Madrasah Rawdatul Iman Dhaka

Madrasah Rawdatul Iman Dhaka

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Madrasah Rawdatul Iman Dhaka, School, 60 Feet Road, North Pirerbag, Mirpur-2, Dhaka, Mirpur.

হিফজ। নাযেরা। সিরাতুন্নবী সাঃ। আরবী ভাষা শিক্ষা। উর্দু ভাষা। কিডস হিফজ-নাযেরা। ইংরেজি ভাষা ।
মাদানী নেসাব। দরসে নেজামী। ফরজে আইন কোর্স। আক্বীদা। ফিকাহ। ইসলামিক স্টাডিজ। ইসলামী ইতিহাস ইত্যাদি বিষয়ক কোর্স এর আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

17/11/2025

‏عن النساء اللواتي يفتحن أبواب النهار قبل أن يستيقظ الضوء
اللواتي يقفن في المطبخ وهُن ما زلن يُصلين في قلوبهن ويُرددن الأذكار والدعوات
اللواتي يمسحن عن وجه البيت آثار الليل
ويضعن على المائدة ما يُشبه الطمأنينة
ويُجهزن طفلا لا يدري أن نهاره بدأ على أكتاف أُمّه...

عن المرأة التي تُراجع الدرس، وتُسرح خصلة الشعر وتُدقق بالضفيرة
وتلتقط الفوضى قبل أن تصبح فوضى
وتحمل هَمَّ اليوم كله في صدرها وفوق أكتافها
والتي لن يكتب عنها أحد...

عن التي تُدير اقتصاد البيت بأصابع متعبة
وتُوازن بين ثمن الرغيف وثمن الدواء
وتُؤجل زيارة الطبيب لأن فاتورة الكهرباء أسبق ...
وتُحول بقايا أمس إلى وجبة جديدة
وكأنها ساحرة تصنع ما لا تصنعه وزارات دول غارقة في الدين مُتخبطة بنقص الإيرادات .
عن قبلة تضعها على جبين طفل محموم
فتقيس حرارته بلا ميزان
وتُعطي قرار العلاج بلا شهادة
وتسهر الليل كله وهي تحاول أن تنتصر على الحمى
وكأنها جندية وحدها في معركة لا يرى بطولاتها فيها أحد.

عن التي تُصحح الإملاء، وتُسمّع آيات القرآن وتُناقش القصائد المُعقّدة بمُفرداتها ودلالاتها
وتجمع القدور، وتُرتب الأسرة، وتُلمّع الأرض
وتُخفي التعب خلف ابتسامة حقيقية
لأن التعب في عُرف الأمهات ليس عذرا بل قدرا.

*عن المرأة التي لا تطبخ لإنستغرام
ولا تشتري الثياب للفيسبوك
ولا تعرف طريق صالونات التجميل
لأن ما تبقى من المال يذهب إلى حذاء طفل أو دفتر أو دواء...

عن يد خشنة لم يمسّها كريم الترطيب
لأن نعومة اليد ليست أولوية أمام احتياجات البيت.

العالم يُصفق لمن يصرخ
للذين يصنعون ضجيجا حول أنفسهم
أما نمل البيوت فيعمل بصمت ...
يجمع مؤونة السنة ولا يُسمع له صوت
ويظل أساس الحياة كلها
بينما يتصدر المشهد ضفادع كثيرة
لا تملك سوى النقيق....

عن سلال الغسيل الممتلئة
لأن الأم لا ترضى أن يخرج طفلها بثياب غير نظيفة
وعن المجلى المُكوّم بالأطباق والأكواب
لأنها ترفض أن يأكل أولادها ما يُطفئ الجوع فقط

وعن الألعاب المبعثرة والمُكعّبات الصغيرة
لأنها تُصر أن تبقى الطفولة في مكانها
لا في الصور المُصفحة.

عن الصوت المبحوح
والأعصاب التي تتآكل كل مساء
والظهر الذي يئن دون أن يشتكي
لأن هناك يوما جديدا ينتظرها
ولا أحد سيقوم مقامها إذا تعبت...

عن النساء اللواتي ينسين أعياد ميلادهن
ولا يُسافرن إلى المنتجعات
ولا يشترين عطورا باهظة
لأن حياتهن مشغولة بما هو أهم
والزمن كله يتكئ على أكتافهن...

أدري أن الكلمات لا تُعالج وجع الظهر
ولا تُعيد الرطوبة إلى يدين جففتهما مسؤوليات لا تنتهي
ولا تُمحو آثار السهر تحت عيون متعبة
وأدري أن كثيرات منكن لن يجدن وقتا لقراءة نصّ لكاتبة مثلي
لأن الحياة تُثقل الرُكَب ...

لكن كتبت هذا لأجل الاعتراف
لأنكُن أساس العالم الذي يتظاهر بأنه لا يعرف فضلكن
لأنكُنّ الجيش الوحيد الذي يُطلب منه أن ينتصر كل يوم
ولا يُسمح له أن ينهزم حتى تستمر الحياة...

أنتن بطلات العالم الحقيقيات
اللواتي يُمسكن الأرض من أطرافها
كي لا تنهار ...

سلاما لكُنّ سلاما وألف سلام ..

09/11/2025

তালিবুল ইলমদের জন্য অত্যন্ত উপকারী আলোচনা।
আলোচক : হযরত মাওলানা মুফতী দেলাওয়ার সাহেব হাফিযাহুল্লাহ

09/11/2025

مَن قال: سُبْحانَ اللَّهِ وبِحَمْدِهِ، في يَومٍ مِائَةَ مَرَّةٍ؛ حُطَّتْ خَطاياهُ وإنْ كانَتْ مِثْلَ زَبَدِ البَحْرِ.

যে ব্যক্তি দিনে একশ বার “سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ” (সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি) বলে, তার গুনাহসমূহ মুছে ফেলা হবে — যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মতো বিশাল হয়।

হাদীসের সূত্র:
রাবি (বর্ণনাকারী): আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
হাদীস বিশারদ: ইমাম বুখারী (রহঃ)
গ্রন্থ: সহীহ বুখারী
হাদীস নম্বর: ৬৪০৫
হুকুম (হাদীসের মান): সহীহ (বিশুদ্ধ)
তাখরীজ: এ হাদীসটি বুখারী (৬৪০৫)-এ বর্ণিত হয়েছে এবং মুসলিম (২৬৯১)-এও দীর্ঘ বর্ণনায় এসেছে।

09/11/2025

‏ماذا عن شعور معاذ رضي الله عنه وقتها
😢😢😢😢😢😢😢

09/11/2025

ক্বদীম-কঠিন নেসাব:
কিছু মাকাসেদ ও ফাওয়ায়েদ
--মাওলানা আবু সাবের আব্দুল্লাহ

نحمده ونصلي على رسوله الكريم. أما بعد:

১. কদীম নেসাবের উদ্দেশ্য অনেক, কিন্তু সর্বমূল উদ্দেশ্য হলো ইলম অর্জনের এস্তেদাদ তৈরি। নেসাবের কিতাবের বাইরে রয়ে যাওয়া হাজারো কিতাব পড়ে বুঝে হজম করে ইলম ও তাফাক্কুহ অর্জন এবং ইলম বিতরণের যোগ্যতা তৈরি।

২. ক্বদীম নেসাবের মূল মাকসাদ এস্তেদাদ এবং 'কলবে য়াকজাঁ'। 'জবানে হুঁশমান্দ' ক্বদীম নেসাবের মূল মাকসাদ নয়, 'মালুমাতের এজাফা'ও নেসাবের মূল মাকসাদ নয়। মূল মাকসাদ আলেম হওয়ার যোগ্যতা তৈরি, নেসাবের বাইরের ইলমি কিতাব পাঠের যোগ্যতা ও মানসিকতা তৈরি।

৩. আরবি বোঝা, লেখা এবং বলতে পারা তিনওটা আরবি নেসাবের মাকসাদ। তবে উলুমে ইসলামিয়ার মূল মাসাদির থেকে মাসায়েল বোঝা এবং ফাহম হাসিল করাটা প্রধান মাকসাদ। বুঝ-সমঝের যোগ্যতা ব্যাহত হয়, এমনভাবে লেখা-বলার চর্চা মোনাসেব নয়। এখন আরবি বলতে পারার জন্য মুখের চর্চা বৃদ্ধি করা হচ্ছে এবং সে আলোকে পাঠ দান করা হচ্ছে। কিন্তু এর ফলে তাহকীক বিমুখতা ও সতহিয়্যত বাড়ছে কি না ভেবে দেখা দরকার।

৪. পাঠ্য নেসাব এস্তেদাদ গঠনের উপযোগী হতে হয়, ইলমের এজাফা এর মূল মাকসাদ নয়। পাঠ্য নেসাব যদি এত সহজ হয় যে, মেধা খাটানো ছাড়াই ব্যক্তিগত মোতালায় পাঠোদ্ধার হয়ে যায়, তাহলে তা নেসাব হওয়ার উপযোগী নয়। আগের কালে এজন্য 'মতন' তৈরি করে নেসাব করা হতো।

৫. নেসাব অপরিবর্তীয় কিছু নয়। যুগের আহলে ইলমের পরামর্শে এস্তেদাদ গঠনমুখী ওজস্বী সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে। তবে নেসাবের কিতাবের ভাষা-বর্ণনা-উস্থাপনা সহজ-সাহল-হালকা হতে পারে না, ভারী ও ব্যাক্ষাসাপেক্ষ হতে হয়। অন্যথায় এস্তেদাদ গঠনের লক্ষ্য ব্যাহত হয়।

৬. এস্তেদাদ গঠনের মূল কিতাবগুলোর মাঝে কিছু তো এমন, যেগুলোর বিকল্প পেশ করা বলা যায় অসম্ভব। আর কিছু বুনিয়াদি কিতাবের উত্তম-উপযুক্ত বিকল্প আসার আগ পর্যন্ত প্রয়োজনে সহযোগী কিতাব সাথে রাখা যায়।

৭. ইলমি-ফন্নী ভাষারীতিতে উপস্থাপিত ক্বদীম নেসাবের মোয়াক্কার কিতাবাদি পাঠ দানের দ্বারা সংশ্লিষ্ট কিতাবই শুধু উদ্দেশ্য নয়, বরং সুকঠিন ইলমী বিষয়বস্তু বোঝার যোগ্যতা ও মানসিকতা তৈরি করাও উদ্দেশ্য।

৮. পুরানো কিতাব ও বিষয়বস্তুর প্রতি 'ওয়াহশাত' ও 'নফরত' সালাফ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং ইলম থেকে মাহরুম হওয়ার বড় কারণ। শুধু জাদীদ আর সহজ পড়ালে ছাত্রের মাঝে এই রোগ দেখা দেয়। তাই জটিল-কঠিন ভীতি দূর করা, পুরানো ইলমী বিষয়ের প্রতি আগ্রহ পয়দা করা, ভারী শাস্ত্রীয় বিষয় আয়ত্ব করার মানসিকতা ও সাহস সৃষ্টি করা একান্ত কাম্য। এর জন্য ক্বদীম নেসাব যথাসম্ভব বহাল রাখা এবং প্রতিস্থাপন করা দরকার।

৯. শিক্ষা ও তালীম-তরবিয়তের ভিতর কঠিনতা, শাসন-শাস্তি, প্রশিক্ষণ ও কষ্টসহিষ্ণুতার বিষয় থাকে। কথায় আছে কঠিন প্রশিক্ষণ সহজ যুদ্ধ। স্বভাবগতভাবেই শিক্ষা কঠিন বিষয়, সহজ কিছু নয়। মেধার উপর চাপ প্রয়োগ ছাড়া মেধা শাণিত হয় না, 'তাশহীযে আযহান' হয় না। ইলমী এবং ফন্নী কিতাব বোঝার আগ্রহ-যোগ্যতা পয়দা হয় না। ফলে অনেক ওলামায়ে কেরাম শিক্ষাকে সহজ, আনন্দময় এবং আরামদায়ক করতে চাওয়াকে শিক্ষার স্বভাব ও উদ্দেশ্য পরিপন্থী বলে মনে করেন।

১০. দ্বীনী ইলমের বিষয় শেকড়মুখী। সমঝ-ফাহম, নজরিয়া ও ফিকির এবং আওসাফ হতে হয় সম্পূর্ণ সালাফের। আর ইলমের আসবাব ও বাহনেও 'কদামতপছন্দী' ওলামায়ে দেওবন্দের বৈশিষ্ট্য। তারা জাদীদ জিনিস পরীক্ষা-নিরীক্ষার দীর্ঘস্তর পার হওয়ার পর গ্রহণ করেন, তড়িঘড়ি করেন না। এই তরিকা 'আসলাম' ও নিরাপদ।

১১. ইলমের জন্য মেধা, সবর ও মুজাহাদা জরুরি। কদীম ও কঠিন নেসাব দ্বারা মেধা তীক্ষ্ণ করা এবং ইলমের জন্য সবরের মানসিকতা সৃষ্টি করা উদ্দেশ্য। কিন্তু অনেকে জাদীদ ও সহজ নেসাব তৈরি করছে স্বল্প মেধার কষ্টবিমুখদের কথা ভেবে। ফলে যারা স্বল্প মেধাবী, তাদের তো নয়ই, মেধাবীদেরও কাঙ্খিত এস্তেদাদ হচ্ছে না। আসলে স্বল্প মেধার কষ্টবিমুখদের 'আলেম' বানাতে চাওয়া ঠিক না, তাদেরকে দ্বীনদার বানিয়ে ছেড়ে দেওয়া উচিৎ। হযরত থানবী রহ, এমনটাই বলতেন।

১২. নেসাবের কিতাব হয়তো ১০০টি, কোনো মেধাবী ছাত্র পাঁচ-ছয় বছরে সব পড়েও ফেলতে পারে। কিন্তু নেসাব শুধু কিতাব নয়, শিক্ষকও। নেসাবের প্রতিটি কিতাবের সাথে একজন শিক্ষক থাকেন। কদীম নেসাবে সেই শিক্ষকের জীবনের যাবতীয় ইলমি অর্জন, সমঝ-ফাহম এবং অভিজ্ঞতাও নেসাব। আর ছাত্রের আমলি তরবিয়তও নেসাব। সুতরাং বর্ষ না কমিয়ে নেসাবের কিতাবের সাথে শিক্ষকের সান্নিধ্যে নির্ধারিত সময় কাটানো দরকার, আমলি তরবিয়ত অর্জন করা দরকার। এর জন্য 'ফুল কোর্স' জরুরী।

১৩. শুধু নেসাবের কিতাবে যতটুকু লেখা আছে, ততটুকুর মাঝে পাঠদান সীমাবদ্ধ করা উচিৎ নয়। নেসাবের কিতাবের সাথে সাথে উস্তাদের 'তাকরীর' ও রাহনুমায়ী অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখন আমরা নেসাবের কিতাবের প্রতি যত গুরুত্বারোপ করছি, কিন্তু নেসাবের যিনি পাঠদাতা, যিনি ছাত্র গড়ার মূল কারিগর, সেই উস্তাদের মোতালা বৃদ্ধি ও মানসম্পন্ন করার বিষয়ে জোর দিচ্ছি না। ফলে একজন শিক্ষক, যাকে বলে আহলে ইলম, তা হতে পারছেন না। শুধু ছাত্ররা পরীক্ষায় ভালো ফল করছে, কিন্তু একজন শিক্ষক যাকে বলে 'আহলুল ইলম' ও 'আহলুদ দলিল' হয়ে গড়ে উঠছেন না।

১৪. ক্বদীম নেসাবের রীতি হলো-- উস্তাদ তার বিস্তৃত মোতালা থেকে তাঁর তাহকীক ছাত্রের সামনে তুলে ধরবেন, আর ছাত্র উস্তাদের তাকরীরের আলোকে নেসাবের কিতাব এবং অন্যান্য 'মাসাদির' থেকে নিজেও মোতালা করবে। এতে উস্তাদ যেমন ধীরে ধীরে আহলে ইলম হয়ে উঠবেন, তেমনি ছাত্রও এস্তেদাদ সম্পন্ন হয়ে গড়ে উঠবে।

১৫. কিতাবকে শায়খ না বানিয়ে উদ্ভাদকে শায়খ বানানো দরকার। কিন্তু নেসাবের কিতাব সহজ হয়েগেলে ছাত্রের কাছে উচ্চাদের গুরুত্ব হ্রাস পায়, ছাত্রের মেধা নিষ্ক্রীয় থেকে যায়, মেধার কসরত কমে যায়। যে কিতাব এত সহজ যে, উস্তাদ শুধু বলবেন, 'অমুক পৃষ্ঠা থেকে অমুক পৃষ্ঠা পড়া।' ব্যস, উস্তাদের কাজ শেষ। ছাত্রের কাজ মুখস্ত চর্চা করা। এতে ছাত্রের মেধা যেমন কাজে লাগছে না, উস্তাদের তাকরির ও রাহনুমায়ীরও দরকার হচ্ছে না। এটা অনভিপ্রেত।

১৬. কদীম নেসাবে পাঠ্য কিতাবের চেয়েও উস্তাদ গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্র গড়ার মূল কারিগর উস্তাদ, নেসাবের কিতাব তার সহায়ক। তাই মূল ইলম ও সমঝ-ফাহম শিখবে উত্তাদের কাছে। সুতরাং উদ্ভাদ নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী নানান কিতাব মোতালা করবেন, তিনি তাঁর সারনির্যাস ছাত্রের সামনে তুলে ধরবেন এবং সংশ্লিষ্ট কিতাবাদির সন্ধান দিবেন। ছাত্র উস্তাদের তাকরীর এবং নেসাবের কিতাবের সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট কিতাবাদি থেকেও সাহায্য নিয়ে পাঠ তৈরি করবে, বিষয়বস্তু আত্মত্মস্থ করবে। এভাবে উস্তাদ-শাগরিদের ইলমি 'মোস্তাওয়া' উপরে উঠতে থাকবে এবং উভয়ের মাঝে রূহানী ও দ্বীনী বন্ধন দৃঢ় থেকে দৃঢ় হতে থাকবে।

১৭. ক্বদীম নেসাব পাল্টানোর বাড়তি চেষ্টা না করে 'তরিকে তালিম' সহীহ করা দরকার। ছাত্রের মেধা থেকে কাজ নিলে এই নেসাব থেকেই যোগ্য ব্যক্তি তৈরি হবে। জাদীদ ও সহজ নেসাবের 'তরিকে তালিম' সহীহ হলে যতটুকু হবে, তার চেও বেশি হবে বলে মনে হয়।

১৮. ছাত্র গড়ার ফিকিরের সাথে সাথে উস্তাদ গড়ার ফিকিরও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে পড়ে একজন উদ্ভাদের ইলমি-আমলি তরক্কির জন্য, তাদরীস-তাসনীফ ও মোতালার কাজে অগ্রসর হওয়ার জন্য উৎসাহ দান এবং উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন। সালাফের কর্মপদ্ধতি থেকে এ দিকটির গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়।

১৯. এখন কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় এমতেহানগুলোর সুয়ালাত কিতাবের মতন, উস্তাদের তাকরীর ও প্রশিদ্ধ আরবি হাশিয়া ও শরাহমুখী না হওয়ার কারণে ছাত্ররা নোট-গাইডমুখী হচ্ছে। অথচ লেখাপড়া হওয়া দরকার ইলম-কিতাব-মতন এবং উস্তাদমুখী।

২০. যেখানে আহলে ইলম ও আহলে দিল আছেন, যেখানে এন্তোদাদ গড়ার ফিকির আছে, সেখানে ছাত্রদের ভীড় হওয়া উচিৎ। মারকাজী পরীক্ষার ফলাফল ভালো, শুধু এই বিবেচনায় সেরা মাদরাসা নির্বাচন করা ঠিক নয়।

২১. পরীক্ষা ও নোট-গাইড নির্ভর পড়াশোনা আত্মত্মঘাতী। ছাত্রের লেখাপড়া ও দরস 'মতন' নির্ভর, আরবি মা'খাজমুখী, ইলম এবং উদ্ভাদমুখী হওয়া জরুরি।

২২. ছাত্রদের তরবিয়তও অর্জিত হবে মূলত উস্তাদের সোহবত থেকে। এর জন্য কিছু সহযোগী কিতাব সংযুক্ত করা যেতে পারে।

২৩. সময়ের প্রয়োজনে জাদীদ ও ক্বদীম ফনের কোনো কিতাব বৃদ্ধি করার অবকাশ নেসাবে থাকা দরকার। তবে পাঠ্যক্রমে সংযোজন, বিয়োজন, সহজায়ন ইত্যাদি সুনিয়ন্ত্রিত না হলে নেসাবে 'প্রক্ষেপণের' আশংকা বাড়বে।

২৫. প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিশুশিক্ষা- আরবি, বাংলা, অংক, উর্দু, ফারসি, ইংরেজি, ভূগোল ইত্যাদি সহজ-নতুন পাঠ্যপুস্তকে পাঠ দান করা যায়। তবে তাও জাতীয় কর্তৃপক্ষের দীর্ঘ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে হওয়া উচিৎ। আর মাধ্যমিক স্তর থেকে শিক্ষাকে সহজ না করে যথাসম্ভব কদীম এবং ওজনদার রাখা কাম্য।

(একটি সতর্ক মত হল, নাহবেমীর বা হেদায়েতুননাহু পর্যন্ত নেসাব 'জাদীদ' হওয়াটা আসল, এর উপরের জামাতে নেসাব 'কদীম' হওয়াটা আসল )

২৬. নেসাবের যে সমস্ত কিতাব পরিবর্তনের বিষয়ে মুরুব্বিগণ এখনও এক মত হতে পারেননি, যার কারণে কিতাবগুলো নেসাবে বহাল আছে, সেসকল কিতাবের বিষয়ে ছাত্রদের ভিতর বিরূপ মনোভাব তৈরি না করে, উপরোক্ত ফাওয়ায়েদগুলো স্মরণ রেখে, ধৈর্যের সাথে সহীহ তরিকায় পাঠ দান অব্যাহত রাখা একান্ত কর্তব্য।

২৭. ক্বদীম নেসাবের ছাত্রদের জন্য জাদীদ নেসাবের কিতাবগুলো সংগ্রহ করে এস্তেফাদা করা কর্তব্য, একেবারে গাফেল-বেখবর থাকা মোনাসেব নয়।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: উপরের ছত্রগুলো কদীম নেসাবের একজন মুদাররিসের অনুভব-অনুভূতির বহিঃপ্রকাশমাত্র। এর মাঝে যথার্থতা কতটুকু তা বিচার করবেন হাযরাতে ওলমায়ে কেরাম। আল্লাহ তাআলা খায়রের ফায়সালা করুন, সকলকে হেফাজত করুন, আমীন।)

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العلمين

বিনীত বান্দা
আবু সাবের আব্দুল্লাহ
জামিয়া শারইয়‍্যাহ মালিবাগ ঢাকা
১৮/১১/১৪৪৩হি.
১৯/৬/২০২২ঈ.

08/11/2025

“আমার দ্বীন : ইসলাম।
আামর মাযহাব : হানাফি।
আমার মাসলাক (দস্তুর) : আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ।
আমার মানহাজ (পথ) : দেওবন্দিয়াত।”

-মাওলানা ইলিয়াস ঘুম্মান হাফিযাহুল্লাহ
৮ নভেম্বর। ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট।
দাওয়াতুল ইহসান বাংলাদেশের ‘জাতীয় উলামা মাশায়েখ সম্মেলন।

28/10/2025

কিতাবি ইস্তে'দাদ
--মাওলানা আবু সাবের আব্দুল্লাহ হাফি.

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
দরসে নেজামির অনেকগুলো উদ্দেশ্য আছে। এর অন্যতম বড় উদ্দেশ্য হল, মূল উৎস (مصادر أصلية) থেকে উলুমে ইসলামিয়া আয়ত্ত করার যোগ্যতা অর্জন।

এই যোগ্যতার অনেক ধাপ আছে , স্তর আছে। এর প্রাথমিক স্তর হল,

১. সহিহ ই‘রাব দিয়ে বিশুদ্ধভাবে ইবারত পাঠ করতে পারা।

২. তারকিব বুঝতে পারা। তারকিব বোঝার অর্থ হল,
o ضمير এর مرجع বোঝা,

o اسم اشارة এর مشار إليه বোঝা,

o حال ও তার তারকিব বোঝ,

o মুবতাদা, খবর বোঝা

o ফেয়েল ফায়েল বোঝা ইত্যাদি

৩. সাবলীল অনুবাদ করতে পারা।

৪. ইবারতের সঠিক মতলব বা উদ্দেশ্য বুঝতে পারা।

সঠিকভাবে ইরাব দিতে পারা, তারকিব বোঝা, সাবলীর অনুবাদ করতে পারা এবং সঠিক মতলব অনুধাবন করা। --এই চারটি যোগ্যতার সমন্বয়ই মূলত কিতাবি ইস্তেদাদের প্রাথমিক স্তর।

এখন কথা হল এই প্রাথমিক যোগ্যতাটা কিভাবে অর্জন করব?

এর জন্য মৌলিকভাবে তিনটি উসূল মনে রাখতে হবে। আমল করতে হবে--

১. কিতাব ও মতন নির্ভর পড়াশোনা করতে হবে, شرح বা নোট নির্ভর পড়াশোনা করা যাবে না।

মতন নির্ভর পড়াশোনার অর্থ হল, মতন থেকে উদ্দিষ্ট বিষয়টি আয়ত্ত করার
সর্বাত্মক চেষ্টা করা। এর জন্য প্রথমে অন্তত তিন বার চূড়ান্ত মনোযোগ সহকারে
মতন পড়তে হবে। এবং মতন থেকে মাসআলাটা বোঝার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। যদি পর্যাপ্ত চেষ্টা করার পরও মতন থেকে মাসআলা বুঝে না আসে, তাহলে হাশিয়ার সহযোগিতা নেওয়া যাবে। এরপরও যদি বুঝ না আসে, তাহলে শরাহের সহযোগিতাও নেওয়া যাবে। তবে শর্ত হল, হাশিয়া ও শরাহ অবশ্যই আরবি হতে হবে। বাংলা বা উর্দূ হওয়া চলবে না।

আর শরাহ নির্ভর পড়ালেখার অর্থ হল, উদ্দিষ্ট মাসআলা মূল মতন থেকে না বুঝে শরাহ বা নোট থেকে বোঝার প্রবণতা।

২. আরবি নির্ভর পড়ালেখা করতে হবে, বাংলা বা উর্দূ নির্ভর পড়ালেখা সম্পূর্ণরূপে পরিহার করতে হবে।

আরবি নির্ভর পড়ালেখার অর্থ হল, আরবিকে বোঝার মূল মাধ্যম বানানো। আর বাংলা বা উর্দূ নির্ভর পড়ালেখার অর্থ হল, আরবিকে ভয় করে বাংলা বা উর্দূ কিতাবাদি পড়া এবং সেখান থেকে কাজ সেরে ফেলার ধোঁকায় পড়া।

হ্যা. মাসআলা বোঝার পর, আরবি ব্যাখ্যা গ্রন্থ মুতালার পর বাড়তি এতমিনানের জন্য প্রথমে উর্দু তারপর বাংলা শরাহ দেখা যেতে পারে। অতিরিক্ত জ্ঞানের জন্য বাংলা বা উর্দূ কিতাবাদি মুতালা করতে দোষ নেই। যেমন কাফিয়ার একটি মাসআলা হল করার পর মাথায় এল, দেখি দেওবন্দ ওয়ালারা কী লিখেছেন। বা বাংলাদেশের বাংলা ব্যাখ্যা গ্রন্থ লেখকরা কী লিখেছেন। বা তারা
কিভাবে মাসআলাটা উপস্থাপন করছেন। তাদের লেখায় নতুন কোনো জিনিস এসেছে
কিনা ইত্যাদি উদ্দেশ্যে পড়াটা দোষ নয়। বরং প্রশংসার বিষয়। এটা সহযোগিতা নেওয়া।
এটা উর্দূ বা বাংলা নির্ভর লেখাপড়া নয়। তাই এতে কোনো সমস্যা নেই।

৩. ইলম নির্ভর পড়ালেখা করা, পরীক্ষা নির্ভর পড়া লেখা না করা।
পরীক্ষা নির্ভর পড়ালেখার অর্থ হল, মাসআলা বোঝার দরকার নেই। দরকার হল,
পরীক্ষায় পাস করা বা সনদ অর্জন করা। তাই পুরো কিতাব না পড়া। শুধু মহল্লে ইমতেহান পড়া। মাসআলার গভীরে প্রবেশ করার চেষ্টা না করা। শুধু গাইড পড়া বা বিগত বছরগুলির প্রশ্ন সাজেশন ও তার উত্তর সাজেশন পড়া এবং এর পেছনেই রাত দিন মাটি করা।

মনে রাখবে, পরীক্ষা ও সনদ নির্ভর পড়ালেখা আমাদের কাওমি মাদরাসার মেযাজের খেলাফ। বেফাক, হাইয়ায় মুমতায হওয়াই ইস্তেদাদের প্রধান মানদণ্ড নয়।

উপরোক্ত তিনটি উসুল সামনে রেখে ইস্তেদাদের প্রাথমিক স্তর অর্জনে আমাদেরকে নিম্নোক্ত কাজগুলো নিয়মিত করতে হবে। এক্ষেত্রে থানভী রাহ. এর বিখ্যাত উক্তিই শুধু উল্লেখ করতে চাই। তিনি তার “নাসিহুত
তলাবা” গ্রন্থে বলেন, যে ছাত্র এই চারটি কাজ করবে, তার আলেম হওয়ার জিম্মাদার আমি আশরাফ আলি!!

কাজ চারটি হল,
১) সামনের সবক পড়ে দরসে বসা।
এখানে সবক পড়ার সময় আগের চারটি বিষয় খেয়ার করে পড়তে হবে। সেগুলো
আবার বলছি--

 নিজে নিজে ইবারত পড়া
 নিজে নিজে তারকিব করা
 নিজে নিজে অর্থ করা
 নিজে নিজে মতলব বের করা

এক্ষেত্রে ফরকে মারাতেব হতে পারে। কেউ হয়ত চার আনা বুঝবে, কেউ হয়ত ছয়
আনা বুঝবে, কেউ হয়ত আট আনা বুঝবে, কেউ হয়ত কিছুই বুঝবে না। এটা নিয়ে
চিন্তা করার কিছু নেই। কারণ এই মুতালার উদ্দেশ্য হল মা‘লুমাত থেকে
মাজহুলাত আলাদা করা। এবং বোঝার চেষ্টা করা। একেবারে খালিউজ জেহেনে
দারসে না বসা।

২) নিয়মিত দরসে উপস্থিত থাকা।
মনে রাখবে, যে ছাত্র একটি দরসও কামাই দেয়, সে গত এক সপ্তাহে যতটুকু
এগিয়ে গিয়েছিল তার চেয়ে বেশি পিছিয়ে যায়। তাই দরসে উপস্থিত থাকা খুব
গুরুত্বপূর্ণ। তবে দরসে শুধু শরীর নিয়ে উপস্থিত থাকলেই হবে না। বরং “আমি আজকের পড়াটা বুঝবই” এমন সংকল্প নিয়ে দরসে বসা। “তাকরারে বুঝে নিব” এধরনের চিন্তাভাবনা পরিহার করা।

# দরসে পিনপতন নীরাবতা ( الإصغاء ) অবলম্বন করা। অপ্রয়োজনীয় কথাবর্তা বা হৈ হুল্লোড় না করা।

# কান পেতে (الاستمعاع) উস্তাদের সব কথা শোনা

# গভীর মনোযোগ সহকারে উস্তাদের পড়া বোঝা। বুঝে না আসলে আদবের সাথে প্রশ্ন করা।

৩) তাকরার করা
তাকরার খুব গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। এর মাধ্যমে ইফহাম-তাফহিমের মাদ্দাহ তৈরি
হয়। অনেক আলেম আছেন, যারা অনেক ইলম ওয়ালা। কিন্তু তারা আরেক জনকে
নিজেদের মনের কথা বুঝাতে পারেন না। তারা কিন্তু ইন্তেকালের সময় নিজেদের
ইলম নিয়েই কবরে যাবেন। কেউই তাদের ইলমের দ্বারা উপকৃত হতে পারবে না।
তাই নিজের মনের কথা যেন সাবলীলভাবে অন্যের কাছে পৌঁছে দিতে পারি, সেজন্য
গুরুত্ব সহকারে তাকরার করা ও তাকরারে বসা।

থানভী রাহি বলেন, ইস্তেদাদের জন্য এই তিনটি হল জিনিস ফরজ। আরেকটি
জিনিস মুস্তাহাবের পর্যায়ের। সেটা হল--

৪) প্রতিদিন পেছনের কিছু পড়া পুরাবৃত্তি করা।

আমি এখানে আরেকটি কথা যোগ করতে চাই, তা হল,

৫) মুযাকারা করা।
দুজন দুজনে মুযাকারার দ্বারা অনেক কিছু হল হয়ে যায়। ইফহাম তাফহিমের মাদ্দাহ পয়দা হয়। তাই মুযাকারার প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

আল্লাহ, এই কথাগুলোর মধ্য যেগুলো অকল্যাণকর, সেগুলো আমাদের অন্তর থেকে মুছে দিন। আর যেগুলো আমাদের জন্য উপকারী, নাফে, মুফিদ সেগুলোকে আমলে আনার তাওফিক দান করুন। আমিন।

তরবিয়তি মজলিসের স্বরলিপি--
কাউসার বিন ইব্রাহিম
ইফতা-২
জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ ঢাকা

20/10/2025

আদীব হুজুর হাফিজাহুল্লাহর কিছু অমূল্য বাণী:
১-যারা মেহনত করে তাদের সময় তো চলে যায়, কিন্তু তাদের হাতে থেকে যায় মেহনতের ফসল, সাধনা ও পরিশ্রমের সুফল। যারা মেহনত করে না তাদেরও সময় চলে যায়, কিন্তু তারা হয় বঞ্চিত, মাহরুম ও দুর্ভাগা।
২-আমাদের প্রতিটি কথা ও কাজ, প্রতিটি আচরণ ও উচ্চারণ যেন ছোটদের জন্য শিক্ষা হয়।
৩-'আমাকে ভালোবাসো,কিন্তু বিশ্বাস করো না;
আমাকে ভালোবাসো,কিন্তু আমার চিন্তা ও চেতনার সঙ্গে একাত্মতাবোধ করো না,এটা আর যাই হোক ভালোবাসা নয়।'
আদীব হুযূর ( মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ দা.বা.)
(পুষ্প ৩য় প্রকাশন,৬ষ্ঠ সংখ্যা,৯ম পৃষ্ঠা)
৪-শুদ্ধ ভাষায় কথা বলা সাহিত্যের অর্ধেক।
৫-আত্মসমালোচনাই আত্ম-উন্নতির পথ তৈরি করে দেয়। পক্ষান্তরে আত্মতুষ্টি ডেকে আনে ক্ষতি ও বরবাদি।
৬-অপপ্রচার হল আমাদের বিরুদ্ধে দুশমনের সবচেয়ে বড় ও কার্যকর হাতিয়ার।
৭-আলো মানুষকে পথ দেখায়। কোরআন এমন আলো যা মানুষকে শুধু পথ দেখায় না, গন্তব্য পর্যন্ত পৌঁছে দেয়, যার নাম হিদায়াত।
৮-হৃদয় কী জন্য! দুঃখী মানুষের দুঃখ অনুভব করার জন্য।
৯-জীবন তাদেরই জন্য, যারা সময়ের মূল্য বোঝে।
১০-হে অরুণ! হে তরুণ! পৃথিবী চায়, অতীতের আলোকিত মানুষের মতো তুমি কিছু স্বপ্ন দেখো নিজের জন্য, মানুষের জন্য এবং মানবতার জন্য!
১১-নিজেকে মানুষ বলে পরিচয় দেয়া খুব সহজ, কিন্তু নিজেকে মানুষ বলে প্রমাণ করা খুব কঠিন।
১২-জীবনের তিক্ত সত্য এই যে, মানুষ বড় হয় বহু বছরের নিরন্তর সাধনায়, মানুষ ছোট হয়ে যায় মুহূর্তের ছোট একটা আচরণে বা উচ্চারণে।
১৩-প্রত্যেক মা ও বাবাকে মনে রাখতে হবে এবং মনে রাখতে হবে প্রত্যেক শিক্ষককে, একটি শিশু তাই শেখে যা সে তার মা-বাবাকে ও শিক্ষককে করতে দেখে।
১৪-মানুষ বড় হয়, মহৎ হয় যখন সে মানুষের জন্য জীবন যাপন করে; মানুষ ছোট হয়, তুচ্ছ হয় যখন সে শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
১৫-মানুষ তিনটি জিনিসকে মূল্য দেয়, যোগ্যতা, সততা ও বিচক্ষণতা। মানুষের সমাজে, কর্মের জগতে যদি মূল্য পেতে চাও, এই তিনটি গুণ তাহলে অর্জন কর।
১৬-জিহ্বাকে যদি সংযমের মধ্যে রাখতে পারো, ক্রোধ যদি সংবরণ করতে পারো, আর যদি পারো ক্ষমা করতে, তোমার জীবন তাহলে সুন্দর, সফল!
১৭-জীবন কখন অন্ধকার হয়! সামনে যখন সঠিক কোন উদ্দেশ্য না থাকে। জীবন কখন আলোকিত হয়! সামনে যখন সঠিক উদ্দেশ্য থাকে। আলোকিত উদ্দেশ্যই আলোকিত জীবন।
১৮-ছোট বড় প্রতিটি মানুষেরই আত্মমর্যাদা রয়েছে, তুমি যদি কারো আত্মমর্যাদায় আঘাত করে কথা বলো, তাহলে তার বন্ধুত্ব বা আনুগত্য তুমি হারাতে পারো।
১৯-জ্ঞানের সঙ্গে বিনয় অর্জন করা কঠিন, কারণ স্বভাবের দিক থেকে মানুষ অহঙ্কারপ্রিয়।
২০-যেকোনো প্রচেষ্টা তখনই সফল হয়, যখন বিশুদ্ধ প্রতিজ্ঞা, পরম প্রজ্ঞা ও কর্মোদ্যম একত্র হয়।
২১-সুন্দর লেখা ও সাহিত্য সেটাই যাতে রয়েছে সত্যের প্রকাশ, যা হৃদয় থেকে বের হয়ে হৃদয়ে প্রবেশ করে এবং হৃদয় ও আত্মাকে আলোকিত করে।

11/03/2025

আজ হাফেজ্জী হুজুরের ওফাত দিবস
এক নজরে রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক রাহবার
হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ.
=== মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী ===
বিশ্ব বরেণ্য বুজুর্গ ও আলেমেদ্বীন, রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক রাহবার, মুজাহিদে মিল্লাত, জিকিরে মুজাসসাম, কুতুবে আলম, আমীরে শরীয়ত আল্লামা মোহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ) লক্ষীপুর জেলার রায়পুর থানাধীন লুধুয়া গ্রামে ১৮৯৫ সালে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম দ্বীনদার পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মৌলভী মুহাম্মদ ইদ্রিস সাহেব এবং দাদার নাম মরহুম মাওলানা মিয়াজী আকরামুদ্দিন সাহেব। মৌলভী ইদরিস সাহেব ছিলেন উর্দু-ফার্সী ভাষার সুদক্ষ একজন আলেম। দাদা আকরামুদ্দিন সাহেব ছিলেন ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ হযরত সাইয়্যেদ আহমদ বেরলভী (রহঃ) এর খলিফা মাওলানা ইমামুদ্দিন বাঙালি (রহঃ) এর শাগরেদ ও খলিফা।

ইসলামী শিক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর শিক্ষা জীবন। বিশিষ্ট আলেম ও বুজুর্গ এক মাত্র চাচা মৌলভী মোহাম্মদ ইউনুস সাহেবের নিকট তিনি বিসমিল্লাহর সবক শুরু করেন। কায়দা-আমপারা থেকে শুরু করে মাসআলা-মাসায়েল এবং ফার্সী ভাষার প্রাথমিক কিতাবসমুহ চাচার নিকট অধ্যায়ন করেন।

তিনি ফরিদপুর জেলার দুলাইরচর প্রাইমারী স্কুলে এবং রায়পুর থানার ফতেহপুর প্রাইমারী স্কুলে দু’বছরের প্রাইমারী কোর্স মাত্র এক বছরে সমাপ্ত করে করেন। তার পর তিনি চন্দ্রগঞ্জ মাদ্রাসা, নোয়াখালীর লাকসাম নবাব ফয়জুন্নেছা মাদ্রাসা, লক্ষীপুর থানার খিলবাইছা মাদ্রাসাতে শুরুর কয়েকটি জামাতের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের কিতাবসমুহ অধ্যয়ন করেন।

দেশে কোন ভাল হেফজ খানা না থাকায় তিনি সুদূর পানিপথে যাওয়ার ইচ্ছায় যাত্রা শুরু করেন খুব সামান্য সামানা নিয়ে। আল্লাহ তাআ'লার গায়েবী ব্যবস্থাপনায় তিনি পানিপথে পৌঁছেন এবং ক্বারী আব্দুস সালাম সাহেবের হেফজখানায় ভর্তি হন। ক্বারী আঃ সালাম সাহেব কিশোর হাফেজ্জী হুজুরের ত্যাগ ও মনোবল দেখে আশ্চর্যাম্বিত হন এবং তাঁর সুন্দর তেলাওয়াতের কারণে হাফেজ্জী হুজুরকে তাঁর স্থানে ইমামতি করার সুযোগ করে দেন। এর পাশাপাশি তাঁকে মসজিদে থাকার সু-ব্যবস্থা করে দেন। ফলে ১৯১৩ থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত মোট ৩ বছরের মধ্যে তিনি পুরো কোরআন শরীফ মুখস্থ করে ফেলেন।
ওস্তাদ খুশি হয়ে তাঁকে হাকীমূল উম্মত আল্লামা আশরাফ আলী থানবী (রহঃ) এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। হেফজ সমাপ্ত করার পর হাকীমূল উম্মত আশরাফ আলী থানবী (রহঃ) এর পরামর্শে তিনি সাহারানপুর মাজাহিরুল উলুম মাদ্রাসায় কিতাব বিভাগে ভর্তি হন। ১৯১৫ থেকে ১৯২২ সাল পর্যন্ত তথা মোট ৭ বছর সেখানে পড়া-লেখা করেন। ইলম এবং আমলের সমম্বিত রূপ ছিলেন দ্বীন পিপাসু হাফেজ্জী হুজুর। প্রতিদিনে প্রতিটি দরসে যেমনি উপস্থিত থাকতেন তেমনি সপ্তাহের ছুটির দিনে এবং বার্ষিক ছুটির সময়ও হযরত থানবী (রহঃ) এর খানকাহ থানা ভবনে গিয়ে থাকতেন।
হাদীস, তাফসির, ফেকাহ, উসূলে ফেকাহ, উসূলে তাফসির, বালাগাত, মানতেক ও হেকমত প্রভৃতি বিষয়ের উপর বিশেষ শিক্ষা অর্জনসহ ১৯২২ সালে কৃতিত্বের সাথে সাহারানপুর মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদীসের সর্বোচ্চ সনদ লাভ করেন।
মাজাহিরুল উলুম সাহারানপুরের শিক্ষা জীবনে যে সকল মহামনীষীর নিকট হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ) বিশেষ শিক্ষা লাভ করেন তাঁরা হলেন,ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও বুযুর্গ হজরত মাওলানা আব্দুর রহমান কামেলপুরী (রহঃ), মাওলানা আব্দুল লতিফ (রহঃ), মাওলানা মুফতি এনায়েত এলাহী (রহঃ), মাওলানা মঞ্জুর আহমদ (রহঃ) ও মাওলানা ছাবেত আলী (রহঃ) প্রমূখ।
ইসলামী শিক্ষার দুই প্রসিদ্ধ ধর্মীয় বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দ ও মাজাহিরুল উলূম সাহারানপুর। হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ) ছিলেন উক্ত উভয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। সাহারানপুরে হাদিসের সনদ নিলেও ফনুনাতের জন্য ভর্তি হন দারুল উলুম দেওবন্দে। ফকীহুল উম্মত মাওলানা ইযায আলী (রহঃ), মাওলানা বদরে আলম মিরাঠী (রহঃ), মাওলানা রাসুল খান (রহঃ) , আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী রহ: এবং শায়খুল ইসলাম মাওলানা ক্বারী তৈয়্যব(রহ) প্রমূখের মতো তৎকালীন উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ মনীষীদের নিকট তিনি ফনুনাতের কিতাব সমূহ অধ্যয়ন করেন এবং ১৯২৪ সালে দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা ফনুনাত কোর্স সমাপ্ত করেন। অতঃপর আশরাফ আলী থানবী (রহ) খানকাহ'তে কয়েক মাস আধ্যাত্মিক সাধনা করেন।

কর্মজীবন :
জন্মভূমিতে প্রত্যাবর্তন করে তিনি মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহঃ) ও হযরত মাওলানা আব্দুল ওয়াহহাব পীরজী হুজুর (রহঃ) এর সাথে একত্রে মিলে দেশের বিভিন্ন স্থানে দেওবন্দের অনুকরণে দ্বীনি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্ঠায় লিপ্ত হন। প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়ায় তারপর বাগেরহাট জেলার গজালিয়া একটি মাদ্রাসায় কয়েক বছর শিক্ষকতা করেন।
হাফেজ্জী হুজুর নামকরণ:
অত্যন্ত পরহেজগার ও উন্নত আখলাক-চরিত্রের অধিকারী মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ হিফজ শেষ করার পর থেকেই সবাই তাকে হাফেজ্জী বলে ডাকতেন। দেশে প্রত্যাবর্তনের পর ১৩৪৪ হিজরী সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইউনুছিয়ায় অধ্যাপনাকালে আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহ) হাফেজ্জীর সাথে হুজুর শব্দটির সংযোজন করে দেন ।
অতঃপর ঢাকায় এসে চকবাজারে বড় কাটারা আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। বড় কাটারা থাকতেই তিনি লালবাগ শাহী মসজিদের ইমামতির সুবাদে লালবাগ জামেয়া কোরআনিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। হযরত পীরজী হুজুর বড়কাটারাই থেকে যান। পরে হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ) ও সদর সাহেব আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহঃ)যৌথভাবে লালবাগ জামিয়া
কোরআনিয়া আরাবিয়ায় চলে আসেন। ফরিদাবাদ জামিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসাসহ সারা দেশে তাঁরা অসংখ্য দ্বীনী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। অবশেষে হযরত সদর সাহেব (রহঃ) গোপালগঞ্জে চলে যান আর হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ) একক প্রচেষ্টায় ১৯৬৫ সালে কামরাঙ্গীরচরে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। স্বীয় দাদা পীরের নামানুসারে মাদ্রাসাটির নাম রাখেন মাদ্রাসা-ই-নূরিয়া যা এখন জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া নামে পরিচিত। পরে হাফেজ্জী হুজুর (রহঃ) তাঁর নিজ গ্রাম লুধুয়াতে ইশা'আতুল উলুম মাদ্রাসাসহ সারাদেশে প্রায় দুইশত মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন।

হাকীমুল উম্মতের খেলাফত লাভ:
১৯৩৩ সালে প্রথম হজ্ব পালন শেষে দেশে প্রত্যাবর্তনের পথে তিনি হাকীমূল উম্মত আশরাফ আলী থানবী (রহঃ) এর খানকায় গিয়ে সাক্ষাৎ করে দেশে ফেরেন। দেশে এসে হযরত হাকীমুল উম্মত এর খেদমতে স্বীয় হালত জানিয়ে একটি পত্র দেন। সে পত্র পেয়ে হাকীমুল উম্মত থানবী (রহঃ) তাঁকে খেলাফত দান করেন।

রাজনীতিতে হাফেজ্জী হুজুর:
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যখন ওলামায়ে কেরামদেরকে লাঞ্ছিত-অপমানিত করা হচ্ছিল,কোন আলেম রাজপথে দাঁড়িয়ে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলার সাহস করছিলেন না, ঠিক তখনই হাফেজ্জী হুজুর রহ: তওবার ডাক দিয়ে সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে অবতীর্ণ হন এবং ১৯৮১সালে ১৫ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে সরকারি হিসেবে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। একই বছর ২৯ নভেম্বর তাঁর নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন "বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন" নামে একটি রাজনৈতিক প্লাটফর্ম। শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক, চরমোনাইয়ের মরহুম পীর মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মাদ ফজলুল করিম এবং মুফতি ফজলুল হক আমিনী সাহেব রহ: ছিলেন হাফেজ্জী হুজুর (রহ) ছাত্র ও মুরীদ। তিনজনকেই তিনি খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর নিযুক্ত করেন । জমিয়ত নেতা মাওলানা আব্দুল করিম শায়খে কৌড়িয়া, মাওলানা শামসুদ্দিন কাসেমী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিসবাহ, মাওলানা শাহ ফয়জুর রহমান, মাওলানা আবুল হাসান যশোরী ও মুফতি ইউসুফ ইসলামাবাদীসহ দেশবরেণ্য প্রায় সকল ওলামায়ে কেরামই খেলাফত আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ও সক্রিয় ছিলেন।

ইরাক-ইরান যুদ্ধ বন্ধে হাফেজ্জী হুজুর:
ইরাক-ইরান ২টি মুসলিম রাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ যুদ্ধ চলছিল। এ যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য ১৯৮২ সালের ২ সেপ্টেম্বর হাফেজ্জী হুজুর রহ: ইরান সফরে যান । ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং সে দেশের শীর্ষনেতৃবৃন্দের সাথে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে মতবিনিময় করেন। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে যুদ্ধ বন্ধ করার হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ: এর প্রস্তাবে সম্মতি দেন। অতঃপর ইরান থেকে তিনি পবিত্র মক্কা নগরীতে হজ পালন করতে যান। হজ্জ শেষে ৭ অক্টোবর হাফেজ্জী হুজুর ইরাক সফরে যান। ৯ অক্টোবর ইরাকের প্রেসিডেন্টের সাথে যুদ্ধ বন্ধে মতবিনিময় করেন, প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের অনেক প্রশ্নের জবাব দেন হাফেজ্জী হুজুর রহ:। একপর্যায়ে প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম যুদ্ধ বন্ধে হাফেজ্জী হুজুরের প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক চক্রান্তের কারণে দুই দেশের যুদ্ধ বন্ধ করার হাফেজ্জী হুজুরের উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখেনি।

১৯৮৩ সালের ২৩ জুলাই হাফেজ্জী হুজুর সকল পথ ও মতের দেশের সকল দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দকে মানবতার মুক্তির গ্যারান্টি ইসলামী হুকুমত কায়েমের আন্দোলনে শরিক করার মহান লক্ষ্য নিয়ে এক গোলটেবিল বৈঠক আহবান করেন। গোলটেবিল বৈঠকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, বাকশাল, কমিউনিস্ট পার্টি, সাম্যবাদী দল, মুসলিম লীগ, ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ, পিপলস লীগ, রিপাবলিকান পার্টি, জামায়াত, ফরায়েজী আন্দোলন, সিপিবিসহ ৩৪ টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। হাফেজ্জী হুজুরের এ গোলটেবিল বৈঠক উপমহাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল।
গোলটেবিল বৈঠকে হাফেজ্জী হুজুর তিন দফা দাবি পেশ করেন।[ ১] অনতিবিলম্বে ইসলামী প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশ ঘোষণা করা। [২] ইসলামী শাসনতন্ত্র রচনা করা।[৩] দেশের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকার গঠন করে তিন মাসের মধ্যে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান। হাফেজ্জী হুজুরের ৩নং দাবিটিই পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখায় পরিণত হয়।

১৯৮৩ সালে ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসম্মেলন। সম্মেলন শেষে এরশাদ সরকারের জরুরি অবস্থা ভঙ্গ করে লক্ষ লক্ষ মানুষের বিশাল মিছিল নিয়ে বায়তুল মোকাররমে সমাবেশে মিলিত হয়। সেখানে হাফেজ্জী হুজুর ঘোষণা করেন বর্তমান সরকার না ইসলামী সরকার, না জাতীয় সরকার। দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় জনগণ ইসলামী সরকার ক্ষমতায় দেখতে চায়।
১৯৮৪ সালের ২১ অক্টোবর হযরত হাফেজ্জী হুজুরের নেতৃত্বে দশটি দলের সমন্বয়ে গঠিত হয় সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদ। একই বছর ২১ শে ডিসেম্বর রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশটি লক্ষ লক্ষ মানুষের জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সভাপতির ভাষণে হযরত হাফেজ্জী হুজুর বলেন, দুর্নীতির গণতন্ত্রের বদলে আমিরুল মুমিনীন, মজলিসে শুরার পদ্ধতি এবং কোরআন-সুন্নাহর শাসন প্রবর্তনের জন্যই আমার সংগ্রাম । সমাবেশে সর্বদলীয় জাতীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

১৯৮৫ সালের ২৫ জুলাই হাফেজ্জী হুজুর লন্ডনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ইসলামী মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। সম্মেলনে মুসলিম রাষ্ট্রসমূহে ইসলামী শাসনপ্রতিষ্ঠায় ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

১৯৮৬ সালে পুণরায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে হাফেজ্জী হুজুর দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন।
এছাড়াও ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রপ্রধানদের ইসলাহের উদ্দেশ্যে হাফেজ্জী হুজুর পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান আইয়ুব খান ও জিয়াউল হক এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ-এর নিকট চিঠি প্রেরণ করেন।

ইন্তেকাল:
৮ রমযান ১৪০৭হিজরি, ১৯৮৭ সালের ৭ মে, বৃহস্পতিবার বেলা পৌঁনে ২টায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই মহামানব রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক রাহবার আল্লামা মোহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। পরের দিন শুক্রবার বাদ জুমা জাতীয় ঈদগাহে লাখ লাখ মুসল্লির অংশ গ্রহণে তাঁর নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন মরহুমের বড় সাহেবজাদা মাওলানা ক্বারী শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ রহ.। জানাযায় লক্ষ লক্ষ ছাত্র মুরীদ নেতা-কর্মী, সমর্থকসহ শোকাহত মানুষের ঢল নামে। ফলে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়েও ঈদগাহ ময়দান এবং আশপাশের এলাকাগুলোতে লোকের সঙ্কলন হয়নি। তখন মাইকে ঘোষণা করা হয় সবাই কেবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে যান, কাতার বন্দী সম্ভব হচ্ছে না।

জানাযায় শরিক হয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, আমার জীবদ্দশায় এত বড় বিশাল জানাজার নামাজ আর কখনো দেখিনি। জানাযায় আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ, ডঃ কামাল হোসেন, বিএনপি'র তৎকালীন মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা আবদুল করিম শায়খে কুরিয়া, মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের কূটনীতিকসহ সকল সিলসিলার পীর-মাশায়েখ, ওলামায়ে কেরাম এবং সকল দলের নেতৃবৃন্দ। পরে কামরাঙ্গীরচরে নিজ হাতে গড়া নুরিয়া মাদ্রাসা মসজিদের দক্ষিণ পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।
হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ: ছিলেন সুন্নাতে নববীর সঠিক ধারক-বাহক, সর্বজনমান্য বুজুর্গ, অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, নিরহংকার, নিরভিমান ও নিঃস্বার্থ আল্লাহ প্রেমের মজনু। এদেশে ইসলামী আন্দোলনের প্রেরণার উৎস। তাঁর জীবন,দর্শন, চিন্তাধারা, কর্মপ্রেরণা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অম্লান ও অবিনশ্বর হয়ে থাকবে। আল্লাহ তাআলা হযরতকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুক । আমিন।
---- মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী
নায়েবে আমির, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন।

C

Want your school to be the top-listed School/college in Mirpur?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address


60 Feet Road, North Pirerbag, Mirpur-2, Dhaka
Mirpur
1216