18/08/2025
#অন্তিমপ্রহর
পর্ব : ২
লেখক : জান্নাতুল মাওয়া
একটা মেয়ে কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকার পর দুই কদম এগিয়ে এসে আয়াশকে জড়িয়ে ধরে বলে উঠল—
— “ভাইয়া, তুমি এসেছো…!”
মেয়েটা হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা অবাক হয়ে গেল, কারণ এর আগে ওকে কোনোদিন কাঁদতে দেখেনি।
আয়াশ আস্তে করে মেয়েটাকে ছাড়িয়ে নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে বলল—
— “কাঁদছিস কেন, বোন? আমি তো বেঁচে আছি, মরে যাইনি।”
একটা হালকা হাসি দিয়ে সোজা হনহন করে বেরিয়ে গেল। নিজের গাড়ির দরজা খুলতেই ইয়াশ দৌড়ে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল—
— “ভাইয়া দাঁড়াও, তুমি চলে যাচ্ছো! এতদিন পর দেখা হলো, গল্প করব, আড্ডা দিব, আর তুমি চলে যাচ্ছো!”
আয়াশ মুচকি হেসে বলল—
— “আমি এই বাড়ি আর থাকছি না। তবে এখনো দুই মাস বাংলাদেশে আছি। এজন্য ছোট্ট একটা বাড়ি ভাড়া নিয়েছি। তোকে ঠিকানা ইনবক্স করে দিয়েছি। কাল সকালে, নাস্তা না করেই, তুই আমার বোন আর ভাইয়ের মেয়েকে নিয়ে চলে আসবি।”
গাড়িতে উঠতে উঠতে আবার বলল—
— “আর হ্যাঁ, বাড়িতে বলবি তোমরা কাল রাতে ফিরবে না।”
এ কথা বলে গাড়ি স্টার্ট দিল। মুহূর্তেই চোখের আড়াল হয়ে গেল।
🏠 পরিচিতি
এখন পরিচয়টা দেওয়া যাক—
যে বাড়ি থেকে আয়াশ বের হলো, সেটাই শেখ বাড়ি।
বাড়ির কর্তা ছিলেন নিহাল শেখ, স্ত্রী আনিকা শেখ। তাদের দুই ছেলে— আইনিল আর ইয়াশ। আইনিলের স্ত্রী যামিনী, তাদের এক মেয়ে মেহবাহার, ডাকনাম মেহা।
দুই বছর আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় আনিকা মারা যান। তার কিছুদিন পর নিহালের ক্যান্সার ধরা পড়ে। প্রায় নয় মাস ভোগার পর সেও মারা যান।
তারপর থেকে বাড়ির দায়িত্ব নেয় নিহালের ছোট ভাই আবরার শেখ।
আবরারের স্ত্রী সারা বেগম। তাদের দুই সন্তান— বড় ছেলে আয়াশ, মেয়ে আহিয়া।
এখন শেখ বাড়ির তরুণ প্রজন্ম বলতে বোঝায় ইয়াশ, আহিয়া আর মেহাকে।
মেহার বয়স ১৫, SSC দিয়ে এখন ফ্রি।
আহিয়ার বয়স ১৮, ইন্টার ২য় বর্ষের ছাত্রী।
ইয়াশের বয়স ২১, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ব্যবসাও করছে।
আর আয়াশের বয়স ২৫, সুইজারল্যান্ডে বড় ব্যবসা গড়ে তুলেছে।
🕰️ বর্তমান সময়
ঘটনার পর সবাই চুপচাপ যে যার ঘরে চলে গেল।
শেখ বাড়ি তিনতলা।
নিচতলায় বিশাল লিভিং রুম, সাথে ডাইনিং, কিচেন, গেস্ট রুম।
দ্বিতীয় তলায় নিহাল-আনিকাদের ঘর, আবরার-সারার ঘর, আইনিল-যামিনির ঘর আর একটা বড় বারান্দা।
তৃতীয় তলায় ইয়াশের রুম, আহিয়া-মেহার রুম, আর তালাবদ্ধ একটা বিশাল রুম— আয়াশের।
বিকাল গড়িয়ে গেলেও আহিয়া-মেহার কারও খাওয়া হয়নি। অবশেষে সারা বেগমের ডাকে সবাই একসাথে খেতে বসল।
খাওয়ার সময় হঠাৎ আবরার শেখ মেহাকে জিজ্ঞেস করলেন—
— “আজ যে ছেলেটাকে দেখলে, তাকে কি চিনিস দাদুভাই?”
মেহা অবাক হয়ে বলল—
— “না দাদাভাই, উনি কে?”
আবরার শান্তভাবে উত্তর দিলেন—
— “ও আয়াশ, আমার বড় ছেলে। মানে তোর বড় চাচ্চু।”
মেহা বিস্মিত হয়ে বলল—
— “আমার আপন চাচ্চু?”
— “হ্যাঁ।”
তারপর আর কেউ কিছু বলল না। খানিক পর ইয়াশ মুখ খুলল—
— “ছোট আব্বু, কালকে আমি আহিয়া আর মেহাকে নিয়ে বাইরে যেতে চাই। রাতে ফিরব না।”
আবরার অনুমতি দিলেন। এর আগেও ইয়াশ তাদের নিয়ে বাইরে থেকেছে, তাই কিছু বললেন না।
🌙 রাতের আড্ডা
খাওয়া শেষে সবাই রুমে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর ইয়াশ এল আহিয়া-মেহার রুমে। প্রতিদিনই তারা একসাথে বসে গল্প করে, আজও তাই হলো।
তবে আজ কেউ কোনো কথা বলছে না। হঠাৎ মেহা বলে উঠল—
— “চাচ্চু, ফোনটা রাখো।”
ইয়াশ ফোন রেখে বলল—
— “বল, কি হলো?”
মেহা দ্বিধা নিয়ে জিজ্ঞেস করল—
— “উনি কি সত্যিই আমার আপন চাচ্চু?”
— “হ্যাঁ।”
— “তাহলে আমি আগে কখনও দেখিনি কেন?”
— “দেখেছিলি। তখন তোর বয়স পাঁচ, আর ভাইয়া তখন বাড়ি ছেড়েছিল।”
মেহা আর কিছু বলতে চাইলে আহিয়া তাকে থামিয়ে দিল—
— “এই বিষয়ে আর কোনো কথা হবে না। সময় হলে সব জানতে পারবি।”
মেহা চুপ করে গেল। বিষয়টা কাটানোর জন্য সে ইয়াশকে জিজ্ঞেস করল—
— “কালকে কোথায় নিয়ে যাবে চাচ্চু?”
ইয়াশ মুচকি হেসে ফিসফিস করে বলল—
— ………
চলবে…
#অন্তিমপ্রহর
#জান্নাতুলমাওয়া
#অক্ষরেরআড়ালে
10/08/2025
29/01/2025