09/09/2025
শিক্ষা বার্তা
“মুহতারাম, রাস্তাঘাটের বেহায়াপনা দেখে নিরাশ হবেন না। আমরা আমাদের শিশুদের হৃদয়ে দ্বীনের আলো রোপণ করেছি। দশ বছর পর এর ফলাফল আপনি দেখতে পাবেন।” কথাটি ১৯৫৬ সালের এক সফরে মুফাক্কিরে ইসলাম, আলী মিয়া নদভী (রাহ.)-কে ইস্তাম্বুলের এক আলেম বলেছিল।
সেই কথাগুলো আজ ইতিহাসের অমূল্য দলিল।কারণ তুরস্কের আলেমরা সত্যিই ভবিষ্যতের জন্য কাজ করেছিলেন।তারা জাতির আত্মাকে বাঁচাতে হাজার হাজার হিফজ মাদ্রাসা দাঁড় করিয়েছিলেন। প্রায় বিশ হাজার ছাত্রাবাস বানিয়েছিলেন, যেখানে প্রতিদিন কুরআনের আলোয় বসা ছিল বাধ্যতামূলক।এমনকি বিদেশে যাওয়া মেধাবীদেরও তারা সহযোগিতা করেছিলেন, যেন তারা ফিরে এসে দ্বীন ও দেশের সেবায় আত্মনিবেদন করে।
বাংলাদেশের বাস্তবতা
আমাদের প্রজন্ম আজ কোন পথে যাচ্ছে?শিশুশিক্ষা থেকে শুরুকরে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত দ্বীনি শিক্ষা একদমই নামমাত্র।যুব সমাজে যে সামান্য ঈমানি চেতনা রয়ে গেছে, তা মাদ্রাসা, তাবলিগ, ইসলামী সংগঠন, ওয়াজ মাহফিল ও সাহিত্যের অবদান। কিন্তু প্রশ্ন হলো আমরা কি চাই, আগামী বাংলাদেশে দ্বীনের আলো আরও ক্ষীণ হয়ে যাক? না কি আমরা চাই, আগামী প্রজন্ম হোক কুরআন, ঈমান ও ইসলামী আদর্শ চর্চা করা একজন নাগরিক?
পরিকল্পনা এখনই
আমরা চাইলেই গড়ে তুলতে পারি একটি ইসলামিক এডুকেশন সিস্টেম। যেখানে থাকবে কুরআন, হাদিস, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গাণিতিক সমাধান, কমিউনিকেশন স্কিল ভাষা, আখলাক, ঈমানি দীক্ষা। এ পথে কাজাকরা বড় কোনো বাধা নেই।প্রয়োজন শুধু চিন্তা, ইচ্ছা এবং কার্যকর পরিকল্পনা।
আমাদের আহ্বান
জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আজকের পদক্ষেপের ওপর। আজ যদি আমরা বীজ বপন করি, আগামী দশ/বিশ বছরে ফল ফলবেই ইনশাআল্লাহ।জাতীয় শিক্ষার সীমাবদ্ধতা আজ আমাদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ।আমরা যদি আজ দ্বীনের আলো ছড়িয়ে দিই, কাল এই জাতিই হবে নবজাগরণের বাহক।