03/01/2023
#রেডিওগ্রাফার_পেশায়_ক্যারিয়ার
★রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং কি ?
এ বিষয়টি নিয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারনা নেই। অনেকেই বিষয়টিকে এক্স-রে'র মধ্যেই সীমাবদ্ধ মনে করেন অথচ বর্তমানে রোগ নির্ণয়ে বিশাল একটি ক্ষেত্র নিয়ে ত্রাতার ভূমিকায় অবতির্ণ হয়েছে রেডিওলজি এবং ইমেজিং বিষয়টি। এছাড়াও বিভিন্ন রোগের চিকিৎসাতেও ক্রমেই ক্ষেত্রটির অংশগ্রহন বাড়ছে। তৈরী হচ্ছে আকর্ষণীয় ক্যারিয়ারের নিত্য নতুন দিগন্ত। প্রায়োগিক দিক থেকে সাবজেক্টটিকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়-
১. #ডায়াগনস্টিক_রেডিওলজিঃ
এই ক্ষেত্রের একজন রেডিওগ্রাফার টেকনোলজিষ্ট ডাক্তারের নির্দেশনা অনুয়ায়ী রেডিওলজি ইমেজিং এর জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে রোগ নির্ণয় করে থাকেন। বর্তমানে এ বিষয় সম্পর্কিত প্রচলিত রোগ নির্ণয়ের প্রযুক্তি গুলো হলোঃ
* এক্স-রে
* সিটি স্ক্যান : (Computed Tomography Scan)
* এম আর আই: (Magnetic Resonance Imaging)
* PET স্ক্যান : (Positron Emission Tomography Scan)
* ম্যামোগ্রাফী : Low energy X-Ray, যা ব্রেস্ট ক্যান্সার নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
* বোন স্ক্যান, থাইরয়েড স্ক্যান প্রভৃতি
২. ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজিঃ
ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে নূন্যতম বিধ্বংসী প্রক্রিয়ায় (minimal invasive procedure) রোগ নির্ণয় ও রোগের চিকিৎসার যে পদ্ধতি সেটাই ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজি নামে পরিচিত। চার্লস ডটারের হাত ধরে মেডিকেল সাইন্সের এই তুলনামূলক নতুন শাখাটির যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৪ সালে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে এর বিস্তৃতি বেড়েই চলছে। ★আল্ট্রাসনোগ্রাফী/CT গাইডেড FNAC,
★ এনজিওগ্রাম কিংবা ডিজিটাল সাবস্ট্রাকশন ★এনজিওগ্রাম (DSA)-
এই ইন্টারভেনশনগুলো এখন আমাদের দেশেও বেশ পরিচিত। উন্নতবিশ্বে রোগের চিকিৎসায় ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে।
উদাহরণস্বরূপ:
* সংকুচিত রক্তনালীকে প্রসারিত করা (Baloon Angiogram)
* স্টেন্ট ব্যবহার করে বন্ধ রক্তনালীতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করা (stenting)
* Pulmonary Embiolism এর চিকিৎসা
* Vericose vein এর চিকিৎসা ।
* টিউমার এবলেসন ও ক্রায়োথেরাপী
* ভার্টিব্রোপ্লাস্টিসহ আরোও অনেক রোগের চিকিৎসা এখন ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজির মাধ্যমে করা হচ্ছে।
★কোর্স এবং ভর্তি যোগ্যতাঃ
বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের অধীনে ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন রেডিওলোজী এন্ড ইমেজিং কোর্স পরিচালিত হয়৷ বাংলাদেশে সরকারি ভাবে ১৬ টি IHT তে এই কোর্স চালু রয়েছে এছাড়াও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও রাষ্টীয় চিকিৎসা অনুষদের অধীভূক্তি নিয়ে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও ডিপ্লোমা ইন রেডিওলোজী কোর্স পরিচালনা করে থাকে৷
এই কোর্সে ভর্তির জন্য SSC ও সমমানের পরিক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জীব বিজ্ঞান সহ সর্বনিম্ন GPA 2.50 পেয়ে উত্তির্ন হতে হয়৷
★উচ্চশিক্ষাঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রেডিওলোজী এন্ড ইমেজিং কোর্স এর উপর বিএসসি কোর্স চালু রয়েছে, ডিপ্লোমা শেষ করার পর অথবা SSC, HSC বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সর্বমোট জিপিএ ৬ থাকলে সরাসরি এই কোর্সে ভর্তি হতে পারবে৷
★আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী রেডিওলজী টেকনোলজিষ্টদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে, তাই আপনিও এই পেশায় যোগ দিয়ে হতে পারেন স্বাস্থ্য খাতের একজন গর্বিত মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট৷