05/05/2025
মৌলভীবাজারের বড়লেখা থানায় ৫ই আগস্টের পর ২০১৫ সালের মারামারির ঘটনা উল্লেখ করে একটি মামলা হয়। মামলার বাদী হলেন বড়লেখা উপজেলা যুবদলের নেতা নুরুল ইসলাম তফাদার। এই মামলায় ২৫ নাম্বার আসামি হলেন দিনমজুর সুরমান আলী, তিনি ৫ মাস ধরে কারাগারে আছেন, জামিন হলেও দিনমজুর সুরমান বের হতে পারেন নি, অন্য মামলায় গ্রেফতার করা হয়!
যুবদল নেতা নুরুল এই মামলায় আমাকেও ৮ নাম্বার আসামি করেন। কিন্তু মামলার এজাহার পড়লে বুঝতে পারবেন প্রধানতম আসামি হিসেবে আমাকেই উল্লেখ করেছেন! অর্থাৎ আমি নাকি ধারালো রাম-দা দিয়ে বাদীর মাথায় আঘাত করি!
যাইহোক, মামলার এজাহার অনুযায়ী ঘটনা ২০১৫ সালের ৫ই জানুয়ারি। অথচ ৪টা জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমি ঢাকাতেই ছিলাম এবং ৫ই জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশরত্ন শেখ হাসিনার সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় গণভবনে উপস্থিত ছিলাম। মামলার বাদীর ভাষ্যমতে তিনি দিনমজুর সুরমান আলীকে চিনেন না! ফয়েজ নামে স্থানীয় এক নেতার কথায় সুরমানকে আসামি করেছেন!
তাহলে যুবদল নেতা নুরুল সাহেবের কাছে আমার জিজ্ঞাসা, আপনি কি আমাকে চিনেন! আমাকে কখনো সরাসরি দেখেছেন/আপনার সাথে কি আজ পর্যন্ত সামনা-সামনি আমার দেখা হয়েছে! ফয়েজের কথায় যদি আপনি দিনমজুর সুরমান আলীকে আসামি করেন, তাহলে কার কথায়/কার প্ররোচনায় আপনি আমাকে আসামি করেছেন? সাবেক মন্ত্রী শাহাবুদ্দিন চাচাকে কার কথায় আসামি করেছেন! এছাড়া সোয়েব ভাই আজির উদ্দিন চাচা কামরান ভাই যুবলীগের তাজ উদ্দিন, কামাল হোসেন, জুয়েল আহমদ, রেহান পারভেজ রিপন, আলী হোসেন, ছাত্রলীগের ইমরান ও জুনেদ সহ যাদেরকে আসামি করেছেন কাকে কার কথায় আসামি করেছেন আপনি খোলাসা করে বলেন। আশাকরি আপনি জিজ্ঞাসার জবাব দিবেন। তাহলে বড়লেখাবাসী অন্তত জানতে পারবে কারা এসব মিথ্যা মামলার পিছনে ইন্ধনদাতা, কারা মামলা বানিজ্যের সাথে জড়িত!
আমার মনে হয়, নুরুল ইসলাম, আপনি আমাকে সহ মামলার আসামি সবাইকে চিনেন-ই না! কিন্তু আপনি কারো প্ররোচনায় মামলাটি করেছেন! এবং এখন সবাইকে হয়রানি করাচ্ছেন, টাকার বিনিময়ে মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন।
আজ আবার শুনলাম, আপনি আরেকটি মিথ্যা মামলা দায়ের করতেছেন কুলাউড়া উপজেলায়। নিরীহ নিরপরাধ মানুষকে আসামি করছেন! আসামির তালিকায় সাংবাদিকরাও আছেন! কেনো কোন কারণে আপনি কুলাউড়া উপজেলায় মামলা করছেন! সাময়িক কিছু সুযোগ সুবিধা আর টাকার জন্য মামলা ব্যবসা শুরু করেছেন। বর্তমান সময়ে বিনা পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা হলো মামলা বাণিজ্য! মিথ্যা মামলায় নিরীহ অসহায় মানুষকে হয়রানি করা এবং টাকার বিনিময়ে মামলা থেকে নাম প্রত্যাহার করা! এসব বন্ধ করেন।
সম্মানিত বড়লেখাবাসী, আমরা চাই যুবদল নেতা যে হামলার শিকার হয়েছেন, তার সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হোক। ব্যাক্তি সমষ্যায় হামলার ঘটনাকে রাজনীতিকরণ করে অসহায়, নিরীহ, দিনমজুর ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অযথা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। এহেন কর্মকাণ্ডের বিচারের ভার বড়লেখাবাসী আপনাদের কাছে দিয়ে দিলাম।
দিনমজুর সুরমান আলী সহ মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার সকলের দ্রুত নিঃশর্ত মুক্তি চাই।