29/06/2026
বিশ্বায়ন বনাম শরীআহ প্যাকেজ
অবিশ্বাস্য ছাড় :
পূর্বে ছিলো ২৫% ছাড়, এখন ৩৫% ছাড়
মাকাসিদুশ শরীআহ (মুদ্রিত মূল্য : ৭৫০)
বিশ্বায়ন (মুদ্রিত মূল্য : ৫৫০)
হোয়াটসঅ্যাপ করুন :
01974-392665
মাকাসিদুশ শরীআহ ভিত্তিক একটি উচ্চতর ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠাতা : 'মাকাসিদুশ শরীআহ' গ্রন্থের লেখক ড. মাওলানা শহীদুল ইসলাম ফারুকী।
29/06/2026
বিশ্বায়ন বনাম শরীআহ প্যাকেজ
অবিশ্বাস্য ছাড় :
পূর্বে ছিলো ২৫% ছাড়, এখন ৩৫% ছাড়
মাকাসিদুশ শরীআহ (মুদ্রিত মূল্য : ৭৫০)
বিশ্বায়ন (মুদ্রিত মূল্য : ৫৫০)
হোয়াটসঅ্যাপ করুন :
01974-392665
01/05/2026
ড. মুহম্মদ মোহর আলী (১৯৩২–২০০৪) কেবল একজন ইতিহাসবিদ ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন মুসলিম বাংলার আত্মপরিচয় পুনরুদ্ধারের এক আপসহীন কারিগর। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের SOAS থেকে পিএইচডি করা এই মনীষী প্রাচ্যবিদ বা ওরিয়েন্টালিস্টদের ডেরায় বসেই তাদের সুডো-সায়েন্টিফিক মেথডোলজিকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।
তাঁর অমর সৃষ্টি 'A History of the Muslims of Bengal' গ্রন্থে তিনি অত্যন্ত দালিলিকভাবে প্রমাণ করেছেন যে, বাংলার ইসলাম কোনো পেশিশক্তি বা তরবারির জোরে নয়, বরং ইসলামের সাম্যের বাণী, মুসলিম দায়িদের উন্নত আখলাক এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সামাজিক ও আইনি কাঠামো গড়ার মাধ্যমেই এ অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে শেকড় গেড়েছিল। ব্রিটিশ লেখকদের চাপিয়ে দেওয়া 'নিচুবর্ণ থেকে ধর্মান্তরিত হওয়া'র তত্ত্বকে তিনি পরিসংখ্যান ও নৃতাত্ত্বিক যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করেন। তাঁর গবেষণার গভীরতা এতটাই বিশাল ছিল যে, পবিত্র কুরআন ও সিরাত নিয়ে পশ্চিমা অপপ্রচারের জবাবে তিনি রচনা করেন 'Sirat Al-Nabi and the Orientalists' এবং 'The Qur'an and the Orientalists'।
২০০০ সালে তিনি একমাত্র বাঙালি হিসেবে ইসলামের সেবায় অবদানের জন্য লাভ করেন 'কিং ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার'। প্রচারবিমুখ এই মহান গবেষক জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহর বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে কাজ করে গেছেন। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এই সূর্যসন্তানের অবদান পৌঁছে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
একটি নতুন ওয়াকফ আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা
গোটা বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহ আজ এক গভীর সংকটময় বাস্তবতার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। ইতিহাসের দিকে তাকালে স্পষ্ট হয়—ইসলামী সভ্যতার পতনের পর মুসলিম সমাজ ধীরে ধীরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জ্ঞানগত নেতৃত্বের কেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। একসময় যে উম্মাহ জ্ঞান, অর্থনীতি ও মানবকল্যাণে বিশ্বকে দিকনির্দেশনা দিত, আজ তার একটি বড় অংশ দারিদ্র্য, নির্ভরশীলতা ও দিশাহীনতার বেড়াজালে আবদ্ধ। এমনকি যারা তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছল, তারাও বৈশ্বিক শক্তির প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়।
এই বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রতিফলন আমরা বাংলাদেশেও দেখতে পাই। বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও সামাজিক বৈষম্য ক্রমাগত বাড়ছে; পাশাপাশি ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের যথাযথ বিস্তারও সংকুচিত হয়ে আসছে। ফলে সমাজে একদিকে অর্থনৈতিক দুর্বলতা, অন্যদিকে নৈতিক ও বৌদ্ধিক শূন্যতা—দুটিই প্রকট হয়ে উঠছে।
এই প্রেক্ষাপটে একটি “নতুন ওয়াকফ আন্দোলন” কেবল একটি ধর্মীয় অনুশীলনের আহ্বান নয়; বরং এটি একটি সময়োপযোগী, কৌশলগত ও টেকসই সামাজিক-অর্থনৈতিক সমাধান। ইসলামী সভ্যতার ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—ওয়াকফ ছিল এমন এক শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, যার মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মানবকল্যাণের বিস্তৃত ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। মসজিদ, মাদরাসা, হাসপাতাল, রাস্তা, পানীয় জলের ব্যবস্থা—সবকিছুর পেছনেই ওয়াকফের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।
কিন্তু সময়ের প্রবাহে, বিশেষ করে ঔপনিবেশিক শাসন এবং পরবর্তী রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিবর্তনের ফলে ওয়াকফ ব্যবস্থার সেই শক্তি ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। বহু ওয়াকফ সম্পদ অকার্যকর হয়ে পড়ে, কিছু রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে গিয়ে তার প্রাণশক্তি হারায়, আর অনেক ক্ষেত্রে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এর সম্ভাবনা নষ্ট হয়। এর ফলেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণের বহু স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত বা দুর্বল হয়ে পড়ে—যার প্রভাব আমরা আজও বহন করছি।
আজকের বাস্তবতায় এই শূন্যতা পূরণের জন্য ওয়াকফকে নতুনভাবে, আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুনর্জাগরিত করা অত্যন্ত জরুরি। একটি সুসংগঠিত “নতুন ওয়াকফ আন্দোলন” গড়ে উঠলে তা হতে পারে—
★ দারিদ্র্য বিমোচনের টেকসই মাধ্যম;
★ শিক্ষা ও গবেষণার স্বাধীন অর্থায়নের উৎস;
★ স্বাস্থ্যসেবার বিকল্প ও মানবিক কাঠামো;
★ সামগ্রিকভাবে একটি আত্মনির্ভর ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনের ভিত্তি;
অতএব, নতুন ওয়াকফ আন্দোলন কোনো বিলাসিতা নয়—এটি সময়ের অপরিহার্য দাবি। উম্মাহর হারানো শক্তি ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারের পথে এটি হতে পারে এক বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ।
ড. শহীদুল ইসলাম ফারুকী
আমির, পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশ
মাকাসিদুশ শরীআহ : মর্ম ও পরিচয়
মাকাসিদুশ শরী'আহ মূলত আরবী শব্দ। 'মাকসাদ' বা 'মাকসিদ' মানে কোনো কিছুর উদ্দেশ্য, লক্ষ্য, ইচ্ছা, হেতু বা তাৎপর্য এবং শরী'আহ অর্থ পথ, নিয়মনীতি। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যে বিধি-বিধান জারী করেছেন তাকে শরী'আহ বলা হয়। অতএব শরী'আহর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যই মাকাসিদুশ শরী'আহ।
ইমাম গাযালী রহ. বলেন, মূলগতভাবে মাকাসিদুশ শরী'আহর সম্পর্ক কল্যাণের সাথে। যা কিছুর দ্বারা মানুষের বিশ্বাস, জীবন, বুদ্ধিবৃত্তি, বংশধারা ও সম্পদের সুরক্ষা হয় তা-ই মাসলাহা বা কল্যাণ। এ নিরিখে কল্যাণকর সবকিছুর সহায়তা করা এবং যাবতীয় অকল্যাণ দূর করাই মাকাসিদুশ শরীআহ।'
ইমাম শাতিবী বলেন, বহু ক্ষেত্রে মানুষ বাধ্য হয়ে আল্লাহর প্রাকৃতিক নিয়ম ও বিধানের অনুসরণ ও আনুগত্য করে থাকে। জীবনের অন্য সব ক্ষেত্রেও তাকে আল্লাহর আদেশ-নিষেধের অনুগামী করা শরী'আহর উদ্দেশ্য। ইবনে আশূর এর মতে, ইসলামী শরী'আহর উদ্দেশ্য হলো মানব জাতির কল্যাণ। আর কল্যাণ সাধিত হয় মানুষের বিবেক-বুদ্ধির সুস্থতা, কর্মের যথার্থতা ও জীবনোপকরণের উৎকর্ষের দ্বারা।
জাসের আওদাহ মাকাসিদ শারীআহর পরিচয় দিয়েছেন এভাবে: Maqasid al-Sharī'ah is the branch of Islamic knowledge that answers all questions of 'why' on various levels.
শারীআহর বিধানকে বিভিন্ন পর্যায়ে 'কেন' (why) দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তার আলোচনা সম্বলিত ইসলামী জ্ঞানের একটি শাখা হলো মাকাসিদ শারীআহ। যেমন: কেন যাকাত প্রদান ইসলামের অন্যতম একটি স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত? ইসলামে প্রতিবেশীর সাথে ভাল আচরণ করার বাধ্যবাধকতা করা হয়েছে কেন? কেন মুসলিমরা সালাম প্রদানের মাধ্যমে পরস্পরে অভিবাদন করে থাকেন ? ইত্যাদি।
বর্তমান শতকের চিন্তানায়ক ড. ইউসুফ আল-কারযাভী মাকাসিদুশ শরী'আহকে আরো সরলভাবে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন: শরী'আহর লক্ষ্য হলো কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং অকল্যাণ দূর করা।
মানুষ আল্লাহর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। অন্যান্য সৃষ্টির পরিচয় আর মানুষের পরিচয় এক নয়। আল্লাহতায়ালা মানুষকে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বা সৃষ্টির সেরা করে সৃষ্টি করেছেন। বিশ্ব চরাচরে সৃষ্টিকুলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্মান ও মর্যাদাবান হচ্ছে মানুষ। মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্যকে দুইভাগে ভাগ করা যায়—
এক. মানবজাতির কল্যাণ সাধন করা, তাদের সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন—
كُنۡتُمۡ خَیۡرَ اُمَّۃٍ اُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ تَاۡمُرُوۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَ تَنۡهَوۡنَ عَنِ الۡمُنۡكَرِ وَ تُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰهِ ؕ وَ لَوۡ اٰمَنَ اَهۡلُ الۡكِتٰبِ لَكَانَ خَیۡرًا لَّهُمۡ ؕ مِنۡهُمُ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ وَ اَكۡثَرُهُمُ الۡفٰسِقُوۡنَ
'তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত,যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে। তোমরা ভাল কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে বারণ করবে, আর আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করবে। আর যদি আহলে কিতাব ঈমান আনত, তবে অবশ্যই তা তাদের জন্য কল্যাণকর হত। তাদের কতক ঈমানদার। তাদের অধিকাংশই ফাসিক।' (সুরা আলে ইমরান ১১০)
দুই. মানবজাতি আল্লাহর ইবাদত করবে। এই ইবাদতও হবে কেবলমাত্র ও একমাত্র আল্লাহর জন্য। মানুষের উপর মানুষের কোন প্রভুত্ব চলবেনা। ফলে সেটাও সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে,শোষণ বঞ্ছনার অবসান করবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন—
وَ مَا خَلَقۡتُ الۡجِنَّ وَ الۡاِنۡسَ اِلَّا لِیَعۡبُدُوۡنِ
‘আমি মানুষ ও জিন জাতিকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আমার ইবাদত করার জন্য।’ (সুরা জারিয়াত ৫৬)
আল্লাহ আরো তায়ালা বলেছেন—
قُلۡ اِنَّ صَلَاتِیۡ وَ نُسُكِیۡ وَ مَحۡیَایَ وَ مَمَاتِیۡ لِلّٰهِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ
‘(হে নবী) আপনি বলুন, আমার নামাজ, আমার ইবাদত, আমার জীবন এবং আমার মরণ বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্যই।’ (সুরা আনআম ১৬২)
ইসলামের দ্বিতীয় আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো তা জীবনকে সহজ করে,কঠোরতা পরিহার করে।মানুষের পার্থিব চাহিদাগুলো আল্লাহ নিয়ামত হিসাবে অপরিসীমভাবে দান করেন এবং এর দ্বারা জীবনের সংকীর্ণতা দূর করে দেন। মানুষের আপাদমস্তক পুরোটাই মহান রবের মহানিয়ামতে ভরপুর। জীবনভর গণনা কিংবা চিন্তা গবেষণা করে এ নিয়ামতের প্রকৃত সংখ্যা কখনোই বের করা সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ বলেন,
وَ اِنۡ تَعُدُّوۡا نِعۡمَۃَ اللّٰهِ لَا تُحۡصُوۡهَا ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَغَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ
‘যদি আল্লাহর নিয়ামত গণনা করো, শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।’ (সুরা আন নাহল ১৮)
মানুষের আর্থিক ও অর্থনৈতিক কায় কারবার, লেনদেন,ছাহিদা ও উৎপাদন এগুলো জীবনের অনেক বড় অনুসঙ্গ এবং এর বিস্তৃতি জীবনব্যাপী। চৌদ্দ শতকে শামসুদ্দীন ইবনুল কাইয়িম আর্থিক কারবারে ন্যায়সঙ্গত মূল্য, যুক্তিসম্মত ক্ষতিপূরণ, উপযুক্ত মজুরি ও সঙ্গত মুনাফা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি একচেটিয়া কারবার বা দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনার প্রতিকারের জন্য প্রয়োজনীয় কর্ম-কৌশল নিয়ে কাজ করেন। এই লক্ষ্যে এবং বাজার দর নিয়ন্ত্রণে তিনি তদারককারী প্রতিষ্ঠান 'হিসবাহ' প্রচলনের প্রস্তাব করেন। তাঁর মতে, শরী'আহ’র উদ্দেশ্য হলো মানুষের জ্ঞানগত উৎকর্ষ সাধন। সার্বিক ন্যায়বিচার, দয়া, সমৃদ্ধি ও জ্ঞানের মধ্যেই কল্যাণ নিহিত। কোনো সমাজে ন্যায়বিচারের পরিবর্তে যুলুম, দয়ার পরিবর্তে কঠোরতা, কল্যাণের পরিবর্তে কার্পণ্য আর জ্ঞানের স্থলে মূর্খতা প্রবল হলে শরী'আহ’র উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। তিনি শরী'আহ্হ’র উদ্দেশ্যের আলোকে আর্থিকক্ষেত্রে সুবিচার (আদল) এবং জনস্বার্থ (মাসলাহা আল আম্মাহ) সুরক্ষা করার কথা বলেন। তিনি বলেন, সুবিচার ও জনস্বার্থ বিরোধী সব কিছু থেকে মানুষকে মুক্ত করতে হবে।
চৌদ্দ শতকের অপর চিন্তানায়ক আবু ইসহাক আশ-শাতিবী মাকাসিদুশ শরী'আহর ব্যাখ্যায় মাকাসিদ হাসিলের পদ্ধতি ও কর্ম-কৌশল নিয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা করেন। ইমাম শাতিবী জীবনের সকল প্রয়োজনকে তিন স্তরে পুনর্বিন্যাস করেন। সেগুলি হলো ১. জরুরিয়াত, ২. হাজিয়াত ও ৩. তাহসিনিয়াত। পরবর্তী যুগে ইজতেহাদের ধারা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আঠারো শতকের শেষ নাগাদ এক্ষেত্রে কার্যত বন্ধ্যাত্ব নেমে আসে। এরপর বিশ শতকে এসে এক্ষেত্রে নব জাগরণের সূচনা হয়। এ শতকের শুরু থেকেই কয়েকজন মনীষী এ বিষয়ে কাজ করেন। তাদের মধ্যে মুহাম্মদ আল তাহির ইবনে আশূর, রশিদ রিদা , মুহাম্মদ আল-গাযালী, ড. ইউসুফ আল-কারযাভী, ত্বাহা আল-'আওয়ানী ও ত্বাহা জাবির আল-'আলওয়ানী বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামী অর্থনীতি ও ইসলামী ব্যাংকিং-এর নীতি প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে চাহিদার এই অগ্রাধিকার মডেলটি (স্তর বিন্যাসের বিবেচনা) গুরুত্ব পেয়েছে।
(ক) জরুরিয়াত
ইমাম শাতিবীর মতে জরুরিয়াত হলো সেসব অতি আবশ্যকীয় বা FUNDAMENTAL বিষয়, যা ছাড়া মানব কল্যাণের গতিধারা ব্যাহত হয়। জরুরিয়াত পূরণ না হলে জন-জীবনে বিপর্যয় দেখা দেয়। জরুরিয়াত এমন বিষয় যা মানুষের টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য। জরুরিয়াতের পাঁচ শাখা ইমাম শাতিবী জরুরিয়াত বা অপরিহার্য চাহিদাকে পাঁচ ভাগ করে তার প্রতিটি প্রয়োজন পূরণ অত্যাবশ্যক কর্তব্য বিবেচনা করেন। সেগুলি হলো:
১. হিফযুদ দ্বীন বা বিশ্বাসের সংরক্ষণ;
২. হিফযুন নাফস বা জীবনের সংরক্ষণ;
৩. হিফযুন নাসল বা বংশধারার সংরক্ষণ;
৪. হিফযুল মাল বা সম্পদের সংরক্ষণ;
৫. হিফযুল 'আকল বা বুদ্ধিবৃত্তির সংরক্ষণ;
তিনি মনে করেন, সকল নাগরিকের জন্য অত্যাবশ্যকীয় এই পাঁচটি চাহিদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারমূলক দায়িত্ব। রাষ্ট্র এই দায়িত্ব পালন করবে। এতেই শান্তি, সফলতা ও কল্যাণ এবং আখিরাতের মুক্তি নিহিত।
১. হিফযুদ দ্বীন বা দ্বীন সংরক্ষণ
দ্বীনের অনুসরণ ছাড়া মানবিক প্রশান্তি, সামাজিক শৃঙ্খলা ও সমৃদ্ধি সম্ভব নয়। দ্বীন বিবর্জিত সমাজ মানবিকতা ও নৈতিকতা হারিয়ে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। দ্বীন সংরক্ষণের মাধ্যমে মানুষের জীবনকে সহজ করা এবং সরল পথে পরিচালিত করার মাধ্যমে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি নিশ্চিত করা শরী’আহ’র উদ্দেশ্য বা মাকাসিদ। দ্বীন পরিপালন এবং এক্ষেত্রে যাবতীয় সীমালঙ্ঘন, অন্যায় ও যুলুম থেকে দ্বীনি জীবনের সুরক্ষা শরী'আহ’র উদ্দেশ্য।
২. হিফযুন নাফস বা জীবন সংরক্ষণ
ইসলামের দৃষ্টিতে নাফস বা জীবন আল্লাহর দেয়া মূল্যবান আমানত। এর সংরক্ষণ, সুস্থতা বিধান এবং জীবনের অধিকার যথাযথভাবে পূরণ করা সকল মানুষের কর্তব্য। জীবনের সুরক্ষা ও বিকাশ সাধন করতে হবে এবং সকল প্রকার ক্ষতি ও বিপর্যয় থেকে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য অন্যায় হস্তক্ষেপ, অবৈধ হত্যাকাণ্ড, আত্মহত্যা, গর্ভপাত ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৩. হিফযুল আকল বা বুদ্ধি-বিবেক সংরক্ষণ
আল্লাহ মানুষকে বুদ্ধি-বিবেক ও ইচ্ছাশক্তি দিয়ে অন্য সব প্রাণীর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। মানুষকে বিবেক-বুদ্ধি অনুযায়ী ফয়সালা করার সামর্থ্য দেয়া হয়েছে। সেই সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে তাকে কল্যাণ বৃদ্ধি ও অকল্যাণ দূর করে মাকাসিদুশ শরী'আহ অর্জন করতে হবে। আকল বা বিবেক-বুদ্ধি সঠিকভাবে প্রয়োগ করে মানুষ কল্যাণ লাভ ও অকল্যাণ দূর করার জন্য কাজ করবে। যুক্তিপূর্ণ চিন্তা এবং সত্য উপলব্ধি ছাড়া সাফল্য লাভ সম্ভব নয়।
৪. হিফযুন নাসল বা বংশধারা সংরক্ষণ
মানুষ আল্লাহর খলীফা হিসাবে এ দুনিয়া আবাদ করবে। মানুষের বংশধারা রক্ষার জন্য আল্লাহ তা'আলা নারী ও পুরুষ সৃষ্টি করেছেন এবং সুস্থ ও পবিত্র জীবনযাপনের জন্য বৈবাহিক সম্পর্কভিত্তিক পারিবারিক ব্যবস্থা দিয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় তাদেরকে সামাজিক শৃঙ্খলাভিত্তিক সুসভ্য উম্মাহ গঠনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। মানুষকে বংশধারা সংরক্ষণে বিবাহ একমাত্র হালাল উপায়।এক্ষেত্রে বিবাহ বহির্ভূত সকল সম্পর্ক হারাম ঘোষিত হয়েছে।
৫. হিফযুল মাল বা সম্পদের সংরক্ষণ
হিফযুল মাল বা সম্পদ সংরক্ষণ মানুষের একটি অপরিহার্য মৌলিক চাহিদা। এ জন্য ন্যায়-নীতি, নিরাপত্তা ও সন্তুষ্টির ভিত্তিতে সম্পদ অর্জন ও লেনদেনের নিরাপদ উপায় ও ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাস ও রাহাজানিসহ অধিকার হরণকারী সকল সীমালঙ্ঘনমূলক কাজ থেকে সম্পদ রক্ষার নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। ইমাম শাতিবী সম্পদ সংরক্ষণকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য বলেছেন। দারিদ্র্য দূর করা এবং ধনীর সম্পদে বঞ্চিত ও অভাবীর অধিকার নিশ্চিত করাও সম্পদ সংরক্ষণের পর্যায়ভুক্ত।
(খ) হাজিয়াত
ইংরেজীতে এটাকে COMFORT বলা যায়। হাজিয়াত হলো পরিপূরক কল্যাণ। মানব জীবনে কঠোরতা বা সমস্যা ও অসুবিধা দূর করে স্বাচ্ছন্দ্য আনতে যেসব উপকরণ প্রয়োজন সেগুলি হাজিয়াতের পর্যায়ভুক্ত। ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার প্রয়োজনগুলির বড় অংশই হাজিয়াতমূলক। রাস্তাঘাট, যানবাহন, খেলার মাঠ, পার্ক ইত্যাদি মানুষের জীবন-যাত্রাকে সহজ ও আরামদায়ক করে। এগুলি মানুষকে কষ্ট ও ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। হাজিয়াতমূলক চাহিদা পূরণ না হলে জনজীবন অচল হয় না। তবে এর অভাবে জীবনধারার গতিময়তা ও স্বাচ্ছন্দ্য ব্যাহত হয়। জীবনকে সহজ সুন্দর আরামদায়ক করতে হাজিয়াতের যোগান ও সংরক্ষণ মাকাসিদ শরী'আহ্ দ্বিতীয় অগ্রাধিকার।
(গ) তাহসিনিয়াত
তাহসিনিয়াত মানে সুন্দর ও উত্তম। অনেকে এটাকে LUXURY বলেছেন। অপরিহার্য ও পরিপূরক কল্যাণ বা হাজিয়াত অর্জনের পর জীবনকে আরো সুন্দর, পরিপাটি ও অধিকতর সৌন্দর্যমণ্ডিত ও উৎকর্ষমণ্ডিত করতে যা কিছু দরকার, সেগুলি তাহসিনিয়াতের পর্যায়ভুক্ত। তাহসিনিয়াত মানুষের রীতি-নীতি ও আচার-আচরণে পরিশুদ্ধতা ও পরিপূর্ণতা আনার সহায়ক। মানুষের জীবনে তাহসিনিয়াত সসীম নয়, বরং ব্যাপ্তিশীল। সমাজের মানুষের জরুরী চাহিদা পূরণের পর হাজিয়াতমূলক চাহিদাপূরণ এবং এরপর তাহসিনিয়াত পর্যায়ের চাহিদাসমূহ পূরণের দ্বারা সমাজে ক্রমশ কল্যাণ বাড়তে থাকবে। সাধারণ পর্যায়ের মানুষের তাহসীনিয়াতের চাহিদা নাও থাকতে পারে।
14/04/2026
আজ ১১ এপ্রিল, উপমহাদেশের ইসলামী সভ্যতার ইতিহাস চর্চায় এক অনন্য দিকপাল, প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ মোহাম্মদ মোহর আলীর ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। ঢাকা ফোরাম অব থ্যট এন্ড সিভিলাইজেশন (DFTC)-এর পক্ষ থেকে তাঁর অমর স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।
তিনি ছিলেন সেই বিরল মনীষী, যিনি রাজনীতি ও পেশাগত জীবনে নানা সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বেছে নিয়েছিলেন জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও ইতিহাসের গভীরে প্রবেশের এক নিবেদিত পথ। তার অনন্য সাধনা, প্রজ্ঞা ও বিশ্লেষণী শক্তি ইতিহাস চর্চাকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস নিয়ে তাঁর যুগান্তকারী গবেষণা History of the Muslims of Bengal কেবল একটি গ্রন্থ নয়, বরং এটি একটি প্রামাণ্য দলিল, যা ইতিহাসের অন্ধকারাচ্ছন্ন অধ্যায়গুলোকে আলোকিত করেছে। একইভাবে Sirat al-Nabi and the Orientalists এবং The Quran and the Orientalist গ্রন্থসমূহে তিনি প্রাচ্যবিদদের নানা তত্ত্ব ও অনুমানকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে একটি শক্তিশালী বুদ্ধিবৃত্তিক জবাব উপস্থাপন করেছেন।
শিক্ষকতা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, একজন চিন্তাশীল ইতিহাসবিদ কেবল অতীতকে তুলে ধরেন না, বরং ভবিষ্যতের চিন্তা ও বোধ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর কর্মময় জীবন, কঠোর অধ্যবসায় ও সত্য অনুসন্ধানের স্পৃহা তাঁকে ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে।
এই মহান ইতিহাসবিদের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁর জ্ঞানচর্চা, সত্যানুসন্ধান ও বুদ্ধিবৃত্তিক সাহসিকতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজ, ইতিহাস ও সভ্যতার সঠিক উপলব্ধি গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি।
12/04/2026
المصطلحات والمفاهيم الاصولية
☚- علم اصول الفقه :" هو علم يبحث في أدلة الفقه الاجمالية وكيفية استنباط الاحكام الشرعية منها".
☚- الأصل : يعني في اللغة أساس الشيء ، وفي الإستعمال الاصوليين الدليل .
☚- الفقه : هو " معرفة الأحكام الشرعية عن طريق الإجتهاد ".
☚- الإجتهاد : بذل الوسع والجهد للوصول الى حكم شرعي .
☚- القرآن الكريم " هو كلام الله المنزل على محمد صلى الله عليه وسلم بواسطة جبريل المنقول بالتواتر المعجز باقصر سورة منه ، الموجود بين دفتي المصحف ".
☚- السنة: هي روي عن النبي صلى الله عليه وسلم من أقوال وأفعال وتقريرات وصفات خُلقية وخِلقية .
☚- الإجماع : هو اتفاق مجتهدي الامة بعد وفاة الرسول- صلى الله عليه وسلم - في مسائل شرعية .
☚- القياس: هو رد واقعة غير منصوص عليها إلى واقعة منصوص عليها لاشتراك بينهما في علة الحكم .
☚- الاستصحاب : هو الرجوع الى حكم أصل الشيء عند افتقاد الدليل الخاص.
☚- قول الصحابي : الصحابي هو من صحب النبي عليه الصلاة والسلام مؤمنا به مدة تكفي عرفا لوصفه بالصحبة ومات على ذلك .
والمراد بقوله : مذهبه الذي قاله او الذي فعله ولم يروه عن النبي صلى الله عليه وسلم.
☚- الاستحسان : هو ترجيح قياس خفي على قياس جلي بدليل .
- او هو الأخذ بالمصلحة الجزئية في مقابل دليل كلي .
- او استثناء حكم فرعي من حكم كلي لاقتضاء عقلي .
☚- المصلحة المرسلة: هي الوسيلة الشرعية التي فيها مصلحة للناس ولم يأت دليل على إباحتها او تحريمها.
☚- شرع من قبلنا: هو إتباع شرع من قبلنا إذا أقره الاسلام .
☚- العرف : هو كل ما اعتاد الناس عليه ولم يخالفه الشرع الاسلامي.
☚- سد الذرائع : هو تحريم ماهو مباح لافضائه الى الحرام.
☚- القرينة : هي الدليل الذي يحول حكما عن اصله .
☚- الحكم الشرعي :" ما اقتضاه خطاب الشرع المتعلق بأفعال المكلفين من طلب أو تخيير او وضع "
☚- الحكم التكليفي " خطاب الله المتعلق بأفعال المكلفين على سبيل الطلب أو التخيير " .
☚- حكم الواجب : ما أمر به الشارع من قبيل الالزام .
☚- حكم المندوب : ما أمر به الشارع على سبيل الافضلية .
☚- حكم المباح: ما أمر الشارع على سبيل التخيير.
☚ - حكم المحرم : ما نهى عنه الشرع بشكل الزامي .
☚- حكم المكروه: هو ما نهى عنه الشارع نهيا غير جازم .
☚- حكم الوضعي : خطاب الله المتعلق بأفعال المكلفين بالوضع .
30/03/2026
পটিয়া মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা আবু তাহের নদভীর ইন্তেকালে পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের শোক
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার সম্মানিত মুহতামিম, প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন আল্লামা আবু তাহের নদভী (রহ.) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছে মুফাক্কিরে ইসলাম সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.) প্রতিষ্ঠিত দাওয়াতি ও মানবিক সংগঠন 'পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশ'।
গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটির আমীর ড. মাওলানা শহীদুল ইসলাম ফারুকী বলেন, পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের অন্যতম উপদেষ্টা আল্লামা আবু তাহের নদভীর ইন্তেকালে ইসলামী শিক্ষা, দাওয়াত ও আত্মশুদ্ধির ময়দানে এক অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞ আলেম ও সমাজসংস্কারক। তাঁর জীবন ছিল ইলম, আমল, ইখলাস ও খিদমতে দ্বীনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তিনি আরও বলেন, আল্লামা আবু তাহের নদভী রহ. পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশের অন্যতম উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তাঁর ইন্তেকালে পয়ামে ইনসানিয়াত পরিবার গভীরভাবে শোকাহত এবং তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনা করছে। আমরা মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি—আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করুন, কবরকে নূরে পরিপূর্ণ করুন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, ছাত্র-শিক্ষক ও ভক্তবৃন্দকে সবরে জামিল দান করুন।
বার্তা প্রেরক
মিজানুর রহমান খান
অফিস সমন্বয়ক
পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশ
ইমাম গাজালী ও গ্রিক দর্শনের সমালোচনা
ইমাম আবু হামিদ গাজালী (১০৫৮–১১১১ খ্রিঃ) ইসলামী চিন্তাজগতের একজন উজ্জ্বল দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষক। তিনি শুধু ইসলামের জ্ঞানকে শক্তিশালী করেননি, বরং বাইরের দর্শন ও বৈজ্ঞানিক তত্ত্বগুলোও বিচার-বিশ্লেষণ করেছেন। বিশেষ করে গ্রিক দর্শনের প্রভাব যখন মুসলিম সমাজে প্রবল, যা অনেককে ইসলামের মূল আকিদা থেকে বিভ্রান্ত করে।
মধ্যযুগে গ্রিক সভ্যতার দর্শন মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে সমালোচনামূলক ভাবনা ও যুক্তির উদ্দীপনা দেয়। কিন্তু অনেক সময় তারা এমন ধারণা গ্রহণ করত যা ইসলামের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার সাথে সংঘর্ষে যায়। গাজালী এই অবস্থার মোকাবিলা করার জন্য গ্রিক দর্শনের সীমাবদ্ধতা ও ভুলগুলো তুলে ধরেন।
তিনি জ্ঞানকে ভাগ করেছেন—আখিরাতের জন্য অপরিহার্য, সহায়ক, ক্ষতিকর, উপকরণমূলক এবং নিরপেক্ষ। তার মতে, আধ্যাত্মিক উন্নয়ন ও নৈতিক জীবনের জন্য আল্লাহর প্রদত্ত ওহী ও নবীজ্ঞান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গণিত, যুক্তিবিদ্যা, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ইত্যাদি সহায়ক হতে পারে, কিন্তু অযৌক্তিক গ্রিক তত্ত্বগুলোকে চূড়ান্ত সত্য মনে করা উচিত নয়।
গাজালীর সমালোচনার মূল পদ্ধতি ছিল—প্রথম, নিজেদের যুক্তি ব্যবহার করে গ্রিক দর্শনের ভুল প্রকাশ করা; দ্বিতীয়, ইসলামী নৈতিকতা ও আকিদার ভিত্তিতে বিচার করা। তিনি দেখিয়েছেন, শুধু যুক্তি বা বিজ্ঞানই যথেষ্ট নয়; বরং চূড়ান্ত সত্যের উৎস হলো আল্লাহর ওহী।
আজও ইমাম গাজালীর চিন্তাভাবনা মুসলিম সমাজে প্রাসঙ্গিক। তার কাজ আমাদের শেখায় যে, ইসলামী শিক্ষা ও নৈতিকতা রক্ষা করার জন্য যুক্তি ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন, কিন্তু তা কখনো ধর্মীয় সত্যের চেয়ে উপরের নয়। তাই গাজালী আমাদের জন্য শুধু একজন দার্শনিক নন, তিনি আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শকও বটে।