত্তর দিল- দুঃখিত কিন্তু আজকে আমাদের কিছুর করার নেই। এই পা দিয়ে তো তুমি মসজিদে যেতে না,আজকে কিভাবে জান্নাতে যাওয়ার আশা কর? নামাজের আলো তো তুমি সাথে করে নিয়ে আসনি, কিভাবে আশা কর এই রাস্তায় আজকে তুমি আলো পাবে? সময়কে কাজে লাগাওনি, আজকে হাহাকার করে কি লাভ? আল্লাহ কি তোমাকে কম বুদ্ধি দিয়েছিলেন?
আমাদের তিনটা হাত-ডানহাত, বামহাত, অজুহাত। এরমধ্যে নামাজ না পড়ার বেলায় অজুহাতই হয়ে উঠে আমাদের একমাত্র হাত। কতই না এক্সকিউজ আমাদের ভাই। আমি ব্যস্ত ; আমার কাজ আছে ; এখন না, পরে আরেকদিন ; এখন ইচ্ছে করছে না ; নামাজে মনোযোগ পাইনা, আরবি বুঝিনা ; নামাজ পড়ে তো আমার কোন লাভ হচ্ছেনা ; যেদিন আল্লাহর ইচ্ছা হবে সেদিন শুরু করব ; আরে মসজিদে না গেলেও হয়, বাসায় পড়ে নেই ; জীবনটা আরেকটু গুছিয়ে নেই এরপর শুরু করব... ... এভাবেই চলতে থাকে ইত্যাদি অনন্ত অসীম অজুহাত। কেটে যায় জীবন। সময় নামের বালুঘড়ির শেষ দানাটিও নিঃশেষ হয়ে যায়। কি নিয়ে ব্যস্ত আমরা? কি এমন কাজ আমাদের নামাজ পড়া ছাড়া? কিসের জরুরি মিটিং? আল্লাহর সাথে মিটিং এর চেয়ে জরুরি আর কি আছে? জীবন কোনদিনও ঠিকঠাক হবে না যদি আমরা নিয়মিত নামাজ না পড়ি, মসজিদে না যাই। যেদিন আল্লাহর ইচ্ছা হবে বলে আল্লাহর উপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে কোন লাভ নেই। আমরা নামাজ না পড়লে আল্লাহ কক্ষনো ফেরেশতা পাঠিয়ে আমাদের মনের মধ্যে নামাজ পড়ার একাগ্রতা সৃষ্টি করে দিবেননা। এইগুলো সব নিজের অপরাধবোধ আর ব্যর্থতাকে ঢাকার সেলফ-ডিফেন্স আর শয়তানের তৈরি করে দেওয়া চিন্তা। নিজের অবস্থা নিজে পরিবর্তন না করলে আল্লাহ জীবনেও করবেন না। Make it clear. As simple as that.
দুই দুইটা সুস্থসবল পা আছে, তারপরো আমরা মসজিদে যাইনা। মসজিদে না যাওয়ার পক্ষে যত ফাতওয়া আছে সব ইন্টারনেট ঘেঁটে বের করি। ফজরের নামাজের সময় বলি- গেইট তো বন্ধ, যুহরের সময় বলি- আরে আমি তো অফিসে, আসরের সময় বলি- আরে রেস্ট নিবনা নাকি, মাগরিব আর এশার সময় বলি- আচ্ছা থাক আরেকদিন যাব মসজিদে। দুই-চার পয়সার ইসলামিক পোস্ট দিয়ে আমরা ভাবি -'বাহ কি বিরাট দাঈ আমি, কি বিরাট জিহাদি সৈনিক আমি।' তারপর লাইক আর শেয়ার গুনতে গুনতে সুখনিদ্রার মধ্যে দিয়ে ফজরের নামাজ কাজা করে উঠি ফেইসবুক জিহাদ শেষে। ভাই, যখন আমরা নিজের বিবেকের সাথে নিজেরা এইসব ধান্দাবাজি করতে ব্যস্ত দিনের পর দিন , তখন একটি পা না থাকার পরও আল্লাহর কোন এক বিশেষ বান্দা ক্রাচ ঠকঠক করে দিনের মধ্যে পাঁচবার মসজিদে চলে যাচ্ছেন, জান্নাতের পথে আরো এগিয়ে যাচ্ছেন। মসজিদে যাওয়ার পথে প্রতি পদক্ষেপে একটি করে পূন্য লেখা হয় , একটি করে পাপ মোচন হয়। আল্লাহ যদি এই ভদ্রলোকের জন্য সবকিছু হাজারগুনও বাড়িয়ে দেন, অবাক হবার কিছুই নাই। He deserves it very well.
এক ভদ্রলোককে নামাজ পড়ার কথা বছরের পর বছর বলে যাচ্ছি। তিনি আমার কথা সুন্দর করে শোনেন, হু হাঁ করেন, এইটূকুই। আগে তিনি জুম্মার নামাজ পড়তেন, এখন সেটাও অতীত। তাকে আমি শেষমেষ এই প্রস্তাব দিলাম, 'আমি আপনাকে প্রতিদিন ৫টি মিসকল বা মেসেজ পাঠাব, তাও আপনি শুরু করেন।' তিনি বললেন- 'আমি আপনার সাথে এ নিয়ে পরে কথা বলব।' সেই পরে আর কোনোদিন আসেনি। এক ভদ্রলোক একবার বাসায় এলেন। তাকে বললাম- 'চলেন আসরের নামাজ পড়ে আসি'। বললেন- 'না যাবনা।' জিজ্ঞেস করলাম- 'কেন যাবেননা? আপনি তো নামাজ পড়েন'। বললেন- 'এখন গেলে এটাই প্রমান হবে যে, আপনি বলেছেন বলে গিয়েছি, নিজ ইচ্ছায় যাইনি, তাই যাবনা। ' এই অবস্থা কেন আমাদের মুসলিম জাতির???
নামায না পড়লে যে একজন মুসলমান কাফির হয়ে যায়, এই ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে কোন দ্বিমত নেই। আমাদের কাছে ‘কাফির’ উপাধিটা শুনতে যতই খারাপ লাগুক, মানতে যতই কষ্ট হোক না কেন, যারা নামায পড়ে না তারা কাফির, সে আমার যত কাছের মানুষই হোক না কেন। কাফিরদের সাথে আল্লাহ যা করবেন, আমাদের সাথেও আল্লাহ তাই করবেন। সেটা যে কত ভয়ংকর হবে তা কু’রআন থেকে নিজেদের মনে করাই –
সেদিন জান্নাতের অধিবাসীরা একে অন্যকে অপরাধীদের ব্যাপারে জিগ্যেস করবে। তারা জিগ্যেস করবে (জাহান্নামিদেরকে), “কে তোমাদেরকে গনগনে আগুনে নিয়ে গেল?” ওরা বলবে, “আমরা নামায পড়তাম না”। [আল-মুদ্দাসির ৭৪:৪৩]
নামাজের গুরূত্ব নিয়ে সহিহ হাদিস গ্রন্থগুলোতে হাজার হাজার হাদিস বর্নিত হয়েছে। আপনি যদি কখনো সহিহ বুখারি বইয়ের সালাত অধ্যায়ের এক নম্বর হাদিসটি পড়েন, দেখবেন এটি রাসূল (সাঃ) এর মি'রাজ নিয়ে। আল্লাহ রাসূল(সাঃ) কে পুরো মহাবিশ্ব পাড়ি দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন নামাযের আদেশ দেবার জন্য। যেখানে আল্লাহ স্বয়ং কুর'আনও এভাবে নাযিল করেননি। এরপরো কি নামাজ নিয়ে হেলাফেলা করা উচিত?
আসলে পুরা ব্যাপারটাই হচ্ছে প্রায়োরিটি। আসলে আপনি কি চান জীবনে? নিজেকে কোথায় দেখতে চান জীবনের শেষে? আপনি যা চাচ্ছেন আপনি আসলে সেটার পিছেই ছুটছেন, সেটাকেই মনে করছেন জীবনের লক্ষ্য। কেউ চায় সে জীবনে অনেকগুলো অলিম্পিক সোনার মেডেল জিতবে, ইতিহাসে অমর হবে। ব্যস, এটাই তাঁর জীবনের লক্ষ্য। এটা পেলেই সে মনে করবে তাঁর জীবন শতভাগ সফল। সকল অ্যাথলেটের প্রতি সম্মান রেখে বলছি, আসলে মানুষ তাকে ভুলে যাবে। সে একদিন মরে যাবে। তাঁর কবরে তাকে একা একা শুয়ে থাকতে হবে। তাঁর গোল্ড মেডেল আখিরাতে কোন কাজে আসবে না। আপাত দৃষ্টিতে পৃথিবীতে সে সফলতার চরম শীর্ষে উঠলেও এটা চিরস্থায়ী কিছু নয়। বরং আপনার নামাজ চিরস্থায়ী। এই যে আপনি মসজিদে গেলেন, দুই রাকাত নামাজ পড়লেন, এটা মহাকালের রেকর্ডবুকে উঠে গেল অমর হয়ে। এই সফলতা চিরস্থায়ী। এই সাফল্য নিয়ে পৃথিবীর মানুষ মাতামাতি করবে না, কিন্তু আল্লাহর কাছে এটাই সাফল্য। মুসলিমদের এই দূরদৃষ্টি দান করেছেন আল্লাহ। এখন বাকিটা আপনার সিদ্ধান্ত আপনি কি করবেন।
জীবনের শেষে গন্তব্য মাত্র ২টি। জান্নাত নয়ত জাহান্নাম। পরম আনন্দ,সবুজ বাগান,ঝর্না, অমর জীবন। অথবা আগুন, হতাশা, যন্ত্রনা। মাঝামাঝি কিছু নেই। এটাই চিরসত্য, এটাই বাস্তব। আপনাকে যেতেই হবে যেকোন একটায়। অবশ্যই আপনি জান্নাতে যেতে চান। তাহলে দৌড়ান মসজিদের দিকে। আজই, এখনই। এই সুযোগ সীমিত সময়ের জন্য। আপনি জান্নাতে ঢুকতে চান? তাহলে মসজিদে ঢুকতে থাকেন। এভাবেই জীবন শেষ করে ফেলেন। আশা করা যায় মৃত্যুর পর চোখ মেলে আপনি আপনার প্রতিদান পাবেন ইনশাআল্লাহ।
এই ভদ্রলোকের কথা আমি আজীবন মনে রাখব, যার মাধ্যমে আল্লাহ ঘুম থেকে উঠিয়ে বড় একটা ঝাঁকুনি দিলেন। প্রয়োজন হলে তাঁর ছবিটা বিছানার পাশে রেখে দেব। তাঁর বা পায়ের অব্যবহৃত জুতাটা পেলে ভাল হত। মসজিদে যাওয়ার সময় ঢিলেমি আসলে সেটা দিয়ে নিজেকে দুই এক ঘা দেওয়া যেত। তাতে যদি কোন লাভ হয় আমার মতন মানুষের।
আলী ( রাদিআল্লাহু আনহু- আল্লাহ তাঁর উপর সন্তুষ্ট হন) বলেছিলেন- "মানুষ ঘুমাচ্ছে। মৃত্যুর পর মানুষ জেগে উঠবে।" এই আর্টিকেলের নামও সেজন্যে তাই- Wake up before you sleep. মৃত্যুর আগে জেগে উঠুন ভাই, চোখ খুলুন, বাস্তবতা দেখুন। আমাদের চোখ খোলা,কিন্তু আসলে আমরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। যেদিন চোখ আক্ষরিক অর্থেই বন্ধ হবে, সেদিন আমরা আক্ষরিক অর্থেই জেগে উঠব। সমস্যা একটাই, সেদিন জেগে উঠে আসলে আর কিছু করার থাকবে না। তা এই সীমিত জীবনের সীমিত সুযোগ নিচ্ছেন তো?
আগের আর্টিকেলগুলো এখানে পাবেন - http://tinyurl.com/qylp8ya